Islamic Library BD

Islamic Library BD

Share

বাংলা সকল বইয়ের Unicode আকারে প্রকাশ করা হ?

27/08/2016

মুরতাদ হত্যা কি হুদূদের অন্তর্ভুক্ত?!!!

২০১০ থেকে ২০১৩। সাইবার জগতে চলছিল কুলাঙ্গার নাস্তিকদের অশ্লীল লাফালাফি। তাদের বিষে মাখা জঘন্য তীর একের পর এক ছুটছিল আমাদের প্রাণের স্পন্দনের ইজ্জতের দিকে। আমাদের উম্মাহাতের (উম্মাহাতুল মুমিনিন) সম্মানে বিঁধতে ছিল তাদের ধারালো খঞ্জর। এত অশ্লীল ভাষায়, এত জঘন্য শব্দে আক্রমণ করছিল যা ইতিহাসকে বাক-রুদ্ধ করেছিল।

জাগ্রত মুমিনদের হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল। চোখগুলো অশ্রু বর্ষণ করছিল। তারা ব্যথায় ছটফট করছিল। তখন আল্লাহ্‌ রাব্বুল ইজ্জাত এক দল মুমিনকে নির্বাচন করলেন। যারা মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ ও আবদুল্লাহ বিন আতিক রাদিঃ এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন। যাদের হাত দিয়ে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা শাতিমদেরকে শাস্তি প্রদান করেন। মুমিনদের হৃদয়গুলোকে প্রশান্তি দান করেন। তাদের বিষদাঁত অনেকটা ভেঙ্গে যায়। তারা সামনে ২টি পথ দেখতে থাকে “হয়ত দেশ ছেঁড়ে পলায়ান নয়ত চাপাতির কোপে মরণ”।

কিন্তু আফসোস! শত আফসোস!, শাসকের তরবারির ভয়ে বা প্রবৃত্তের তাড়নায় অথবা দুনিয়াবি কিছু আশায়, এই বরকতময় আমালের বিরুদ্ধে এক দল আলেম অবস্থান নিতে থাকে। সংশয় ছড়াতে থাকে। নাউজুবিল্লাহ! এই মহান ইবাদাতকে সন্ত্রাস পর্যন্ত বলতে তাদের বুক একটুও কাঁপে না। মুখে একটুও বাঁধে না। কষ্টটা অনেক বেড়ে যায় যখন ঐ ব্যক্তিদের মাঝে এমন আলেমদেরকেও পাওয়া যায়, যাদেরকে উম্মত মুক্তাদা মনে করেন।

তারা নিজেদের মতকে প্রমাণ করার জন্য কিছু খোঁড়া দলীল-যুক্তি পেশ করতে থাকে। তাদের দলীল বা যুক্তি হচ্ছে এই ---
A. মুরতাদ হত্যা হুদুদের অন্তর্ভুক্ত আর হুদুদের জন্য রয়েছে অনেক শর্ত।
B. মুরতাদ হত্যার দায়িত্ব শাসকের। শাসকের অনুমতি ওয়াজিব। অনুমতি ছাড়া হত্যা হারাম।
C. তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে। তাদেরকে সুযোগ দিতে হবে। এর আগে হত্যা করা জায়েজ হবে না।

আমরা ইনশাআল্লাহ্‌ ধাপে ধাপে তাদের যুক্তিগুলো খণ্ডন করব। আল্লাহ্‌ তায়ালা যদি তাউফিক দান করেন।

আমাদের আজকের আলোচনা- ---

মুরতাদ হত্যা কি হুদূদের অন্তর্ভুক্ত?!!!

প্রচলিত একটা ভুল হচ্ছে, মুরতাদ হত্যাকে হুদূদের অন্তর্ভুক্ত করা। আর হুদূদের সকল হুকুম তার মাঝে প্রয়োগ করা। অথচ, না তা হুদূদের মাঝে অন্তর্ভুক্ত। আর না তার হুকুম আর হুদূদের হুকুম এক। বরং উভয়ের হুকুমের অনেক ক্ষেত্রে পার্থক্য বিদ্যমান।

