Really type
Give support and you will receive support, InshaAllah.
ইনশাআল্লাহ
তারুণ্যের প্রথম ভোট দাড়িপাল্লায় হোক
Hi everyone! 🌟 You can support me by sending Stars - they help me earn money to keep making content you love.
Whenever you see the Stars icon, you can send me Stars!
Good
Night
চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি সন্ত্রাস বন্ধ হোক মানবতার জন্য অপেক্ষা করুন
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে
゚
অপরাজিতা নওরিন : রক্তাক্ত রাতের ভিতর দাঁড়িয়ে থাকা এক শিক্ষার্থীর আর্তনাদ”
— মো. কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের ৪নং ওয়ার্ডের এক টুকরো বসতভিটে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নওরিন সুলতানার পরিবার সেখানে বসবাস করছে। চারপাশে মানুষের কোলাহল, প্রতিবেশীর হাসি, সন্ধ্যার আজানের ধ্বনি আর পড়াশোনার স্বপ্ন নিয়ে কেটে যাচ্ছিল তাদের জীবন। নওরিন কাপাসগোল সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজের বিবিএ (অনার্স) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্বপ্ন—একদিন পড়াশোনা শেষ করে সমাজে সম্মানজনক অবস্থানে দাঁড়াবেন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু ভাগ্যের কাছে হয়তো স্বপ্ন কখনোই নিরাপদ থাকে না। এক রাতে সবকিছু বদলে গেল। রক্তাক্ত রাতের শুরু-১২ সেপ্টেম্বর, রাত প্রায় ১১টা। চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎ করেই কয়েকজন সশস্ত্র মানুষ তাদের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। হাতে লোহার রড, দা-বটি, লাঠি আর ইট। মুহূর্তেই ভেঙে যায় দরজার কপাট, আর তার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে যায় শান্তির ঘুম। নওরিনের চোখে আতঙ্ক জমে ওঠে। কিছু বোঝার আগেই মাথায় আঘাত। রক্তে ভেসে যায় কপাল, চোখের সামনে ঘুরপাক খেতে থাকে ঘর, আকাশ, পৃথিবী। তার মা প্রতিরোধ করতে গেলে চাকুর কোপে হাতের তালু কেটে যায়, রক্ত গড়িয়ে পড়ে মেঝেতে। ভাই ধাক্কা খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে একসাথে কয়েকজন তার বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। এই ভয়ংকর দৃশ্য কোনো সিনেমা নয়—এ ছিল জীবন্ত এক দুঃস্বপ্ন, যা বাস্তবে নওরিন ও তার পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। অমানবিক নিষ্ঠুরতার কালো ছায়া- হামলাকারীরা শুধু আঘাত করেই থেমে থাকেনি। তারা বসতবাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে, কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে ফেলেছে, এমনকি নওরিনের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে। একজন তরুণী শিক্ষার্থীকে অপমান করার এ প্রচেষ্টা ছিল তাদের নৃশংসতার ভয়ংকর প্রকাশ। একজন নারীর জীবনে সম্মানই সবচেয়ে বড় সম্পদ। নওরিন যখন রক্তাক্ত অবস্থায় নিজেকে সামলাচ্ছিলেন, তখন তার কানে বাজছিল অশ্রাব্য গালি, হুমকি—“মামলা করলে হত্যা করে কর্ণফুলীতে ভাসিয়ে দেব।”
এক মুহূর্তে ভেঙে পড়ল তার শৈশবের শান্ত ভিটেমাটি, স্বপ্নের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তার বোধ।
চিৎকার থেকে হাসপাতালের বিছানা
আতঙ্কিত প্রতিবেশীরা ছুটে এলো। কেউ পানি দিল, কেউ রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করল, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ডাকল অ্যাম্বুলেন্স। রক্তাক্ত নওরিন, তার মা ও ভাইকে নিয়ে যাওয়া হলো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে সেলাই হলো কপালের ক্ষত, ব্যান্ডেজে বাঁধা হলো মায়ের হাত, ভাই পেল ওষুধ আর শ্বাস-প্রশ্বাসের চিকিৎসা। তবুও তাদের চোখে ঘোরাঘুরি করতে লাগল সেই রাত্রির বিভীষিকা। ডাক্তাররা সান্ত্বনা দিলেও তাদের অন্তরের ক্ষত কেউ সারিয়ে তুলতে পারেনি।
ন্যায়বিচারের জন্য আর্তনাদ-
নওরিনের কণ্ঠ কেঁপে ওঠে—“আমি পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু প্রতিদিন ভয়ে আছি, আবার কবে তারা আসবে? আমরা কি এ শহরের মানুষ নই? আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?”
