Dawah

Dawah

Share

প্রকৃত দ্বীনের দাওয়াত দিতে চাই!

24/06/2026

একবার নবীজি ﷺ সা’দ ইবনে উবাদাহ (রা) এর সাথে দেখা করতে গেলেন। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বললেন, ”সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” (অর্থঃ তোমাদের উপর আল্লাহর তরফ থেকে শান্তি, রাহমাহ আর বারাকাহ বর্ষিত হোক)।

সা’দ সালাম শুনে মনে মনে জবাব দিলেন যাতে নবীজি ﷺ শুনতে না পান।

নবীজি ﷺ আবারও বললেন, ”সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।”

সা’দ এবারও মনে মনে জবাব দিলেন।

এভাবে মোট তিনবার ঘটার পর নবীজি ﷺ চলে যেতে উদ্যত হলেন। সা’দ তাড়াতাড়ি নবীজির সামনে এসে বললেন,
”যিনি আপনাকে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন সেই রবের শপথ, আমি প্রত্যেকবার আপনার সালামের জবাব দিচ্ছিলাম। আমি তো শুধু চাচ্ছিলাম, আপনি যাতে আল্লাহর রহমতের দোয়া আমাদের জন্য আরো বেশি করতে থাকেন (তাই চুপ ছিলাম)।”

বইঃ A day in the life of Muhammad ﷺ

22/06/2026

ইবনুল মুবারক রাহিমাহুল্লাহ বলেন

“বিনয় হচ্ছে—তুমি তোমার থেকে কম জ্ঞানী ব্যক্তির কাছেও নিজেকে নিচু মনে করো, এবং তোমার থেকে নিচু মর্যাদার কারও কাছ থেকে সত্যকে গ্রহণ করো।”

[হিল‌ইয়াতুল আওলিয়া ৮/১৬৭]

19/06/2026

ওহে!
তোমাকে যদি তাড়িয়ে দেওয়া হয়, তবু দরজা থেকে সরবে না!
তোমাকে যদি দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবু কাছ থেকে নড়বে না!
কাকুতি-মিনতির স্বরে (আল্লাহকে) বলবে,
“আমি কার কাছে যাবো?!”
- ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ)
[আল-মুদহিশ: ২০২]

15/06/2026

ঈশার নামাজের পর রিকশা নিয়ে বাসায় ফিরছি। স্বাভাবিক যে রোডে যাওয়ার কথা সেই রোডে না গিয়ে আশেপাশে বেশ কয়েকটি রোড ঘুরছি।

রিকশাওয়ালার বয়স বড়জোর ১৮/২০ হবে। খুব রাগ হয়ে বললো - এক জায়গায় যাওয়ার কথা বলে কয় জায়গায় যাইতেসেন?

আসলে একটা এটিএম বুথ খুজছিলাম, খুব জরুরী ছিল বলেই। রিকশায় ওঠার পর মনে পড়েছিল, তাই ওঠার আগে বলে ওঠা হয় নি। রিকশাওয়ালাকে বললামও সেটা।

কিন্তু সে থামলো না। দ্বিগুন রাগ হয়ে গেলো।
"আপনারা হুজুররা এমনই। আপনাগো কথা ঠিক নাই। হুজুর হইয়া মিসা কথা কন।"...

কোন উত্তর দিলাম না। বুঝতেসিলাম, তার কষ্ট হচ্ছে। দরদর করে ঘাম পড়ছে। কিন্তু তারপরও! এমন ব্যবহার!

অবশেষে বাসার গেটে নামলাম। ভাড়া সর্বোচ্চ ৪৫/৫০ টাকা হবে। তাকে ১০০টাকা দিলাম। বাকি টাকা ফেরত দিতে যাবে, বললাম রেখে দাও। পাশের দোকান থেকে একটা ২০ টাকার ঠান্ডা পানি কিনে দিয়ে বললাম, খাও! আরাম লাগবে!

