ShebikAmit
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ShebikAmit, Dhaka.
13/06/2026
শিশুর সলিড শুরু করতে বাবা-মার জানা আবশ্যক 💁♀️
অনেক বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা থাকে, "আমার বাচ্চা কি যথেষ্ট খাচ্ছে?" আর এই দুশ্চিন্তা থেকেই শুরু হয় জোর করে খাওয়ানো, বাচ্চাকে শুইয়ে খাওয়ানো, মুখ চেপে খাবার ঢুকিয়ে দেওয়া, কার্টুন দেখিয়ে বা ভয় দেখিয়ে খাওয়ানোর মতো ক্ষতিকর অভ্যাস। কিন্তু সত্যি হলো, একটি শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি নির্ভর করে শুধু কতটুকু খেয়েছে তার উপর নয়, বরং কীভাবে খেয়েছে তার উপরও।
৬ মাস বয়সে সলিড শুরু হলে কতটুকু খাবার প্রয়োজন?
মনে রাখতে হবে, ১ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ বা ফর্মুলাই প্রধান খাবার। সলিড খাবার মূলত শেখার জন্য, ধীরে ধীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণের জন্য। হা আবারো বলছি এই সময় টা খাবার যে জোড় করে খাওয়াতেই হবে, বিষয়টা এমন না। এই সময়টা কেবল খাবারের সাথে পরিচিত করাতে হবে।
৬–৮ মাস: দিনে ২–৩ বার সলিড
প্রতি বেলায় প্রায়: ২–৩ টেবিল চামচ দিয়ে শুরু, ধীরে ধীরে ½ কাপ (প্রায় ১২০ মি.লি.) পর্যন্ত।
৯–১১ মাস: দিনে ৩–৪ বার সলিড
প্রতি বেলায়: ½ কাপ থেকে ¾ কাপ। সাথে ১–২ বার স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস।
১২–২৪ মাস: দিনে ৩টি প্রধান মিল, ২–৩টি স্ন্যাকস
প্রতি বেলায়: ¾ কাপ থেকে ১ কাপ। তবে এগুলো গড় পরিমাণ। সব শিশু একরকম খাবে না।
কেন সব বাচ্চা একই পরিমাণ খাবার খায় না?
মায়েরা ওমুকের বাচ্চা তমুকের বাচ্চার তুলনা দেবেন না কেউ দিলেও মানবেন না। কারন প্রতিটা বাচ্চা আলাদা তাই কেউ বেশি বা কম খাবে এটাই স্বাভাবিক।আমরা যেমন প্রতিদিন সমান ক্ষুধার্ত থাকি না, শিশুরাও থাকে না। ক্ষুধা নির্ভর করে:বয়স
ওজন, শারীরিক কার্যক্রম, দাঁত ওঠা, অসুস্থতা, ঘুম
ও মানসিক অবস্থা তাই একদিন কম খাওয়া মানেই কোনো সমস্যা নয়।
জোর করে খাওয়ানোর ফলে কী হতে পারে?
শিশুর মস্তিষ্কে জন্মগতভাবে ক্ষুধা ও পেট ভরে যাওয়ার সংকেত থাকে। যখন আমরা বারবার জোর করি, "আর এক চামচ", "এতটুকু খেয়ে হবে?"
"না খেলে ভুত আসবে " ইত্যাদি ইত্যাদি তখন শিশু নিজের শরীরের সংকেতের উপর বিশ্বাস হারাতে শুরু করে। ফলে দেখা দিতে পারে খাবারের প্রতি ভয়, খেতে বসলেই কান্না, খাবার দেখলে পালানো
, দীর্ঘমেয়াদি ফিডিং অ্যাভারশন, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত খাওয়া বা কম খাওয়ার প্রবণতা, খাবারের সময় স্ট্রেস ও উদ্বেগ, বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন।
শুইয়ে খাওয়ানো কেন বিপজ্জনক?
