ADOR

ADOR

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ADOR, Writer, Dhaka.

10/04/2026

#মারজান
#পর্ব৫
#আদর
আজমাইন তার ফোনে জিসানের দুটো মিস কল দেখে গাড়ি রাস্তার এক পাশে দাড় করায়। আজমাইন তার অফিসের উদ্দেশ্য গাড়ি চালাচ্ছিল। আজমাইন কল দিতেই জিসান ফোন রিসিভ করে। মনে হচ্ছিল কলের আশায় সে ফোন হাতে নিয়ে বসেছিলো। জিসান কল রিসিভ করেই বলে,
" সব কি বলে দিয়েছিস্? "
" যতটুকু বলা প্রয়োজন বলেছি। "
" তারা রাজি? ", জিসান গম্ভীর কণ্ঠে।
" কথা শুনে তো মনে হলো না। যে না করবে। বুঝতে পারছি না "।
" তোর কি মনে হয় মারজান রাজি হবে? "
" মারজান ওর বাবার কথার বাহিরে যাবে না। "
" তার পর ও যদি বিয়ে করতে না করে। তখন কি করবি?"
" যেটা ভেবে রেখেছি তাই করব। "
" আরো একবার ভেবে দেখ।"
" আর ভাবার মতো সময় নেই। ও চলে আসবে। এটা লাস্ট ওপসেন অ্যান্ড এটা কাজে দিবে। "
" মারজান রাজি হলে তো ঝামেলা নেই। বাট মনে হচ্ছে না যে হবে "।
" হোপ ফর বেস্ট "।
আজমাইন নিজেও বিয়েটা নিয়ে ভয়ে আছে। মারজান কি তার বাবার কথা শুনবে নাকি..। কল রেখে গাড়ি চালাতে চালাতে আজমাইন এক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,

" আল্লাহ মনে যাকে জায়গায় দিয়েছেন তাকদিরেও তার নাম লিখে দেন "

আরাফাত ইসলাম সবে মাত্র বাসায় এসেছেন। অন্য দিনের তুলনায় আজ বেশ দেড়ি করেছেন। বাসায় প্রবেশের সাথে সাথেই টেবিলে বসে থাকা মেহের, বাবার উদ্দেশ্য বলে,
" আব্বু আজ এতো দেড়ি করলে "
" কাজের প্রেশার আজ বেশি ছিল। তোমার আম্মু কোথায়? "
মেহের বাবার প্রশ্নের উত্তরে বলে,
" আম্মু আপুর রুমে আছে। কথা বলছে তারা। "
" তোমার আম্মু কে বল যে আমি ডাকছি ", বলেই
আরাফাত ইসলাম তার রুমে ফ্রেশ হতে চলে যান। মেহরিন ইসলাম স্বামীর ডাকে রুমে বসে তার জন্য অপেক্ষা করছে। ৪-৫ মিনিট পর আরাফাত ইসলাম ফ্রেশ হয়ে আসলেন।
মেহরিন ইসলাম," তুমি ডেকেছো আমাকে। খাবে না"

" বাহির থেকে খেয়ে এসেছি। তোমার সাথে কিছু কথা আছে৷ তুমি তো আমাকে আজমাইনের সাথে দেখা করতে বলেছি। আজ আজমাইনের সাথে দেখা করেছি। অনেক কিছুই জানতে পারলাম।"

দেখা করেছে শুনে। মেহরিন উৎসুক হয়ে বলেন, "কি কথা হলো। নতুন কি কিছু জানতে পারলে? "
আরাফাত ইসলাম আজকে আজমাইনের সাথে তার কি কথা হয়েছে সে তার ব্যপারে মারজানের ব্যাপারে কি বলেছে সব তাকে জানায়। মেহরিন পুরো ঘটনা শুনে বেশ অবাক হন। তার পাশাপাশি আজমাইনের অনেস্টলী সব বলা এবং দোষ স্বীকার করে সরি বলার বিষয়টা তার কাছে ভালো লাগে। মেহরিন ইসলাম বলেন,
" আজমাইন ভুল করলে ও তার উদ্দেশ্য খারাপ ছিলো না। কয়জন ছেলেরই বা এই সতসাহস থাকে মেয়ের বাবা মার কাছে এসে ভালোবাসার কথা বলার তাও মেয়ে যেখানে কিছুই জানেনা। এতটুক শুনে ভালো লাগছে ছেলেটা মারজানকে ভালোবাসে ভালো রাখতে চায়। আশা করি ভালো রাখতে ও পারবে।
আরাফাত ইসলাম বলেন,
" তোমার কি মনে হয় বিয়ে টা হলে মারজান ভালো থাকবে।"
" হ্যা, আমি আগে ও বলেছি এখানে মেয়ে বিয়ে দিতে আমার আপত্তি নেই। "
" কেন যেন আজমাইনের ভুল গুলো আমার চোখে লাগছে না। আজমাইনের সব কিছুই আমার ঠিক মনে হচ্ছে। ওর চোখে মারজানের জন্য ভালোবাসা সপষ্ট। তো কি বলো? মুরসালিন সাহেব কে হ্যা বলে দেই।"
মেহরিন ইসলাম হ্যা বলার জন্য সম্মতি দিয়ে বলেন,
" মারজান যদি আজমাইন কে বিয়ে করতে না চায়।"
আরাফাত ইসলাম মারজানের প্রতি তার প্রখোর বিশ্বাসের সাথে জবাব দেন,
" মারজান তার বাবার কথার বাহিরে যাবে না। মারজান জানে তার তার বাবা তার জন্য বেস্টটাই করবে। "
আরাফাত ইসলাম তাকে আরও জানান যে আজমাইন চায় না যে মারজান বিয়ের আগে জানতে পারুক সে তাকে অনেক আগে থেকেই চিনে এবং পছন্দ করে। মেহরিন ইসলাম বিষয়টি জানার পর বলেন,
" আজমাইন যখন জানাতে চাচ্ছে না তো আমাদের ও এখন কিছু জানানোর প্রয়োজন নেই। হয়তো নিজে জানতে চায়। "
মেহরিন আবার তাকে জিজ্ঞেস করেন,
" তুমি মারজানের পড়াশোনা নিয়ে কথা বলছে। "
" আজমাইন নিজেই তার ওয়াইকে পড়াশোনা করাতে চায়। তার ওয়াইফ কে ইনডিপেনডেন্ট করতে চায়।"

তাদের কথা শেষ হতে না হতেই। মুরসালিন সাহেবের কল। মুরসালিন সাহেব এর কল দেখে মেহরিন ইসলাম বলেন,
" এত চিন্তা করো না। হ্যা বলে দাও।"
আরাফাত ইসলাম মুরসালিন সাহেবের কল রিসিভ করে কথা বলা শুরু করেন। আরাফাত ইসলাম বিয়ে তে সমত্তি দিতেই মুরসালিন সাহেব পরের দিনই সপরিবারে তাদের বাসায় বিয়ের কথা বলতে আসতে চান। আরাফাত ইসলাম রাজি হয়ে যান।

