English Aid
A complete English Suggestion Book
প্রসঙ্গ সাবজেক্ট Choice
------ মো: রোকনুজ্জামান
--------------------------------------------
আগেই বলেছি ভার্সিটি যতটা না ফ্যাক্ট তার চেয়ে বেশি ইমপরটেন্ট সাবজেক্ট। ভুল সাবজেক্ট choice একজন শিক্ষার্থীকে অনেক পিছিয়ে দিতে পারে। বাট অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সাবজেক্ট চয়েসে ভুল করে থাকে। এই ভুল করার পেছনে দেশের মুর্খ সমাজের যতটা না অবদান আছে, তার থেকেও বেশি অবদান আছে মাস্টার্স পাশ করা মুর্খদের।
#কিভাবে সাবজেক্ট চয়েস করা উচিত?
সাবজেক্ট চয়েস দুইটা এ্যাঙ্গেল থেকে করা উচিত।
1. লাইফের প্যাসন থেকে (আল্টিমেট গোল কে সামনে রেখে)
2. জব মার্কেটকে সামনে রেখে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ৯৯% জব মার্কেট সামনে রেখে সাবজেক্ট চয়েস করে। দরিদ্রতা ও আর্থ সামাজিক নাজুক অবস্থা এই ফালতু চিন্তার জন্য অনেকাংশে দায়ী।
যারা জব মার্কেটকে সামনে রেখে সাবজেক্ট চয়েস করে তারা জীবনে যত বড় অফিসার হোক, যত টাকাই ইনকাম করুক, তারা আল্টিমেটলি অসুখী ও ব্যর্থ জীবন নিয়ে মৃত্যু বরণ করে, এবং মরার পরে এই পৃথিবী আর তাদের স্মরণ করেনা।
আর যারা প্যাসন থেকে সাবজেক্ট চয়েস করে তারা সারাজীবনে তেমন কোন ইনকাম না করলেও শান্তিতে মৃত্যুবরণ করে। এই পৃথিবী তাদের স্মরণ করে।
# প্যাসন থেকে সাবজেক্ট চয়েস :
প্যাসন থেকে সাবজেক্ট চয়েস করলে সব সাবজেক্ট সমান গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ আরবি, ফার্সি, সংগীত, চারুকলা, ল, অর্থনীতি সব সমান। যার যা প্যাসন, সে সেই সাবজেক্ট নিবে। কারো যদি উর্দু নিয়ে গবেষণা করার প্যাসন থাকে, সে উর্দু নেবে। কারো আইন নিয়ে কাজ করার প্যাসন থাকলে সে আইন নেবে। ঢাবিতে প্রথম হয়েও আব্দুল্লাহ আরবী নিয়েছিলো, প্রতিবছর ঢাবিতে প্রথম বিশে থাকা অনেকেই আরবী নেয়। এরা প্যাসন থেকে নেয়। এবং এরা অনেক বড় ব্যক্তিত্ব হবে ইনশাআল্লাহ। আর যারা জব মার্কেট অনুযায়ী চিন্তা করে ভালো সাবজেক্ট না পেয়ে উপায় না থাকায় আরবী নেয়, এরা জীবনে তেমন কিছুই করতে পারবে না। আমাদের ফোকাসের একজন সিনিয়র শিক্ষক ঢাবিতে প্রথম পাঁচে পজিশন করেও প্যাসন থেকে নৃবিজ্ঞান নিয়েছিলো এবং সে বর্তমানে একজন বড় গবেষক এবং আমেরিকার একটা শীর্ষ ভার্সিটির পিএইচডি স্টুডেন্ট।
# জব মার্কেট সামনে রেখে সাবজেক্ট চয়েস :
১. আইন / অর্থনীতি : আইন এবং অর্থনীতি এই দুটি সাবজেক্টের জব অপরচুনিটি সবচেয়ে বেশি। ব্যাংক, বিসিএস সব সাবজেক্টের জন্য কমন সুযোগ।
তবে এ দুটি সাবজেক্টের নিজস্ব বিশাল জব সেক্টর রয়েছে। যাদের সুযোগ আছে তারা এ দুটি থেকে যেকোনো একটা সাবজেক্ট নিতে পারে। অর্থনীতি নেওয়ার আগে দশবার ভাবা উচিত। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন সাবজেক্ট বললে ভুল হবে না। সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের না হলে অনেক স্ট্রাগল করতে হবে। রিসেন্টলি ঢাবিতে প্রথম হয়ে আব্দুল্লাহ, মামুনসহ আরো কয়েকজন অর্থনীতি নিয়ে পড়ছে। কষ্ট কম করতে চাইলে ল হবে প্রথম পছন্দ।
