Poet Rokon Sheikh
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Poet Rokon Sheikh, Writer, Gazipur.
উপন্যাসঃ-
“যে শহরে আমি আলো খুঁজিনি”
রোকন শেখ
পর্ব ৫: সারার আগমন
সারার সঙ্গে রোকনের প্রথম দেখা
ফাইভস্টারে না—
টং দোকানে।
এক বিকেলে আকাশটা ভারি হয়ে ছিল।
রোকন তখন চায়ের কাপ হাতে বসে আছে,
ডায়েরির পাশে কলম, মাথার ভেতরে আধা একটা কবিতা।
হঠাৎ একটা মেয়ের কণ্ঠ—
— “কাকা, এক কাপ লাল চা।”
রোকন তাকায়।
মেয়েটার চোখে শহরের তাড়াহুড়া নেই।
চুলে বাতাসের আলস্য।
পোশাকে আধুনিকতার ঔদ্ধত্য নেই—
সাধারণ, কিন্তু গভীর।
সে বসে রোকনের পাশের বেঞ্চ থেকেই।
এক মুহূর্ত নীরবতা।
তারপর সারা বলে—
— “আপনি কি কবিতা লেখেন?”
রোকন একটু অবাক হয়।
— “কেন মনে হলো?”
সারা হালকা হেসে বলে—
— “কবিতা যারা লেখে, তারা চায়ের কাপের দিকেও অন্যভাবে তাকায়।”
রোকনের বুকের ভেতরে কিছু একটা কেঁপে ওঠে।
সে বহুদিন পর এমন একজন পায়
যে তাকে বোঝে—
প্রশ্ন না করেই।
বৃষ্টি নামে হঠাৎ।
টিনের চালে টুপটাপ শব্দ।
চা, বৃষ্টি, আর দুটো নীরব মন—
এক অদ্ভুত মূহূর্ত তৈরি হয়।
রোকন জানে না,
এই মুহূর্ত তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় শুরু করছে,
নাকি সবচেয়ে কষ্টের।
কিন্তু সে এটুকু জানে—
এই মেয়েটা আলাদা।
উপন্যাসঃ-
“যে শহরে আমি আলো খুঁজিনি”
রোকন শেখ
পর্ব ২: টং দোকান, বাদল কাকা আর ধোঁয়া ওঠা চা
সে প্রতিদিন ঠিক একই পথে হাঁটে।
এই শহরে যেখানে সবাই নতুন রাস্তা খোঁজে,
রোকন সেখানে পুরোনো পথটাই আঁকড়ে ধরে।
রাস্তার মাথায় ছোট্ট একটা টিনের চাল।
নীচে কাঠের বেঞ্চ, পাশে কয়লার চুলা,
আর সামনে দাঁড়িয়ে থাকে বাদল কাকা—
গ্রাম থেকে শহরে আসা এক অবাক মানুষ।
রোকন এসে চুপচাপ বসে পড়ে।
বাদল কাকা কোনো প্রশ্ন করে না।
চায়ের কাপ এগিয়ে দেয়,
একটা ধোঁয়ার মতো উষ্ণতা ভেসে আসে।
রোকন চায়ে চুমুক দেয়।
তার চোখ তখন রাস্তার ভিড়ের দিকে—
লোকজন ছুটছে, কেউ অফিসে, কেউ প্রেমে, কেউ টাকায়, কেউ ক্ষমতায়।
সবাই কোথাও না কোথাও পৌঁছাতে চায়।
কিন্তু রোকন?
সে কোথাও পৌঁছাতে চায় না।
সে শুধু বসে থাকতে চায়—
এই চায়ের দোকানে,
এই ধোঁয়ার ভেতরে,
এই ক্ষণিকের নিস্তব্ধতায়।
বাদল কাকা একদিন জিজ্ঞেস করল,
— “তুই কী করিস রে বাবা?”
রোকন হালকা হেসে বলল,
— “আমি মানুষ জমাই, কাকা। কাগজের ভেতরে।”
বাদল কাকা কিছু বুঝল না, তবু মাথা নেড়ে বলল,
— “ভালা, তুই যা করিস, কর। তবে নিয়মিত চা খাইস।”
এই শহরে রোকনের সবচেয়ে আপন জায়গা এই টং দোকান।
কারণ এখানে কেউ তাকে প্রমাণ করতে বলে না—
সে কে, কী করে, কেন আলাদা।
উপন্যাসঃ-
“যে শহরে আমি আলো খুঁজিনি”
রোকন শেখ
পর্ব ১: অগোছালো শহরের অগোছালো এক ছেলে
শহরটা খুব গোছানো।
লোকজন সময় মেনে হাঁটে, কথা মাপে, পোশাক মাপে, এমনকি অনুভূতিও মেপে ব্যবহার করে।
কিন্তু এই গোছানো শহরের এক বিল্ডিংর ছ'তালায় থাকে এক অগোছালো ছেলে।
তার নাম রোকন শেখ ।
কেন এই নাম রাখা হয়েছিল, সে নিজেও জানে না।
সে শুধু জানে—জীবনটা আদর পায়নি কখনো।
সকালের শুরু হয় তার দেরিতে।
কারণ সে রাত জাগে।
নেটফ্লিক্স দেখে না, গেম খেলে না—
লেখে।
টেবিলের ওপর ছড়ানো থাকে খাতা, কলম, পুরোনো ডায়েরি।
কফির মগে চা জমে থাকে ঠান্ডা হয়ে।
জানালার বাইরে শহরের আলো, ভেতরে তার নিভু নিভু মন।
সে আয়নায় তাকায় না বেশি।
কারণ সে জানে, তাকে দেখে কেউ মুগ্ধ হবে না।
অগোছালো চুল, চোখের নিচে কালচে ছাপ,
আর মুখে সেই চিরচেনা ক্লান্তি।
সে বাইরে বের হয় পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে।
এই শহরে এটা আলাদা করে চোখে পড়ে।
অনেকে তাকিয়ে থাকে, কেউ হাসে, কেউ অবজ্ঞা করে।
সে কারো দৃষ্টিকেই পাত্তা দেয় না।
তার ভেতরে সে এখনো নব্বইয়ের একটা দুপুর বাঁচিয়ে রাখে।
তার গন্তব্য একটাই—
রাস্তার মোড়ের টং দোকান।
এক কাপ চা ও এক গুচ্ছ আক্ষেপ
— রোকন শেখ
ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
— মামা, এক কাপ চা দাও, আরেকটা বাড়তি চিনিসহ।
আজ একটু বেশি মিষ্টি দরকার।
— কি কবি, মুখ থমথমে কেন?