পরদিন সকাল থেকে মারজানদের বাসায় কেমন যেন হৈচৈ লেগে আছে। মারজান ঘুমাছিল। এত শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। মারজান হালকা শব্দেই উঠে পরে শব্দ হলে ঘুমতে পারেনা। মারজান ঘুম ঘুম চোখে রাতের পরা টি শার্ট আর প্লাজো পরা আবস্থাতে রুমে থেকে বের হয়৷ রুম থেকে বের হতেই দেখতে পায় সামনে মেহরিন ইসলাম তাদের বাসায় কাজ করে। যে আন্টি তাকে কিছু একটা বুঝি দিচ্ছে। মারজান তার মার কাছে গিয়ে বিরক্ত হয়ে বলে,
" কি হয়েছে বাসায়? এত কিসের হৈচৈ? এতো সকালে আমার ঘুম কেন ভাঙ্গালে?"
মেহরিন ইসলাম মারজানের দিকে না তাকিয়েই বলেন,
" তোমাকে তো কেউ ডাকেনি। তুমি নিজেই উঠেছ।"
" তুমি তো যান শব্দ হলে আমি ঘুমোতে পারি না। "
রাতে মারজান তার রুমের গেট লক করতে ভুলে যাওয়া। বাহিরের শব্দ সরাসরি তার রুমে প্রবেশ করে।

মেহরিন ইসলাম, " ৯ টা বাজে। এখন আর ঘুমোতে হবে না। আর বাসায় গেস্ট আসবে। গোসল করে জামা পালটে নেও।"
মারজান গেস্ট আসবে শুনে তেমন মাথা ঘামালোনা। যেই আসুক তাতে তার কি, গাছাড়া এক ভাব নিয়ে মারজান তার রুমে চলে যাচ্ছিল। তখনই মেহরিন ইসলাম মারজান কে পিছন থেকে ডাক দিয়ে বলেন,
" আজকে ৩ পিস পরবে। কুর্তি পরার দরকার নেই।"
" কেন?"
" সব কিছু তে এতো প্রশ্ন কেন কর? এক বারে কথা শোনা যায় না।"

মা কে রেগে যেতে দেখে মারজান আর কিছু না বলে রুমে চলে যায়৷ মারজানের অনেক ঘুম পাচ্ছে। রাতে নাহিল এর সাথে কথা বলে। উপন্যাস এর বই পরতে শুরু করে কখন যে আযান দিয়ে দেয় বুঝতেই পারে না। তাই রাতে ঠিক মতো ঘুম না হওয়া এখন ঘুম পাচ্ছে। তাও মারজান গোসল করতে যায়। ঘুম থেকে উঠেই গোসল করার অভ্যাস মারজানের নেই। কিন্তু আজকে মা রেগে আছে বলে মনে হওয়া তে সে গোসল করতে যায়। স্বভাবতই মারজান কে কেউ কিছু করতে বললে সে প্রশ্ন করে কেন করতে বলছে। কারণ কি। তার কাছে কারণ টা ঠিক মনে হলে করে না হলে মুখের উপর না করে দেয়। আর তার এই স্বভাব গুলোই মেহরিন ইসলাম একদম পছন্দ করেন না। মারজান কে আরাফাত ইসলাম কিছু বললে সে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই কাজটা করে। মারজানের বিশ্বাস তার বাবা তার জন্য বেস্টটাই করে। ছোট থেকেই মারজান বাবা ভক্ত মেয়ে। যেমন বাবাকে ভয় পায় তেমনই অনেক ভালোবাসে। মারজানের হুটহাট রেগে যাওয়ার স্বভাবটা তার বাবা থেকেই এসেছে। কিন্তু বাবার সামনে তার সব রাগ পানি হয়ে যায় তখন কিছু বলতে পারে না। বাবা কিছু বললে চুপচাপ শুনে। কোনো কিছু করতে বললে না ও করে না। বাবার সামনে তো মনে হয় গলা থেকে আওয়াজই ঠিক মত বের হতে চায় না।

আরাফাত ইসলাম সবে মাত্র বাসায় এসেছেন। মেহের কে নিয়ে কিছু কেনাকাটা করতে বাহিরে গিয়ে ছিলেন। এসেই মেহরিন ইসলাম কে জিজ্ঞেস করেন,
" সব কিছু ঠিকঠাক হয়েছে? তারা দুপুরেই চলে আসবে। "
" সবই মোটামুটি রেডি। তুমি মারজান এর সাথে কথা বলে নেও। "
" মারজান কোথায়? "
" ওর রুমেই আছে। গোসল করে জামা পালটে নিতে বলেছি৷ এখনও রুম থেকে বের হয়নি। "
" আচ্ছা আমি যাচ্ছি। "
" আগে নিজে গোসল করে রেডি হয়ে নেও। তোমার বেশি সময় ও লাগবে না। "
মেহরিন ইসলামের কথা শুনে আরাফাত ইসলাম ফ্রেশ হতে চলে যান। আরাফাত ইসলাম রাগি হলে ও তার ওয়াইফের সব কথাই শুনার চেষ্টা করেন। বিয়ের এত গুলো বছরেও তাদের ভালোবাসা একটুকু ও কমেনি। দুজনই দুজনকে শ্রদধা্ করে একে অপরের মতামতকে গুরুত্ব দেয়।

- আদর

22/03/2026

#মারজান
#পর্ব৪
#আদর
মেহরিন ইসলাম রুমে প্রবেশ করতেই আরাফাত ইসলাম তাকে বসতে বলে। আরাফাত ইসলাম মেহরিন ইসলাম কে বলেন,
" আজমাইনের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখেছি। তাদের বলা প্রতিটা কথাই সত্যি। তারা নাম করা ব্যাক্তিবরগ সমাজে তাদের যথেষ্ট সন্মান আছে। তারাই ইফতেখার লিমিটেডস্ এর মালিক। ছেলে বাংলাদেশে পড়াশোনা শেষ করে । ইতালিতে আরো দু বছরের কোর্স শেষ করে এসেছে। "

মেহরিন ইসলাম বলেন ,
" আরশি ইফতেখার হাসিখুশি ও আন্তরিক আমার তার সাথে কথা বলে ভালোই লেগেছে। ছেলে কেও আমার ভালোই মনে হয়েছে। "
" হ্যা, ছেলে ভালো এখনো কোন ব্যাড রেকর্ড নেই। ওনারা কি মারজানকে সেদিন দেখে ছিলো?",আরাফাত ইসলাম।
" মারজানই তো আমাকে ডেকে তুলে ছিলো তারা এসেছে বলে। আর নাস্তা ও সব মারজান রেডি করে দিয়ে ছিলো। কেন তুমি সেদিন মারজান কে নাস্তা দিতে দেখ নি? "
" মনে নেই। "
মেহরিন ইসলাম চিন্তিত ভঙ্গিতে বললেন,
" ওই দিন সব কথাই মুরসালিন এবং আরশি ইফতেখারই বলেছেন। আজমাইন তো একটা কথা ও বলেনি। মারজান কি তাহলে ওর বাবা-মার পছন্দ। আর তাদের পছন্দ হলেও তারা মারজান কে চিনেন কিভাবে? "
" মনে তো হয় না শুধু বাবা মায়ের পছন্দ কারণ আজমাইন নিজে ও সাথে এসে ছিলো। ওর সামনেই পুরো ঘটনা ঘটে। আজমাইনের মত না থাকলে তো তারা ছেলের সামনে বসে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারতেন না ", আরাফাত ইসলাম বুঝাতে বলেন।
মেহরিন আগের চিন্তার ভঙ্গিতেই বলেন,
" তুমি একবার নিজে আজমাইনের সাথে একা কথা বলে দেখ। তাহলেই বুঝতে পারবা ওর মনের ভাবনা কি? "
আরাফাত ইসলাম, " আজ বিকেলে মুরসালিন সাহেব আমাকে কল দিয়ে বিয়ের ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েচ্ছেন। আমি এখন ও কিছু বলিনি। "
" আজমাইনের সাথে কথা বলার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
আরাফাত ইসলাম মন খারাপ করেই বলেন,
" মেয়েটার বিয়ের কথা এখনই বলবো। "
মেহরিন ইসলাম, " মারজানের এখন ২২ বছর বিয়ের জন্য উপযুক্ত। তুমি মন খারাপ করোনা। মেয়েকে বিয়ে তো দিতেই হবে। আগে ওতো কত বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু আমার আজমাইন কে পছন্দই হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আমার এই বিয়েতে কোন সমস্যা নেই। "

