Jundullah
Jundullah - একটি ইসলামিক দাওয়াহ পেইজ।
01/02/2026
ইফতার এবং সাহরি নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা ~
আগে সারাদিন রোজা রাখার পরে ইফতার করে আমার এতো বেশি খারাপ লাগতো মাগরিবের সালাত টাও অনেক কষ্টে আদায় করতাম। সেই সাথে ইশা এবং তারাবি ও। তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হতো। শরীর টাও ছেড়ে দিতো। আবার ঘুম ও আসতো। আবার পড়ার টেবিলে বসতেও পারতাম না। অথচ ঈদের পর আমার এক্সাম থাকতো।
অনেক বছর ধরে আমি আগে ভাবতাম কি, হয়তো সারাদিন রোজা রাখার কারণে শরীর খারাপ হয়ে যায়। যেই গরম পরে! খারাপ লাগা ই স্বাভাবিক। কিন্তু না আসলে আমার নিজের দোষের কারণেই এমন হতো। ভেবে দেখুন তো সারাদিন খালি পেটে থাকেন তেমন খারাপ লাগেই না। অথচ ইফতারের পর ভরা পেট হলেও সালাত আদায় করতেই কষ্ট হয়! এটা কেনো? একমাত্র খাদ্যবাসের ঠিক নেই তাই।
আমি ৫ বছর যাবৎ কয়েকটা জিনিস একটু মেইনটেইন করছি তাই একটু সুস্থ থাকছি। ইবাদতও ভালো করে করতে পারছি। আবার দুনিয়াবি কাজ ও ব্যালেন্স করতে পারছি আলহামদুলিল্লাহ।
আলোচনায় যাওয়ার আগে, রাসুল (সাঃ) এর সুন্নাহ টা মনে করিয়ে দেই। তিনি সব সময় বলেছেন, পেটের এক ভাগে পানি, এক ভাগে খাবার এবং আরেক ভাগ খালি রাখতে। ভরপেট খাওয়া কখনোই কল্যাণকর না।
প্রথমেই একবারে বেসিক ৩ টা রুলস!
1️⃣ তেল এবং চিনি এই দুইটা আপনার পুরোপুরি ই বয়কট করতে হবে।
2️⃣ শর্করার পরিমাণ যতো পারেন কমিয়ে নিবেন। আমিষ পরিমাণ মতো।
3️⃣ পানি এবং শাক-সবজি, ফল-মূল আনলিমিটেড!
শুধু এই তিনটা রুলস জীবনের সবসময় ফলো করে দেখুন। আপনার মতো সুস্থ সুখি মানুষ খুজে পাবেন না। আপনার শরীর যেমন ভালো থাকবে স্কিন গ্লোয়িং হবে, ফুরফুরে লাগবে আবার রোগ থেকেও বাঁচবেন। ইন শা আল্লাহ
🟣 সাহরি টু ইফতারে এই রুলস কিভাবে এপ্লাই করবেন বলে দেই।
1️⃣ সাহরি খেতে উঠবেন। খাওয়ার আগেই এক গ্লাস পানি খেয়ে নিবেন। এতে ভাতের চাহিদা কমে যাবে। এরপর যে যা খান। ভাত,রুটি, তরকারি। সাহরি টা ভারি ই করবেন। খেজুর টা খাওয়ার চেষ্টা করবেন। সুন্নাহ পালন হয়ে যাবে। ইন শা আল্লাহ।
2️⃣ ইফতারে খেজুর এবং এক গ্লাস পানি দিয়ে রোজা ভাঙ্গবেন। শরবত খাবেন না প্রথমেই। কারণ প্রথমেই শরবত খেলে এর মধ্যে থাকা চিনি শরীরে অনেক ক্ষতিকর ইফেক্ট ফেলবে। তারপর নামাজ পড়তে চলে যাবেন সাথে সাথেই। ১০ মিনিট লাগবে। এই নামাজের বিরতি টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর। কারণ সারাদিন রোজা রাখার পরে আমাদের ব্রেইনের বুঝতে একটু সময় লাগে। এবং এরপরে আমাদের খাবারের ইন্দ্রিয়গুলো সক্রিয় হয়।
এই যে রোজা ভেঙ্গেই পেটপুরে খাই এইটার ক্ষতিকর দিক বলে শেষ করতে পারবো না। যেকোনো শরবতও বয়কট। ওই যে চিনি তাই। তবে খেতে পারেন খুবই অল্প চিনি দিয়ে। তবে পরামর্শ দিবো প্রথমেই না খাওয়ার। নামাজ পরে খাবেন। তারপর যেকোনো ফল-মূল, সালাদ ইত্যাদি খেতে পারেন। আর ছোলাবুট টা খেতে পারেন। তবে যেকোনো ভাজাপোড়া বয়কট (আলুরচপ, বেগুনি, পিয়াজু, জিলাপি) প্লিজ এইসব বয়কট করেন( ⚠️ # ডিপ ফ্রাইয়ের) যা হবে সব বাদ দিবেন। ইফতারে মুড়ি মাখাটা খাবেন না প্লিজ। এইটাই প্রধান শত্রু। এইটা বাদ তো সব ঠিক। ইফতারে যাই খান, ওই তিনটা রুলস মেইনটেইন করবেন। ইউটিউবে হেলদি ইফতার রেসিপি পাবেন। ফলো করতে পারেন।