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে সাধারণ ডায়েরি, পরে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামির তালিকায় আছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজনের নাম—আজিজুর রহমান, ইজাজুর রহমান, আবদুর রহিম দিলু, মোহাম্মদ হাসান, হোসনেয়ারা বেগমসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা।
কিন্তু মামলা দায়ের করলেই কি নিরাপত্তা মেলে? পরিবার জানাচ্ছে, দুই দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। বরং হামলাকারীরা এখনও হুমকি দিচ্ছে।
পুলিশি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন-চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বললেন, “অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।” কিন্তু কথার বাইরে বাস্তব কী? আহত নওরিন যখন ঘরে ফিরে আসে, তখনো তাকে ঘিরে থাকে আতঙ্ক, শঙ্কা, ভয়ের কালো ছায়া। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নওরিন ও তার পরিবার। তারা মনে করেন, দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া তাদের নিরাপত্তা আসবে না।এক শিক্ষার্থীর ভাঙা স্বপ্ন- নওরিন ছিলেন বইপড়ুয়া এক মেয়ে। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, স্বপ্ন দেখছিলেন চাকরি করবেন, বাবা-মাকে গর্বিত করবেন। অথচ আজ তার বইয়ের পাতায় রক্তের দাগ, খাতার অক্ষরে জমে থাকা ভয়ের ছাপ।
এক তরুণী যখন নিজের বাড়িতেই নিরাপদ নয়, তখন রাষ্ট্রের দায় কোথায়? সমাজ কি মুখ ফিরিয়ে থাকবে? অপরাজিতা হয়ে ওঠা নওরিন-
হ্যাঁ, নওরিন আহত, ক্ষতবিক্ষত। তবুও তার চোখে আজও জ্বলে এক দীপ্ত আলো। সে বলে, “ন্যায়বিচার চাই। আমরা ভীত নই, আমরা চাই অপরাধীরা শাস্তি পাক।” এই দৃঢ় কণ্ঠই তাকে করে তুলছে অপরাজিতা—যিনি শুধু ভিকটিম নন, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক। সমাজের দায়বদ্ধতা- এই ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে এমন হামলা আবারও ঘটতে পারে। নওরিনের পরিবার যে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, তা প্রতিটি বিবেকবান মানুষের জন্য লজ্জার বিষয়। একজন শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত কান্না আমাদের কানে না বাজলে, আমরা মানুষ হিসেবে ব্যর্থ। চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের সেই অন্ধকার রাত শুধু নওরিনের পরিবারকেই আঘাত করেনি, এটি আঘাত করেছে আমাদের সমাজের নৈতিকতাকে, আঘাত করেছে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকে। আজ যদি ন্যায়বিচার না হয়, কাল আরও অনেক নওরিন রক্তাক্ত হবে, আরও অনেক স্বপ্ন ভেঙে যাবে। তবুও আশা আছে—যদি আমরা সবাই একসাথে দাঁড়াই, যদি পুলিশ ও প্রশাসন সত্যিই দায় স্বীকার করে, তবে নওরিন আবার বই হাতে ফিরতে পারবে, তার চোখের আলো আবার ঝলমল করবে। আর সেই দিনেই আমরা বলতে পারব—অপরাজিতা নওরিন পরাজিত হয়নি, সে জিতেছে—ন্যায়ের, সাহসের, মানবতার জয়ে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka