Rakhal Raha

Rakhal Raha

Share

Rakhal Raha: Human Being, Bengali, Writer, Believer, Religion-less (মানুষ, বাঙালী, লেখক, বিশ্বাসী, নিধর্মী)

23/02/2025

চট্টগ্রাম বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের মে‌য়ে‌দের উপর হা‌সিনার প্রক্টর-প্রশাস‌নের ম‌তো আচরণ করা হ‌য়ে‌ছে। ত‌াদের বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় থে‌কে ব‌হিষ্কার করা হ‌য়ে‌ছে, শিক্ষাজীব‌নের ক্ষ‌তি করা হ‌য়ে‌ছে। এর জবাব‌ দি‌তে হ‌বে প্রশাসন‌কে। বাংলা‌দেশ নতুন ক‌রে কা‌রো বা‌পের দেশ হ‌বে না।

23/02/2025

পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনার চ্যালেঞ্জ–২
আইসিটি বিষয় বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এই বলে সারাদেশে আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারগুলোর হইচই শুরু হলো।

গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে একটা শিক্ষা সেমিনারে আমি এবং প্রফেসর কামরুল হাসান মামুন গিয়েছিলাম। এক পর্যায়ে শ্রোতাদের কথার সুযোগ দেওয়া হলে দেখা গেল আর কোনো কথা নেই, প্রায় সবাই দল বেঁধে আইসিটি কত গুরুত্বপূর্ণ, এটা কেন একেবারে শিশু শ্রেণী থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিষয় হিসাবে থাকা প্রয়োজন, এটা যেন বাদ দেওয়া না হয়, অনেকটা এ ধরণের দাবী জানাতে লাগলেন।

প্রফেসর মামুন বিজ্ঞানের ফাণ্ডামেণ্টাল বিষয়ের গুরুত্ব কমিয়ে প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিলে যে আমরা শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির ভোক্তাশ্রেণীতে পরিণত হবো, সে-বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে খুব স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করে আসছিলেন। আমরা বুঝতে পারলাম, তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে এসেছেন কথা বলার জন্য।

আমি অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের জবাবে বললাম, আমরা কোনো বিষয় বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্ত করার কর্তৃপক্ষ না। মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আমরা পরিমার্জনার কাজ করছি এবং প্রয়োজনীয় মতামত দিচ্ছি। কিন্তু একজন নাগরিক ও অভিভাবক হিসাবে আমরা আমাদের পছন্দের কথা বলতেই পারি। কিন্তু সেটা সিদ্ধান্ত না। অন্তর্বতীকালীন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সবকিছু বিবেচনা করে নিশ্চয় সিদ্ধান্ত নেবেন। যতদূর জানি, আইসিটি বিষয় বাদ দেওয়ার কোনো ভাবনা তাদের নেই, আর এটা অপশনাল করা হবে এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টা কিভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে আরোও সহজ করে উপস্থাপন করা যায় এবং এটা যেন তাদের কাজে লাগে সে-সম্পর্কে নানা আলোচনা হয়েছে।

কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে তারা আমাদের ঘিরে ধরলেন। কেন আপনারা এটা করছেন? সারাদেশের আইসিটি টিচারদের কি হবে? এতো এতো আইসিটি ট্রেইনিং সেন্টার ও কোচিং প্রতিষ্ঠান হয়েছে তাদের কি হবে? এইসব বেকাররা কোথায় যাবে? আপনারা কি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চান না? ইত্যাদি।

আমি বললাম, আইসিটি নবম শ্রেণীতে অপশনাল হলে সমস্যা কোথায়?

তারা বললেন, এটা হলে কেউ আইসিটি পড়বে না।

আমি বললাম, কেন? এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়বে না কেন? দু-বছর আগেও তো বিজ্ঞান শাখার উচ্চতর গণিত, বায়োলজী, পরিসংখ্যান ইত্যাদি বিষয় অপশনাল ছিল। অন্য শাখায়ও অপশনাল অনেকগুলো বিষয় ছিল, এতে তো কোনো সমস্যা হচ্ছিল না?