২. এরপর দুইটা পয়েন্ট থেকে সাবজেক্ট চয়েস করতে হবে।
যদি দেশে জব করার ইচ্ছে থাকে তবে অবশ্যই তিনে ইংরেজি, আর চারে বাংলা।
আর দেশের বাইরে হায়ার স্টাডির ইচ্ছে থাকলে
উন্নয়ন অধ্যয়ন, আইআর, পাবলিক এ্যাড, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান এই পাঁচটা ইচ্ছেমতো সিরিয়ালে দেওয়া যায়। পাঁচটায় সমান, সবগুলোর অপরচুনিটি প্রায় সেম।
তবে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার থাকায় এবং টিচিং অপরচুনিটি থাকায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান দেশের জব সেক্টরে এগিয়ে। বাকি তিনটা সাবজেক্টে দেশের মধ্যে তেমন কোন জবের সুযোগ নেয়। তাই দেশেই থাকার ইচ্ছে থাকলে ওগুলো না নেওয়ায় বেটার।
(উল্লেখ্য ভূগোল মূলত সাইন্সের সাবজেক্ট। অনেক প্যারা, কষ্ট। তবে কষ্ট করে পড়তে পারলে জবের সুযোগ অনেক বেশি। উচ্চ শিক্ষায় অনেক ডিমান্ড। সুযোগের কথা চিন্তা করলে অর্থনীতি আর ল এর পরেই ভূগোলের স্থান)
(সাংবাদিকতায় আগ্রহ থাকলে জার্নালিজম তিনে রাখা যায়। সাংবাদিকতা ছাড়া এর আর কোন জবের সুযোগ নেয়। এমনকি বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারও নেই, টিচিং সুবিধাও নেই। সো, জবের কথা চিন্তা করলে জার্নালিজম নিয়ে ঢাবিতে না পড়ে অন্য ভার্সিটিতে ভালো সাবজেক্টে পড়া বেটার)
৩. এরপর ইসলাম শিক্ষা, ইসলামের ইতিহাস, ইতিহাস, সমাজকল্যাণ, দর্শন ইচ্ছেমতো দেওয়া যায়। সবগুলোর জব অপরচুনিটি সমান। সবগুলোতেই শিক্ষা ক্যাডার আছে, টিচিং সুবিধা আছে, এমনকি হায়ার স্টাডির সুযোগও আছে। এগুলো সবই মানসম্মত সাবজেক্ট। মূলত পলিটিক্যাল সাইন্স, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ, ইসলাম শিক্ষা, ইসলামের ইতিহাস, ইতিহাস, দর্শন, সবগুলোই একই মানের সাবজেক্ট। সমান জব অপরচুনিটি। যার যেটা ভালো লাগে নিতে পারে।
৪. এরপর শিক্ষা, ক্রিমিনোলজি, ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট রাখা যায়। যদিও কিছুটা হায়ার স্টাডির সুযোগ ছাড়া, আর কোন জবের সুযোগ নেই তেমন। জবের চিন্তা থাকলে এগুলো না পড়ে অন্য সাবজেক্টে ভালো সাবজেক্ট পড়া বেটার।
5. বাকি সাবজেক্টগুলো যেমন বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব, উর্দু, ফার্সি, পালি, সংগীত, ভাষা রিলেটেড বিষয়, আরবি ইত্যাদি এগুলোতে পড়ার কোন মানে হয়না যদি জবের চিন্তা করা হয়। এগুলোর কোন জবের সুযোগ নেই, টিচিং সুযোগও নেই, শিক্ষা ক্যাডারও নেই। এগুলোতে না পড়ে অন্য ভার্সিটি, প্রাইভেট ভার্সিটি, এমনকি ন্যাশনালে অর্থনীতি, ইংরেজি নিয়ে পড়া বেটার।
(মনে রাখতে হবে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে বর্তমানে যা শুনি তা নিছকই গুজব। রিয়েল কন্ডিশন হলো বিশ্বের প্রথম পাচ হাজার ভার্সিটির মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন নেই। যে ranking আমরা দেখি ওটা বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে করা হয়। ঢাবির বর্তমান গবেষণা প্রায় ০।