🟣 আচ্ছা আমি বলি, উপরে এতো কথা বললাম এটা অনেক ফ্যামিলিতে পুরোপুরি মেইন্টেইন নাও করতে পারেন। আমি নিজেও পারি না। যে আমার একার জন্য আমার ফ্যামিলি হেলদি ইফতার বানাবে। আমার পরিবার ও ভাজাপোড়া পরিবার। প্রতিদিন ই মুড়িমাখা হয়। আমি ঢাকায় থাকি। তো আমি এই পরিবারে থেকে যেভাবে ফলো করি সেটা এবার বলি। ~
আমার সাহরি রুটিন ওমনই থাকে। ভাত-তরকারি ই খাই। কিন্তু ইফতারে আমি শরবত বয়কট করেছি। ইফতার খেজুর-পানি দিয়ে ভেঙ্গে সাথে সাথে মাগরিবের নামাজে দাঁড়িয়ে যাই। তারপর নামাজের পর ফলমূল একটু খাই। আর শশা-টমেটো দিয়ে ছোলাবুট খাই। ( ছোলাবুট খেলে পেট অনেক ক্ষন ভরে থাকে।) মাঝে মাঝে দই-চিড়া খাই। তারপর আর কিছুই খাই না। তারপর আধাঘন্টা পর আমি একটু দুধ চা খাই দু-একটা বিস্কুট দিয়ে। ( আমার ইফতার হালকা নাস্তা করার মতো হয়।)
ইফতারের পর ইশার আজানের ব্যবধান থাকে এক ঘন্টা কেবল। আজান দিলেই সাথে সাথেই নামাজ পরে ফেলি, ইশা+তারাবি। জায়নামাজের পাশে এক বোতল পানি নিয়ে নেই। তারাবির মাঝে একটু একটু পানি খেয়ে ফেলি। পানির ঘাটতি এভাবে দূর হয়ে যায়। { এই সীমিত ইফতারের পর, নামাজ পরতে বিশ্বাস করেন একটুও খারাপ লাগে না আমার। ১% ও না} তারপর আমার নামাজ আনুমানিক ৯-৯:৩০ টার মধ্যই শেষ হয়ে যায়। এরপর আমি একবারে ডিনার করে ফেলি। ভাত-তরকারি দিয়ে। তারপর যদি আমার কোনো ভাজাপোড়া খেতে একটু ইচ্ছে করে এটা আমি এখন খাই! অনলি ১/২ পিছ। ইফতারে একটু রেখে দেই তুলে। এটা এখন খেলে কোনো ক্ষতি হবে না। নামাজ তো পরেই ফেলছি।
তারপর পড়তে বসি। অনান্য কাজ করি। ঘুমানো তাড়াতাড়ি ই ভালো। তারপর আমি সাহরি ৪ টা বাজে করি। তো ৯-৪ টা এই ৬ঘন্টার ব্যবধানে ডিনারও হজম হয়ে যায় পুরোপুরি। (ভাজাপোড়া খেলে পেট ফেপে থাকে। তবে বয়কট করলে প্রচন্ড ক্ষুদা লাগে😒} তারপর আবার পেট ভরে ভাত-তরকারি ই খাই।
🔵 #সামারি : যারা পারবেন হেলদি ইফতার বানিয়ে খাবেন। আর না পারলে, একটু কষ্ট করে সীমিত খেয়ে ইশা+তারাবি সালাত টা আদায় করে ভাত খেয়ে নিয়েন। তাহলেই হবে। আর পানি শূন্যতা পূরণ করবেন। ইফতার টু সাহরি কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি খাওয়ার টার্গেট রাখবেন।
এইটা একবার কেউ ফলো করে দেখেন। বিশেষ করে যারা স্টুডেন্ট ঈদের পর পর ই এক্সাম। তারা পড়ালেখাতেও মন দিতে পারবেন ভরপুর। সারাদিন রোজা তেও এক ফোটা খারাপ লাগবে না। উল্টা মন চাইবে একটা দৌড় দেন!! কথা দিলাম। ইন শা আল্লাহ। ইবাদতের একটা আলাদা স্বাদ পাবেন!!
অন্তত সুস্থ ভাবে ইবাদত করার জন্য হলেও, একমাস ভাজাপোড়া বয়কট করুন যতোটুকু সম্ভব।
পোস্ট টা এতো বড় হয়ে গেছে। জানি না পুরোটা কেউ পড়বে কি না।
তবে পড়ে এবং এপ্লাই করে যদি নিজ জীবনে উপকার পান আমাকে দু'য়ায় রাখতে ভুলবেন না💖
আর এইটা নিয়ে একটা বাস্তব ভিডিও আছে আমার ইউটিউবে ২০২৩ সালে। সেটার লিংক কমেন্টে দিচ্ছি সেটাও একবার দেখে নিতে পারেন। 💜
[ 2023 সালের লেখা ]
আল্লাহু আকবার
Click here to claim your Sponsored Listing.