KahafTv
পড়, শেখ -জানো সেই আল্লাহর নামে...
যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন,
তিনিই শিখিয়েছেন
যা সে জানতো না...
হযরত উজায়ের (আ:)
হজরত উজাইর (আ:) তিনি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত, জনশূন্য এলাকার পাশ দিয়ে সফর করার সময় ভাবলেন, আল্লাহ কীভাবে এই মৃত জনপদকে জীবিত করবেন।
_ قَالَ أَنَّىٰ يُحْيِي هَـٰذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ۖ _
ওজায়ের (আ:) বলল, আল্লাহ কি ভাবে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করবেন? ( তারপর তিনি সফরে ক্লান্ত হয়ে গেলে তার গাধাটিকে একটি গাছের সাথে বেধে, তার খাবারের বাটি পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন।
_فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ ۖ
তারপর আল্লাহ তাকেই ঘুমন্ত- মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন।
_قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ۖ
বললেন, কত কাল তুমি এভাবে ছিলে?
_ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۖ
তিনি বললেন আমি একদিন বা তার কিছু কম সময় এভাবে ছিলাম ।
_قَالَ بَل لَّبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانظُرْ إِلَىٰ_ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْ ۖ
আল্লাহ বললেন, না বরং তুমি এভাবে ছিলে ১০০ বছর। দেখ তোমার গাধটিকে, তা মরে পচে শেষ হয়ে গেল শুধু হাড্ডি পড়ে রইলো! হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ আমি এগুলোকে কেমন করে জোড়া দেই তার উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেই।
এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানির দিকে-সেগুলো ছিল অবিকৃত টাটকা!!! যেমন নিয়ে আসছিল তেমনি আছে ওজায়ের (আ:) এটা দেখলেন তখন বললেন_
_قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আমি জানি, (আমার একিন হলো) নিশ্চই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
(বাকারা ২৫৯)
হযরত শামবিল বা শামুয়েল (আ:)
তালুত (আ:)
বনী ইসরাঈলের একটি কওম। তাদের নবী হজরত শামবীল বা শামুয়েল (আ.) এর কাছে বললো_ আমাদের জন্য একজন বাদশাহ/আমীর নির্ধারিত করে দিন। যাতে, আমরা জালেম বাদশা_ জালুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি।
اصْطَفَاهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَهُ بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ
নবীজী বললেন, আল্লাহ তালূতকে তোমাদের জন্য বাদশা হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। তারা বললো, তালুত কি ভাবে হয়? তালুতের শাসন চলবে আমাদের উপর। সে সম্পদের দিক দিয়েও সচ্ছল নয়। অথচ তার চেয়ে আমাদেরই অধিকার বেশী। বেশীর ভাগ লোক তাকে অমান্য করলো।
নবীজী বললেন, আল্লাহ তাকে পছন্দ করেছেন। এবং তাকে অনেক জ্ঞান দান করেছেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকেই রাজত্ব দান করেন। আল্লাহ সীমাহীন নেয়ামত দানকারী।
(বাকারা ২৪৬-২৪৭)
_ ۖ وَاللَّهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ_
নবীজী বললেন, ফেরেশতারা তালূতের কাছে একটা সিন্দুক নিয়ে আসবে "তাবুতে সকীনা"
_تَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ _
তাতে থাকবে মূসা ও হারুন (আ:) ও তাদের সন্তানদের (বরকতি জুব্বা, চাদর, লাঠি) ইত্যাদি কিছু জিনিসপত্র। এটা আল্লাহর একটা কুদরত।
তালূত (আ:) যখন তাদের নিয়ে বের হলো তখন বলল,
_قَالَ إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍ_
আল্লাহ তোমাদেরকে একটি নহর- নদীর মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন। তোমরা কেউ ঐ নদীর পানি পান করবে না। যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে সে আমার দলের নয়। আর যে, লোক পানি পান করবে না সে আমার দলের লোক। তারপর যখন সবাই (জর্ডান এক উপত্যকায়) ঐ নদী পার হচ্ছিল। তখন ক্ষুধা তৃষ্ণার কারনে, প্রায় সবাই ঐ নদীর পানি পান করল!
তারা মনে করলো, এখন যদি তৃষ্ণা দূর না করি তাহলে আমাদের শরীরে শক্তি থাকবে না, আর জালুতের বাহিনীর সাথে যুদ্ধও করতে পারবো না। ফলে প্রায় সবাই পানি পান করলো!!
সামান্য কয়েকজন ছাড়া।
_ ۚ فَشَرِبُوا مِنْهُ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ ۚ
মূলতো তালূত (আ:) তার সাথে সামান্য কয়েকজন ঈমানদারই ছিলো।
আল্লামা সুদ্দী (রহ:) বলেন_ তালুত (আ:) এর বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ হাজার। তাদের মধ্যে পানি পান করেছিল প্রায় ৭৬ হাজার লোকে, আর মাএ ৪ হাজার লোক পানি পান করে নাই!
