Areca
Love the life you live, Live the life you Love.
_____Bob Marley
25/04/2026
মোবাইলে রিং নাই তবুও ২৪-২৫ বছরের ছেলেটি পকেট থেকে মোবাইল বের করে কানে ধরলো। একটু পরেই সদ্যভূমিষ্ট শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। বেশ কিছুক্ষণ শব্দ হল। এর পর ছেলেটি মোবাইল পকেটে রেখে দিল। মিনিট পাঁচেক পরে ছেলেটি আবার এমন করলো। এবার আমি হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলাম: কী, ফোন আসতেছে? কথা বলতে হলে রিক্সা সাইডে থামিয়ে কথা বলেন।
ঘামে সিক্ত কালো বর্ণের ছেলেটি মুখটি আমার দিকে ঘুড়িয়ে মিলিয়ন ডলারের এক হাসি দিয়ে বললো: কল আসে নাই ভাই, দুইদিন আগে দেশে আমার এক মেয়ে হইছে। মায়ে ফোন দিছিলো। মেয়েটা কি সুন্দর কান্দে। সেই কান্দা রেকর্ড করে রাখছি। কিছুক্ষণ পর পর সেই রেকর্ড বাজিয়ে শুনি। কি যে ভালো লাগে।
আহ, জীবন!
Waahid Ibn Wali
18/11/2025
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে অনুমান করে আসছিলেন যে, পাখি বা অন্যান্য প্রাণী জলাশয় থেকে জলাশয়ে মাছের ডিম বহন করতে পারে। তবে, এটি কীভাবে ঘটে, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রমাণ ছিল সীমিত। ২০১৯ সালে 'প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস (PNAS)' জার্নালে প্রকাশিত একটি যুগান্তকারী গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তারা দেখেন, কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছের ডিম মল্লার্ড হাঁসের হজম প্রক্রিয়াতেও অক্ষত থাকতে সক্ষম।
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, যখন মল্লার্ড হাঁস কিছু প্রজাতির মাছের ডিম (যেমন - কার্প বা ক্রুসিয়ান কার্পের ডিম) খেয়ে ফেলে, তখন সেই ডিমগুলির একটি অংশ তাদের হজমতন্ত্রের কঠোর পরিবেশ (অ্যাসিড এবং হজমকারী এনজাইম) এবং যান্ত্রিক চাপ সহ্য করে টিকে থাকতে পারে। ডিমগুলোর এই প্রতিরোধী ক্ষমতা এমন যে, হজম প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেও সেগুলো অক্ষত অবস্থায় মলের সাথে শরীর থেকে বের হয়ে আসে।
যখন হাঁস এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে উড়ে যায় এবং সেখানে মলত্যাগ করে, তখন যদি সেই মল জলের কাছাকাছি বা সরাসরি জলে পতিত হয়, তবে অক্ষত মাছের ডিমগুলো উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে ফুটে ওঠে এবং সেখান থেকে নতুন মাছের জন্ম হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিচ্ছিন্ন পুকুর বা হ্রদে নতুন মাছের প্রজাতি বসতি স্থাপন করতে পারে, যা আগে ব্যাখ্যা করা কঠিন ছিল।
এই আবিষ্কার শুধু বিচ্ছিন্ন জলাশয়ে মাছের আবির্ভাবের রহস্যই উন্মোচন করেনি, বরং এটি বাস্তুতন্ত্রে (ecosystem) প্রজাতির বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকেও তুলে ধরেছে। এটি দেখায় যে, পাখি কীভাবে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ জীবের বিস্তারে অপ্রত্যাশিতভাবে বড় ভূমিকা পালন করে। এই গবেষণা প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের জটিল আন্তঃসম্পর্ক এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এর গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও প্রসারিত করেছে।
কতটা হৃদয় বিদারক ঘটনা। 😢
“ঘরে ঘরে এমন অজস্র আবু জাহেল আছে”
ছেলে ইমুতে মেসেজ পাঠিয়েছে-
“বাবা আপনার নামে ২০ হাজার টাকা ছেড়েছি, এ টাকা দিয়ে আপনি ডাক্তার দেখাবেন, ফল কিনে খাবেন। গোপন নাম্বারে পাঠিয়েছি, আপনি আইডি কার্ড নিয়ে জনতা ব্যাংকে গেলেই টাকা পেয়ে যাবেন”।
(গোপনীয়তার স্বার্থে পিন নাম্বারটি দিলাম না)।
ছেলের কথা মতো বাবা আজ জনতা ব্যাংক গৌরীপুর শাখায় এসেছেন টাকা তোলার জন্য। বেশ অসুস্থ শরীর তাঁর। কোনমতে লাঠিতে ভর করে চলাফেরা করেন। বললাম- এই শরীর নিয়ে একা একা আসা ঠিক হয়নি আপনার।
তিনি জানালেন- সাথে আসার মতো কাউকে পাননি বলে কষ্ট করে একাই এসেছেন। টাকা তুলে ডাক্তার দেখিয়ে তারপর বাড়ি ফিরবেন।
মুরুব্বিকে আমার রুমে বসিয়ে সহকর্মীকে বললাম ওনার টাকাটা পে-আউট করে দেয়ার জন্য। কিছুক্ষণ পর আমার সহকর্মী জানালো, এই টাকার বেনিফিসিয়ারী তিনি নন, অন্য আরেকজন। পরবর্তীতে গোপন পিন নাম্বারটি আমি নিজে কয়েক বার মিলিয়ে দেখলাম, সহকর্মীর কথাই সত্যি। পরে ভদ্রলোকের কাছে জানতে চাইলাম উল্লেখিত ব্যাক্তিকে আপনি চিনেন কিনা। নাম শোনতেই তাঁর দু’চোখে জলের তান্ডব দেখলাম!
অভাগা বাবা কাঁদতে কাঁদতে লাঠিতে ভর দিয়ে চলে গেলেন।
তখন নায়ক রাজ্জাকের “বাবা কেনো চাকর” সিনেমাটির কথা মনে পড়ে গেল। হৃদয়ে বাজতে লাগলো- আমার মতো এমন সুখী নেইতো কারো জীবন…..
বুঝতে পারলাম, ছেলে তার শ্বশুরকে পাঠানো মেসেজটি ভুলক্রমে বাবার মোবাইলে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ঘন্টা দেড়েক পর একজন তড়তাজা ভদ্রলোক এসে সে টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেলেন। তারঁ সাথেও কথা হল। জানতে চাইলাম কে টাকা পাঠিয়েছেন।
মাঝ বয়োসী ভদ্রলোক জানালো - “আমার জামাই, নবীর দেশে থাকে। খুব ভালো ছেলে, কয়েক মাস পর পর শরীর চেকআপের জন্য টাকা পাঠায়। পাগল একটা জামাই!, দোয়া করবেন স্যার।
আমি কিছুক্ষণের জন্য স্তব্দ হয়ে গেলাম। ভাবলাম বাবা ছেলেকে বড় করে নবীর দেশে পাঠিয়েছিলেন ঠিকই, এখন সে আবু জাহেলের দেশে বাস করে……
মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন
ব্যবস্থাপক,জনতা ব্যাংক পিএলসি.গৌরীপুর শাখা।
(কপি পোস্ট)