The Knowledge Squad

The Knowledge Squad

Share

The Knowledge Squad is a community of future leaders.

30/07/2023

''পাকিস্তান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির 'মহানায়ক' যখন একজন বাঙালি''

পূর্ববঙ্গীয় বাংলা সিনেমার প্রথম 'সুপারস্টার', অভিনেতা রহমানকে। যাঁকে বলা হতো 'ঢালিউডের উত্তমকুমার'। উপাধিটা দিয়েছিলেন পরিচালক এবং প্রযোজক এহতেশাম।

পুরো নাম আব্দুর রহমান। ১৯৩৭ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি বর্তমান পঞ্চগড় জেলার আটওয়ারী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন এই মহান অভিনেতা।

পরিচালক, প্রযোজক এহতেশামের হাত ধরে ১৯৫৯ সালে উদীয়মান ঢালিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর অভিষেক ঘটে খলনায়ক চরিত্রের মধ্য দিয়ে 'এ দেশ তোমার আমার' চলচ্চিত্রে। এরপর, ১৯৬০ সালে প্রথম - নায়ক হিসেবে 'রাজধানীর বুকে'তে নবাগতা শবনমের বিপরীতে অভিনয় করেন এহতেশামের পরিচালনায়, প্রযোজনায়। এভাবেই শুরু হয় তাঁর 'নায়কোচিত' চলচ্চিত্র-যাত্রা! এরপর শবনম-রহমান জুটি 'হারানো দিন', 'নতুন সুর', 'জোয়ার ভাটা'র মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র উপহার দেন। উর্দু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রহমানের অভিষেক ঘটে ১৯৬২ সালে ঢাকাই-উর্দু ফিল্ম (ঢাকায় নির্মিত উর্দু ভাষায় চলচ্চিত্রকে 'ঢাকাই-উর্দু ফিল্ম' সম্বোধন করা হতো) 'চান্দা'র মাধ্যমে। এটাও এহতেশাম প্রযোজিত।

নবাগতা শবনম-তরুণ 'হ্যান্ডসাম' রহমান জুটির এই ছবি নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় হয়ে গেলো সাবেক পশ্চিম পাকিস্তানে, বিশেষ করে লাহোর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি - ললিউডে। ধীরে ধীরে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির 'মহানায়ক' হয়ে ওঠেন রহমান। ঢাকা, করাচি এবং লাহোরে বাংলা-উর্দু-পশতুতে সাফল্যের সাথে অভিনয় করেছেন ১৯৮২ সাল পর্যন্ত। উর্দুতে 'উত্তারাণ', 'তালাশ', 'ইন্ধান', 'প্রীত না জানে রীত', 'মিলান', 'গোরি', 'যাহাঁ বাজে শেহনাই', 'দার্শান', 'কাঙ্গান', 'পিয়াসা', 'চালো মান্ গ্যায়ে'র মতো যুগশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন লাহোর এবং করাচিকে।

দুঃখজনকভাবে, ১৯৬৩ সালে মাসুদ চৌধুরী পরিচালিত ঢাকাই-উর্দু ফিল্ম 'প্রীত্ না জানে রীত্' সিনেমার শ্যুটিং শেষে ফেরার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় রহমানের বাম পা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা তাঁকে শেষ বয়সে 'ফেলে' দিতে হয়।

১৯৬৭ সালে জীবনের প্রথম উর্দু ফিল্ম - 'দার্শান' পরিচালনা করেন রহমান - নায়কের চরিত্রে তিনি স্বয়ং এবং বিপরীতে নায়িকা শবনম, যা তাঁর জীবনের প্রথম 'সিলভার জুবিলী' এবং গোটা পাকিস্তানে 'তুমুল' সাড়া ফেলে। গায়ক, গীতিকার, সুরকার ( বশির আহমেদ) এবং অভিনয়ে মুখ্যচরিত্রে অভিনেতাগণ (ফতেহ্ লোহানী, শবনম এবং রহমান) সকলেই তৎকালীন পূর্ববঙ্গের!

মহান মুক্তিযুদ্ধের পরেও, রহমান পাকিস্তানে অভিনয় করতে থাকেন। 'দোস্তি (১৯৭১), 'নাদান (১৯৭১), 'চাহাত (১৯৭৪)', 'মিলান (১৯৭৪), 'দো সাথি (১৯৭৫)', 'তুম সালামাত রাহো (১৯৭৬)', 'দো তাসভিরেঁ (১৯৭৭)', 'দো রাহা (১৯৭৮)', 'ধামাকা (১৯৭৯)', 'হান্ড্রেড রাইফেলস (১৯৮১)'।

১৯৮২ সালে পাকিস্তান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে চিরকালের জন্য বিদায় দিয়ে রহমান বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এবং, সে'বছর 'দেবদাস'এ পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে 'বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার - ১৯৮২' লাভ করেন।

২০০৫ সালের ১৮ই জুলাই এই মহান অভিনেতার পরলোকগমন হয়। নিজ জন্মস্থানের পঞ্চগড়ের মাটিতে সমাহিত হন।

তথ্যসূত্রঃ সংগ্রহীত।



-জানুন

(ছবিতে - রহমান এবং পাকিস্তানি অভিনেত্রী নাসিরা ফিল্ম শ্যুটিংয়ে। সময়- ১৯৬৬ সাল)

Want your business to be the top-listed Computer & Electronics Service in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address

House 313/A Flat 3B, DOHS
Dhaka
1206