Rat & Rik
366 days continuous travel across India. Dekho Bharatvarsh with Rat and Rik.
366 days ~ 366 shorts
12/11/2024
৩৬৬ দিনের ভারত ভ্রমণ গপ্পোকথা পর্ব ১১
ছোটবেলার বই এর পাতা থেকে চোখের সামনে নিজের দেশ কে দেখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা প্রতিদিন আমাদের সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিয়ে যাচ্ছে। গুয়াহাটি আগেও এসেছি কিন্তু একদিন ও মনে হচ্ছে না কেন এলাম। সব জায়গায় দিন দিন চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। আর জানার শেষ এক জন্মে হবে না।
চলুন বেরিয়ে পড়ি আবার শহর ঘুরতে। আগের এক পর্বে আপনাদের ropeway চরিয়েছিলাম তখন ই পাখির চোখে দেখেছিলাম ছোট্ট একটা দ্বীপ নদীর উপর। নাম উমানন্দ দ্বীপ অথবা peacock island. আমাদের দেশের সব থেকে ছোট নদী দ্বীপ। নৌকো করে যাবার পরিকল্পনা নিয়েই বেড়িয়েছি। বাস এ করে পৌঁছে গেলাম ফেরি ঘাট, ওখান থেকেই নৌকো করে যাবো। কিন্তু পৌঁছে জানলাম নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়েছে তাই আমাদের সীমা সীমিত হয়ে গেছে। মোটামুটি প্রতি বছর ই সব পরিষেবা বন্ধ থাকে বর্ষাকালে। ভ্রমনের এসব ছোট ছোট তথ্য গুগল দাদু তো আর দিতে পারছে না, তাই অগত্যা মুখ ভার করে ফেরার রাস্তা ধরলাম। কিন্তু ভ্রমণ এমন একটা জিনিস মুখ ভার করে রাখতেই দেয়না। চলে গেলাম ফ্যান্সি বাজারে। মন ভালো করা জিনিস পাওয়া যায়। ঘুরে বাড়ির পথ ধরার পরিকল্পনা থাকলে এখানে যাওয়া টা খুবই জরুরি তবে আমাদের মতো যাযাবর হলে চোখ ভরাতে পারলেও মন ভরানোর রাস্তা বন্ধ। বেশ কিছুদিন এই শহর টাতে থাকলেও ডাক পড়েছে পরবর্তী গন্তব্যের। আমার দেশের কোনো কর্নার নিরাশ করার মতো নয়। নতুন জায়গায় যাওয়ার আনন্দ র পুরোনো জায়গা কে ছাড়ার দুঃখ নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্ব করে চলছে।
এইবারের মতো গুয়াহাটি তে শেষ দিন হলেও এবারের গুয়াহাটি তে দেখা হওয়া কিছু মানুষ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থেকে যাবে। এগুলোই ভ্রমনের আসল জীবন।
Travellers হওয়া এত ইসি তো কোনোদিন ই নয়। এই ব্যাগ এর বোঝা, তার উপর ৩-৪ দিনের বেশি কোনো জায়গা তেই না থাকা, হেলথ ইস্যু, এই ১০-১২ দিনেই তা ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছে।
পরবর্তী গন্তব্য হলো এমন একটি রাজ্য যার নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার পরিচয়। মেঘালয় স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন এর বাস এ ২ টো সিট বুক করলাম রেডবাস এপ থেকে জনপ্রতি ভাড়া ২০০ টাকা । পরবর্তী গন্তব্য মেঘালয়। বাস আছে সকাল ৭ টায়। সকালে হোস্টেল এর বন্ধুদের টাটা জানিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম paltan bazar এর উদ্দেশ্যে। বাস ছাড়বে ASTC Paltan bazar স্টপ থেকেই। সকাল ৭ টায় ছাড়িবে, পৌঁছবে ১০ টায়। মাত্র ৩ ঘন্টার ই জার্নি। তবে এই বর্ষাকালে মেঘলায়া নিজের চোখে দেখা টাও একটা ভাগ্যের বেপার। তবে সব থেকে কম খরচে এই সুন্দর রাজ্য তা কিভাবে ঘোরা যাবে প্রত্যেক টা ইনফরমেশন থাকবে আগামী প্রত্যেক টা পর্বে। ২ দিন আগেই আমরা এই সিট বুক করেছি কারণ কোনো বড়ো বাস এই রুট এ চলে না, যা চলে তা মেইনলি ট্রাভেলার গাড়ি। উঠে পড়লাম গাড়িতে। দেখা হবে পরবর্তী পর্বে নতুন রাজ্যের সাথে।