মেহরিন ইসলামের সাথে কথা শেষ করে। আরাফাত ইসলাম আজমাইন কে কল দেন। মুরসালিন ইফতেখার আগেই তাকে আজমাইনের নাম্বার দিয়েছে। কল রিসিভ হতেই ও পাশের ব্যাক্তিটা সালাম দিলো। সালামের উত্তর দিয়ে আরাফাত ইসলাম আজমাইনের খোঁজখবর নিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে,
" তুমি কি আমার সাথে দেখা করতে পারবে। আমি তোমার সাথে কথা বলে চাই। "
আজমাইন সম্মতি দিয়ে বলে,
" তাহলে কালই দেখা করি "
আরাফাত সাহেব জায়গায় ও সময় আজমাইন কে জানিয়ে দেন।

পরদিন আজমাইন সময়ের একটু আগে পৌঁছে আরাফাত ইসলামের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। আজমাইনের ফোন এ কল আসে। কলটা জিসান করেছে। রিসিভ করতে ওপাশ থেকে বলে,
" দেখা করতে চলে গিয়েছিস্? "
" কিছুক্ষণ হলো আসলাম "
" তো কি ভাবলি, সব বলে দিবি আজ?"
" হ্যা "
" বেস্ট অফ লাক "
" হোপ ফর বেস্ট "
কথা শেষ করার মিনিট পাঁচএক পর আরাফাত ইসলাম রেস্টুরেন্টে চলে আসেন। আরাফাত ইসলাম কে আসতে দেখে আজমাইন দাড়িয়ে তাকে সালাম দেয়।

সামনে দাড়িয়ে আছে প্রায় ৬ ফুট লম্বা ২৮ বছরের একপুরুষ। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা। মুখে হালকা চাপ দাড়ি। হালকা বাদামী রঙের চোখ।ঠিক বাম চোখের য়াই ব্রাউসে্র নিচে ছোট একটা কাটা দাগ। পড়নে কালো প্যান্ট, গ্রে কালার শার্ট, হাতে কালো ঘড়ি। নিসন্দেহে ২৮ বছরের এক সুর্দসন পুরুষ। আরাফাত ইসলাম প্রথমদিন আজমাইন কে তেমন খেয়াল করে দেখননি তাই এখন আজমাইন কে লক্ষ করছেন।

আরাফাত ইসলাম সালামের উত্তর নিয়ে বসেন। আজমাইন তাদের দুজনের জন্য দুটো কফি অর্ডার করে। আরাফাত ইসলাম আজমাইনের সাথে কথা বলা শুরু করে। বাসার সবাই কেমন আছে ভালো মন্দ জানতে চায়। তারপর আজমাইনকে জিজ্ঞেস করেন,
" তুমি কি শুধু তোমার বাবার বিজনেস্ দেখা শোনা করো?"
" বাবার বিজনেস্ এর পাশাপাশি আমার নিজের আলাদা বিজনেস্ আছে। আমি দু বছর ইতালিতে কোর্স করে এসে বাংলাদেশে বিজনেস্ শুরু করেছি।"
" তোমার বাবা মা ভাইদের সাথে থাকো? ", আরাফাত ইসলাম আগেই জানতে পেরেছেন আজমাইনের আলাদা থাকার বিষয় টা তাই জিজ্ঞেস করছেন।
" জ্বি না। আমার তিন ভাই যে যার ফ্লাটে থাকি। আব্বু আমাদের তিন ভাইকেই আলাদা বাড়ি গাড়ি দিয়েছেন। ", আজমাইন আগেই বুঝতে পেরেছে এমন প্রশ্নের সম্মুখিন তাকে হতে হবে।
আরাফাত ইসলাম আজমাইনের উদ্দেশ্য বললেন,
" আমার তোমার কাছে কিছু জানার আছে "
" জ্বি আংকেল বলেন। "
" মারজান কে কি তোমার বাবার মার পছন্দ নাকি তোমার? "
আজমাইনের শান্ত গলায় উত্তর দেয়,
" আমার"
কথাটা শুনে আরাফাত ইসলাম শান্তি পেলেন যে ভয় তার ছিলো তেমন কিছুই না মারজান শুধু ওর বাবার মার পছন্দ নয়। এতেই বুঝতে পারেন মারজান কে তার বাবা মার আগে সেই দেখেছে বা তাকে চিনে।
আরাফাত ইসলাম প্রশ্ন করেন,
" তুমি মারজান কে কোথায় দেখেছ? কিভাবে চিনো? আমি জানতে চাই। "

আজমাইন এতো সময় এই প্রশ্নটার অপেক্ষাতেই ছিল। মুখে হালকা হাসি রেখে আরাফাত ইসলাম কে উত্তর দেয়,
" আমি বুঝতেই পেরেছিলাম আংকেল আপনি এমন কিছুই আমাকে জিজ্ঞেস করবেন। আপনার কাছে আমি কোনো কিছুই লুকাবো না সোজাসাপটা বলেছি।"
আজমাইনের কথায় আরাফাত ইসলাম একটু চিন্তায় পরে গেলেন। এমন কি বলবে তাকে যার জন্য বলছে কিছু লুকাবে না।
আজমাইন শান্ত কন্ঠে বলে,
" মারজান কে অনেক আগে থেকেই আমি পছন্দ করি। যখন ও ক্লাস ৮ এ পরত। "
আরাফাত ইসলাম ১ সেকেন্ড ও দেরি না করে চটজলদি আজমাইন কে প্রশ্ন করে বসেন,
" মারজান জানে?"
" মারজান কিছুই জানেনা। আমি মারজান কে কিছু জানতেই দেইনি কখনো। আর আমি চাই ও না মারজান বিয়ের আগে কিছু জানতে পারুক। কারণ আমার ওর সাথে রিলেশন করার কোনো ইচ্ছা কখনোই ছিলনা। আমি মারজান কে বিয়ে করতে চেয়েছি সবসময়। সেই স্কুল থেকেই আমি মারজান কে চোখ চোখে রেখেছি। মারজান খুব ভালো মেয়ে। আমি ভালোবাসি মারজান কে। "

