Daily Mamar Desh

Daily Mamar Desh

Share

Allah is all mightly
উন্নতির দিকে মনোযোগ দাও, প্রমাণ করার দিকে নয়।

15/02/2026

সবার আগে বাংলাদেশ...

15/02/2026

ছায়া মন্ত্রীপরিষদ আসলে কি?

অ্যাডভোকেট শিশির মনির ছায়া মন্ত্রী পরিষদ গঠন করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। ১৪/০২/২০২৬ রাত ৮ টা ৫ মিনিটে উনি স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। এখন ছায়ামন্ত্রীপরিষদ কি সেটি নিয়ে আলোচনা করবো।

ছায়া মন্ত্রীপরিষদ এর ওরিজিন কি?

ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ স্যার রবার্ট পিল ১৮৩৬ সালে যখন তার প্রাক্তন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বর্তমান সরকারের বিরোধিতা করার জন্য একটি দল গঠন করেন ঠিক তখন থেকেই এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। 'শ্যাডো কেবিনেট' বা 'ছায়া মন্ত্রিসভা' শব্দটি ১৮৮০ এর দশকের দিকে প্রথম সংবাদপত্রে আসতে শুরু করে। তবে ১৯০৬ বা ১৯১০ সালের দিকে এটি আরও বেশি পরিচিতি পায়। ১৯২২ সালে যুক্তরাজ্যে যখন লেবার পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তখন তারা এই ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫১ সালে লেবার নেতা হিউ গেটস্কেল প্রথম আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেন যাতে প্রতিটি সরকারি দপ্তরের জন্য একজন নির্দিষ্ট বিরোধী মুখ নিযুক্ত থাকে।

বর্তমানে এটি যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতির দেশগুলোতে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সংসদীয় রীতি হিসেবে স্বীকৃত।

যুক্তরাজ্যে ছায়া মন্ত্রিসভাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানে একে "Her Majesty's Loyal Opposition" বা 'মহামান্যের অনুগত বিরোধী দল' বলা হয়। বর্তমানে যদি লেবার পার্টি ক্ষমতায় থাকে, তবে কনজারভেটিভ পার্টি তাদের একটি শক্তিশালী ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে রেখেছে। বিরোধী দলীয় নেতাকে এজন্য সরকারিভাবে বেতন ও সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয়। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার দেশগুলোতে ছায়া মন্ত্রিসভাকে "Official Opposition" বলা হয়।

এইবার আসি আমরা মূল আলোচনায় যে ছায়া মন্ত্রীপরিষদ আসলে কি?

ছায়া মন্ত্রিসভা বা ছায়া মন্ত্রীপরিষদ হলো সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার একটি বিশেষ কাঠামো, যেখানে প্রধান বিরোধী দল বর্তমান সরকারের বিকল্প হিসেবে নিজস্ব একটি মন্ত্রিসভা গঠন করে। ধরেন, এখন বিএনপি মেজোরিটি পেয়েছে ইলেকসনে। বিএনপি মন্ত্রী পরিষদ করবে। এখন ১১ দলীয় জোটও তাদের একটা স্যাডো মিনিস্ট্রি গঠন করবে।

এটি মূলত বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি আগাম প্রস্তুতি। বিরোধী দল তাদের সিনিয়র সদস্যদের নিয়ে এটি গঠন করে যাতে তারা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নিতে পারে। ধরেন, এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলাম এদের কারোর অভিজ্ঞতা নেই সরকার চালানোর। কিন্তু ছায়ামন্ত্রীপরিষদ গঠন করলে তাদের প্র্যাক্টিস হবে বিরোধী দল থাকা অবস্থায় যে সরকার কোন সময় গঠন করলে কিভাবে তারা রাস্ট্র পরিচালনা করবে।