তারা উত্তর খুঁজে না পেয়ে বললেন, না স্যার, আইসিটি ওরা নিবে না। আর না নিলে আমরা বিপদে পড়বো।

আমি বললাম, তাহলে ধরে-বেঁধে শিক্ষার্থীদের আইসিটি নেওয়াতে হবে? হাসিনা সরকার যে নতুন কারিকুলাম করে একাউন্টিং, ব্যাংকিং, অর্থনীতি, ভূগোল, উচ্চতর গণিত এসব বিষয় বাদ দিয়ে সকল শিক্ষার্থীকে ধরে-বেঁধে ১০টা বিষয় পড়তে বাধ্য করছিল, তখন এসব বিষয়ের শিক্ষক ও কোচিং সেণ্টারগুলো কি করছিল? তাদের অসুবিধা হয়নি তখন? আর আইসিটি কি বেকারত্ব ঘোচাতে, নাকি শেখ জয়ের লুটপাটের প্রকল্প হিসাবে ব্যবহার করা চলছিল? কতগুলো স্কুলে আইসিটি ল্যাব আছে, কতগুলো ল্যাব ব্যবহার হয়, কতজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের ল্যাবে সত্যিকার অর্থে আইসিটি শেখে, আর কতজন মুখস্থ করে আইসিটি ভীতি নিয়ে বড়ো হয়? এখন পর্যন্ত সারাদেশের কত শতাংশ স্কুল ও কলেজে দক্ষ আইসিটি শিক্ষক আছে? এগুলো তো আপনারা জানেন।

তারা বললেন, তবু স্যার আপনারা আমাদের দিকে তাকান এবং এটা যেন না হয়।

আমি বললাম, আইসিটি ক্লাস থ্রি থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বিজ্ঞান বইয়ের মধ্যে ক্রস-কাটিং হিসাবে আছে। সেটা তো থাকছেই। এখন আপনার বাচ্চা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়লে নবম শ্রেণীতে গিয়ে তার পছন্দ মতো যা-খুশী বিষয় বেছে নিতে পারবে, আর আমার বাচ্চা সাধারণ স্কুলে গিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে আইসিটি পড়বে, এই দাবী আপনি কেন করছেন? আমি গরীব বলে? আমার বাচ্চা গরীবের ঘরে জন্মেছে বলে? নাকি ওর অযোগ্যতা? ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আইসিটি যেভাবে ভয়ের বিষয় হয়ে আছে সেভাবে নয়, সত্যিকার অর্থে যাতে এটা আমাদের বাচ্চাদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে পারে সেভাবে রাখার কথা ভাবা উচিত। আর ইংলিশ মিডিয়ামের মতোই নবম শ্রেণীতে গিয়ে কম্পিউটার সায়েন্স হিসাবে অপশনাল করা উচিত। কারিগরী শিক্ষাধারায় এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড কোর্স হিসাবে থাকা উচিত। কিন্তু এগুলো আমার মত, কোনো কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত না।

যাহোক, ফিরে আসার সপ্তাহখানেক পর একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী, যিনি বুয়েট থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন, আইটি সেক্টরে কাজ করেন এবং ইতিপূর্বে এনসিটিবির সাথে কাজ করেছেন, তিনি আমার সাথে দেখা করতে এলেন। তিনি বললেন, সারাদেশে আইসিটি শিক্ষকদের যে গ্রুপ আছে সেখানে অনেক হৈচৈ হচ্ছে, বলা হচ্ছে যে আইসিটি বাদ দিয়ে দেওয়া দিচ্ছে, অপশনাল করা হচ্ছে ইত্যাদি। এবং এটা প্রতিরোধে তারা কঠোর কর্মসূচী দিতে যাচ্ছে। তারা ঢাকায় এসে এনসিটিবি বা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবে। আমি তাদের বলেছি যে আমি একটু কথা বলে বিষয়টা ভালোভাবে জেনে আসি, তারপর কর্মসূচী দিন।

আমি তাকে বিস্তারিত বললাম যে, প্রথমে মন্ত্রণালয়ের ভাবনা ছিল ইংলিশ মিডিয়ামের মতো করে নবম-দশম শ্রেণীতে বিভাগ না রেখে কিছু বিষয় বাধ্যতামূলক রেখে বাকী বিষয়গুলো অপশনাল করে দেওয়া। কিন্তু এতো অল্প সময়ে এটা করা সম্ভব না, বা উচিত না বুঝে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। সে-সময়েই ভাবা হয়েছিল যে, উচ্চ-মাধ্যমিকে তবে আইসিটি নয়, কম্পিউটার সাইন্স দুই পেপার করা উচিত, যেভাবে অন্যান্য বিষয় দুই পেপার করে আছে। আর নবম-দশম শ্রেণীর আইসিটি বইটাও সেভাবে পরিমার্জনা করা উচিত। সেই ভাবনা থেকেই বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের শিক্ষক এবং একজন আইটি এক্সপার্টকে নিয়ে প্রথম পরিমার্জনা টিমটি গঠন করা হয়। তারা দুদিন এনসিটিবিতে এসে তাদের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে কিছু কাজ করেছিলেন। এরপর বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও কিছু শিক্ষকের সাথে মিটিং করা হয়েছিল। তারাও সময় নিয়ে একটা পরিকল্পনা জানাতে চেয়েছিলেন।