দলীল-১

ফিকহে হানাফীর বিশিষ্ট ফকীহ আল্লাম কাসানী রহঃ হুদুদের সংখ্যার ব্যাপারে বলেনঃ
فنقول الحدود خمسة انواع حد السرقة وحد الزنا وحد
الشرب وحد السكر وحد القذف-
আমাদের মত হচ্ছেঃ- হুদূদ পাঁচ প্রকারঃ-
১। চুরির হদ।
২। জেনার হদ।
৩। মদ পানের হদ।
৪। মাতালের হদ।
৫। কযফ এর হদ।
(কযফ-কারো ব্যাপারে জেনার অভিযোগ তোলা, কিন্তু তা প্রমাণ করতে না পারা)
(বাদায়েউস সানায়ে’, অধ্যায়ঃ কিতাবুল হুদূদ)

দলীল-২
হানাফী মাজহাবের প্রসিদ্ধ ফকীহ আল্লাম ইবনে নুজাম রহঃ বলেন---
فكان حكمها الاصلي الانزجار عما يتضرر به العباد وصيانة دار الاسلام عن الفساد، ففي حد الزنا صيانة الانساب، وفي حد السرقة صيانة الاموال، وفي حد الشرب صيانة العقول، وفي حد القذف صيانة الاعراض فالحدود أربعة، وما في البدائع من أنها خمسة وجعل الخامس حد السكر فلا حاجة إليه لان حد السكر هو حد الشرب كمية وكيفية وإن اختلف السبب
হূদুদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বান্দাদেরকে তাদের ক্ষতিকারক বিষয়গুলো থেকে বিরত রাখা। দারুল ইসলামকে ফাসাদ থেকে রক্ষা করা। জেনার হদের মধ্যে নিহিত আছে, বংশের সংরক্ষণ। চুরির হদের মধ্যে রয়েছে মালের সংরক্ষণ। মদ পানের হদের মধ্যে আছে আকল-বিবেকের সংরক্ষণ। আর কযফের হদের মধ্যে ইজ্জতের সংরক্ষণ। সুতারাং হুদুদ চারটি। আর বাদায়েউস সানায়ে এর মধ্যে আছে যে, হুদূদ পাঁচটি, পাঁচ নাম্বারটি হচ্ছে মাতালের হদ। এর কোন প্রয়োজন নেই। কারণ (শাস্তির) পর্যায় ও অবস্থার দিক থেকে মদপানের যে হদ, মাতালের একই হদ। যদিও বা এর কারণ ভিন্ন হয়। (আল-বাহরুর রায়েক, অধ্যায়ঃ কিতাবুল হুদূদ)

দলীল-৩

হাম্বালি মাজহাবের বিশিষ্ট ফকীহ শায়েখ মানসূর আল-বাহুতি রহঃ বলেন ---
----قتل المرتد لكفره لا حدا ولايجوز أخذ فداء عنه أي عن المرتد بل يقتل بعد الاستتابة لما تقدم من قوله (ص): من بدل دينه فاقتلوه -كشاف القناع-
--- মুরতাদ কে হত্যা করা হবে তার কুফরের কারণে। হদ হিসাবে নয়। মুরতাদ থেকে ফিদিয়া নেয়াও জায়েজ নেই। বরং ইস্তেতাবের (তওবার সুযোগ দেয়া) পর তাকে হত্যা করা হবে যার কারণ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, যে তার দ্বীনকে পরিবর্তন করে তোমরা তাকে হত্যা কর। (কাশশাফুল কেনা’য়, অধ্যায়ঃ মান ইরতাদ্দা আন দীনিল ইসলাম)

দলীল-৪
সমকালীন আরব সালাফী আলেমগণও একই মত ব্যক্ত করেছেন, মুরতাদকে হত্যা হুদূদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
শায়েখ সলেহ আল-উসাইমীন রহঃ বলেন –
الحد إذا بلغ الإمام لا يستتاب صاحبه بل يقتل بكل حال . أما الكفر، فإنه يستتاب صاحبه وهذا هو الفرق بين الحد، وبين عقوبة الكفر وبهذا نعرف خطأ من أدخل حكم المرتد في الحدود وذكروا من الحدود قتل الردة فقتل المرتد ليس من الحدود- -شرح كتاب التوحيد-

