DooGo

DooGo

Share

প্রতিটা দিন কেই যাচাই করো তুমি কি অর্জন করলে তা দিয়ে নয় বরং তুমি কি কি কাজ করলে তা দিয়ে।🌼

20/04/2026

“উদ্ধারকারী দল ভেবেছিল বিড়ালটি মারা গেছে… যতক্ষণ না তারা তার শ্বাস নেওয়া লক্ষ্য করল। সে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শিশুটির ওপর শুয়ে ছিল টানা ১১ ঘণ্টা। তার শরীরের তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৮৪°F-এ। আর শিশুটির ছিল একদম স্বাভাবিক।”

২০২৩ সালের ৮ মার্চ, ভোর প্রায় ৩টা ২০ মিনিটে, টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে দুর্বল হয়ে পড়া একটি বিশাল ওক গাছ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের পূর্বাঞ্চলের একটি দূরবর্তী এলাকায় একটি মোবাইল বাড়ির ওপর ভেঙে পড়ে।

গাছটি ছিল ৮০ ফুটেরও বেশি লম্বা। এটি সরাসরি বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে ছাদ ধসিয়ে দেয় এবং বাড়ির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস করে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যায়। নিকটতম প্রতিবেশী ছিল এক মাইল দূরে, আর মোবাইল নেটওয়ার্কও ছিল না।

ঘরের ভেতরে ছিল তিনজন মানুষ—

একজন ২০ বছর বয়সী মা
তার ৫ মাসের শিশু ছেলে
এবং তার ৭৮ বছর বয়সী দাদি, যিনি বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন

আর ছিল একটি বিড়াল।

একটি ধূসর রঙের বিড়াল, নাম ফগ। বয়স প্রায় পাঁচ বছর। ছোটবেলায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল, তার একটি কান আংশিক ছিল না। সে খুব আদুরে স্বভাবের ছিল না— কোলে বসত না, মনোযোগ চাইত না।

কিন্তু তার একটি অভ্যাস কখনো বদলায়নি—

প্রতিদিন রাতে সে শিশুটির খাটের ভেতরেই ঘুমাত, পাশে নয়— বরং শিশুটির গায়ে গা লাগিয়ে গুটিসুটি মেরে।

শুরুর দিকে মা এটি আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। বিড়াল ও শিশুর বিষয়ে সতর্কবার্তা পড়েছিলেন তিনি। দরজা বন্ধ করা, খাট ঢেকে রাখা— সব চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু ফগ বারবার ফিরে আসত।

শেষ পর্যন্ত তিনি হাল ছেড়ে দেন। বরং দেখা গেল, ফগ পাশে থাকলে শিশুটি আরও শান্ত ও ভালো ঘুমাত।

সেই রাতে, যখন গাছটি পড়ে… ফগ ছিল শিশুটির খাটেই।

আঘাতে মা বিছানা থেকে ছিটকে পড়েন। ছাদের একটি অংশ তার পায়ের ওপর পড়ে তাকে আটকে ফেলে। তিনি এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন, কিন্তু কেউ শোনেনি। দাদি কোনো সাড়া দেননি— ধসেই তার মৃত্যু হয়।

শিশুর ঘরের করিডোর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি সন্তানকে দেখতে পাননি, শুনতেও পাননি।

পুরো ১১ ঘণ্টা তিনি অন্ধকারে পড়ে ছিলেন, মনে করেছিলেন তার সন্তান আর বেঁচে নেই।

দুপুরের দিকে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখতে আসা একটি বিদ্যুৎ বিভাগের দল বাড়িটি দেখতে পেয়ে সাহায্যের জন্য খবর দেয়। কিছুক্ষণ পর উদ্ধারকারী দল পৌঁছে যায়।

প্রথমে তারা মাকে উদ্ধার করে। তিনি আহত, ঠান্ডায় কাঁপছিলেন, আতঙ্কিত— বারবার বলছিলেন:

“আমার বাচ্চা… দয়া করে… আমার বাচ্চা…”

দুজন উদ্ধারকর্মী শিশুর ঘরের ভেতরে ঢোকার জন্য ধ্বংসস্তূপ কেটে পথ করে। ছাদ একপাশে ভেঙে পড়ে ছোট একটি ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছিল। শিশুর খাট ভেঙে গিয়েছিল, চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিল।