আরাফাত ইসলাম, " মারজান কি কাউকে পছন্দ করে? "
" না, এমন কিছুই আমি কখনো দেখিনি। আমি যখন বিদেশ ছিলাম তখন আমার অবর্তমানে আমার বন্ধুরা মারজানকে দেখে রেখেছে এবং ওর ইনফরমেশন আমাকে দিয়েছে। "
আজমাইন নাহিল আর মারজানের বিষয়টা জানে কিন্তু মারজানের পছন্দ করার বিষয় টা গোপন করে যায়।
আরাফাত ইসলাম বেশ বুদ্ধিমান, হালকা ভাড়ি কন্ঠে,
" তোমার বন্ধুরা মারজানের পিছুনিতো? "
আজমাইন তাড়াহুড়ো করে বলে,
" বিষয়টা পুরোপুরি এমন না আংকেল। আমি বাহিরে ছিলাম, ভয়ে ছিলাম যদি মারজান অন্য কারো সাথে চলে যায়। আপনার যদি মারজানের বিয়ে ঠিক করেন অন্য কারো সাথে তাই। আপনার যদি বিষয়টা খারাপ লেগে থাকে তাহলে সরি আংকেল। ওকে দেখে রাখত বলতে মারজানের ভার্সিটির, আপনাদের এলাকার অনেকেই আমার বন্ধু। আরো আমরা সেম স্কুলের স্টুডেন্ট। তাই ওরা মারজানকে চিনে যানে৷ সরি আংকেল। "

আরাফাত ইসলাম আগে নেয় গম্ভীর কণ্ঠে বলেন,
" তুমি যেহেতু মারজানকে বিয়ে করতে চাও। তাই মারজানকে প্রেমের প্রস্তাব না দিয়ে ওর খোজ রেখেছো যেটা তুমি নিজেই বললে। তো আমাদের আগে কেনো জানালে না। "
আজমাইন উত্তর দেয়,
" আমার বড় ভাই কে দিয়ে আপনার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়ে ছিলাম। আপনি তখন না করে দেন। ছেলে কিছু করে না অ্যান্ড মারজান তখন ছোট বলে তাই। আমাদের কোম্পানির সাথে আপনার কোম্পানি আজ থেকে ৫ বছর আগে একটা প্রজেক্ট এ একসাথে কাজ করেছে। আপনার হতো বিষয়টি মনে নেই। তখন আব্বু দেশের বাহিরে ছিলো আর আমি তখন ও বিজনেস্ আসিনি। ভাইয়া যখন আপনার মতা মত আমাকে জানায়। তখন থেকেই একটু একটু করে নিজে রেডি করছি। আপানার চোখে মারজানের জন্য যোগ্য হওয়ার। "

" গাজীপুরের প্রজেক্টার কথা বলছো?"
" জ্বি "
আজমাইন অনুরোধে সরে বলে,
" যে ভালোবাসা আমার আপনার মেয়ের কাছে প্রকাশ করার কথা ছিলো। তা আমি আপনার সামনে প্রকাশ করছি। আমার দীর্ঘ ৯ বছের ভালোবাসা মারজান। মরজান ব্যাতিত অন্য কেনো মেয়ে আমার জীবনে আসেনি অ্যান্ড আসবে ও না। আমাকে ভুল বুঝবেন না "।
আজমাইন একটু থেমে করুণ সরে বলে,

" এতো গুলো বছর নামাজ এর পাটিতে, মোনাজাতে আপনার মেয়ে কে হালাল ভাবে পাওয়ার দোয়া করেছি। আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না।"
ছেলেটির শেষ কথাটা কেমন যেন তাকে নাড়িয়ে দিল। ছেলেটার প্রতি কেন যেন তার ভালো লাগা কাজ করেছে।
আরাফাত ইসলাম উঠে আজমাইন কে জড়িয়ে ধরে বলেন,
" চিন্তা করো না। "
আরাফাত ইসলামের ব্যাবহারে আজমাইন সম্মতির বাতাস বইতে দেখতে পায়।

আজমাইনের সব সত্যি সত্যি জানানো। এত বছর মারজানের পিছু নেওয়ার বিষয়টা তাকে জানানো। নিজের ভুল শিকার করে সরি বলা। এগুলো তে আরাফাত ইসলাম আজমাইনের উপর খুশি হয়েছেন। আরাফাত ইসলাম ও এখন বিশ্বাস করেন আজমাইন ভালো ছেলে। আজমাইনের সাথে কথা শেষ করে তিনি চলে যেতে নিলে আজমাইন আবার তাকে জিজ্ঞেস করে,
" আংকেল আপনি রাজি। আমি জানি আপনি বিয়েতে রাজি মানে মারজান ও রাজি। আপনার কথাই মারজানের কথা। "

আজমাইন এতো বছরের এতটুকু যেনে গিয়েছে আরাফাত ইসলাম এককথার মানুষ যেটা বলবেন তাই করবেন। বলতে গেলে ঘাউড়া টাইপের। এবং তিনি তার মত করে তার ছেলে মেয়েদের চালাতে পছন্দ করেন। তাই আজমাইন মারজানের কথা তার কথা বলছে। এই একটা কথার জন্য তার এখন মারজানের প্রতি আরও বিশ্বাস এসেছে তার মেয়ে তার কথার বাহিরে যাবে না।

আরাফাত ইসলাম দাঁড়িয়ে আজমাইনের দিকে তাকিয়ে বলেন,
" বাকি কথা তোমার বাবার সাথেই হবে।"

- আদর

[ কপি করবেন না ]

10/03/2026

#মারজান
#পর্ব৩
#আদর
আজ গরমটা একটু বেশিই মনে হচ্ছে। মারজান ভার্সিটির সামনে অনেক সময় রিকশা না পাওয়ায় দাঁড়িয়ে ছিল। আজ তার ৩য় বর্ষের পরীক্ষা ছিল। সবেমাত্র মারজান বাসায় এসেছে। এসেই ব্যাগটা টেবিলের উপর রেখে পানি খেতে বসে। তখনই ডোরবেল বেজে ওঠে। পানিটা শেষ করেই মারজান গেইট খুলতে যায়। গেইট খুলতেই দেখতে পায় মধ্য বয়স্ক একজন নারী ও পুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন, সম্ভাবত তারা হাসবেন্ড ওয়াইফ। তাদের পিছনেই একটি যুবক হাতে ফল মিষ্টি নিয়ে সিড়ি দিয়ে উঠে আসছে। মারজান তাদের সালাম দিয়ে ঘরের ভিতর বসতে দেয়। তাদের বসিয়ে রেখে মারজান তাদের জন্য শরবত বানাতে যায় । মারজান মনে করে বাহিরের গরমে তাদের ও নাজেহাল আবস্থা। শরবতের গ্লাস এনে তাদের সামনে রাখতে রাখতে আবার সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করে,
" আপনারা কাকে খুজছেন ?"

মারজানের প্রশ্নের উত্তরে ইফতেখার মুরসালিন বলেন,
" আম্মু, তোমার আব্বুকে চাচ্ছিলাম। আমার তার সাথে কিছু বিষয় কথা ছিল।"
" আব্বু তো বাসায় নেই, আমি আম্মু কে ডেকে দিচ্ছি," বলেই মারজান তার মার রুমের দিকে যেতে থাকে।

সোফায় বসা আরশি ইফতেখার এতোক্ষণ মারজানকে লক্ষ করছিলেন। পিঠ অব্দি ঘন কালো চুল, বাদামী টানা টানা চোখ, শ্যামলাটে গায়ের রং, উচ্চতায় ৫ / ৫'১, ছোটো খাটো বাচ্চা মেয়ে, চেহারায় একটা অন্য রকম মায়া কাজ করে। আরশি ইফতেখারের মেয়ে টা মনে ধরে যায়।

মারজান তার মার রুমে গিয়ে দেখে সে ঘুমোচ্ছে। মারজান আসতে আসতে ডাকতে শুরু করে, তিনি চোখ খুলেল মারজান বলে,
" আম্মু বাহিরে ৩ জন এসেছে আব্বু কে খুজছে। তাদের নাকি আব্বুর সাথে কি প্রয়োজনিয় কথা আছে।"
মেহরিন ইসলাম, " তোমার আব্বু কে কল দিয়ে বাসায় আসতে বলো।"
" আম্মু তুমি কল দেও। আমি তাদের জন্য কিছু নাস্তা রেডি করে দেই," বলে মারজান রুমে থেকে বের হয়ে কিচেনে চলে যায়।
মেহরিন ইসলাম তার হাসবেন্ড কে কল দিয়ে আসতে বলেন। রুম থেকে বের হয়ে ড্রয়িংরুমে
গিয়ে তাদের উদ্দেশ্য সালাম দিয়ে বসেন। পাশ থেকে আরশি ইফতেখার বলেন,
" আপনি আরাফাত সাহেবের ওয়াইফ?"
" জ্বি "

তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। ১০-১৫ মিনিট পর মারজান কিছু ফল ভাজাবুজি নাস্তা মিষ্টি ট্রে তে সাজিয়ে নিয়ে আসে। তখনই ডোরবেল বেজে ওঠায় মেহরিন ইসলাম উঠে গিয়ে গেইট খুলে দিতেই দেখে তার হাসবেন্ড ' আরাফাত ইসলাম ' এসেছেন। তিনি বাসার কাছে তার বন্ধুর সাথে ছিলেন তাই এতো তারাতাড়ি চলে আসতে পেরেছেন। মারজান নাস্তা দিতে দিতে লক্ষ করে ছেলেটা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। মারজান বিষয়টা তেমন পাত্তা দেয় না। আরাফাত সাহেব বাসায় এসেই দেখেন মারজান কে দাড়িয়ে থাকতে। তিনি মেয়ে কে দেখা জিজ্ঞেস করেন,
" আম্মু পরীক্ষা কেমন হয়েছে? "
" আলহামদুলিল্লাহ আব্বু।"
" কখন এসেছো বাসায়?"
" অনেক আগেই এসেছি।"
" তো গলায় এখন ও আইডি কার্ড কেনো?"
" নাস্তা রেডি করছিলাম তাই খেয়াল করতে পারিনি,"
বলেই মারজান চলে যায়। মারজান তো ভার্সিটি থেকে এসে তার রুমে এখনও যেতে পারেনি। তাই ফ্রেশ হওয়ার টাইম পায়নি। এখন রুমে এসে গোসল করেই ঘুমবে অনেক টায়ার্ড আজকে।

আরাফাত ইসলাম তাদেরকে সালাম দিয়ে তার ওয়াইফের পাশে গিয়ে বসেন।
" আপনারা নাকি আমাকে কি প্রয়োজনে খুজছিলেন? ",
আরাফাত সাহেব তাদের উদ্দেশ্য প্রশ্ন করেন।
মধ্য বয়স্ক পুরুষটি বলতে শুরু করেন,
" আপনারা হতো আমাদের চিনবেন না। আমি ইফতেখার মুরসালিন, আমার ওয়াইফ আরশি ইফতেখার। আমার ছোট ছেলে ( আজমাইন কে দেখিয়ে) আজমাইন ইফতেখার। আমার মেঝো ছেলে মাহতাব ইফতেখার পেশায় ডাক্তার। আমার বড় ছেলে শাহরিয়ার ইফতেখার, আমি এবং আজমাইন আমরা তিন জন ইঞ্জিনিয়ার। ইফতেখার লিমিটেড আমার কোম্পানি। আমার ছেলে দুজন আমাকে কোম্পানি পরিচালনা করতে সাহায্য করে এবং ৫০% শেয়ার হলডার।"

আরাফাত সাহেব এতোক্ষণ মুরসালিন সাহেবের কথা শুনচ্ছিলেন। মুরসালিন সাহেব বলা শেষ করতেই আরাফাত সাহেব প্রশ্ন করেন,
" আচ্ছা, আমি আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি? "
মুরসালিন, " আপনার মেয়ে মারজানের জন্য আমার ছোট ছেলে আজমাইনের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। আপনার মেয়ে কে আমাদের বাড়ির বউ করতে চাই। আমাদের মারজানকে খুবই পছন্দ।"
মেহরিন ইসলাম এবং আরাফাত ইসলাম একে অপরের দিকে তাকাচ্ছেন।
আরশি ইফতেখার, " আমার কোনো মেয়ে নেই। আমার ছেলে বউরাই আমার মেয়ে। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব আপনাদের মেয়েকে নিজের মেয়ের মতো যত্ন ও ভালোবাসা দেওয়ার।"
আরাফাত ইসলাম বলেন,
" আমি এখন ও মারজানের বিয়ে নিয়ে ভেবে দেখিনি। মারজান এর পড়াশোনা এখন ও শেষ হয়নি।"
মুরসালিন সাহেব উত্তরে বলেন,
" মারজানের পড়াশোনা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমার বাকি দুজন ছেলের ওয়াইফ একজন উকিল অন্য জন ডক্টর। বড় ছেলে ওয়াইফ বিয়ের পড় পড়াশোনা শেষ করেছে।"
আরাফাত ইসলাম বলেন,
" আমি এখনই আপনাদের কোনো কথা দিতে পড়ছিনা। আমি নিজে আগে ছেলের ব্যাপারে খোজ নিতে চাই। আমার মেয়ের ভবিষ্যতের বিষয়। আমি কোনো রিস্ক নিতে চাই না।"
মুরসালিন সাহেব হালকা হেসে বললেন,
" আপনার সোজাসাপটা কথা শুনে খুশি হলাম। অবশ্যই খোঁজ নিবেন আপনার মেয়ে ভবিষ্যৎ এর ব্যাপার।"
আরশি ইফতেখার মেহরিন ইসলাম কে বলেন, "আমার আপনার মেয়েকে খুবই পছন্দ হয়েছে। মারজান ভদ্র মেয়ে। ওকে মেয়ে করে রাখতে চাই। আশা করি, আপনার ও এই বিয়েতে রাজি হবেন।"

তারা সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। কিছু সময় পর তারা কথা শেষ করে আরাফাত সাহেব ও মেহরিন ইসলাম থেকে বিদায় নেন। এই পুরো সময় আজমাইন নিরব দর্শকের দায়িত্ব পালন করেছে।

