Payitaht
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Payitaht, Chef, Chittagong, .
আওরেঙ্গজেবের উপর আরোপিত অভিযোগ ও বাস্তবতা;কিছু বিশ্লেষণ
সুলতান আওরেঙ্গজেব ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক যোগ্য বাদশাহদের একজন। তিনি তার রাজ্যকে সাজিয়েছিলেন শরিয়াহর আইনের আদলে। তাঁর সময়েই ‘ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া’(ফাতাওয়ায়ে আলমিরী নামে প্রসিদ্ধ)রচিত হয়, যার সমস্ত ব্যয়ভার তিনি নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। হযরত শাহ আবদুর রহিম মুহাদ্দিস দেহলভী ছিলেন উক্ত কিতাব রচনার দায়িত্বশীলদের একজন।ব্যক্তিজীবনে আওরেঙ্গজেব ছিলেন খুবই সাদামাটা জীবনের অধিকারী। ক্ষমাশীলতা ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস। নিজের জীবন কুরআন শরিফের মুসহাফ লিখে অতঃপর তা বিক্রি করে কাটিয়ে দিয়েছেন। তবে মহান এ বাদশাহ শকুনদের খপ্পর থেকে রেহাই পাননি। তার উপর আরোপিত করা হয়েছে বেশ কয়েকটি অভিযোগ।
মূলত তিন ধরনের লেখক তার ইতিহাস বিকৃত করেছেনঃ
১. ওরিয়েন্টালিস্ট বা প্রাচ্যবিদেরা
২. ক°ট্ট_র হি|ন্দু°ত্ব|বা_দীরা
৩. শিয়া ঐতিহাসিকরা [¹]
এই তিন দলের মধ্যে দ্বিতীয় দলটি ইতিহাসকে চরম পর্যায়ে বিকৃত করেছে। প্রথম দল যেহেতু এ ভূখণ্ডে ঔপনিবেশ গড়েছিল, তাই তারা এখানে নিজ স্বার্থে অনেক ইতিহাসই বিকৃত করেছে। দ্বিতীয় দলের মধ্যে এটার মাত্রা সবচেয়ে বেশি। কারণ ভারত নামক দেশটিকে নিজের পকেটে রাখতে মুসলমানদের ইতিহাসকে চূড়ান্তভাবে বিকৃত করা হয়েছে এবং হি|ন°দুত ত বাদী জাতীয়তাবাদকে উষ্কে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বি-জে|পি সরকার সর্বাধিক এগিয়ে আছে। তৃতীয় দলের সাথে মোগলদের কিছু বিরোধ থাকায় তারাও মোগলদের বিরুদ্ধাচারণ করেছে। শিয়াদের মধ্যে এটি নতুন কিছু নয়; বরং তারা সকল যুগেই এরূপ প্রকৃত ইতিহাস বদলিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শিয়া সাহিত্যিক আবুল ফারাজ ইসবাহানী তার ‘আল-আগানী’ গ্রন্থে উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের বিভিন্ন ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করেছেন।
যাই হোক, মূল কথায় আসি। সুলতানের উপর আরোপিত মূল অভিযোগগুলো হলো—
১. তিনি গোড়া মুসলমান
২. হিন্দু বিদ্বেষী
৩. ভাইদের হত্যাকারী
৪. বৃদ্ধ পিতাকে বন্দীকারী
৫. জিজিয়া আরোপকারী
৬. অসংখ্য মন্দির ধ্বংসকারী [²]
১. গোড়া মুসলমান!
প্রথম অভিযোগটির জবাব দিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। কেননা ‘গোড়া মুসলিম’ বলতে কোনো শব্দ নেই। যারা এ শব্দ ব্যবহার করে, তারা এ শব্দ দ্বারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বোঝাতে চায়। তারা কখনো বলে ‘গোড়া মুসলিম’, কখনো ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’, কখনো ‘ধর্মান্ধ’। যেমন আওরেঙ্গজেবের সমালোচনা করতে গিয়ে ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা ও নারীবাদী এক্টিভিস্ট সানজিদা খাতুন বলেছেন—
“উপমহাদেশে মৌলবাদের সূচনা হয় মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের আমলে।” [³]
‘মৌলবাদী’ শব্দটিও ‘গোড়া মুসলিম’ শব্দের মতো একটি প্রোপাগাণ্ডামূলক পরিভাষা।
২. তিনি হিন্দু বিদ্বেষী?
এই অভিযোগেরও কোনো ভিত্তি নেই।
প্রথমতঃ,আওরেঙ্গজেবের রাজদরবারে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিন্দু ছিলেন। এমনকি তার অধীনে থাকা উচ্চপদস্থ সেনা কমান্ডারদের মধ্যেও কয়েকজন হিন্দু ছিলেন। যদি তিনি হিন্দুবিরোধী হতেন, তবে তাদের কেন নিজ দরবারে নিয়োগ দিলেন?