হদের ব্যাপার যখন ইমাম পর্যন্ত পৌঁছবে তখন অপরাধী থেকে আর তাওবা গ্রহণ করা হবেনা বরং সর্বাবস্থায় তাকে হত্যা করা হবে। আর কুফুরের ক্ষেত্রে তাওবা চাওয়া হবে। হদ ও কুফরের শাস্তির মাঝে এটাই পার্থক্য। এর থেকে ঐ ব্যক্তিদের ভুল বুঝে আসে যারা মুরতাদের হুকুমকে হুদুদের অন্তর্ভুক্ত করে থাকে, এবং রিদ্দার কারণে হত্যাকে হুদূদের মধ্য থেকে উল্লেখ করে। অথচ মুরতাদকে হত্যা হুদুদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (শরহু কিতাবিত তাউহীদ)

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের সামনে স্পষ্ট হল, মুরতাদকে হত্যা হুদূদের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটাই উম্মতের গ্রহণযোগ্য ফুকাহাদের মত। আজ এই পর্যন্ত। আমরা ইনশাআল্লাহ্‌ সামনে বাকি ২টি সংশয় নিয়ে আলোচনা করব।

-Ahmad Nabil

15/07/2016

হযরত আবদুল্লাহ ইবনুূু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সাবধান! (শয়তান) যেন তোমাদের অন্তরে দীর্ঘায়ুর আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করতে না পারে, অন্যথায় তা তোমাদের অন্তরাত্নাকে শক্ত করে দিবে। সাবধান! নিশ্চয় যা কিছু আসার তা নিকটবর্তী এবং যা দূরবর্তী তা আসার নয়। জেনে রাখো! অবশ্যই সেই ব্যাক্তি দুর্ভাগা যে তার মায়ের গর্ভ থেকেই দুর্ভাগা। খোশনসীব সেই ব্যাক্তি যে অপরকে দেখে নাসীহাত গ্রহণ করে।

# বুখারী ৬০৯৪, মুসলিম ২৬০৬, ২৬০৭/১-৩;
তিরমিযী ১৯৭১,
আবূ দাঊদ ৪৯৮৯,
আহমাদ ৩৬৩১,

Photos 07/07/2016

♥♥ ঈদ মোবারক♥♥

সকলকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

Photos 08/06/2016

In English she is known as as a 'Housewife'.

In Arabic she is known as 'Rabbaitul Bait' or 'The Queen of the house'.

See the huge difference?

The Arabic language is full of depth and meaning, every woman is a Queen in her own home.

- M***i Ismail Menk

© Mohammad Jobaer Ahmad

Photos 12/05/2016

এই দ্বীন ইসলাম, এই তাওহীদ, এই ঈমান হঠাত করে একদিনে গড়ে উঠেনা। মন থেকে চাইতে হয়, চেষ্টা করতে হয়। স্রোতের বিপরীতে দাড়াতে হয়। পিতামাতার চোখ রাঙ্গানিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে দাড়ি ছেড়ে দিতে হয়। জাহিল বন্ধুদের বহু আকাংখিত সংগ ছেড়ে সমাজে গুরাবা হতে হয়। অপমানিত হতে হয়। অনেক না পাওয়ার বেদনায় দগ্ধ হওয়া, অনেক দীর্ঘশ্বাস চেপে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু তা না করে দুনিয়ার কিছু সস্তা প্রাপ্তির জন্য তাওহীদের বাণীকে মাড়িয়ে যাওয়া, কাফেরদের কাছে দ্বীন বিকিয়ে দেওয়া এ জীবন ঐ ফড়িঙের মত, ঐ জোনাকি পোকার মত। এই দ্বীন পালন যেন উত্তপ্ত মরুভূমিতে একাকি পথ চলা। তৃষ্ণায় কাতর হয়ে ছুটে চলা, থমকে যাওয়া, মাটিতে গড়িয়ে পড়া, শীতল পানিতে তৃষ্ণা মিটানো, কিছুক্ষণ ঝিরিয়ে নেওয়া গাছের ছায়ায়। উস্ককুস্ক চুল, ধুলোমাখা পা, জরাজীর্ণ জামা... অবশেষে রেসের শেষ প্রান্তে পৌছা। যার পরের কদম থেকেই আল্লাহ আযওয়া যাল আমাদের দিয়েছেন অনন্ত সুখের প্রতিশ্রুতি।
"তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় কর।" [সূরা বাইয়্যিনা : ৮]
আমি মনে প্রাণে চাই আল্লাহ আমাদের সেই জীবনের স্বপ্ন অন্তরে বুনে দিন যে জীবন আল্লাহর জন্য বাঁচে। যে জীবন ঘাস ফড়িঙ কিংবা জোনাকি পোকার মত বন্দি নয়। যে জীবন অনেকের ভিড়ে পরাজিত, অধঃপতিত মানসিকতার নয়। যে জীবন এক বিঘত বুকে বিশাল আকাশ ধারণ করে বাঁচে। যেদিন বুক এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে যাবে শত্রুর আঘাত, মাটিতে গড়িয়ে পড়বে প্রথম রক্তবিন্দু, আল্লাহ সুবাহানু ওয়া তায়ালা দেখিয়ে দেবেন জান্নাতে আমাদের ঘর, সেদিন......। সেদিন হয়ত আকাশের ওপারের ঐ জীবনের জন্য কিছু সঞ্চয় হল। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমাদের অক্ষমতা আর অবহেলাকে ক্ষমা করুন । আমাদের সময়ে বরকত দিন। তাঁর দ্বীনের সাথে আমাদের অন্তরটাকে বেঁধে নিন। আমীন ইয়া রব আমীন।

