Mehedi The Explorer

Mehedi The Explorer

Share

Keep Exploring

12/03/2026

তাহাজ্জুদ নামাজ ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি নফল বা সুন্নত ইবাদত। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাহাজ্জুদের স্থান। নিচে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম, সময় এবং রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. তাহাজ্জুদ নামাজের সময়
* শুরু ও শেষ: এশার নামাজের পর থেকে শুরু করে সুবহে সাদিকের (ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার) আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া যায়।
* উত্তম সময়: রাতের শেষ তৃতীয়াংশ হলো তাহাজ্জুদের জন্য সবচেয়ে উত্তম সময়।
* শর্ত: তাহাজ্জুদ নামাজের মূল শর্ত হলো, এশার নামাজের পর রাতের কিছু অংশ ঘুমাতে হবে এবং এরপর ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়তে হবে। (তবে কেউ যদি রাতে না ঘুমান, তবে তিনি শেষ রাতে নামাজ পড়লে তা 'কিয়ামুল লাইল' বা নফল হিসেবে গণ্য হবে এবং তাহাজ্জুদের সওয়াবও পেতে পারেন)।

২. রাকাত সংখ্যা
* তাহাজ্জুদ নামাজ ২ রাকাত করে পড়তে হয়।
* সর্বনিম্ন ২ রাকাত পড়া যায়। তবে ২ রাকাত করে ৪, ৬, ৮ অথবা ১২ রাকাত পর্যন্ত পড়া উত্তম।
* রাসূলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ এবং ৩ রাকাত বিতরসহ মোট ১১ রাকাত পড়তেন।

৩. নামাজের নিয়ত
মুখে আরবিতে নিয়ত করা জরুরি নয়, অন্তরের ইচ্ছাই যথেষ্ট। আপনি মনে মনে এই নিয়ত করতে পারেন:
"আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ক্বিবলামুখী হয়ে ২ রাকাত তাহাজ্জুদের সুন্নত (বা নফল) নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।"

৪. নামাজ পড়ার নিয়ম
তাহাজ্জুদ নামাজ অন্যান্য সাধারণ সুন্নত বা নফল নামাজের মতোই পড়তে হয়। তবে এর কিছু বিশেষত্ব রয়েছে:
* ১ম রাকাত: 'আল্লাহু আকবার' বলে নিয়ত বেঁধে ছানা পড়বেন। এরপর সূরা ফাতিহা পড়ে পবিত্র কোরআনের যেকোনো একটি সূরা মেলাবেন।
* ২য় রাকাত: সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা মেলাবেন। এরপর রুকু, সেজদা করে তাশাহহুদ, দরুদ শরিফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাবেন।
* সূরার ধরন: তাহাজ্জুদের নামাজে দীর্ঘ সূরা পড়া এবং রুকু ও সেজদায় বেশি সময় কাটানো উত্তম। তবে বড় সূরা মুখস্থ না থাকলে ছোট সূরা দিয়েও পড়া যাবে।
* তাসবিহ: রুকু এবং সেজদার তাসবিহ সাধারণ ৩ বারের জায়গায় ৫, ৭ বা ৯ বারও পড়া যেতে পারে।

৫. বিতর নামাজ পড়া
আপনি যদি তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ত করে থাকেন, তবে এশার নামাজের পর বিতর নামাজ না পড়ে রেখে দেওয়া উত্তম। তাহাজ্জুদ নামাজ শেষ করার পর সবশেষে বিতর নামাজ পড়ে রাতের ইবাদত শেষ করা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ। তবে যদি রাতে ঘুম থেকে ওঠার ব্যাপারে সন্দেহ থাকে, তবে এশার পরই বিতর পড়ে নেওয়া ভালো।

৬. তাহাজ্জুদের পর দোয়া
রাতের শেষ ভাগ দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়ে আল্লাহ প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকেন। তাই নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করবেন এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করবেন।

Telephone

Website