Subroto Kumar Sarker

Subroto  Kumar Sarker

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Subroto Kumar Sarker, Public Figure, Dhaka.

06/06/2026

অণুগল্পঃ“ধ্বংসের সাদা ছায়া”
বাক্যমিস্ত্রীঃ ড. সুব্রত কুমার সরকার।

পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার বোয়ালমারী নামক গ্রামের এক নিস্তব্ধ বিকেল।
চলনবিলের জলরাশি দূর আকাশের রঙ ধারণ করেছে।
ধানক্ষেতের উপর দিয়ে হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
গ্রামের মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত।
কিন্তু এই শান্ত সৌন্দর্যের মাঝেও কোথাও কোথাও জন্ম নিচ্ছে এক ভয়ংকর অন্ধকার— মাদকের অন্ধকার।
বোয়ালমারী গ্রামের প্রান্তে পুরোনো আমগাছের নিচে বসে ছিল সজীব।
একসময় সে ছিল স্কুলের সেরা ছাত্রদের একজন।
আজ তার চোখে ক্লান্তি, মুখে অনুতাপ, আর হৃদয়ে এক দীর্ঘ পরাজয়ের ইতিহাস।
তার সামনে বসেছিলেন গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক মোহাম্মদ করিম উদ্দিন।
তিনি ধীরে বললেন—
— সজীব, আজকাল তোমাকে অনেক বদলে যেতে দেখছি।
সজীব মৃদু হেসে বললো—
— বদলেছি স্যার।
কারণ আমি একসময় ধ্বংসের সাদা ছায়ার নিচে বাস করতাম।
— সাদা ছায়া?
— হ্যাঁ স্যার।
যে ছায়া দূর থেকে আলো মনে হয়, কিন্তু কাছে গেলে দেখা যায়— ওটা মৃত্যুর রং।
নীরবতা।
দূরে একটি শালিক ডাকলো।
করিম স্যার বললেন—
— শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
সজীব দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
— কলেজে ভর্তি হওয়ার পর।
— তারপর?
— নতুন বন্ধু।
নতুন পরিবেশ।
নিজেকে বড় দেখানোর বোকা চেষ্টা।
— তারপর?
— একদিন তারা বললো,
"একবার চেষ্টা করে দেখ, কোনো ক্ষতি হবে না।"
করিম স্যার মাথা নিচু করলেন।
— আর সেই একবারই?
সজীব তিক্ত হাসলো।
— অনেক বড় ঝড়ের শুরু হয়েছিল সেদিন।
বাতাসে শুকনো পাতার শব্দ হলো।
সজীব বললো—
— প্রথমে মনে হয়েছিল আমি পৃথিবীর সব দুঃখ ভুলে গেছি।
— পরে?
— পরে বুঝলাম, আমি আমার নিজের অস্তিত্বটাই ভুলে যাচ্ছি।
কিছুক্ষণ নীরবতা।
— পরিবার কিছু বুঝতে পারেনি?
সজীবের চোখ ভিজে উঠলো।
— মা বুঝেছিলেন।
— কীভাবে?
— মায়ের চোখ তো সন্তানের মনের আয়না।
— তিনি কী বলেছিলেন?
সজীব কাঁপা কণ্ঠে বললো—
— এক রাতে বলেছিলেন,
"বাবা, তোর চোখে আমি সেই আগের আলোটা দেখি না।"
নীরবতা আরও গভীর হলো।
— তারপর?
— আমি রেগে গিয়েছিলাম।
— কেন?
— কারণ সত্য কথা মানুষ তখনই সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে, যখন সে ভুল পথে থাকে।
দূরে মসজিদের মাইকে আসরের আজান ভেসে এলো।
সজীব মাথা নিচু করে বললো—
— এরপর শুরু হলো মিথ্যা বলা।
চুরি করা।
পরিবারের বিশ্বাস ভাঙা।
— সবচেয়ে কষ্টের দিন কোনটি ছিল?
সজীবের চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়লো।
— যেদিন ছোট বোনটা তার জমিয়ে রাখা টাকার বাক্স লুকিয়ে রাখলো।
— কেন?
— সে ভয় পেয়েছিল আমি হয়তো সেটাও নিয়ে যাবো।
করিম স্যার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— তখন কি নিজের ভুল বুঝেছিলে?
— না।
— কবে বুঝলে?
সজীব আকাশের দিকে তাকালো।
— যেদিন মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন।
— তারপর?
— আমি তার পাশে বসে ছিলাম।
— তিনি কী বলেছিলেন?
সজীবের কণ্ঠ ভেঙে গেল।
— তিনি শুধু বলেছিলেন,
"আমি অসুস্থ হওয়ার কষ্ট পাই না বাবা।
আমি কষ্ট পাই, কারণ আমার ছেলেটাকে হারিয়ে ফেলেছি।"
চলনবিলের উপর তখন সন্ধ্যার ছায়া নেমে আসছিল।
করিম স্যার ধীরে বললেন—
— সেই কথাই তোমাকে ফিরিয়ে এনেছে?
— হ্যাঁ।
— তারপর?
— চিকিৎসা নিয়েছি।
পরিবারের সাহায্য নিয়েছি।
মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করেছি।
— জিতেছো?
সজীব মৃদু হাসলো।
— আজও যুদ্ধ করছি।
কিন্তু আজ আমি বন্দি নই।
নীরবতা।
করিম স্যার বললেন—
— এখন কী করতে চাও?
সজীব দৃঢ় কণ্ঠে বললো—
— আমি চাই, চাটমোহরের কোনো তরুণ যেন সেই সাদা ছায়ার ফাঁদে না পড়ে।
— কী করবে?
— স্কুলে যাবো।
কলেজে যাবো।
যুবকদের সঙ্গে কথা বলবো।
— কেন?
— কারণ আমি জানি, সচেতনতা একটি জীবন বাঁচাতে পারে।
সূর্য তখন অস্ত যাচ্ছিল।
আকাশে লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছিল।
সজীব ধীরে বললো—

"মাদক কখনো বন্ধুর বেশে আসে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শত্রুর মতো সবকিছু ছিনিয়ে নেয়।

তাই আসুন, আমরা পরিবারকে শক্তিশালী করি, যুবসমাজকে সচেতন করি, এবং যারা আসক্তির শিকার হয়েছে তাদের পুনরায় জীবনের পথে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করি।"

চলনবিলের বাতাস তখন নতুন এক বার্তা বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল—
ধ্বংসের সাদা ছায়া যতই দীর্ঘ হোক, মানুষের ইচ্ছাশক্তি, পরিবারের ভালোবাসা এবং সমাজের সহমর্মিতা তার চেয়েও শক্তিশালী।

06/06/2026

06/06/2026

Thanks & Respect to H.E. Chairman & Vice Chairman for allowed me this opportunity to work with International Human Rights Organization-Bangladesh

https://heyzine.com/flip-book/f43bff3cf4.html

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address

Dhaka
1216