-ইউসুফ আহমেদ

11/05/2016

নবীজীবনের একটি ঘটনা : নবীশিক্ষার একটি ঝলক
*************************************************
হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. বলেন, জাহেলী যুগে আমি যখন মানুষকে মূর্তিপূজা করতে দেখতাম আমার কাছে মনে হত, নিশ্চয়ই এরা পথভ্রষ্ট। এদের এ সকল কাজ সম্পূর্ণ অসার। হঠাৎ একদিন শুনতে পেলাম, মক্কায় এক ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে যিনি গায়েবের খবর বলেন। তখন আমি মক্কার উদ্দেশে বের হলাম। মক্কায় পৌঁছে জানলাম, তিনি গোপনে ইসলাম প্রচার করছেন আর কওম তাঁর প্রতি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে আছে।

আমি চুপিচুপি তাঁকে খুঁজতে লাগলাম। তিনি মক্কায় ওকাজ নামক স্থানে ছিলেন। আমি সেখানে পৌঁছে তাঁকে সালাম দিলাম। এবং জিজ্ঞাসা করলাম,
‘আপনার পরিচয় কী?’
তিনি বললেন, ‘আমি আল্লাহর নবী।’
বললাম, ‘আল্লাহর নবী মানে কী?’
তিনি বললেন, ‘আল্লাহর বার্তাবাহক।’
বললাম, ‘কে আপনাকে পাঠিয়েছেন?’
বললেন, ‘আল্লাহ।’
আমি বললাম, ‘সত্যিই কি আপনাকে আল্লাহ পাঠিয়েছেন?’
তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’
বললাম, ‘(আল্লাহ) আপনাকে কী বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন?’
তিনি বললেন, ‘আত্মীয়তা রক্ষা করা, মূর্তি (মূর্তি পূজা) ও সকল বাতিল ধর্ম বিলুপ্ত করা, রক্তপাত-হানাহানি বন্ধ করা, মানুষের (জানমাল) চলার পথের নিরাপত্তা বিধান করা, আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা ও তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা।’
আমি বললাম, ‘আপনার রব কত সুন্দর সুন্দর বিষয় দিয়ে আপনাকে পাঠিয়েছেন!’ আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি, আমি আপনার উপর ঈমান আনলাম এবং আপনাকে সত্য নবী বলে বিশ্বাস করলাম। আর কে কে আপনার এই দ্বীন গ্রহণ করেছে?’
বললেন, ‘একজন আযাদ ও একজন গোলাম (অর্থাৎ আবু বকর রা. ও বেলাল রা.)।’
আমি আরজ করলাম, ‘আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সাথে থাকতে চাই এবং আপনার অনুসরণ করতে চাই।’
বললেন, ‘এখন তা সম্ভব নয়। দেখছ না, পরিস্থিতি কত প্রতিকূল? আমি গোপনে দাওয়াত দিচ্ছি আর আমার কওম চরম বিরোধিতা করছে। তুমি এখন পরিবারের কাছে ফিরে যাও। যখন শুনবে আমার বিজয় হয়েছে তখন আমার কাছে চলে এসো।’ একথা শুনে আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে এলাম।
আমর ইবনে আবাসা বলতেন, ‘তখন আমি ছিলাম ইসলামের (মুসলমানদের) চারভাগের একভাগ। অর্থাৎ চারজনের একজন।’