শিশু যখন শুয়ে থাকে, তখন গিলতে (swallow) অসুবিধা হয়। খাবার বা তরল ভুল পথে চলে গিয়ে শ্বাসনালীর দিকে যেতে পারে। এটাকে বলে Aspiration।
খাবার শ্বাসনালীতে গেলে কী কী হতে পারে? সেটা একটু জেনে নিন।
১. শ্বাসরোধ (Choking) এটি জরুরি অবস্থা।
লক্ষণ: কাশি, শ্বাস নিতে কষ্ট, নীল হয়ে যাওয়া
শব্দ বের না হওয়া, শক্ত হয়ে যাওয়া। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানিও হতে পারে।
২. Aspiration Pneumonia
খাবার বা তরল ফুসফুসে ঢুকে গেলে সংক্রমণ হতে পারে। লক্ষণ: জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকের সংক্রমণ
অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব এক দিন দুদিনে দেখা যায়না।
৩. Silent Aspiration
সবসময় কাশি হয় না। কখনো কখনো খাবার অল্প অল্প করে ফুসফুসে যায়, কিন্তু বাইরে থেকে বোঝা যায় না। ফলে বারবার বুকের ইনফেকশন, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪. খাবারের প্রতি নেতিবাচক স্মৃতি
যখন শিশুকে জোর করে মুখে খাবার ঢোকানো হয়, আঙুল দিয়ে ঠেলে দেওয়া হয়, বা কান্নার মধ্যে খাওয়ানো হয়, তখন তার মস্তিষ্ক খাবারকে "বিপদ" হিসেবে মনে রাখতে শুরু করতে পারে। ফলে পরবর্তীতে খাবার দেখলে ভয়, নতুন খাবার গ্রহণে অনীহা, মুখে খাবার রাখতে না চাওয়া, দীর্ঘমেয়াদি Feeding Disorder দেখা দিতে পারে।
তাহলে কী করবেন?
১। শিশুকে সবসময় সোজা বসিয়ে খাওয়ান।
২। শিশুকে নিজে খাওয়ার সুযোগ দিন।
৩। ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেতকে সম্মান করুন।
৪। নতুন খাবার বারবার অফার করুন, জোর করবেন না।
৫। খাবারের সময় আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করুন। কোনো বই বা খেলনা সামনে রাখুন, নিজের মুখে হাসি রাখুন। পরিবেশটা যেন মজার স্মৃতি বাচ্চার ব্রেইনে তৈরি করে সে বিষয়ে খেয়াল করুন।
৬। খাওয়াকে যুদ্ধ নয়, শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন।
একটি সুস্থ শিশু কখনোই প্রতিদিন একই পরিমাণ খাবার খাবে না। কিন্তু প্রায় সব শিশুই ক্ষুধা লাগলে খেতে চায়। আমাদের কাজ হলো পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, আর শিশুর কাজ হলো কতটুকু খাবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়া। খাবার মুখে ঢোকানো যায়, কিন্তু খাবারের প্রতি ভালোবাসা জোর করে তৈরি করা যায় না।
আজকের একটি জোর করে খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা হয়তো কয়েক মিনিটে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু তার প্রভাব শিশুর খাবারের সাথে সম্পর্কের উপর বছরের পর বছর থেকে যেতে পারে।
লক্ষ্য শুধু পেট ভরানো নয়; লক্ষ্য হলো এমন একজন মানুষ তৈরি করা, যে নিজের শরীরের সংকেত বুঝবে, খাবারকে ভয় পাবে না এবং সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলবে।
আপনারা চাইলে এই সলিড নিয়ে একটা সিরিজ দিতে পারি, যা ভীষণ কাজের হবে।
ধন্যবাদ 🙏
ShebikAmit
আমার পিত্তথলির অপারেশনের সময়টা খুবি স্বাভাবিক ছিল, কেবল আমার পরিবারের জন্য। পরিবার বলতে আমার মা, স্বামী, সানায়া, বাবা মা( শ্বশুর, শ্বাশুড়ি) , দিদি, যারা কিনা আমাকে সবসময় যত্নে আগলে রাখে❤️।
