SME Mindset
Empowering Dreams | Enabling Growth | Welcome to a dedicated platform for SME entrepreneurs and startups.
10/07/2026
কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ২.৫% থেকে ৪% বৃদ্ধির প্রস্তাব: নীতিগত পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত কৃষি ও পল্লী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাংকের মোট ঋণ পোর্টফোলিওর প্রায় ২.৫%। বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ব্যাংক এখনও এই বিদ্যমান লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ করতে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে লক্ষ্যমাত্রা ২.৫% থেকে ৪%-এ উন্নীত করা, অর্থাৎ প্রায় ৬০% প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা বাস্তবায়নের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।
এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের শতকরা অবদান ধীরে ধীরে কমছে। অর্থনীতির এই কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আগে এর যৌক্তিকতা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বিশেষভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনার দাবি রাখে:
• বর্তমান কৃষি খাতে অতিরিক্ত ঋণের বাস্তব চাহিদা (Effective Credit Demand) কতটুকু?
• কৃষি খাত কি অতিরিক্ত অর্থায়ন গ্রহণ ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার সক্ষমতা (Absorptive Capacity) রাখে?
• অতিরিক্ত ঋণ বিতরণের ফলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান, কৃষকের আয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী ধরনের ইতিবাচক প্রভাব (Economic Impact) সৃষ্টি হবে—এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য বা গবেষণা কি বিদ্যমান?
• জোরপূর্বক ঋণ বিতরণ করা হলে ভবিষ্যতে ঋণ পুনরুদ্ধার (Recovery) ও খেলাপি ঋণের (NPL) ঝুঁকি কতটা বৃদ্ধি পেতে পারে?
• অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহের ফলে কৃষি উপকরণ, বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ের ওপর মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি?
• উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্যদ্রব্যের বাজারমূল্যের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে?
* আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতা (Competitiveness) ও মূল্য সক্ষমতা (Price Competitiveness) কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে?
উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর এবং পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ছাড়া শুধুমাত্র লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করাই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করবে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
তাই একটি ধাপে ধাপে (Phased Approach) অগ্রসর হওয়া অধিকতর বাস্তবসম্মত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা ২.৫% থেকে ৩%, পরবর্তীতে ৩.৫%, এবং সর্বশেষ ৪%-এ উন্নীত করা যেতে পারে। প্রতিটি ধাপের শেষে অর্থনৈতিক প্রভাব, ঋণের ব্যবহার, পুনরুদ্ধারের হার, খেলাপি ঋণের প্রবণতা এবং কৃষি উৎপাদনের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত হবে।
সার্বিকভাবে, কৃষি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি অবশ্যই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে; তবে তা যেন বাস্তব চাহিদা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিগত বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে হয়। অন্যথায় অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনশীলতা অর্জনের পরিবর্তে আর্থিক খাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টির কারণ হতে পারে।
অতএব, কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি কার্যকর করার পূর্বে একটি সমন্বিত Impact Assessment, Demand Analysis, Cost-Benefit Analysis এবং Risk Assessment পরিচালনা করে পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত ও টেকসই হবে।
03/07/2026
https://youtu.be/52fUUlNSInk?si=eV_s0qMkCS9wZ77F
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ছোঁয়ায় উদ্যোক্তা ছাইদুর রহমানের সফলতার গল্প Enjoy the videos and music you love, upload original content, and share it all with friends, family, and the world on YouTube.
03/07/2026
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ছোঁয়ায় উদ্যোক্তা ছাইদুর রহমানের সফলতার গল্প | উদ্যোক্তার সাথে। উন্নয়নের পথে।
ঢাকার কালাচাঁদপুর এলাকার পরিচিত মুখ ছাইদুর রহমান। প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে খুব সীমিত পুঁজি নিয়ে শুরু করেছিলেন মাছের ব্যবসা। শুরুতে একটি ছোট দোকান নিয়ে যাত্রা হলেও সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং ক্রেতাদের আস্থাকে মূলধন করে আজ তিনি একই বাজারে পাঁচটি মাছের দোকানের মালিক। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ৭ থেকে ৮ জন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করছেন এবং তাদের জীবিকাও এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল।
প্রতিদিন ভোরে আড়ত থেকে মাছ সংগ্রহ করে দিনের শুরু হয়। রুই, কাতলা, বোয়াল, আইড়, চিংড়ি, পাবদা, টেংরা, ইলিশসহ নানা ধরনের দেশি ও সামুদ্রিক মাছ দিয়ে সাজানো থাকে তার দোকান। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ থেকে ২.৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়। এলাকার মানুষের কাছে তার সততা ও ভালো ব্যবহারের কারণে দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সেই বিশ্বাসের কারণেই অনেক পরিচিত ক্রেতাকে প্রয়োজনের সময় বাকিতেও মাছ বিক্রি করতে হয়।
ব্যবসা ভালো চললেও মূলধনের সংকট ছিল তার নিত্যসঙ্গী। প্রয়োজন অনুযায়ী আড়ত থেকে ২ থেকে ১ লাখ টাকার মাছ বাকিতে সংগ্রহ করতে পারলেও ব্যবসা সম্প্রসারণ, বেশি পরিমাণে মাছ কেনা কিংবা হঠাৎ বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্য প্রায়ই অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হতো। সে সময় তিনি স্থানীয় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তবে সেই ঋণের সুদের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ব্যবসায়িক ব্যয়ও বেড়ে যেত।
সম্প্রতি কালাচাঁদপুর এলাকায় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট চালু হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংকিং সেবা, সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া সম্ভব। বিষয়টি তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা, কারণ এর আগে তিনি কখনো কোনো ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করেননি এবং তার কোনো ব্যাংক হিসাবও ছিল না।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শে তিনি সহজেই একটি ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। এখন তার দৈনন্দিন ব্যবসার অর্থ নিরাপদে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকের বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণের সুযোগও তৈরি হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে সমিতির উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের পথ সুগম হবে বলে তিনি আশাবাদী।
ছাইদুর রহমানের ভাষায়, “আগে মনে করতাম ব্যাংক শুধু বড় ব্যবসায়ীদের জন্য। এখন বুঝতে পারছি আমাদের মতো ছোট উদ্যোক্তারাও ব্যাংকের গ্রাহক হতে পারে এবং প্রয়োজনে সহজে বিনিয়োগ সুবিধা পেতে পারে। এতে ব্যবসা আরও বড় করার স্বপ্ন দেখছি।”
ছাইদুর রহমানের এই গল্প শুধু একজন মাছ ব্যবসায়ীর সফলতার গল্প নয়; এটি সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি (Financial Inclusion) কর্মসূচির বাস্তব সাফল্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আজ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ফলে তার সঞ্চয় নিরাপদ হয়েছে, লেনদেন হয়েছে আরও স্বচ্ছ এবং ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক মূলধারায় যুক্ত করতে এজেন্ট ব্যাংকিং একটি কার্যকর উদ্যোগ। এটি শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করছে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ছাইদুর রহমানের মতো হাজারো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যদি ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আসেন, তবে তারা আরও সংগঠিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন, সাশ্রয়ী বিনিয়োগ সুবিধা পাবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
উদ্যোক্তার সাথে। উন্নয়নের পথে।
Innovate. Empower. Transform.
Click here to claim your Sponsored Listing.