Rj Neel
tHe joCKey
30/05/2026
বি:দ্র: বাস্তবতার সাথে কোন মিল নেই, পুরোটাই কাল্পনিক, Its A Fiction. সো দয়া করে কারো জীবনি মেলাবেন না। গল্প ভালোবাসলে পড়ুন, আর মতামত জানান। ধন্যবাদ 🙏❤️😌
চিন্তা - লিখন - আয়হান নীল।
....................পরপুরুষ — পার্ট ০২.......................
আয়ান অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো রাস্তার ওপাশে।
রাতের আধো আলোয় অবয়বটা স্পষ্ট না হলেও বোঝা যাচ্ছিল— একজন নারী।
লম্বা চুল, যদিও রঙ করা। বাতাসে চুলগুলো বারবার মুখের ওপর এসে পড়ছিল।
চেহারা পুরোটা দেখা যাচ্ছিল না, তবুও কেমন যেন পরিচিত লাগছিল।
আয়ান সিগারেটের শেষ টানটা দিয়েও দৃষ্টি সরালো না।
হঠাৎই মেয়েটা মুখ তুলে তাকালো।
চোখে চোখ পড়তেই আয়ানের বুকের ভেতর কেমন একটা অস্বস্তি খেলে গেল।
কোথায় যেন দেখেছে… খুব কাছ থেকে দেখেছে…
কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছে না।
সে যখন স্মৃতির দরজায় ধাক্কা দিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই মেয়েটা পাশের গলির অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
আয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে হালকা হেসে বললো,
“রহস্যময় নারীরা সবসময় সিনেমাতেই ভালো লাগে। বাস্তবে ঝামেলা ছাড়া কিছু না।”
ঘরে ঢুকে এক গ্লাস পানি খেলো।
তারপর টেবিলের ওপর পড়ে থাকা বইটা হাতে নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো।
কখন যে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গেছে, সেটা সে নিজেও টের পায়নি।
---
সকালে কলিংবেলের শব্দে ঘুম ভাঙলো।
দুয়ারে ময়লা ওয়ালা।
বিরক্ত মুখে বালতি এগিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করেই আয়ান ভাবলো—
আজ ছুটির দিন। নিচে গিয়ে এক কাপ চা, একটা সিগারেট… তারপর বাজার করে দুপুরের রান্না।
গেঞ্জি গায়ে জড়িয়ে, হাফপ্যান্ট পরে নিচে নেমে গেল সে।
চায়ের দোকানে গিয়ে একটা সিগারেট ধরালো।
চায়ের কাপে প্রথম চুমুক দিতেই তার চোখ গিয়ে পড়লো সামনের বিল্ডিংয়ের দিকে।
সেখান থেকে নামছে এক ভদ্রলোক।
পরিপাটি পোশাক।
চুল গোছানো।
হাঁটাচলায় আত্মবিশ্বাস।
সবার দিকে হাসিমুখে সালাম দিয়ে এগিয়ে আসছে।
এই যুগে এমন ভদ্রতা বিরল।
লোকটা চা খেলো, দু’চারজনের খোঁজখবর নিলো, বিল মিটিয়ে চলে গেল।
আয়ান চা মামাকে জিজ্ঞেস করলো,
— মামা, পোলাটা তো বেশ ভদ্রই মনে হয়!
চা মামা হাসলো।
— আরে মামা, ইমন ভাই খুব ভালো মানুষ। বেসরকারি চাকরি করে। বউ আছে, বাচ্চা আছে। নামাজ-কালাম করে, হাদিস জানে, প্রতিবছর ওমরাহ যায়।
আয়ান ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললো,
— বাহ। ফেরেশতা টাইপ।
চা মামা মাথা নাড়লো।
তারপর একটু থেমে বললো,
— কিন্তু একটা জিনিস বুঝি না মামা… এত ভালো জামাই পাইয়াও হের বউডারে মাঝে মাঝে কেমন মনমরা লাগে। হাসিখুশি দেখি না কখনো।
আয়ানের চোখ সরু হয়ে এলো।
— দেখো মামা, বাইরের গল্প দেখে ভেতরের কাহিনি বোঝা যায় না।
বউয়ের সমস্যা হতে পারে, আবার পোলারও সমস্যা থাকতে পারে।
চা মামা সাথে সাথে প্রতিবাদ করলো,
— আরে না মামা! ইমন ভাই এমন না। আমি মানুষ চিনি।
আয়ান হেসে উঠলো।
— গ্রাম বাংলায় একটা প্রবাদ আছে মামা…
“অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।”
চা মামা বিরক্ত হয়ে বললো,
— ধুর মামা! সব মানুষরে সন্দেহ করলে চলে?
আয়ান সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বললো,
— মামা, অমানুষগুলাও দেখতে মানুষের মতোই হয়।
তারপর মুচকি হেসে আবার বললো,
— একটা ভাইরাল ডায়লগ শুনছো?
“পৃথিবীর সবাই নষ্ট… কেউ ওপেনে, কেউ গোপনে।”
চা মামা মাথা নেড়ে বললো,
— আমি মানুষ চিনি।
আয়ান এবার সরাসরি তাকালো তার দিকে।
— মানুষ চিনো মামা…
কিন্তু অমানুষ চিনো?
চা মামা কিছুক্ষণ চুপ থেকে হেসে বললো,
— আচ্ছা বলেন তো, আপনি কেমন মানুষ?
আয়ান হেসে বললো,
— এই প্রশ্নের উত্তর দিলে গল্পের মজাটাই শেষ হয়ে যাবে।
চা মামা একটু ভেবে বললো,
— আপনে ভালো মানুষ। আপনে তো মশাও মারেন না, ব্যথা পাইবো বলে।
আয়ান এবার হো হো করে হেসে উঠলো।
মনে মনে ভাবলো,
“হায়রে মামা… এলাকায় নতুন আইছি বইলাই এই ধারণা।
এই আয়ান চৌধুরী জীবনে কী কী করছে, জানলে তোমার চায়ের কেটলিই ঠাণ্ডা হয়ে যেতো।”
চায়ের দাম মিটিয়ে উঠে দাঁড়ালো সে।
আরেকটা সিগারেট ধরাতে ধরাতে হাঁটতে শুরু করলো।
কিন্তু মাথার ভেতর ঘুরছে একটা কথাই—
গত রাতের সেই মেয়েটা কে?
আর কেন তার চোখদুটো এত পরিচিত লাগছিল?
ঠিক তখনই পিছন থেকে একটা নারীকণ্ঠ—
“মিস্টার আয়ান চৌধুরী… চিনতে পারছেন না?”
আয়ান থেমে গেল।
ধীরে ধীরে পিছনে ফিরলো...
চলবে...
#পরপুরুষ #আয়ান_চৌধুরী #চলমান_গল্প #বাংলা_উপন্যাস
Click here to claim your Sponsored Listing.