এরপর ঢাকার প্রায় ১০-১২টা স্কুল-কলেজের আইসিটি শিক্ষক ও প্রিন্সিপালদের সাথে মিটিং করা হলো তাদের মতামত জানার জন্য। সেখানে বিচিত্র মতামত পাওয়া গেল। এমনকি কেউ কেউ বললেন, আইসিটি অপশনাল হলে প্রায় সকল শিক্ষার্থী খুশী হবে, কারণ ওটা কেউ নিবে না। এর কারণ হচ্ছে বইটা খুবই খারাপ, যা কিছু হাতেকলমে করার তা মুখস্থ করতে হয়। আর অধিকাংশ স্কুলে ল্যাব নেই বা খোলা হয় না, শিক্ষকের মানও ভালো না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ফেল করে তাদের বড়ো অংশ আইসিটিতে।

সেই মিটিংয়ের পর ভাবা হলো এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না এবং ফলে বিষয়টা ঝুলে গেল। অন্যান্য বিষয়ের কাজ এগিয়ে গেলেও আইসিটি বিষয়ের কাজ একরকম থেমে গেল। কিন্তু এখন যেটা ভাবা হচ্ছে দ্রুত পরিমার্জনা করে ছেড়ে দিতে হবে।

তিনি সব শুনে বললেন, বুঝতে পারছি। অথচ আমাকে আপনাদের সম্পর্কে অনেক বাজে ধারণা দেওয়া হয়েছে। আমি গিয়ে আমাদের গ্রুপে জানাবো। আশা করি আমার কথা তারা বুঝবে এবং এ নিয়ে আর অগ্রসর হবে না। এখন আমি কিভাবে হেল্প করতে পারি? আমি বললাম, আমি কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে জানাবো।

এরপর আর আইসিটি শিক্ষক-ট্রেইনারদের কোনো ঘেরাও বা অন্য কর্মসূচী দেখলাম না।

তাঁর সম্পর্কে সবাই ভালো ধারণা দিলেন। এবং আমি তাঁকে ফোন করে বললাম, আইসিটি বিষয়ে আগের টিম কিছু পরিকল্পনা ও কাজ করেছেন, সেগুলো দেখে কাজটা শেষ করা দরকার। কিন্তু আগের টিমের মধ্যে তিনজন খুবই ব্যস্ত শিক্ষক। আর যে পরিকল্পনা থেকে তাদের ভাবা হয়েছিল, এখন তো তা করা যাবে না। তবে তাঁদের একজনকে আপনি পেতে পারেন। এখন নতুন করে টিম গঠন করে কাজটা শেষ করতে হবে।

তিনি রাজী হলেন এবং আমি আগের টিমের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের সাথে কথা বলে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই আইআইটি-র একজন অধ্যাপকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রাজী হলেন। এরপর তাঁরা তিন জন মিলে কাজটা শেষ করলেন। তাঁদের সাথে এনসিটিবিতে কর্মরত দুজন বিশেষজ্ঞ অনেক সহযোগিতা করলেন এবং এভাবেই কাজটা শেষ হলো।

প্রকৃতপক্ষে আইসিটি বইয়ের ভাষা ও যোগাযোগগত সংকট ভয়ানক। কিন্তু এটা নিরসন করার মতো কোনো সময় আমাদের হাতে ছিল না। তবে যে এলোমেলো অপ্রয়োজনীয় টপিকের বোঝা শিক্ষার্থীদের উপর ছিল, কোচিং অপরিহার্য করে তোলার যে প্রচেষ্টা ছিল, তা অনেকখানি কমানো গেছে এবং কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়ও সংযোজন করা গেছে বলে আমার ধারণা। বাকীটা আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ বলতে পারবেন।
নোট : সব কাজ একা করা যায় না। সব কাজ একা কেউ করেছে বললেও তা সত্য হয় না। সব কাজ একইভাবে, একই পদ্ধতিতে শেষ হয় এমনও না। তবে অনেক মানুষ নিয়ে করা বড়ো কাজের ক্ষেত্রে সমন্বয় খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
[রাখাল রাহা, ১৫ই ফেব্রুয়ারী ২০২৫]

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Azimpur
Dhaka
1205