ইমাম বুখারী (রহ:) বলেন_ তালুত (আ:) এর বাহিনীর মধ্যে যারা পানি পান করে নাই, তাদের সংখ্যা বদরী সাহাবীদের ন্যায়, অর্থাৎ ৩১৩ জন!!
তারা যখন যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হলো। তখন, যারা পানি পান করছিল, তারা বলতে লাগল_ আজ আমাদের জালূত আর তার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি নাই। আমরা দূর্বল আর ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। তাদের মনোবল ভেঙে গেলো।
_قَالُوا لَا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ ۚ
আর যারা পানি পান করে নাই। তাদের শারীরিক শক্তি- ইমানী শক্তি, আরো বেড়ে গেলো। তারা যুদ্ধের জন্য তৈরি হলো। যুদ্ধের শুরুতে তালুত (আ:) দোয়া করলেন_
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
হে রব, আমাদের ধৈর্য্য দাও, দৃঢ়পদ রাখ, আর আমাদের, অবিশ্বাসী জালেমদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর।
তাদের সাথে দাউদ (আ:) ছিলেন। তিনি ছোট বালক ছিলেন। তিনি একটা পাথরের টুকরা নিক্ষেপ করেন, আর সেই পাথরের টুকরাটি বিশাল দেহের শক্তিশালী জালুতের মাথায় আঘাত করে, সাথে সাথে সে মারা যার!!
আর তা দেখে তার সব সৈন্যরা ভয়ে পালিয়ে যায়!!!
এই ছোট দলই, বিরাট দলের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে আল্লাহর হুকুমে।
_وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِين_
আল্লাহ ধৈর্য্যশীল সাথে রয়েছেন।
_وَقَتَلَ دَاوُودُ جَالُوتَ_
দাউদ (আ:) জালূতকে কতল করলেন।
وَآتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُ مِمَّا يَشَاءُ ۗ
আল্লাহ দাউদ (আ:) কে দান করলেন_ রাজত্ব আর হিকমার, গভীর জ্ঞান। আল্লাহ তাকে অনেক কিছু শিখালেন।
_ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّفَسَدَتِ الْأَرْضُ _
আল্লাহ যদি একজনকে, অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে সমস্ত পৃথিবী ধংস হয়ে যেতো।
_وَلَـٰكِنَّ اللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْعَالَمِينَ _
আল্লাহ বিশ্ববাসীর প্রতি একান্তই দয়ালু।
(বাকারা ২৫১)
হযরত আদম (আ:)
হযরত আদম (আ:)
আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, ফেরেশতাগণ বলল, তুমি এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যারা দুনিয়াতে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, রক্তপাত সৃষ্টি করবে? অথচ আমরা তোমার ইবাদত করছি, আল্লাহ বললেন, আমি যা জানি, তোমরা তা জান না।
_ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ
(বাকারা ৩০)
আর আল্লাহ তা’আলা আদম (আ:) কে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম শিখালেন। তারপর তিনি সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। আর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও,
_ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ_
যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।
তারা বলল, আমরা কোন কিছুই জানি না, তুমি আমাদিগকে যা শিখিয়েছ সেগুলো ব্যতীত।
_ ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ _
নিশ্চয় তুমিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা।
আল্লাহ বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। আর আদম (আ:) সব বলে দিলেন। আল্লাহ আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল ভাবেই জানেন এবং সেসব বিষয়ও জানেন যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!
আল্লাহ যখন আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য বললেন তখন সবাই ছেজদাহ করলো,
,فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيس
ইবলীস সিজদা করলো না, সে অস্বীকার করল, অহংকার করল। আর সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
আল্লাহ আদম (আ:) কে হুকুম করলেন _ তোমারা জান্নাতে বসবাস করতে থাক যা চাও, পরিতৃপ্তিসহ খাও। কিন্তু এ গাছের নিকটবর্তী হয়ো না। অন্যথায় তোমরা যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বে।
শয়তান তাদেরকে ধোকা দিলো। তারা যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে আল্লাহ তাদেরকে বের করে দিলেন বললেন, ‘তোমরা নেমে যাও’ তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে। আল্লাহ তাদের বেহেশত থেকে দুনিয়াতে পাঠালেন পরিক্ষা স্বরূপ।
আদম (আঃ) আল্লাহর কাছে মাফ চাইলেন, আল্লাহ তাকে মাফ করে দিলেন, নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।
_ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
আল্লাহ বললেন_ তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার হেদায়েত অনুসারে চলবে,
_فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ _
তার উপর না কোন ভয় আসবে, না কোন কারণে তারা চিন্তাগ্রস্থ হবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Swarupkati