যেমনঃ আমেরিকায় প্রায় চার হাজারের মতো ভার্সিটি আছে যার সবগুলো ঢাবির থেকে বেটার। এছাড়া ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার প্রায় সব ভার্সিটিই কানাডার থেকে বেটার। ঢাবি থেকে যারা ভালো গবেষণা করে বিশ্বের বিভিন্ন ভার্সিটিতে, তারা নিজের পরিশ্রমে করে। এখানে ভার্সিটির তেমন অবদান নেই। এটা যেকোনো ভার্সিটি থেকেই করা যায়। এমনকি ন্যাশনালে থেকেও যদি ইচ্ছে আর পরিশ্রম থাকে।
কতটা বিসিএস ক্যাডার হচ্ছে এটার সাথে ভার্সিটি ভালো মন্দের কোন সম্পর্ক নেই। বরং যে ভার্সিটি থেকে যত বেশি বিসিএস ক্যাডার হয়, ভার্সিটি হিসেবে সেটা ততবেশি পচা, নষ্ট এবং বাজে। ভার্সিটির মূল কাজ গবেষক, স্কলার তৈরি করা। যাদের সহজাত লিডারশিপ আছে তারা অটোমেটিক্যালি সমাজ ও রাষ্ট্রের লিডারশিপে যাবে, এরজন্য ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি লাগবে না। আর নেতৃত্ব তৈরির প্লাটফর্ম হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদতো আছেই।
ঈদ মুবারাক🌙
তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম!❤️
জীবনের আল্টিমেট স্বপ্ন পূরনের জন্য অনেকগুলো প্লাটফর্ম আছে। ঢাবি জাস্ট সেই অনেকগুলো প্লাটফর্মের মধ্যে একটা। ঢাবি, জবি, জাবি, রাবি, চবি এগুলো সবই প্রায় একইমানের প্লাটফর্ম। একটা প্লাটফর্ম মিস হয়েছে তো কি হয়েছে, এখনও ঢাবির মানের অনেকগুলো প্লাটফর্ম আছে, যেখানে কম্পিটিশনও কম হবে। সো, ঢাবির শোকে পড়ে না থেকে বাকি প্লাটফর্মের প্রিমিয়াম টিকিট (টপ সাবজেক্ট) ধরার চেষ্টা করো।
মনে রাখবা, ভার্সিটির থেকে সাবজেক্ট ম্যাটার। ঢাবিতে উর্দু, ফার্সি, পালি, সংগীত ইত্যাদি পড়ার চেয়ে অন্য যেকোনো ভার্সিটি এমনকি ন্যাশনালে ভালো সাবজেক্টে পড়া বেটার।
প্রতিবছর ঢাবির পাচ ছয়জন শিক্ষার্থী হতাশায় সুইসাইড করে। সো, ঢাবি মানেই জীবনের সবকিছু নয়।
ঢাবি অবশ্যই সেরা প্লাটফর্ম তবে একমাত্র প্লাটফর্ম নয়।
বিজয়ীরা সবসময় পরবর্তী সুযোগ ধরার অপেক্ষায় থাকে।
ইনশাআল্লাহ তোমরা যারা ঢাবি মিস করেছো তারা পরবর্তী ভার্সিটিগুলোতে টপার হবো।
©
04/06/2022
আজকে অনুষ্ঠিত ঢাবির ২০২১-২২ সেশনের খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন!
03/06/2022
আজকে অনুষ্ঠিত ঢাবির ২০২১-২২ সেশনের গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন!
23/05/2022
#ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসী বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবিদ বিন আজাদ আত্মহত্যা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের পার্শ্ববর্তী 'ব্রাদার্স হাউজ' মেসের নিজরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি রাজশাহীর পুটিয়া উপজেলায় বলে জানা গেছে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the school
Telephone
Address
Mymensingh
2210