একজন উদ্ধারকর্মী বিড়ালটিকে দেখতে পান।

“ওটা মারা গেছে,” তিনি রেডিওতে বলেন।

ধূসর দেহটি নিস্তব্ধ পড়ে ছিল, ধুলায় ঢাকা।

তিনি হাত বাড়িয়ে সেটিকে সরাতে যান।

তারপর থেমে যান।

ওটা উষ্ণ ছিল।

হালকা নয়— স্পষ্টভাবে উষ্ণ।

তিনি ভালো করে দেখে বুঝলেন, তার বুক খুব ধীরে ওঠানামা করছে— কয়েক সেকেন্ড পরপর একবার।

সে তখনো বেঁচে ছিল।

প্রায় মৃত্যুর মুখে।

তারা যখন তাকে তুলে নেন, তার শরীর নিস্তেজ, চোখ বন্ধ। কিন্তু সামনের পা দুটো শক্ত হয়ে আটকে ছিল— যেন অনেকক্ষণ ধরে কিছু চেপে ধরে রেখেছে।

আর সে ঠিক তাই করছিল।

তার নিচে ছিল শিশুটি।

জীবিত। জেগে। শান্ত।

সে কাঁদছিল না। শুধু চোখ মিটমিট করছিল, যেন ঘুম থেকে উঠেছে।

কিছুক্ষণ পর তার তাপমাত্রা মাপা হয়—

৯৮.১°F।

একদম স্বাভাবিক।

আর ফগের তাপমাত্রা ছিল ৮৪.২°F—

মারাত্মক হাইপোথার্মিয়া।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার শরীর ভেঙে পড়ছিল— শুধু একটি জিনিস ঠিক রাখতে—

উষ্ণতা।

যা সে শিশুটির দিকে দিচ্ছিল।

পরে পশুচিকিৎসক জানান— তার পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে, গভীর ক্ষত, পানিশূন্যতা, এবং জীবন সংকটজনক অবস্থায় ছিল। তার শরীর প্রায় সব শক্তি শেষ করে ফেলেছিল।

কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল—

তার সব বড় আঘাত ছিল সেই পাশে, যেদিকে ধ্বংসাবশেষ ছিল।

আর শিশুর দিকে থাকা পাশটি— সুরক্ষিত ছিল।

চিকিৎসক বলেন, তার শরীর এমন আচরণ করেছে যা সাধারণ বেঁচে থাকার প্রবৃত্তির বিপরীত। সে নিজের জন্য তাপ ধরে রাখেনি— বরং বাইরে দিয়েছে, যেন শিশুটি তার শরীরেরই অংশ।

সে নিজেকে বাঁচাতে চায়নি।

সে শিশুটিকে বাঁচাচ্ছিল।

ফগ বেঁচে যায়।

তবে সুস্থ হতে কয়েক মাস লেগেছিল। তার হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে যায়, শরীর আর আগের মতো শক্তিশালী হয়নি। তার ওজন কমে যায়, একটি চোখ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবুও সে ফিরে আসে।

নতুন, নিরাপদ একটি বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর— শিশুটি মেঝেতে একটি কম্বলের ওপর শুয়ে ছিল।

ফগ ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।

তার পাশে শুয়ে পড়ে।

আগের মতোই গা লাগিয়ে।

তারপর চোখ বন্ধ করে।

মা বসে বসে তা দেখছিলেন— নড়তেও পারছিলেন না।

কয়েক মাস পর, কেউ যখন তাকে জিজ্ঞেস করে এই বিড়াল সম্পর্কে তার অনুভূতি কী, তিনি বলেন—

“আমি ১১ ঘণ্টা ভেবেছিলাম আমার সন্তান আর নেই। আমি তাকে ছুঁতে পারিনি, শুনতেও পারিনি। আর সেই পুরো সময়… সে ছিল তার পাশে। সে নিজের সব কিছু দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। সে আমাদের কী দিয়েছে, তা ভাষায় বলা যায় না। আমার জীবনে এমন কোনো বাস্তবতা নেই, যেখানে সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”

আজ ফগের বয়স ৭।

সে এখন রোগা, শরীরে সেই ঘটনার দাগ আছে। একটি চোখ ঝাপসা, ধীরে ধীরে হাঁটে।

কিন্তু প্রতি রাতে…

সে এখনো শিশুটির পাশে ঘুমায়।

শিশুটির এখন বয়স ২ বছর।

আর যখন সে ঘুমের মধ্যে হাত বাড়িয়ে ফগকে খোঁজে…

সে কখনো সরে যায় না।

সংগৃহীত
#বিড়াল #বিড়ালপ্রেমি

01/04/2025

কৃত্ৰিম বুদ্ধিমত্তা (এ.আই) ব্যবহার করে নিজের ছবি জিবলি-শৈলীর শিল্পে পাল্টে ফেলছো তো? ভাবছো এতে তোমাকে খুব কুল লাগছে? হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। তবে স্টুডিও জিবলির প্রতিষ্ঠাতা হায়াও মিয়াজাকির প্রতি এটা একটা বিশাল অবমাননা।

