ABDUS SELIM
Teacher & Recitation Artist | Inspiring minds through words and voice.
#শৃঙ্খলা_বিশৃঙ্খলা
------------------------------------সলিল চৌধুরী
শৃঙ্খলা কথাটার মধ্যে একটা ঝনঝন শব্দ আছে।
একটা চার দেওয়ালে বদ্ধ গা বমি করা ভ্যাপসা গন্ধ।
একটা টাকমাথা সংস্কৃত পন্ডিতের চাবুক অাস্ফালন।
মন্ত্রীদের রেডিও ভাষণ,
পায়ে পা ফেলে সৈন্যদের মার্চ।
শৃঙ্খলা কথাটার মধ্যে একটা চালাকি অাছে।
কথাটা সমান জমিতে দাড়িঁয়ে বলা যায় না।
উচুঁ প্লাটফর্মে উঠতে হয়।
শ্রোতারা সবসময় নিচু শ্রেণীর
অার উপদেষ্টা হলেন বক্তা।
বিশৃঙ্খলা কথাটা কিন্তু শৃঙ্খলার ঠিক বিপরীত নয়।
শৃঙ্খল থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়,
ওর মধ্যেও শৃঙ্খলের একটা ঝনঝন অাছে
তবে সেটা বাজে বেতালায়।
ওর মধ্যে একটা ইচ্ছাকৃত অনিচ্ছা অাছে।
অাগাছার বেপরোয়া গন্ধ।
ওটা যদি স্বতঃস্ফূর্ত হতো,
তাহলে ওর মধ্যে অরণ্যের সম্ভাবনা ছিলো।
অামার মায়ের হাতে সাজানো সেই ছোট্ট বাঙলোটার মধ্যে কিন্তু
শৃঙ্খলা-বিশৃঙ্খলা এ দুটোর কোনোটাই ছিলো না।
যদিও একটা পাপোশ পর্যন্ত সরাতে গেলে মনে হতো
বাড়িটার ভারসাম্য বুঝি নষ্ট হলো।
বাড়িটার মজা কিন্তু এই ছিলো যে
পা টিপে টিপে চলার কথা কখনো মনে হতো না।
ও ঘরের সব জিনিসপত্র ব্যবহারের স্পর্শে অগোছালো হবার জন্য প্রতীক্ষা করে থাকতো।
অাশা করে থাকতো অাবার কখন তাতে মায়ের হাতের ছোয়াঁ পড়বে।
মা'র বকুনি তারা শুনবে, তারপর দুরন্ত দামাল ছেলের মতো যে যার বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে।
বাবা মারা যাওয়ার পর ঘরদোর ভীষণ গোছানো থাকতো।
বাবার ফেলা ছেড়া কাগজ, সিগারেটের টুকরো মেঝেয়ে অার পড়ে থাকতো না।
পড়ার টেবিলে ব্রেকফাস্টের খালি থালা, খাবার টেবিলে বই,
একটা জামা বের করার পর কাপড়ের তোলপাড় অালমারী
এসব কিছুই অার হতো না।
মা'র,যেন কোনো কাজই থাকতো না।
অামার মনে হতো, মা'র সঙ্গে সঙ্গে ও ঘরের সব জিনিসপত্র
ব্যবহারের স্পর্শে অগোছালো হয়ে মুক্তি পাওয়ার জন্য কাদঁতো।
অাবার অামি অনেক বড় বড় সাজানো বাড়ি দেখেছি।
সাজানো কিন্তু ঠিক গোছানো নয়।
ওটা ইংরেজির টিপটপ।
ওর মধ্যে মাইনে করা চাকর বাকরদের হাত অাছে।
কিন্তু গোছানোর মধ্যে যে ভালোবাসা অাছে,
শৃঙ্খলার মধ্যে সেটা নেই।
অগোছালোর মধ্যে যে প্রত্যাশা অাছে,
বিশৃঙ্খলার মধ্যে সেটা নেই।
শৃঙ্খলা কথাটা পুরুষ
গোছানো কথাটা স্ত্রী।
পৃথিবীর বাধা— এই দেহের ব্যাঘাতে
হৃদয়ে বেদনা জমে; স্বপনের হাতে
আমি তাই
আমারে তুলিয়া দিতে চাই।
কবিতা-স্বপ্নের হাতে
- জীবনানন্দ দাশ
05/06/2026
চাঁদ জেগে আছে আজো অপলক,- মেঘের পালকে ঢালিছে আলো!