ভালো পরিবার মানুষের জন্য বড় এক সম্পদ❤️
তবে অপারেশন টা ছোট হলেও ওই দিনটা কষ্টের, অপারেশনপর আন্ডারে যে যায়, সে ছাড়া কেউ হয়তো রিলেট করতে পারবেনা। আর মা হবার পর মেয়েরা সন্তানের জন্য আরো বেশি করে নিজের জীবন নিয়ে ভয় পায়। চিন্তা একটাই " আমি না থাকলে আমার সন্তানকে, আমার মতো করে কে দেখবে?"। তবে আমার পুরো পরিবার সানায়াকে আগলে রেখেছিল।
12/06/2026
আজ আমরা কথা বলবো ব্রেইনের এমন এক জাদুকরী কোষ বা সেল নিয়ে, যা জানার পর বাচ্চার সামনে আপনার হাঁটা-চলা, কথা বলা, এমনকি তাকানোর ধরণও বদলে যাবে! একে বলে মিরর নিউরনস (Mirror Neurons)।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এগুলো হলো বাচ্চার ব্রেইনের ভেতর লুকিয়ে থাকা ছোট ছোট ‘আয়না’। এই আয়নাগুলোর কাজ কী জানেন? আপনি যা করবেন, বাচ্চার ব্রেইন হুবহু তা-ই নিজের ভেতর রিফ্লেক্ট বা কপি করে নেবে। চলুন, এই আয়নার পেছনের মজার বিজ্ঞানটা একটু পরখ করে দেখি।
মিরর নিউরন কী? (The Copy-Cat Cells)
নব্বইয়ের দশকে ইতালির একদল বিজ্ঞানী বানরের ব্রেইন নিয়ে পরীক্ষা করার সময় হুট করেই এই মিরর নিউরন আবিষ্কার করেন। তারা দেখলেন, একটা বানর যখন নিজে কোনো কলা চিবিয়ে খাচ্ছে, তখন তার ব্রেইনের যে নিউরনগুলো অ্যাক্টিভেট বা সচল হচ্ছিল; মজার ব্যাপার হলো, বানরটি যখন চুপচাপ বসে অন্য একজন মানুষকে কলা খেতে দেখলো, তখনও তার ব্রেইনের ঠিক একই নিউরনগুলো অ্যাক্টিভেট হয়ে গেল! অর্থাৎ, নিজে কাজ না করেও, শুধু অন্যকে দেখে ব্রেইন অবিকল সেই কাজের অনুভূতি নিজের ভেতর তৈরি করে ফেললো।
মানুষের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই মিরর নিউরনগুলো সুপার-অ্যাক্টিভ থাকে। বাচ্চা যখন আপনাকে হাসতে দেখে, তার ব্রেইনের মিরর নিউরন নিজে থেকেই তাকে হাসতে উদ্বুদ্ধ করে। আপনি যখন বাচ্চার সামনে মোবাইল স্ক্রোল করতে করতে কথা বলেন, বাচ্চার ব্রেইনও তখন ‘মনোযোগ না দেওয়া’ এবং ‘ডিভাইস আসক্তি’র প্যাটার্নটা নিজের ভেতর কপি করে নেয়।
"ডোন্ট ডু অ্যাজ আই সে, ডু অ্যাজ আই ডু"
আমরা মা-বাবারা সারাদিন বাচ্চাদের মুখে মুখে অনেক উপদেশ দিই "মিথ্যা কথা বলবে না","মোবাইল বেশি দেখো না", "রাগ করে চিল্লাবে না"। কিন্তু আমরা নিজেরা চিল্লায়ে বলি🤦♀️। বাচ্চার ব্রেইন আপনার মুখের উপদেশ বা লজিক শোনে খুব কম; সে চোখ দিয়ে আপনাকে যা করতে দেখে, তা শেখে ১০০%।
পারিবারিক ঝগড়া ও বাচ্চার জেদ: ঘরের ভেতর মা-বাবা যদি একে অপরের সাথে চিৎকার করে কথা বলেন, বাচ্চার মিরর নিউরন সেই রাগের ফ্রিকোয়েন্সি ক্যাচ করে নেয়। পরে যখন সে নিজে কোনো কারণে রেগে যায়, সে-ও ঠিক একই কায়দায় চিৎকার করে বা জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। কারণ তার ব্রেইনের আয়নায় রাগ প্রকাশের এই একটাই স্ক্রিপ্ট সেভ করা আছে।
ল্যাঙ্গুয়েজ ও সোশাল স্কিল:ভাষা শেখার ক্ষেত্রে মিরর নিউরনের ভূমিকা অপরিসীম। মা যখন বাচ্চার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট নেড়ে কথা বলেন, বাচ্চার মিরর নিউরন তখন মায়ের ঠোঁটের মুভমেন্ট এবং ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন (মুখের ভঙ্গি) কপি করে নিজের স্পিচ সেন্টারকে ট্রেইন করে। কিন্তু বাচ্চা যখন আপনার বদলে একটা নিষ্প্রাণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে, তখন সেখানে কোনো রিয়েল-লাইফ ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন বা ইমোশনের আদান-প্রদান হয় না। ফলে বাচ্চার সামাজিক বিকাশ এবং কথা বলার গতি দুটোই কমে যায়।