ফোর্বসের পল টাসি নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি "সৃজনশীল এবং নৈতিকভাবে ভয়ংকর"—বিশেষ করে মিয়াজাকির জন্য, যিনি দীর্ঘ দশক ধরে তার কঠোর পরিশ্রম করে এমন এক অসাধারণ শিল্প সৃষ্টি করেছেন। অথচ এখন তার সেই অনন্য সৃষ্টি কেবল একটি অ্যালগরিদম বা প্রম্পটের মাধ্যমে ওপেনএআই থেকে সহজেই তৈরী করা হচ্ছে, তার অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই, কোনো স্বীকৃতি ছাড়াই—যা সৃজনশীলতার বিরুদ্ধে তো বটেই সাথে শিল্পীকে অপমানও করা।

কেবল ‘কিউট’ বলে ট্রেন্ড অনুসরণ করার আগে দয়া করে একটু রিসার্চ করো—এটি এমন এক স্বতঃস্ফূর্ত ও আন্তরিক শিল্পের অনুকরণ, যা শিল্পীদের প্রতি সরাসরি অসম্মান প্রদর্শন করে। তারা এর চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। তাই নয় কি?

একটি বার ভেবে দেখো তো যে তোমার তৈরী কোনো কিছু নিয়ে যদি এমন করা হতো, তোমার কেমন লাগতো?
লেখা ও ছবি সংগৃহীত।

18/03/2025

স্যাকারিন আবিষ্কারের চিত্তাকর্ষক কাহিনী ---♦️
১৮৭৯ সাল - ল্যাবরেটরিতে কাজ করছিলেন রুশ রসায়নবিদ কনস্টানটিং ফালবার্গ। এ সময় অজ্ঞাতেই তার হাতে মেখে যায় কিছু রাসায়নিক দ্রব্য। এগুলো তিনি খেয়ালই করেননি।

কাজ করতে করতে অনেক রাত হয়ে যায়। ডিনারের কথা তার মনেই ছিল না। রাত অনেক গভীর হলে মনে পড়ে ডিনারের কথা। তৎক্ষণাৎ এক টুকরো রুটি নিয়ে তাতে কামড় বসান।

কিন্তু মুখে দিয়েই অবাক তিনি! রুটি বেশ মিষ্টি লাগছিল। কেন...? উত্তর খোঁজার চেষ্টা করলেন। রুটিতে চিনি ছিল না এটা নিশ্চিত। পরে হাত মুখে দিয়ে বুঝতে পারেন মিষ্টির উৎস হলো হাত।

অর্থাৎ হাতে লেগে থাকা অজ্ঞাত কেমিক্যাল।

কী কী নিয়ে কাজ করছিলেন,সেগুলো ভালো করে যাচাই করার পর ফালবার্গ অবশেষে আবিষ্কার করে ফেললেন পৃথিবীর কৃত্রিম সুইটনার। পরে এর পেটেন্ট রাইটও নিয়ে নেন নিজের নামে। অচিরেই স্যাকারিন চিনির বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

স্যাকারিন একটি মিষ্টি জৈব পদার্থ। এটি চিনির চেয়ে প্রায় ৫০০ গুন বেশি মিষ্টি। এটি ডায়াবেটিস রোগীকে খেতে দেয়া হয়। স্যাকারিনের খাদ্যগুণ নেই। স্যাকারিন তৈরি হয় আলকাতরার পাতনের পর প্রাপ্ত উলুইন নামক পদার্থ থেকে। স্যাকারিন বিষাক্ত না। তবে এটি খাদ্যে না মিলানোই উত্তম। এটি খেলে তেমন ক্ষতি দেখা যায় না।

স্যাকারিন চিনির চেয়ে ২০০ থেকে ৭০০ গুণ মিষ্টি হলেও এর কোন পুষ্টিগুণ নেই অর্থাৎ স্যাকারিন শরীরে কোন পুষ্টি বা ক্যালরি সরবরাহ করেনা। যেভাবে শরীরে প্রবেশ করে ঠিক অনুরূপ শরীর থেকে বেরিয়ে যায় অর্থাৎ শরীরের ভেতরে কোন রকম রাসায়নিক রূপান্তর বা মেটাবোলিজমে সে অংশগ্রহণ করে না।

FDA "Food and Drug Administration" স্যাকারিনের প্রতিদিনের গ্রহণযোগ্য মাত্রা "Acceptable Daily Intake /ADI" শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে আর তা হল ৫ মিলি গ্রাম।
লেখা ও ছবি সংগৃহীত

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Dhaka