— কিছু না মামা। আজ মানুষ দেখতে এসেছি।
— মানুষ? হুঁম! কতো রকমেরই তো আসে যায়। কী এমন দেখলে?
— দেখছি মানুষ কতটা ভালোবাসা পায়।
ঐ দেখো, ছোট পোলাটা মা'কে পেয়ে এমনভাবে জড়িয়ে ধরলো যেন মায়ের কোলে পৃথিবীর সব শান্তি।
আরেকটু দূরে ঐ প্রেমিক যুগল—মেয়েটা ছেলেটার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, যেন ক্লান্ত মুখে একটু পরশ দিতে চায়।
— আজ তোমার কথা বেশি গভীর শোনাচ্ছে কবি।
— আসলে, মাঝে মাঝে নিজেই নিজের মধ্যে ডুবে যাই।
চেনা মুখগুলোর ভিড়ে একটা অচেনা খোঁজ চলে… এমন কাউকে খুঁজি, যার কাছে বলব,
👉 “আজ মন ভালো না। কিন্তু এই কথা শুধু তোমায় বলতেই ভালো লাগছে।”
— এই তো চাওয়া?
— হ্যাঁ মামা, চাওয়া তেমন কিছু না।
শুধু চাই, কারও কণ্ঠে ক্লান্তির শেষে একটু আদর থাকুক।
কেউ একজন জিজ্ঞেস করুক, “তুমি খেয়েছো তো?”
এইটুকুই তো।
আমরা কবি বলে কি আমাদের একটু আদর পাওয়ার অধিকার নাই?
আমরা কি পাথর?
আমরাও তো মানুষ, আমাদেরও তো মন খারাপ হয়।
— তাহলে বলেন না কাউকে?
— কাকে বলব মামা?
আমার কথার গভীরতা কেউ বুঝবে?
যাকে বলার সাহস করব, সে হয়তো বলবে,
👉 “তুমি তো সবকিছুর ওপরে, কবি হয়ে গেছো!”
এইখানেই সবচেয়ে বড় আক্ষেপ—আমরা বলতে পারি না।
ভালোবাসা চাই, কিন্তু মুখ ফুটে চাইতে পারি না।
একদিন কেউ যদি থাকতো পাশে...
তাহলে বলতাম,
👉 "আমার জন্য এক গুচ্ছ ফুল এনো, আর কিছু না।
বিশ্বাস করো, বহুদিন বাগানে যাই না,
কৃষ্ণচূড়া, বকুল, টগর—দেখাও হয়নি ছুঁয়েও।”
— কবি, এত ভাবনা করে লাভ কী?
— যারে চাও, সেও তো অনেক দূরে চলে যায় না?
— হ্যাঁ মামা। মানুষ তেমনই।
যার কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়া সহজ, তাকে উপেক্ষা করে চলে যায়।
আর যাকে পাওয়া যায় না, তার পেছনে অন্ধ দৌড়।
— তুমি বলেছিলে, যত্নের অভাবে মানুষ মরে?
— হ্যাঁ। সত্যি বলছি, যত্নের অভাবেই মানুষ মরতে শেখে।
একাকিত্ব মানুষকে শক্ত করে না, বরং ধীরে ধীরে গলাটিপে মারে।
— তাইলে কবিরাও একা?
— হ্যাঁ। আমাদেরও কাঁধে হাত রাখার কেউ থাকে না।
সবাই ভাবে কবি মানেই ছন্দ, কাব্য, জোছনা—
কিন্তু বাস্তবের কবি বোবা কান্না কাঁদে।
— মা'কে কি মনে পড়ে কবি?
কবি চুপ করে থাকে।
তারপর হালকা হাসে।
চোখে ধরা পড়ে না, তবু বুঝি সে কাঁদছে।
একটা সিগারেট নিভিয়ে কবি উঠে দাঁড়ায়,
যেন কিছু বলতে চেয়েও বলে না।
তার চলে যাওয়া দেখে মনে হয়,
কেউ একজন কত কিছু বলার ছিল,
কিন্তু বলা হয়নি, কারণ কেউ ছিল না শুনবার।
"মানুষ শুধু বেঁচে থাকে না,
অনেকেই আক্ষেপ নিয়ে বাঁচে।"
Click here to claim your Sponsored Listing.