মা-বাবাদের জন্য নিউরো-প্যারেন্টিং হ্যাক যা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ :
বাচ্চার ব্রেইনের এই ‘আয়না কোষ’ বা মিরর নিউরনকে কাজে লাগিয়ে আপনি খুব সহজেই তাকে চমৎকার সব অভ্যাস শেখাতে পারেন।
আপনাদের জন্য ৩টি পাওয়ারফুল হ্যাক:
১. বি দ্য রোল মডেল (Be what you want them to be): আপনি যদি চান আপনার বাচ্চা বই পড়ার অভ্যাস করুক, তবে তাকে মুখে "বই পড়ো" না বলে, দিনে অন্তত ২০ মিনিট বাচ্চার সামনে নিজে একটা বই বা পত্রিকা নিয়ে বসুন। আপনার ব্রেইনের মিরর নিউরন বাচ্চার ব্রেইনকে সিগন্যাল দেবে—"বই পড়াটা একটা দারুণ এবং স্বাভাবিক কাজ!" এভবাে প্রতিটা বিষয় আপনি যা তাকে শেখাতে চান আগে নিজে করুন।
২. আই কন্টাক্ট ও হাসিমুখ: বাচ্চার সাথে কথা বলার সময় মোবাইলের দিকে না তাকিয়ে সরাসরি তার চোখে চোখ রাখুন (Eye Contact)। আপনার মুখের হাসি এবং মনোযোগ বাচ্চার মিরর নিউরনকে সচল করবে, যা তার আত্মবিশ্বাস ও ভাষা বিকাশের হাইওয়েকে মজবুত করবে।
৩. ইমোশন রেগুলেশন (শান্ত থেকে শান্ত করা): বাচ্চা যখন কান্নাকাটি বা জেদ করবে, তখন আপনি নিজে শান্ত থাকুন। আপনার শান্ত কণ্ঠস্বর এবং ধীরস্থির আচরণ বাচ্চার উত্তপ্ত অ্যামিগডালাকে শান্ত করতে সাহায্য করবে, কারণ বাচ্চার মিরর নিউরন আপনার ‘শান্ত ভাব’টাই নিজের ভেতর কপি করতে চাইবে।
আজ থেকে মনে রাখবেন, বাচ্চা কিন্তু আপনাকে সারাক্ষণ সিসিটিভি ক্যামেরার মতো নোটিশ করছে এবং তার ব্রেইনে আপনারই একটা কার্বন কপি তৈরি করছে! আমার লেখা পড়ে একটু মনে করে দেখুন আপনার সন্তাব আপনার কোন কোন আচরন গুলো কপি করছে। দয়া করে সচেতন হবেন।
এই সিরিজে শিশুর ব্রেইন নিয়ে জানানো হবে যা বাবা-মা হিসেবে অবশ্যই জানা উচিত।
ধন্যবাদ 🙏
ShebikAmit
12/06/2026
গত সপ্তাহে NITOR-এ আমার স্বামীকে ফলোআপ দেখাতে গিয়েছিলাম। আউটডোরে ডাক্তারদের ডিউটি সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। প্রায় ৪ ঘণ্টা একটানা রোগী দেখার পর দুপুর ১২টার দিকে কয়েকজন ডাক্তার পাশের রুমে নাস্তা করতে গিয়েছিলেন।
বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মানুষ তখন বলতে শুরু করলেন, "রোগী রেখে আড্ডা মারছে!" "ডাক্তাররা মানুষকে মানুষ মনে করে না!" "মাথা কিনে ফেলেছে!" কথাগুলো শুনে মনে হলো, আমরা যেন ভুলেই যাই ডাক্তাররাও মানুষ। তাদেরও ক্ষুধা লাগে, ক্লান্তি আসে, বিশ্রামের প্রয়োজন হয়।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীর চাপ সামলাতে হয়। অনেক সময় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়। এর মধ্যেও তাদেরকে নানা ধরনের আচরণের মুখোমুখি হতে হয়, অপমান, গালাগালি, এমনকি কখনও কখনও শারীরিক আক্রমণও। ইদানীং তো অনেক বেড়েছে।
অবশ্যই সব অভিযোগ ভিত্তিহীন নয়। কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের আচরণ নিয়ে যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু এটাও সত্য যে, আমাদের সমাজে স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের প্রতি সম্মান ও ধৈর্যের অভাব দিন দিন বাড়ছে। দু চারজনের আচরনে সমস্যা, দু চারটা হাসপাতালে সমস্যা বলে সব জায়গায় গিয়ে একইরকম আচরন কাম্য নয়।
খেয়াল করে দেখুন, হাসপাতালে আমরা অনেকেই
১। লাইনে দাঁড়াতে চাই না।
২।নির্ধারিত নিয়ম মানতে চাই না।
৩। নিজের সিরিয়ালের অপেক্ষা না করে একসাথে কক্ষে ঢুকে পড়ি।
৪। সামান্য বিলম্ব হলেই উত্তেজিত হয়ে যাই।
৫। নার্স, ওয়ার্ডবয় বা অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করি।
এসব আচরণ প্রতিদিনের কর্মপরিবেশকে আরও কঠিন করে তোলে। স্বাস্থ্যসেবা একটি দ্বিমুখী সম্পর্ক। এখানে শুধু ডাক্তারদের দায়িত্ব নয়, রোগী ও স্বজনদেরও দায়িত্ব আছে। সম্মান, ধৈর্য ও মানবিকতা এই তিনটি বিষয় দুই পক্ষই পালন করলে চিকিৎসা পরিবেশ অনেক ভালো হতে পারে।
আমরা যেমন চাই ডাক্তাররা আমাদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করুন, তেমনি আমাদেরও মনে রাখা উচিত সাদা অ্যাপ্রনের ভেতরেও একজন মানুষ আছেন, যারও ক্লান্তি আছে, অনুভূতি আছে, পরিবারের কাছে ফেরার অপেক্ষা আছে।
সম্মান দিলে সম্মান ফিরে আসে। একটি মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমাদের সবারই ভূমিকা আছে। ❤️
বিদ্র:
11/06/2026
ASD (Autism Spectrum Disorder) কী?
আজকাল অনেক বাবা-মা “Autism”, “ASD” বা “Spectrum” শব্দগুলো প্রায়ই শুনছেন। কিন্তু অনেক সময় পরিষ্কারভাবে না জানার কারণে অযথা ভয়, দুশ্চিন্তা এবং ভুল ধারণা তৈরি হয়। তাই এই সিরিজের প্রথম পর্বে আমরা ASD-কে বৈজ্ঞানিক, মানবিক এবং সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করবো।
ASD (Autism Spectrum Disorder) কী?
ASD (Autism Spectrum Disorder) হলো একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল বা স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা, যা একজন শিশুর যোগাযোগের ধরন, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, আচরণ, আগ্রহ এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতিকে প্রভাবতি কোনো রোগ নয়, কোনো সংক্রমণ নয় এবং এটি "সেরে যাওয়ার" মতো কোনো অসুখও নয়। বরং এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে শিশুর মস্তিষ্ক তথ্য গ্রহণ, বিশ্লেষণ এবং পরিবেশের সাথে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় ভিন্নভাবে কাজ করে।
ASD কেন হয়?
বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী ASD-এর একক কোনো কারণ নেই। এটি সাধারণত বিভিন্ন জিনগত (Genetic) এবং জৈবিক (Biological) কারণের সম্মিলিত প্রভাবে ঘটে।
সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে
১। জিনগত প্রভাব বা পারিবারিক ইতিহাস
২। গর্ভাবস্থায় কিছু জৈবিক ও পরিবেশগত প্রভাব
৩। মস্তিষ্কের প্রাথমিক বিকাশে কিছু পার্থক্য
৪। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ভিন্নতা
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ASD-এর সঠিক কারণ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।
ASD কী কারণে হয় না?