এই ঘটনার কিছুদিন পর মারজান রাতে তার ছোট ভাই মেহের কে পড়াচ্ছে। মেহের এখন ক্লাস ৮ এ পড়ে। মেহের কে পড়াতে দেখে মেহরিন ইসলাম মারজান কে বলেন, "ছেলেটা একদমি পড়তে চায় না, এ কয়দিন সময় করে মেহের কে পড়তে বসাবে, তোমার তো কিছুদিন ভার্সিটি অফ থাকবে।"
তিনি কথা শেষ করতেই আরাফাত ইসলাম মেহরিন ইসলাম ডাকতে থাকেন। আওয়াজ পেয়ে মেহরিন ইসলাম চলে যান। মেহরিন ইসলাম চলে যেতেই মারজান মেহেরের দিকে তাকিয়ে বলে,
"আম্মু কি বলে গেল, এমন যেন আর না শুনি।"

মেহের মাথা নিচু করে রাখে। বরাবরই মেহের মারজানকে ভয় পায়। ছোট থাকতে কতই না মার খেয়েছে। মারজান অল্পতেই রেগে যায়। রেগে মেহের কে মারলেও বাসার কেউই মারজান কে কিছু বলে না উল্টো তার বকুনি খেতে হয়। তাই সে মারজানের সামনে ভদ্র বাচ্চা হয়ে থাকে।

- আদর

[কপি করবেন না]

27/02/2026

#মারজান
#পর্ব২
#আদর
মারজান কিছু সময় আগে বাসায় এসেছে, সে আজ খুশি। নাহিল এর প্রপোজাল না করার কোন কারণ নেই। নিসন্দেহে নাহিল এক ভালো ছেলে, উচ্চতায় ৫'১০, গায়ের রং উজ্জ্বল বলতে গেলে সমাজ যেটাকে ফর্সা বলে। চত্রিরবান ছেলে, বড়দের সন্মান করে, খুবই শান্ত প্রকৃতির, নাম করা এক ব্যাবসাহীর বড় ছেলে আরহাম নাহিল।

মারজান আর নাহিলের সম্পর্কটা এখন বন্ধুতের চাইতে একটু বেশি। এই বন্ধুতে এখন প্রেমের সুভাস পাওয়া যায়। ওদের দুজনের দুষ্ট - মিষ্টি ঝগড়া আনন্দে খুব ভালো দিন কাটতে থাকে।

আজ নাহিলের ৪র্থ বর্ষের রেজাল্ট দিয়েছে। নাহিল ভালো জিপিএ পেয়ে পাস করেছে। নাহিল ভেবে রেখেছে সে তার বাবার ব্যবসায়ই বাবা কে সাহায্য করবে। মারজান এখন ও ভার্সিটিতে পড়ছে। কিন্তু সে বিয়ের জন্য উপযুক্ত তাই নাহিল চাচ্ছে আগে বিয়ে টা শেরে বাবার ব্যবসায় যোগ দিতে।

নাহিল, " মারজান আমি আমাদের ব্যাপারে আমার ফ্যামিলিতে জানাতে চাই। আমার পড়াশোনা শেষ। আর তুমিও বিয়ের উপযুক্ত। "
মারজান ও নাহিলের কথায় রাজি হয়। রাজি হবেই বা না কেনো সে ও নাহিল কে পছন্দ করে, বিয়ে করতে চায়।

নাহিল বাসায় গিয়ে দেখে ড্রয়িং রুমে তার ছোট বোন ' নাসিফা ' বসে টিভি দেখছে। নাহিল নাসিফাকে জিজ্ঞেস করে,
"বাকিরা কোথায়? "
নাসিফা টিভি দেখতে দেখতে উত্তর দেয়,
" আব্বু অফিসে, আম্মু রুমে আর দাদু ফুপ্পির বাসায় গিয়েছে আজ।"
" দাদু যে আজ যাবে আমাকে তো বলেনি।"
" ফুপ্পি দুপুরে এসেছিল দাদুকে এক প্রকার জোর করেই নিয়ে গেছে।"

নাসিফার কথা শুনে নাহিল তার আব্বু আম্মুর রুম এর দিকে এগিয়ে যায়। রুমে গিয়ে দেখে ' নাযমা বেগম ' ফোনে কথা বলছে। সম্ভাবত তার বোনের সাথে। নাহিল তার মায়ের পাশে গিয়ে বসে। নাযমা বেগম নাহিলকে বসে থাকতে দেখে বুঝতে পারলেন নাহিল তাকে কিছু বলতে এসেছে। নাযমা বেগম তারাতাড়ি কথা শেষ করে নাহিলের দিকে জিজ্ঞেসার দৃষ্টিতে তাকান। মা কে এভাবে তাকাতে দেখে নাহিলের সংকোচবোধ বেড়ে যায়। নাযমা বেগম জিজ্ঞেস করেন,
" কিছু বলবে বাবা ? "
নাহিল হ্যা সূচক মাথা নাড়ায়। নাহিল বলা শুরু করতে নিয়ে ও থেমে যায়। নাহিল বরাবরই লাজুক প্রকৃতির ছেলে তাই মারজানের ব্যাপারটা বলতে সংকোচ বোধ করছে। নাযমা বেগম,
" কি বলতে চাও বলো? "
নাহিল বলা শুরু করে,
" আম্মু তুমি তো মারজান কে চিনো, আমার স্কুলের জুনিয়র ফ্রেন্ড। মারজান এখন ভার্সিটিতে পড়ছে। আম্মু আমি মারজানকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করি আর এখন ভালোবাসি। আমি মারজান কে বিয়ে করতে চাই।"
নাযমা বেগম শান্ত গলায় বলেন,
" বাবা মারজান কি তোমাকে বিয়ে করতে চায়, তোমাকে ভালোবাসে,নাকি তোমার ভালোবাসা একতরফা? "
মার প্রশ্ন শুনেই নাহিল চটজলদি উত্তর দেয়,
" আম্মু মারজান বিয়ে করতে রাজি, ওর আপত্তি নেই। আমার অনেক যত্ন করে খেয়াল রাখে।"

নাযমা বেগম ছেলের কথায় মনে মনে খুশিই হলেন তিনি মারজান কে চিনেন ভদ্র মেয়ে কোনে উসৃংখলা নেই। নাযমা বেগম নাহিলের উদ্দেশ্য বলনে,
" তোমার আব্বু বাসায় আসুক এই ব্যাপারে আমি তার সাথে কথা বলবো।"
নাহিল খুশিতে তার মাকে জড়িয়ে ধরে। নাহিল আশা করেনি তার মা বিষয়টা এতো সহজ ভাবে নিবেন। নাহিল আহ্লাদি কন্ঠে মাকে জড়িয়ে ধরেই বলে,
" আম্মু আব্বু কে রাজি করিয়ে দেও।"
নাযমা বেগম মিটি মিটি হাসচ্ছেন। নাহিলকে আর কিছুই বলেন না। নাহিল তার বাবা কে অনেক ভয় পায়, সাহস করে সরাসরি বাবাকে কিচ্ছু বলতে পারছে না। তাই মা কে অনুরোধ করছে বাবাকে বুঝিয়ে বলতে।