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করলেন। আমি স্বদেশেই অবস্থান করছিলাম ও সব খবরাখবর রাখছিলাম। ইতিমধ্যে একদিন মদীনার একটি কাফেলা এল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘মক্কা থেকে যিনি মদীনায় গিয়েছেন তার খবর কী?’ তারা বলল, ‘মানুষ খুব দ্রুত তাঁর ধর্ম গ্রহণ করছে। তাঁর কওম তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, পারেনি।’
তখন আমি মদীনায় গেলাম ও রাসূলের সাথে সাক্ষাত করে বললাম, ‘আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন?’
তিনি বললেন, ‘মক্কায় আমার সাথে তোমার সাক্ষাত হয়েছিল।’
আমি বললাম, ‘জ্বি, হাঁ।’
তারপর আরজ করলাম, ‘আল্লাহর রাসূল! আমার অজানা বিষয়, যা আল্লাহ তাআলা আপনাকে শিখিয়েছেন তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দিন।
আমাকে নামায শেখান।’
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘ফজরের নামায আদায় করবে। তারপর সূর্য পূর্বাকাশে উঁচু হওয়া পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ সূর্য উদিত হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে। ঐ সময় কাফেররা সূর্যকে সিজদা করে।
‘যখন সূর্য উঁচু হয় তখন নামায পড়বে। কারণ নামায আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। এরপর যখন বর্শার ছায়া সংক্ষিপ্ত হয় (অর্থাৎ সূর্য মধ্য গগণে উঠে আসে) তখন নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ এ সময় জাহান্নাম উত্তপ্ত করা হয়।
এরপর যখন ছায়া দীর্ঘ হতে আরম্ভ করে তখন নামায পড়বে। মনে রাখবে, সকল নামায আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয়।
আসরের নামাযের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ সূর্য অস্ত যায় শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে। ঐ সময় কাফেররা সূর্যকে সিজদা করে।
আমি আরজ করলাম, ‘আল্লাহর রাসূল! আমাকে অযু শেখান।’
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যখন তোমার সামনে অযুর পানি আসবে প্রথমে কুলি করবে। তারপর নাকে পানি দিবে ও নাক ঝাড়বে। তখন চেহারার, মুখের ও নাকের গুনাহসমূহ ঝরে পড়বে। এরপর যখন আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক মুখমন্ডল ধৌত করবে তখন পানির সাথে দাড়ির অগ্রভাগ দিয়ে চেহারার গুনাহসমুহ ঝরে পড়বে। এরপর যখন কনুইসহ দুই হাত ধৌত করবে তখন আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে দুই হাতের গুনাহসমুহ ঝরে পড়বে। এরপর যখন মাথা মাসেহ করবে তখন চুলের অগ্রভাগ দিয়ে মাথার গুনাহসমূহ ঝরে পড়বে। এরপর যখন টাখনুসহ দুই পা ধৌত করবে তখন পায়ের আঙ্গুলির অগ্রভাগ দিয়ে পায়ের গুনাহসমূহ ঝরে পড়বে। এরপর যদি বান্দা নামাযে দাঁড়ায় এবং আল্লাহর শান মোতাবেক হামদ, ছানা ও তাঁর মহত্ব বর্ণনা করে, অন্তরকে সবকিছু থেকে খালি করে একমাত্র আল্লাহমুখী হয়, তাহলে সে নামায শেষ করার পর সদ্যজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।’

এ হাদীস শুনে সাহাবী আবু উমামা রা. বললেন, ‘হে আমর ইবনে আবাসা! কী বলছেন ভেবে দেখুন। এভাবে একবার নামায পড়লেই বান্দা এই ফযীলত লাভ করবে?

আমর বললেন, ‘আবু উমামা! আমায় বয়স হয়েছে, মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় কীসের আশায় আমি আল্লাহর রাসূলের নামে মিথ্যা বলতে যাব? আমি যদি রাসূল থেকে এ কথা একবার দুইবার তিনবার সাতবার না শুনতাম আমি তা বর্ণনা করতাম না। আমি তো এই কথা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে এর চেয়েও বেশিবার শুনেছি।’

তথ্যসূত্র : সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮৩২; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৪৪৭৫; আসসিরাতুয যাহাযিবয়্যাহ ২/৬৮-৬৯

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Dhaka
1230