10/08/2024
৩৬৬ দিনের ভারত ভ্রমণ গপ্পোকথা ৮
জীবন এর অনেক অনেক বড়ো শিক্ষা আমরা ট্রাভেল থেকে পাই। আগের দিনের এপিসোড এ আমরা সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। আমরাও শিখতেই বেড়িয়েছি। আমাদের মধ্যেও প্রেসেন্স র প্রবলেম তো ছিল কিন্তু এই ধরণের ঘটনা প্রত্যেক বার আমাদের ক অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। বেঁচে থাকার লড়াই তেতো এগুলো ও সামিল হয়।
বদরপুর জায়গা টা সম্পর্কে খুবই বেশি আইডিয়া তো ছিল না, যে কোনো নতুন জায়গায় গেলেই আমাদের প্রাইমারি টার্গেট হয় তাড়াতাড়ি কাজ সেরে বেরিয়ে পরবো। যেমন চিন্তা তেমন কাজ তাড়াতাড়ি কাজ সেরে বেরিয়ে গেলাম, স্টেশন এর সামনের দোকানের কাকু টাকেই জিজ্ঞাসা করলাম মেইন মার্কেট এরিয়া টা কোথায়? রাস্তা দেখিয়ে দিলেন, টোটো ও আছে তবে অল্প রাস্তা আমরা হাঁটা পথে যেতেই পছন্দ করি। হাঁটতে শুরু করলাম তখনও দিনের আলো কিছুটা আছে। বেশ কিছুটা হেঁটে পৌঁছলাম জায়গা টাতে, ছোট্ট একটা জায়গা, দৈনন্দিন জীবনে লাগবে এরকম বেশ কিছু দোকান র সাথে বেশ কয়েকটা ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট আছে।
বাঙ্গালীর জীবনে চা এর গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন করাটা সময় নষ্ট বলেই আমার মনে হয়। মাটির ভাড়ে চা এ চুমুক দিতে দিতে কাকার থেকে জেনে নিলাম ট্রেন ছাড়া র কি ভাবে এই জায়গা বাকি জায়গার সাথে কানেক্টেড। সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে গেলাম উত্তর, আসাম এর বহু জায়গা এবং নর্থ ইস্ট এর আরো রাজ্যের সাথে এই জায়গা বিভিন্ন বেসরকারি বাস দারা যুক্ত। চা শেষ করে সামনে এগোতেই তা ভালো ভাবেই বুঝতে পারলাম, প্রচুর বাস বুকিং কাউন্টার র প্রচুর মানুষের সমাবেশ।
আমরা কাল যাবো আসাম এর সব থেকে বড়ো শহর গুয়াহাটি তে, তাই গুয়াহাটি র বাস সম্পর্কে ও জেনে নিলাম। বাস তো আছে কিন্তু বেশিরভাগ বাস রাত্রের দিকে, দূরত্ত অনুযায়ী ওই ধরুন সময় লাগবে ১২ ঘন্টা। নম্বর টা নিয়ে নিলাম, কারণ আমাদের এখনো ঠিক করা হয়নি আমরা যাবো কিভাবে? এসব মিটিয়ে সোজা পৌঁছে গেলাম একটা রেস্টুরেন্ট এ, দুজনেই আমরা খাদ্য প্রেমী মানুষ। নানান রকমের খাবার আমাদের মন কে আনন্দ দেয়। সকাল থেকে হেক্টিক দিন গেছে তাই আজকের মেনু একটু আধুনিক হতেই হবে। রুটি, চিল্লি চিকেন। মন ভালো না থাকলে ডিসিশন নেওয়া আবার দুস্কর হয়ে পরে।
খাবার প্যাক করে নিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম স্টেশন এর দিকে, বেশ অন্ধকার রাস্তা, লোকজন ও খুবই কম। স্টেশন এর পরিমাপ ও ছোট হবার কারণে লোকজন খুবই কম রাত্রে র দিকে। রুম এ ফিরে প্রথম কাজ হলো কালকের প্ল্যান টা ঠিক করে ফেলা। ঝটপট IRCTC বুকিং এপ খুলে ফেললাম। বাস এর থেকে ট্রেন জার্নিতে আমাদের অলওয়েজ ভোট আগে, দেখলাম শিলচর গুয়াহাটি এক্সপ্রেস এ পরের দিন সকালে AC 3 TIER e ticket ফাঁকা আছে। এ তো সোনায় সোহাগা, যদিও আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী দিনের বেলার জার্নি SL e আর রাত্রের জার্নি AC তে করার কথা কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু করার নেই। সঙ্গে সঙ্গে টিকিট কাটলাম ওই ৬২০ টাকা জন প্রতি পড়লো। সিট এবারে SL & SU.