নাহিলের বাবা 'মেহেদী সাহেব' কিছু সময় আগেই রাতের খাবার খেয়ে এসে, তার রুমে শুয়ে আছেন। নাযমা বেগম কে রুমে প্রবেশ করতে দেখে উঠে বসেন। নাযামা বেগম মেহেদী সাহেবের পাশে বসে বিকেলে নাহিলের বলা কথা তাকে সুন্দর ভাবে জানান। মেহেদী সাহেব শুনে অবাক ও হলেন খুশি ও হলেন যে তার ছেলে কোনো মেয়ে কে পছন্দ করে বিয়ে করতে চায়। মেহেদী সাহেব নাযমা বেগম কে বলেন,
" ঠিক আছে কিন্তু আমি আগে মেয়ে তার ফ্যমিলির ব্যাপারে খোজ নেই, তারপর জানাচ্ছি। ফ্যমিলি ভালো হলে আমার আপত্তি নেই।"

রাতে নাহিল বাসায় ফিরে তার মাকে জিজ্ঞেস করে বাবাকে জানিয়েছে কিনা। তার মা তার বাবার উত্তর নাহিল কে জানিয়ে দেয়। নাহিল খুশি বাবা ও দিমত করেননি।

কিছু দিন পর এক রাতে মেহেদী সাহেব নাহিল কে তার রুমে ডেকে পাঠান। নাযমা বেগম ও রুমে উপস্থিত। মেহেদী সাহেব শান্ত কন্ঠে নাহিলের উদ্দেশ্য প্রশ্ন করে,
" তোমার মা কে কি বলেছো? "
নাহিল বুঝতে পারে তার বাবা কোন বিষয়ের কথা জিজ্ঞেস করছে। নাহিল আজ সব সংকোচবোধ এক দিকে রেখে বাবার উদ্দেশ্য বলে,
" মারজান কে বিয়ে করতে চাই।"
মেহেদী সাহেব, " পছন্দ করো? "
" ভালোবাসি " নাহিলের সোজাসাপটা উত্তর।
মেহেদী সাহেব গম্ভীর কণ্ঠে বলেন,
" দায়িত্ব নিতে পারবে, তার হক আদায় করতে পারবে, তার পঁচাটা পরিপূর্ণ দিতে পারবে? "
নাহিল মাথা নিচু করে বলে,
" আব্বু আমি শাদ্ধ মতো চেষ্টা করব মারজান কে ভালো রাখার খুশি রাখার।"
মেহেদী সাহেব ছেলের কথায় মুচকি হাসলেন।

" মারজানের ব্যাপারে খোজ নিয়েছি। ভদ্র ও ভালো পরিবারের মেয়ে। আমার তোমার সাথে মারজান কে বিয়ে দিতে আপত্তি নেই। কিন্তু বাবা তুমি এখন বেকার। কোনো বাবাই তার মেয়ে বেকার ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাইবে না। আমি নিজে ও আমার মেয়ে কে কোনো বেকার ছেলের সাথে বিয়ে দিবনা। ছেলের বাবার যাই থাকুক না কেনো। আমি কোনো বেকার ছেলের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে পারবনা। তুমি আগে নিজে কিছু কর প্রতিষ্ঠিত হও। তারপর আমি নিজে দাঁড়িয়ে তোমাদের বিয়ে দিয়ে মারজান কে এই বাড়ির বউ করে নিয়ে আসব।"
নাহিলের তার বাবার কথা শুনে মনে পরে মারজান তাকে আগেই জানিয়েছে তার বাবা ছেলে দেখবে ছেলের বাবার কি আছে তা দেখে মেয়ে বিয়ে দিবেন না।
নাহিল, " আব্বু তুমি তাহলে রাজি।"
ছেলের কথা মেহেদী সাহেব নাহিল কে জড়িয়ে ধরেন।
নাহিল, " আব্বু আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব।"
মেহেদী সাহেব বলেন,
" আমি চাই তুমি আমার কোম্পানিতে আমাকে সাহায্য কর, কোম্পানির দায়িত্ব আস্তে আস্তে বুঝে নেও।"
নাহিল রাজি হয়ে যায়। ছেলের খুশিতে বাবা মা ও আজ খুশি। নাহিল তারপর থেকে ব্যবসায় সময় দিতে থাকে। এখন সে নিয়মিত অফিস যায়।

- আদর

[ কপি করবেন না কেউ]

23/02/2026

#মারজান
#পর্ব১
#আদর
ঘড়িতে রাত ১০ টা মারজান জালানার পাশে বসে উপন্যাস পড়ছে। তখনই তার হাতের কাছে রাখা ফোনটি বেজে ওঠে। মারজান তাকাতেই দেখতে পায়। কলটি তার বেস্ট ফ্রেন্ড নাহিল দিয়েছে। কলটি দেখেই মারজান এর মুখে হাসি ফুটে ওঠে। বিগত অনেক মাস তাঁদের ঠিক মতো কথা বা দেখা কোনোটিই হয়নি। মারজান সাথে সাথেই কল রিসিভ করে বলে,
" হ্যালো "
অপর পাশ থেকে নাহিল উওর দেয়,
"কেমন আছো? "
উত্তরে মারজান বলে,
" আলহামদুলিল্লাহ, তুমি কেমন আছো? "
নাহিল," আলহামদুলিল্লাহ, আমার সাথে দেখা করতে পারবে মারজান। কিছু জরুরি কথা আছে।যা তোমাকে জানানো প্রয়োজন। পারবে? " মারজান,
" ঠিক আছে। তাহলে কাল আমাদের স্কুলের সামনে দেখা করি।"
নাহিল সম্মতি দিয়ে কলটি কেটে দেয়।

মরাজান এর পুরো নাম 'মেহেরিমা ইসলাম মারজান '। কিছু দিন আগেই সে ভার্সিটির ১ম বর্ষে উঠেছে। বাবা মায়ের বড় মেয়ে, খুবই আদরের সন্তান। তার একজন ছোট ভাই আছে নাম মেহের ইসলাম। মারজান এর ছোট থেকেই ইগো একটু বেশি। এই ইগো এবং মারজানের মানুষের সামনাসামনি তার মুখের ওপর কথা বলার রোগ আছে। তাই তার বন্ধু সংখ্যা ও বেশি নয়।

' আরহাম নাহিল ' মারজান এর বয়সে এবং ক্লাসে বড় হলেও তারা স্কুল টাইম থেকেই একে অপরের বেস্ট ফ্রেন্ড। নাহিল মারজান এর পড়াশোনায় সাহায্য করে। নাহিল যেহেতু মারজান এর থেকে ২ ক্লাসে বড় সিনিয়র। তাই নাহিল মারজানের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারে। নাহিল এখন ভার্সিটিতে ৩য় বর্ষে পড়ছে। নাহিল তার ভার্সিটি নিয়ে খুবই ব্যাসত সময় কাটাচ্ছিলো। তাই মারজান এর সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলো না। মারজান ও তার ইগো নিয়ে বসেছিলো নাহিল তার সাথে যোগাযোগ করছে না বলে সেও নাহিল এর সাথে যোগাযোগ করেনা। কিন্তুু মারজান নাহিল কে মনে মনে মিস করছিলো। তাই নাহিল এর কলটি দেখেই মারজানের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। কল রেখে আবার মারজান তার উপন্যাস পড়ায় মন দেয়।

