Nirjhar Library
আপনি যেভাবেই পড়েন কিন্তু বই পড়ার মজ?
EiD MubaraK
♦️পহেলা বৈশাখ
ও
আমার ছোট বেলা♦️
নব্বই দশকের অন্যতম আনন্দের দিন ছিলো বাংলা বছরের প্রথম দিন। শৈশবে টাকা জমাতাম বৈশাখের প্রথম দিন অনেক খেলনা কেনার জন্য। মঠবাড়িয়ার পৌরসভার প্রাঙ্গণ ও প্রধান সড়কে অনেক দোকানীরা আকর্ষণীয় রঙিন খেলনা বিক্রি করতো। খেলনাগুলোর মধ্যে আমার প্রথম পছন্দ ছিলো গাড়ি, লঞ্চ ও বেলুন। জমানো সব টাকা দিয়েই খেলনাগুলো ক্রয় করতাম। বাবা বাসার জন্য তরমুজ, মিষ্টি ও ইলিশ মাছ কিনে নিতো। দেখতাম দোকানীরা ব্যস্ত থাকতো হালখাতা নিয়ে , দোকানে গেলেই মজার মজার খাবার দিতো বিশেষ করে বাতাসা ও মিষ্টি । বাসাতেও অনেকেই বাতাসা, নকুল আর মিষ্টি দিয়ে যেতো ।আহা শৈশব! তারপর একটু বড় হয়ে যখন বরিশাল থাকতাম তখন বাবা বার বার ফোন করে বলতো বৈশাখের প্রথম দিন বাড়ি থাকবি অবশ্যই। বাড়ি আসতাম কিন্তু তখন আর গাড়ি কেনা হতো না ! মণ পড়ে থাকতো বরিশালের বি এম স্কুলের মেলায় যেখানে চরকা, নাগর দোলা আমাকে আকৃষ্ট করতো । এরপর বাবাও আর ঢাকে না , "বাবা বাড়ি আয় বৈশাখে" আর কোনদিন ঢাকবে না ।
আরেকটু বড় হবার পর ঢাকাতে রমনা আর চারুকলা অনুষদের কার্যক্রম গুলো চোখ আটকেগেলো। "মঙ্গল শোভাযাত্রা" অনেক বর্ণাঢ্য রঙিন ভালো লাগো এর মধ্যে আমিও হারিয়ে গেলাম মিছিলে। মঙ্গল শোভাযাত্রাকে আর রঙিন করার জন্য একদল লোকের কি আপ্রাণ চেষ্টা! এরপর ভিতরে গেলাম আর ভিতরে , যারা ওই সময় প্রতিকৃতি বানাতো তাদের সাথে মিশে গেলাম দেখলাম আর দেখলাম তাদের মধ্যে প্রায় সবাই সিগারেট , গাজাঁ না খেলে আর্ট বেড় হতো না ! এবার একটু একটু করে আমার ঘোরকাটে ! আরও কিছু জানতে চাই এই বিষয়ে!
১৯৮৫ সালে যশোরে চারুপীঠ নামের একটি সংগঠন এধরণের একটি শোভাযাত্রা করেছিল। যার উদ্যোক্তারা ঢাকায় আনন্দ শোভাযাত্রা আয়োজনে ভূমিকা রাখেন এবং সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চারুকলায়ও আনন্দ শোভাযাত্রার শুরু করে ১৯৮৯ সালে।যদিও সেটা তখন এতটা বর্ণাঢ্য ছিল না।
তখনকার সেই শোভাযাত্রার একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিজ-নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন অনেক শিল্পী-সাহিত্যিক।
কিছুটা সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, বিশেষ করে চিত্রশিল্পীরা এই মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিকল্পনা করেন যার ফলে ১৯৯৫ সালে এটি মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম করন হয়। এরপর থেকেই প্রতিবছর বিভিন্ন রঙিন প্রতিক বাড়তে থাকে । প্রথম দিকে সবাই চেয়েছিলো এই মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে ধর্ম নিরপেক্ষ । তাই লোকসংস্কৃতির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ উপাদানগুলো বেছে নেয়া হয়েছিল। আমাদের সোনারগাঁয়ের লোকজ খেলনা পুতুল, ময়মনসিংহের ট্যাপা পুতুল, নকশি পাখা, যাত্রার ঘোড়া এসব নেয়া হয়েছিল"।
এতে কোন ধর্মেরই আরাধনা করা হয়নি । তবে ধর্ম নিরপেক্ষ বলে অন্য ধর্মে যা নিষিদ্ধ তা দিয়ে শোভাযাত্রা( বছরের মঙ্গল অর্থে)করে তাদের আহ্বান করা কি যায় ? যায় না ! এই উৎসবকে সার্বজনীন করার জন্য অবশ্যই যেকোন ধর্মের কোন নিষিদ্ধ কাজ না থাকে, তাহলেই সবাই বছরটি বরণ করবে। এবার একটু আগের কথা বলি ...
ষোড়শ শতকে যখন মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে বর্তমান বাংলা বর্ষপঞ্জি তৈরি হয়, তখন সেটি মূলত: ফসল রোপণ এবং কর আদায় সহজ করার উদ্দেশ্যেই করা হয়।তবে শাসকরা যে উদ্দেশ্যেই বর্ষপঞ্জি করুক না কেন, এই নববর্ষ উদযাপনের সংস্কৃতিও বাংলায় বেশ প্রাচীন।
হালখাতা, মেলা, পিঠা-পুলি বানানো নানাভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। ১৯৬৬ সালে বাংলা বর্ষের গণনা সংস্কার করা হয়, এবং যার পর থেকে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয়ে আসছে ১৪ই এপ্রিল। কিন্ত বিচিত্র ব্যাপার হচ্ছে অনেকেই আবার পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল বছর পালন করেন, এটা যেমন রাষ্ট্রিও আদেশের বিরুদ্ধাচারণ ঠিক তেমনি' মঙ্গল শোভাযাত্রা' কথার চিন্তা করে বর্ষ বরণ না করাও বোকামি। যে অনুষদগুলো ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত বিরক্ত করে তুলেছে যা দিয়ে মানুষের মাঝে বিভেদের সৃষ্টি করেছে এমন অংশটুকু বাদ দিয়ে নববর্ষ উদযাপন করা যায়!
একদল বেশি বোঝা গ্রুপ যা যুগে যুগে ছিলো তারা মূর্খের মত শয়তানের আরাধ্য করে আসছিলো ,তাদের কারনে সবার বৈশাখ বরণ কেন বন্ধ থাকবে ?
যদি কেউ বলে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা" হাজার বছরের ঐতিহ্য তবে তাদেরকে নির্বোধ বলেই মেনে নেন।
এই সকল ঠ্যালা-ঠেলির কারনে নবীনরা অতি উৎসাহে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করে , বাংলা নববর্ষ সহ বাংলা মাসের নাম বা তারিখ পর্যন্ত মনে রাখার ইচ্ছা পোষণ করে না , অথচ আমার মা-চাচিরা ,কৃষকরা এখনও বাংলা মাসের কথা ভেবে ফসল ফলায় ও অন্যান্য কাজ করে !
অতিরিক্ত তেতো না বানিয়ে আসুন সার্বজনীনভাবে নববর্ষ উদযাপন করি । শুভ নববর্ষ।
©️আতিক খান
৩০শে চৈত্র ১৪২৯
১৩-০৪-২০২৩
Nirjhar Library Earth Daily Atique Khan
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Mathbaria
8560