দারুন সুখবর। টিকিট কেটেই ল্যাপটপ র পাশের উইন্ডো তেই খুললাম রিটায়ারিং রুম বুকিং র ওয়েবসাইট টা, আগের দিন ই আপনাদের বললাম এবার থেকে সব স্টেশন এর প্রায়োরিটি হবে রিটায়ারিং রুম। PNR নাম্বার টা টুক করে কপি করে ঝট করে পেস্ট করে দিলাম দেন সার্চ, ব্যাস আবার একটা ম্যাজিক হয়ে গেল। পেয়ে গেলাম গুয়াহাটি স্টেশন এর AC ROOM ১২ ঘন্টার জন্য, ভাড়া পড়লো ৬৫০ মতো। এই আনন্দে রুটি চিল্লি চিকেন খেয়ে রাত্রি যাপনে গেলাম।অ্যালার্ম বাজবে সকাল ৭ টায়।
মোটামুটি ২৫ বছরে এত জোশ নিয়ে এত সকালে কোনোদিন ই উঠিনি, যতটা জোশ নিয়েই লাস্ট ৮ দিন উঠছি, এটাই হয়তো নিজের পছন্দের জিনিস করার সাথে বাকি জিনিসের পার্থক্য। সকাল ৭ টায় উঠে ফ্রেশ হয়ে আমাদের সাথী দের কাঁধে তুলে বেরিয়ে পড়লাম আর এক ঠিকানার উদ্যেশে, এই ৭ দিনেই যেনো কতটা মানিয়ে নিয়েছি। ট্রেন এলো যথারীতি উঠে পড়লাম। কিছুক্ষন পর TTE এসে ব্যাগের উপর লাগানো বোর্ড টা পরে প্রশ্ন করলো ৩৬৬ দিনের ভারত ভ্রমণ? এত উৎসাহ দেখে আমরাও বেশ আনন্দ পেলাম, মৃদু হেসে উত্তর দিলাম হ্যাঁ। বাকি co passenger রাও আমাদের দিকে তাকালো। হটাৎ প্রশ্ন ভেসে এলো কতদিন হলো, আনন্দের সহিত আবারো সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলাম এইতো ৭ দিন। বাকিদের উত্তেজনা কেদারনাথ এর চূড়া থেকে ১ সেকেন্ডে হরিদ্বার এ এসে পরে গেল, ঝটপট টিকিট চেক করে TTE ও চলে গেলো। বসে রইলাম দুজনেই একটু চুপ করে, তারপর দুজনেই আলোচনা করতে লাগলাম শেষ তো করতেই হবে এই জার্নি। মাঝে মাঝে আমরা কষ্ট পেলে একে ওপরের থেকে লুকানোর ই চেষ্টা করি যাতে পাশের মানুষ টা বুঝতে না পেরে।
আচ্ছা ট্রেন টায় চেপেছি সকাল ওই ৮ টা নাগাদ পৌঁছনোর কথা সন্ধে ৮ টা নাগাদ। ১২ ঘন্টার কাছাকাছি জার্নি। গুয়াহাটি পৌঁছতে পৌঁছতে কয়েকটা কথা বলি, লং ডিসটেন্স ট্রেনের যখন টিকিট কাটবেন কয়েক ধরণের কোটা হয়, General, senior citizen, ladies, tatkal, premium tatkal, person with disability. আগে সিনিয়র সিটিজেন কোটা তে fare এর কিছু কন্সেশন থাকলেও এখন তা আর নেই, তবে এক্সট্রা সিট আছে। তাই জেনারেল এ সিট না থাকলে বাকি কোটা গুলো ক্ষেত্র বিশেষে একবার করে চেক করে নেবেন। সিনিয়র সিটিজেন রা চেষ্টা করবেন জেনারেল এ খালি থাকলেও সিনিয়র সিটিজেন কোটা থেকে টিকিট তা বুক করতে তাহলে আপনি অবশ্যই লোয়ার সিট টা পাবেন। যায় হোক পৌঁছে গেলাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্য গুয়াহাটি। রিটায়ারিং রুম খুঁজে চেক ইন করলাম, ব্যবস্থা বেশ ভালো, মানে খুবই ভালো। আজকে আবার কালকের দিনের ব্যবস্থা করতে হবে, ততক্ষন ওয়েট করো তোমরা। আর আমরাও ব্যবস্থা করার চেষ্টায় লেগে পরি।
দেখা হচ্ছে কাল, ভালো থেকো।
Click here to claim your Sponsored Listing.