এই মন্ত্রিসভার প্রতিটি সদস্যের কাজ হলো বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাজের ওপর কড়া নজর রাখা এবং তাদের নীতিগুলো বিশ্লেষণ করা। ধরেন, বিএনপির শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষামন্ত্রনালয় একটা সিদ্ধান্ত নিবে এদিকে স্যাডো মিনিস্ট্রির যে শিক্ষামন্ত্রী থাকবে সে নজরদারিতে রাখবে যে কি কি স্টেপ নিচ্ছে এবং তারা বিশ্লেষণ করবে সেগুলি জাতির সামনে।

ধরেন, বিএনপির স্বরাস্ট্রমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিলেন যে, দেশের বাহির থেকে অ/স্ত্র কিনবে। তাহলে এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলাম যদি এখন সরকারে থাকত তারা কি কি অ/স্ত্র কিনতো এবং কমে তা কিনে আনতে পারতো সেইটা জনগণের সামনে তুলে ধরবে। বিএনপির স্বরাস্ট্রমন্ত্রী যদি অর্থ কেলেঙ্কারির জন্য বেশি দামে অ/স্ত্র কিনে আনে তাহলে স্যাডো মিনিস্ট্রি সাথে সাথে সেটি তুলে ধরতে পারবে।

আবার, অনেক দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারের বাজেটের পাল্টা একটি বিকল্প বাজেট পেশ করে দেখায় যে তারা ক্ষমতায় থাকলে দেশ কীভাবে চালাত। ধরেন, বিএনপি একটা বাজেট পেশ করলো। এদিকে বিরোধীদলের স্যাডো কেবিনেট নিজেরা একটা বাজেট বানাবে। তারা জাতির সামনে দেখাবে যে সরকারের থেকে এই বাজেট বেশি সেরা। তারা সরকারে থাকলে এইবার এই বাজেট পেশ করতো।

মূলকথা, ছায়া মন্ত্রীপরিষদ সরকারকে আরো বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে রাখবে। অ্যাডভোকেট শিশির মনির যদি আবেগী না হয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে থাকে এবং আসলেই তারা স্যাডো কেবিনেট গঠন করে শক্তিশালী একটা স্যাডো কেবিনেট হয় সেইটা নাগরিকদের জন্য ভালো হবে। তারা এখন থেকেই আগামীতে দেশ পরিচালনার জন্য ক্যাপাবল হয়ে যাবে। কোন ইমারজেন্সিতে সরকারের পতন ঘটলে বিরোধী দল ই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে ফেলতে পারবে। কারণ, তারা ছিল স্যাডো কেবিনেট। দেশের সকল সিচুয়েসনের সাথে ওয়াকিবহুল ছিল। তারা আগামীতে দেশ কিভাবে চালাবে সেই প্ল্যানও তাদের হাঁতে ছিল।

ছায়া মন্ত্রীপরিষদ কিংবা স্যাডো কেবিনেট একটা চমতকার অধ্যায় হবে আমাদের দেশের রাজনীতির জন্য এবং জনগণের জন্যও। যদি সরকারি কোন সুবিধা পাবে না, সহায়তা পাবে না। কিন্তু কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলে নাগরিকদের জন্য সুফল আনবে। ১১ দলীয় জোট বিরোধী দল হিসেবে খুব অ্যাডভান্সড। এত অ্যাডভান্সড বিরোধী দল সরকারকে প্রচুর প্রেসারে রাখতে সক্ষম। এ যাবতকালের সেরা বিরোধী দল বাংলাদেশ বুঝি পেতে চলেছে।

-মোসাব্বের হোসেন মুয়ীদ
নাট্যকার, শিক্ষানবীশ আইনজীবী ও রাজনীতিবীদ।

13/02/2026

কি সুন্দর ভোট

12/02/2026
11/02/2026

এগুলো প্রকাশ্য ছিনতাই আর বড় বড় মিডিয়া প্রচার করছে এই ছিনতাই এর দৃশ্য আর প্রশাসন চুপ করে আছে

11/02/2026
Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Khulna?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address

Khulna
Khulna