কিন্তু তার বার বার মনে হচ্ছিল নাহিল তাকে এমন কি বলতে চায়। যার জন্য এভাবে বলেছে। নাহিল আগে তো কখন এরকম আচরণ করেনি। মারজান তার সব ভাবনা কে একসাইড রেখে এটা ভেবে ঘুমিয়ে পরে কাল নাহিলের সাথে দেখা হলেই বোঝা যাবে।

বিকেল ৩:৩০ নাহিল স্কুলের সামনে মারজান এর জন্য অপেক্ষা করছে। ১০ মিনিট পর মারজান এসে পৌছায়। মারজান এসে নাহিল কে জিজ্ঞেস করে,
" কি বলতে চাও? বলো আমাকে শুনচ্ছি আমি। "

নাহিল কিছু সময় চুপ থেকে বলতে শুরু করে,
" মারজান আমি এতো ঘুরিয়ে কথা বলতে পারবনা সোজাসাপটা বলছি। আমি তোমাকে ভালোবাসি,পছন্দ করি তোমাকে। নিজের জীবনের বকি সময়টুকু তোমার সাথে কাটাতে চাই। আমার বউ করে সসম্মানে তোমার বাব মার কাছ থেকে তোমাকে নিয়ে যেতে চাই। এই কয়দিনে আমি বুঝতে পেরেছি আমি তোমাকে সেই কবে থেকেই ভালোবাসি। সবার সম্মতিতে একটা হালাল সম্পর্ক চাই। দুই পরিবারে সম্মতিতে তোমাকে বিয়ে করতে চাই। তুমি এখন বিয়ে করতে না চাইলে ও আমার সমস্যা নেই। দরকার হলে তোমার পড়াশোনা শেষে বিয়ে করব আমরা। তুমি শুধু এতটুকু বলো, তুমি আমারই থাকবে। আমাকে বিয়ে করবে?
ভালোবাসবে আমাকে? বল মারজান বল.."

নাহিল একাধারে বিরতিহিন ভাবে কথা গুলো বলে গেলো। মারজান একদম চুপ করে আছে। কিছু সময়ের জন্য ও তো নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। যে নাহিল ওকে বিয়ের জন্য প্রোপোজ করেছে। মারজান কখনোই ভাবেনি নাহিল ওকে পছন্দ করে। মারজান ও নাহিলকে পছন্দ করে কিন্তু সেটা ভালোবাসা নাকি শুধু ভালোলাগা এটা এখনো বুঝে উঠতে পারেনি। নাহিল যানে যে মারজান কখনোই রিলেশন এর জন্য রাজি হবে না। আগে ও যারা মারজান কে পছন্দ করতো প্রপোজ করেছে মারজান তাদের সকল কে না করে দিয়েছে। মারজান এর একটাই কথা ও হালাল সম্পর্ক চায়। মারজান কোনো রিলেশন এ জরাবেনা নিজেকে। নাহিল জানে মারজান তার বাবার মতো এক কথার মানুষ যেটা বলেছে সেটাই করার চেষ্টা করে। তাই নাহিল মারজান কে বিয়ের জন্যই প্রপোজ করে।

নাহিল, " মারজান ? "
নাহিলের ডাকে মারজানের ধ্যান ভাঙ্গে।
মারজান নাহিলের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বলে,
" নাহিল বিয়ে? "

" আমি তোমাকে এখন বিয়ে করতে বলছিনা। তুমি যখন বিয়ের জন্য রাজি থাকবে তখনই বিয়ে হবে। তোমার বাব-মা তোমাকে যখন বিয়ে দিতে চাইবে তখনই বিয়ে হবে। তুমি শুধু বল তুমি আমার থাকবে।"

মারজান এখন ও চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। তার মাথায় এখন অনেক কিছু ঘুড়ছে। মারজান বুঝে উঠতে পারছে না কি বলবে। মারজান সোজাসাপটা উত্তর দেওয়া মেয়ে ও আজ কথা গুলিয়ে ফেলছে। নাহিল মারজান কে চুপ থাকতে দেখে বলা শুরু করে,
" মারজান তুমি আমাকে ভালো ভাবেই চিনো। আমার বিষয়ে সবকিছুই তোমার জানা। আমার কোনো মেয়েকেই কখনো ভালো লাগেনি কারণ আমি অনেক আগে থেকেই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম । আমার ভালোবাসাটা শুধু তোমার জন্যই। আমাকে ফিরিয়ে দিও না। ভেবেছিলাম তোমাকে এই বিষয় কিছুই জানাবোনা কিন্তু এখন আর না বলে পারছি না। তোমাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারবনা।"

নাহিল বলা শেষ করে অপেক্ষা করে মারজানের উত্তরের জন্য। নাহিল একটু ভয় ও পাচ্ছে। মারজান না যেন ওকে থাপ্পড় মেরে দেয়। অনেক বছর আগে মারজান একটা ছেলেকে থাপ্পড় মেরে ছিলো প্রপোজ করার জন্য।

মারজান, " নাহিল বিয়ে অনেক বড় একটা বিষয় আর তুমি ভালো ভাবেই যানো আমি কোনো রিলেশন এ যাব না। তুমি আগে নিজে কিছু কর। আমাকে দেখা শোনা করার মতো যোগ্যতা অর্জন কর। তোমার বাবা কি করে বা তার কি আছে এসব কিছুই আমার বাবা দেখবে না। আশা করি বুঝতে পারছ আমি কি বলতে চাচ্ছি। যদি সত্যিই আমাকে ভালোবেসে থাকো তাহলে আমার অপেক্ষা করতে আপত্তি নেই। আগে নিজের পড়াশোনা শেষ কর।"

নাহিল কোমল সরে বলে,
" আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসি। তাই বিয়ে করতে চাই। আমাকে ভালোবাসো? পছন্দ কর আমায়?"

মারজান নাহিল কে কোনো ভনিতা না করে সরাসরি শিকার করে বলে,
" হ্যা এটা সত্যি আমি তোমাকে পছন্দ করি।"
কথাটা শুনে নাহিল মারজান কে জড়িয়ে ধরতে যায়। কিন্তু কি ভেবে যেনো জড়িয়ে না ধরে প্রশ্ন করে,
" অপেক্ষা করবে আমার জন্য? নিজেকে তোমার যোগ্য করে তুলার জন্য আমাকে সময় দিবে? "

মারজান মুচকি হেসে উত্তর দেয়া,
" করব, কিন্তু এটা যেনে রাখো আমার বাবা যা বলবেন আমি তাই মেনে নিব।"

মারজানের উত্তরে নাহিল সন্তুষ্ট। নাহিল মুচকি হেসে মারজানকে সামনে থাকা বেঞ্চে বসতে বলে। তারপর কিছু সময় কথা বলে নাহিল মারজান কে রিকশা করে তার বাসায় পৌছে দেয়। বাসায় গাড়ি থাকার পর ও মারজান রিকশাতে যাতায়াত করে। মারজান রিকশায় চলা চল পছন্দ করে। তাই নাহিল ও গাড়ি রেখে মারজানের জন্য রিকশা করেই যায়।

- আদর

[ আমার প্রথম লিখা এটি। সখের বসেই উপন্যাসটি লিখেছি। উপন্যাসের পর্ব গুলো ছোট আকারেই পোস্ট করা হবে। আশা করি ভালো লাগবে সবার।]

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Dhaka