সে যে জানে কত পাথারের কথা,- কত ভাঙা হাট মাঠের স্মৃতি!
কত যুগ কত যুগান্তরের সে ছিল জ্যোৎস্না, শুক্লাতিথি!
কবিতা, চাঁদনীতে
----- --------------------------------- জীবনানন্দ দাশ।
তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে— তখন হলুদ নদী
নরম-নরম হয় শর কাশ হোগলায়— মাঠের ভিতরে।
------------জীবনান্দ দাশ
05/06/2026
দিনরাত
--------------------------------জীবনানন্দ দাশ
সারাদিন মিছে কেটে গেল;
সারারাত বড্ডো খারাপ
নিরাশায় ব্যর্থতায় কাটবে; জীবন
দিনরাত দিনগতপাপ
ক্ষয় করবার মতো ব্যবহার শুধু।
ফণীমনসার কাঁটা তবুও তো স্নিগ্ধ শিশিরে
মেখে আছে; একটিও পাখি শূন্যে নেই;
সব জ্ঞানপাপী পাখি ফিরে গেছে নীড়ে।
05/06/2026
কত দিন সন্ধ্যার অন্ধকারে মিলিয়াছি আমরা দু’জনে;
আকাশপ্রদীপ জ্বেলে তখন কাহারা যেন কার্তিকের মাস
সাজায়েছে,—মাঠ থেকে গাজন গানের ম্লান ধোঁয়াটে উচ্ছ্বাস
ভেসে আসে;—ডানা তুলে সাপমাসী উড়ে যায় আপনার মনে
আকন্দ বনের দিকে;—একদল দাঁড়কাক ম্লান গুঞ্জরণে
নাটার মতন রাঙা মেঘ নিঙড়ায়ে নিয়ে সন্ধ্যার আকাশ
দু’মুহূর্ত ভ’রে রাখে—তারপর মৌরির গন্ধমাখা ঘাস
প’ড়ে থাকে; লক্ষ্মীপেঁচা ডাল থেকে ডালে শুধু, উড়ে চলে বনে
আধ-ফোটা জ্যোৎস্নায়; তখন ঘাসের পাশে কত দিন তুমি
হলুদ শাড়িটি বুকে অন্ধকারে ফিঙ্গার পাখনার মতো
বসেছ আমার কাছে এইখানে—আসিয়াছে শটিবন চুমি
গভীর আঁধার আরো—দেখিয়াছি বাদুড়ের মৃদু অবিরত
আসা-যাওয়া আমরা দু’জনে ব’সে—বলিয়াছি ছেঁড়াফাঁড়া কত
মাঠ ও চাঁদের কথা:ম্লান চোখে একদিন সব শুনেছ তো।
---------------------------------জীবনানন্দ দাশ
৩০ বানান কোনটি লিখবেন?
ক) ত্রিশ
খ) তিরিশ
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ:
ক) লক্ষণ
খ) লক্ষ্মণ
🌿 বাংলা শব্দভাণ্ডারের কিছু সুন্দর ও প্রাচীন প্রতিশব্দ 🌿
🧣 গামছা — ঝল্লিকা
🪑 মাদুর — কিলিঞ্জক
🛏️ বালিশ — উপাধান
🌬️ পাখা — ব্যজনী
🪮 চিরুনি — কাঁকই
🪢 দড়ি — রজ্জু / তন্ত্রী
🧹 ঝাঁটা — সম্মার্জনী
🪡 সূচ — সীবনী
🪞 মুকুর — আয়না / দর্পণ
📚 বাংলা ভাষার প্রাচীন ও শুদ্ধ শব্দচর্চা আমাদের ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলে।
শব্দ জানুন, ভাষাকে ভালোবাসুন। 💖
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Khulna
7600