Durantho Musafir

Durantho Musafir

Share

Entrepreneur
and community developer.

02/06/2025

বনের রাজা সিংহ ঢাকঢোল পিটিয়ে জানিয়ে দিল: কোনো শিশুকে নিরক্ষর রাখা চলবে না। সবার জন্য যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সব ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে হবে। পড়াশুনা শেষ হলে সবাইকে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

শুরু হলো শিক্ষা অভিযান!
হাতির বাচ্চা স্কুলে এলো। বাঁদর, কচ্ছপ, উট, হরিণ, মাছ, জিরাফ, সবার বাচ্চাই স্কুলে পৌঁছে গেল। ধুমধাম করে চলছে পড়ালেখা।‌

ক্লাস টেস্টে হাতির বাচ্চা ফেল।

"কোন সাবজেক্টে ফেল?", হাতি এসে প্রশ্ন করে।‌
"গাছে ওঠা সাবজেক্টে", স্কুল কর্তৃপক্ষের জবাব।

হাতি পড়ল মহা চিন্তায়। তার ছেলে ফেল? এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভালো টিউটর নিয়োগ করতে হবে। সন্তানের শিক্ষার ব্যাপারে কোনো রকম কম্প্রোমাইজ করা যাবে না।

হাতির এখন একটাই টেনশন, যেভাবেই হোক, ছেলেকে গাছে চড়া শেখাতে হবে! 'গাছে ওঠা' সাবজেক্টে টপার করে তুলতে হবে।

ফার্স্ট ইয়ার ফাইনালের রেজাল্ট বের হলো। দেখা গেল হাতি, উট, জিরাফ, মাছ, সবার বাচ্চাই ফেল।

বাঁদরের বাচ্চা টপার হয়ে গেছে। প্রকাশ্য মঞ্চে বিভিন্ন গেস্টদের আমন্ত্রিত করে, বিরাট অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলো। সেখানে টপার হিসাবে বাঁদরের বাচ্চার গলায় মেডেল পরিয়ে দেওয়া হলো।

চুড়ান্ত অপমানিত হয়ে হাতি, উট, জিরাফ নিজ নিজ সন্তানকে বেদম পিটুনি দিল।
এত টিউশন, এত খরচ, এর পরেও এই রেজাল্ট!

- ফাঁকিবাজ, এত চেষ্টা করেও তোর দ্বারা গাছে চড়া সম্ভব হলো না? অপদার্থ কোথাকার। বাঁদরের বাচ্চার কাছ থেকে শিক্ষা নে, কিভাবে গাছে চড়তে হয়!

ফেল কিন্তু মাছের ছেলেও হয়ে গেছে। সে আবার প্রত্যেক সাবজেক্টে ফেল, কেবলমাত্র সাঁতার কাটা ছাড়া।

প্রিন্সিপাল বলল, আপনার সন্তানের এ্যটেন্ডেন্স প্রবলেম। পাঁচ মিনিটের বেশি ক্লাসে থাকতে পারে না।

মাছ নিজের সন্তানের দিকে ক্রোধান্বিত দৃষ্টি হেনে তাকিয়ে রইল।

ছেলে বলে, "মা, দম নিতে পারি না, ভীষণ কষ্ট হয়। আমার জন্য জলের মধ্যে কোনো স্কুল দেখলে হতো না?"

মাছ বলে, "চুপ কর বেয়াদব। এত ভালো স্কুল আর কোথাও পাবি? পড়াশোনায় মন দে, স্কুল নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না!"

হাতি, উট, জিরাফ, নিজের নিজের ফেল্টুস বাচ্চাকে ধোলাই দিতে দিতে দিতে বাড়ি ফিরে চলেছে। পথের মধ্যে শিয়ালের সঙ্গে দেখা।

শিয়াল বলে, "কি হয়েছে সেটা তো বলো!"

হাতি বলে, এত বড় শরীর নিয়ে গাছে চড়তে পারল না। বাঁদরের ছেলে টপার হলো, মান ইজ্জত কিছুই অবশিষ্ট থাকল না!

শিয়াল অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।
কোনমতে হাসি থামিয়ে বলে, "তোমাদের গাছে চড়ার কি প্রয়োজন সেটাই তো বুঝতে পারলাম না‌। শোনো হাতি ভায়া, তুমি নিজের বিশালাকার শুঁড় উঠিয়ে ধরো, গাছের সবচেয়ে বড় ফলটি পেড়ে ভক্ষণ করো। তোমার গাছে ওঠার কি দরকার?"

"উট ভাই, তোমার অনেক উঁচু ঘাড় রয়েছে। ঘাড় বাড়িয়ে দাও, গাছের সেরা ফলপাতাগুলো পেড়ে খাও।"

"বোন মাছ, তোমার সন্তানকে নদীর স্কুলে ভর্তি করে দাও। ওকে মন ভরে সাঁতার কাটতে শেখাও। দেখবে একদিন তোমার ছেলে নদী অতিক্রম করে সমুদ্রে পাড়ি দেবে। সাত সমুদ্র পার করে তোমার নাম উজ্জ্বল করবে। ওকে রাজার স্কুলে মোটেও পাঠিও না। ও মারা যাবে।

মনে রাখতে হবে, শিক্ষা আপনার সন্তানের জন্য, শিক্ষার জন্য আপনার সন্তান নয়। প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই কিছু না কিছু স্পেশালিটি আছে। আমাদের দায়িত্ব হলো, সেটা খুঁজে বের করা, তাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেওয়া। তাহলেই দেখবেন, সে নিজেই নিজের গন্তব্য খুঁজে নেবে।

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address

Dhaka