পানি দিলাম, কিন্তু হাত বাড়িয়ে নেয় না। মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি, চোখ দুটো ছলছল করে উঠেছে।

- মামা! আমার ভুল হয়ে গেসে মাফ করে দেন!
_________

প্রচন্ড পিপাসার্ত কাউকে ঢকঢক করে পানি খেতে দেখার দৃশ্য! কী অদ্ভুত মায়াবী,তাই না।

দুইটা থাপ্পড় দিয়ে যে সম্মান আমি কোনদিন আদায় করতে পারতাম না, সামান্য ভাল ব্যবহার দিয়ে প্রাপ্য সম্মানটুকু ঠিকই পেলাম আমি।

সুরা হা-মিম সিজদাহতে একটি আয়াত আছে, যার সারমর্ম মোটামুটি এরকম,
"উত্তম কিছু দিয়ে মন্দকে প্রতিহত করুন। দেখবেন,আপনার সাথে যার শত্রুতা রয়েছে, সেও হয়ে যাবে যেন আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধু।" - (সূরা ৪১, আয়াত ৩৪)

আয়াতটা আমাদের অনেকেরই হয়তো অনেকবার তিলাওয়াত হয়েছে। কিন্তু এর উপর যখন আমল হয়, দৃশ্যটা কত সুন্দর হয়!

ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

রিজওয়ানুল কবির

11/06/2026

ধান মাপার সময় সামান্য চিটা ধান বেরোলেই কৃষকের মন খারাপ হয়ে যায়। অথচ কথা বলার সময় আমাদের মুখ দিয়ে ফাহেশা কথা বের হলেও কোন ভাবান্তর হয় না।

অথচ সম্মানীত লেখকবৃন্দ (কিরামান-কাতিবিন) পাই টু পাই মেপে রাখছেন আমাদের উচ্চারিত প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি কথা। সেদিন কড়ায়গণ্ডায় বুঝিয়ে দিবেন। একপাই কম-বেশী করবেন না।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ইরশাদ করেন,
মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী তার সাথেই রয়েছে।” [সূরা ক্বা-ফ, আয়াত : ১৮]

রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে সতর্ক করে বলেছেন যে, মুখের কথা খুবই বিপদজনক। সহীহ সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে নাবী (সা:) বলেছেন,

“বান্দা অনেক সময় এমন কথা বলে যাতে সে গুরুত্ব দেয় না অথচ সেই কথা আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করে। ফলে আল্লাহ্‌ তা‘আলা এর দ্বারা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। পক্ষান্তরে, বান্দা অনেক সময় এমন কথাও বলে যাতে সে গুরুত্ব দেয় না অথচ সেই কথা আল্লাহ্‌কে অসন্তু করে। ফলে সেই কথাই তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে।”

[বুখারী; অধ্যায় : ৮, খণ্ড : ৭৬, হাদীস : ৪৮৫]

সাহাবাদের চোখে দুনিয়া'য় একটা আছার রয়েছে। একবার আবু বকর আস-সিদ্দিক (র'দ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা 'আনহু) তার জিহবা বের করে টেনে ধরে ছিলেন। কেউ একজন জিজ্ঞ্যেস করেছিল, এর কারণ কি? তিনি বলেছিলেন, এটাই আমাকে শেষ করে দিয়েছে।

একজন আলিম বলেছিলেন, জবানকে নিয়ন্ত্রণ রাখা সবচেয়ে দুঃসাধ্য কাজ। বাইশ চাকার গাড়িও ব্রেক করা সহজ, কিন্তু দুই ইঞ্চির এই জবানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন।

হাজার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়নেওয়ালার জবানও যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে সেও ধ্বংস। শতবার হজ্বকারীর জবান যদি অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তাহলে সেও ধ্বংস।'
(পরিমার্জিত)
Rajib Hasan ভাই

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Riyadh
Dhaka
11564