দ্বিতীয়তঃ, আওরেঙ্গজেব যদি হিন্দু বিদ্বেষী হতেন, তাহলে জোর করে ধর্মান্তর করতেন। অথচ আওরেঙ্গজেবের শাসনামলে হিন্দুদের সংখ্যা কমে যায়নি; বরং যেমন আগে ছিল, শাসনামলের শেষে তেমনই ছিল। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়—আওরেঙ্গজেব যদি হিন্দু বিদ্বেষী হতেন, তবে তার সময়ে কেন হিন্দুদের সংখ্যা কমে গেল না?
৩. তিনি ভাইদের হত্যাকারী
এটিও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা একটি ন্যারেটিভ। মূলত, আওরেঙ্গজেবের তিনজন ভাই ছিলেনঃ
১. দারা শিকোহ
২. শাহ শুজা
৩. মুরাদ বখস
(ক) দারা শিকোহ
দারা শিকোহকে হত্যা করা হয়েছে, কারণ সে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। হিন্দু, মুসলিম ও ভ্রান্ত সুফিদের কথাগুলোকে একত্রিত করে সে (প্রায়) নতুন এক ধর্মে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং তা রাস্ট্রিয় ফিতনাহর কারণ হয়ে উঠে। এতে রাজ্যে বড় ধরণের ফিতনার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে তার উপর ‘কিতালের’ ফাতওয়া আরোপ হয়।
(খ) শাহ শুজা
শাহ শুজাকে আওরেঙ্গজেব হত্যা করেননি; বরং আরাকান রাজা তাকে হত্যা করেছে। যখন শাহ শুজা আরাকানে অবস্থান করছিলেন, তখন আওরেঙ্গজেব আরাকান রাজার কাছে চিঠি লিখেছিলেন যে তিনি যেন শাহ শুজা ও তার পরিবারকে ফিরিয়ে দেন [⁴]। কিন্তু আরাকান রাজা তা করেনি।
কেউ যদি বলে—শাহ শুজাকে হত্যার আদেশ আওরেঙ্গজেব দিয়েছিলেন, তাহলে তার উচিত ঐতিহাসিক প্রমাণ হাজির করা। অথচ এ বিষয়টি কোনো প্রামাণ্য ঐতিহাসিক গ্রন্থে নেই। বরং কিছু ইসলাম|ফো°বিক লেখক হিংসাবশত উল্লেখ করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ফরাসি পদার্থবিদ বার্নিয়ার শাহজাহানের পরবর্তী সিংহাসন-সংগ্রামের সময় ভারত উপমহাদেশে ছিলেন। তিনি তার লিখনীতে শুজার মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেখানে আওরেঙ্গজেবের কোনো কথা নেই। যদি আওরেঙ্গজেব জড়িত থাকতেন, তবে অবশ্যই সুলতানের নাম আসতো।
কোনো কোনো সূত্র মতে, আরাকান রাজা শাহ শুজার সাথে থাকা সম্পদের লোভে পড়ে তাকে হত্যা করে লুণ্ঠন করেন। আরেক মতে, শুজার এক শাহজাদীকে বিবাহ করাকে কেন্দ্র করে আরাকান রাজা তাকে হত্যা করেন [⁵]।
(গ) মুরাদ
মুরাদের হত্যার কারণ হলো কিসাস। কারণ মুরাদ একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন। অতঃপর যখন আদালতে এ বিচার হাজির হয়, তখন কাজীর (বিচারকের) ফাতওয়া অনুসারে তাকে কাতল করা হয়। এতে আওরেঙ্গজেবের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না [⁶]।
দারা শিকোহ ও মুরাদের হত্যার রহস্য হলো কিসাস। ওরিয়েন্টালিস্ট ও কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা এ বিষয়টিতে জাহালতের শিকার হয়েছেন এবং আওরেঙ্গজেবকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
সূত্র
[¹] আওরেঙ্গজেব আলমগীর (ভূমিকা)
[²] বাজেয়াপ্ত ইতিহাস, পৃ. ৭৩
[³] এশিয়াটিক সোসাইটি পত্রিকা: ২০০৬
[⁴] Moshe Yegar and Soldiers of Shah Shuja Kamans by Aman Ullah (The Rohingya Post)
[⁵] What Became the End of Shah Shuja? by Riffat Ahmed (The Asian Age)
[⁶] 1661: Murad Bakhsh, Son of the Taj Mahal Builder by Headsman
✍️ ফারহান বাগদাদী
১৯/৮/২০২৫
#আওরেঙ্গজেবআলমগীর #ইতিহাসবিকৃতি #মোগল