বছরের পর বছর ধরে ASD নিয়ে অনেক ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে। বৈজ্ঞানিকভাবে যেগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলো হলো
১। টিকা (Vaccine) ASD সৃষ্টি করে না। বহু বড় গবেষণায় এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২। মোবাইল, টিভি বা স্ক্রিন ASD-এর কারণ নয়। তবে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ভাষা ও সামাজিক দক্ষতার বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ASD লাইক symptoms দেখা দেয় যাকে ভার্চুয়াল অটিজম বলে।
৩। ASD কোনো মানসিক রোগ নয়।
"স্পেকট্রাম" শব্দটির অর্থ কী?
ASD-কে "স্পেকট্রাম" বলা হয় কারণ প্রত্যেক অটিস্টিক ব্যক্তি একে অপরের থেকে ভিন্ন। কিছু শিশু খুব অল্প সহায়তায় দৈনন্দিন কাজ করতে পারে, আবার কিছু শিশুর বেশি সহায়তার প্রয়োজন হয়।
কেউ হয়তো খুব ভালো কথা বলতে পারে কিন্তু সামাজিক সংকেত বুঝতে কষ্ট হয়। আবার কেউ হয়তো কথা বলতে পারে না কিন্তু ছবি, ইশারা বা বিকল্প পদ্ধতিতে দারুণভাবে যোগাযোগ করতে পারে। তাই ASD-এর ক্ষেত্রে "একটি শিশু যেমন, সব শিশু তেমন" এমন ধারণা কখনোই সঠিক নয়।
ASD-যুক্ত শিশুদের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য
সব শিশুর মধ্যে সব লক্ষণ থাকে না। তবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে
১। নিজের নাম ডাকলে সব সময় সাড়া না দেওয়া
২। চোখে চোখ রেখে কথা বলতে কম স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা
৩। সমবয়সীদের সাথে খেলায় কম আগ্রহ দেখানো
৪। ভাষা বিকাশে বিলম্ব হওয়া
৫। একই কাজ বা রুটিন বারবার করতে পছন্দ করা
৬। বিশেষ কোনো বিষয় বা খেলনার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ থাকা
৭। শব্দ, আলো, গন্ধ বা স্পর্শের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল বা কম সংবেদনশীল হওয়া
তবে মনে রাখতে হবে, একটি বা দুটি বৈশিষ্ট্য থাকলেই ASD আছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সঠিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।
ASD মানেই কি শিশুর সম্ভাবনা শেষ?
একদমই না। অনেক ASD-যুক্ত শিশুর অসাধারণ স্মৃতিশক্তি, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সংগীত, শিল্প, গণিত বা প্রযুক্তিগত বিষয়ে বিশেষ শক্তি থাকতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুকে "স্বাভাবিক" বানানো নয়, বরং তার শক্তিগুলোকে বিকশিত করা এবং যেসব ক্ষেত্রে সহায়তা দরকার সেখানে উপযুক্ত সমর্থন দেওয়া।
কেন দ্রুত শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ?
ASD যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত শিশুকে উপযুক্ত সহায়তা, থেরাপি, যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ এবং পরিবারভিত্তিক সমর্থন দেওয়া সম্ভব হয়।
প্রথম কয়েক বছর শিশুর মস্তিষ্ক অত্যন্ত দ্রুত বিকশিত হয়। এই সময়ে সঠিক হস্তক্ষেপ শিশুর যোগাযোগ, সামাজিক দক্ষতা এবং দৈনন্দিন কার্যক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
অটিজম কোনো ট্র্যাজেডি নয়, অজ্ঞতা এবং দেরিতে সহায়তা পাওয়াই আসল সমস্যা। ASD-যুক্ত শিশুরা ভাঙা নয়, তারা ভিন্ন। তাদেরও স্বপ্ন আছে, অনুভূতি আছে, শেখার ক্ষমতা আছে। আমাদের কাজ হলো তাদের পরিবর্তন করা নয়, বরং তাদের বোঝা, গ্রহণ করা এবং বিকাশের জন্য সঠিক সুযোগ তৈরি করা।
"Different, not less." তারা আলাদা, কিন্তু কোনোভাবেই কম নয়। ❤️
পরবর্তী পর্বে আলোচনা করবো: "ASD-এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী? কোন কোন আচরণ দেখলে বাবা-মায়ের সতর্ক হওয়া উচিত?"
#অটিজম #শিশুবিকাশ #সচেতনতা_বৃদ্ধি
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Telephone
Address
1229