Icon Tutors Service

Icon Tutors Service

Share

জীবনের গল্প/ রোমান্টিক ভালবাসার গল্প ? জীবনের গল্প গুলো শুনতে আমাদের পেইজ এ আপনাকে স্বাগতম �। শেয়ার করে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

22/01/2020

★ গল্প:-৩ "অভিযোগ"

লেখা: রাফি

((পর্ব-৫))

_ তুই এমন করে বলছিস মনে হয় আমি তোর কথা কখনো শুনি নি?
_ না, আগে আমার মাথায় হাত রেখে বলতে হবে।
_ ওকে বাবা, বল এবার। কি জানতে চাস?
_ তোর অতীত।
সোহানার মুখে অতীত শব্দটা শুনে রাফির হাসিখুশি মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল।
_স্ট্যাচু হয়ে গেলি কেন? তুই কিন্তু আমার মাথা ছুঁয়ে কথা দিয়েছিস।
_ প্লিজ সোহানা, এটা ভুলে যা না।
_ তুই বলবি না, তাই তো?
_বলার মত আছেই বা কি? ছোটবেলা থেকে আমি বাবা মায়ের আদরের সন্তান ছিলাম। রাজপুত্রের মত আবির্ভাব বলা যায়। স্কুলে ভালো ছাত্র হিসেবে সবাই খুব আদর করত। আর এভাবেই কেটে যায় আমার স্কুল লাইফ। গোল্ডেন এ+ নিয়ে কলেজে ভর্তি হই। স্বাভাবিক ভাবেই রোমাঞ্চিত ছিলাম কলেজের প্রথমদিন। সেই দিনে আমার চোখ আটকে যায় একটা মেয়ের উপর। নীল থ্রী-পিছ পড়া ছিল মেয়েটা। তার সৌন্দর্য যেন নীল কালারটা আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল। কেটে যায় প্রথম দিন এই ভাবেই। পরেরদিন মেয়েটাকে আমাদের ক্লাসে দেখি। কেন যেন অনিচ্ছা স্বত্বেও, বার বার ওর দিকে চোখ পড়ে যাচ্ছিলো। এর মধ্যে একবার দুজনের চোখাচোখিও হয়ে গেলো।
_তারপর?
_ আমি লজ্জায় নিচের দিকে চোখ নামিয়ে নিলাম। তারপর থেকে এই ভাবে চলতো। আমি শুধু ওর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতাম। যখন ও আমার দিকে তাকাতো আমি চোখ নিচু করে নিতাম। রোজকার রুটিনবাঁধা ছিল এসব। একদিন আমার এই রুটিনে জল ঢেলে দিলো মেয়েটা। আমি ওর দিকে তাকাতেই ও রেগে গেলো।
_এই ছেলে তুমি আমায় চেনো?
_ হুম। আপনি আমাদের ক্লাসের।
_ চুপ। আর আমার দিকে তাকাবেন না। এক মাস ধরে লক্ষ করছি আপনি আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন।
আমি কিছু না বলে মাথা নিচু করে রইলাম। সে দিন থেকে আমি ওকে দেখলে মাথা নিচু করে নিতাম।
ওহ এর মাঝে আমার একটা ছেলে বন্ধু হয়েছিল ও। তেমন পড়তো না, ওর এ্যাসাইনমেন্ট গুলা আমিই করে দিতাম। সেই সুবাদে সে আমার ভালো বন্ধু ছিল। ওর নাম ছিল রাশেদ। খুব দুষ্টু ছিল। অনেক প্রেম করতো। আমি যখন মেয়েটাকে দেখতাম ওই দিনের পর থেকে, তখনই মাথা নিচু করে নিতাম অথবা পথ চেইঞ্জ করে নিতাম।
_ একদিন আমি আর রাশেদ বসে আছি। তখন ওই মেয়েটা আসলো।
_রাশেদ ভাই, আপনার বন্ধু হাবলাটাকে আপনি কিছু শিখাতে পারেন না?
_ কেন? তোমার মনে কি ওর জন্য ঘন্টা বাজছে নাকি?
_ আমার না তোমার বন্ধুর বাজে। কিন্ত ভয়ে বেচারা বলার সাহসটুকু পর্যন্ত পায় না।
_ কিরে দোস্ত তলে তলে এত কিছু? আর আমি জানি না!
_ আরে তেমন কিছু না।
_এই ছেলে?? আমার নাম জানো?
_ না জানা হয়নি।
_ নাম জানো না আবার প্রেম করতে চাও? আমি নুসরাত।
পরের দিন ক্লাসে যেতেই নুসরাত এগিয়ে এলো।
_রাফি তুমি কি আমায় ভালোবাস?
আমি কিছু না বলে চুপচাপ রইলাম।
_তোমার মত হাবার আর প্রেম করা লাগবে না।
এই বলে নুসরাত চলে যেতে লাগলেই আমি নুসরাতের হাত ধরে বলিঃ- ভালোবাসি, বড্ড ভালোবাসি তোমায়।
সেই থেকে শুরু আমাদের প্রেম। ক্লাসে আর চোখে দেখা সবাইকে ফাঁকি দিয়ে প্রেম করা, আর অন্য সব জুটির মত আমরা সিনেমা, ফুসকা, রিক্সা করে ঘুরে বেড়ানো, রেল লাইনের পাশ দিয়ে দুজন দুজনের হাত ধরে চলা, কিছুই বাদ যায়নি। দিন যত যাওয়া শুরু করলো ভালোবাসা তত বাড়তে লাগলো। দুজন দুজনের জন্য নেশাক্ত হয়ে উঠলাম।
_ একদিন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দুজন মেলায় ঘুরতে গেলাম। আমি নুসরাতকে দুই ডজন নীল চুড়ি কিনে দিলাম। আর নুসরাত আমায় একটা ঘড়ি গিফট করল। নুসরাত ঘড়িটা পরিয়ে দিলো আমার হাতে।
_রাফি আমি যদি মরে যাই, তারপরও যেন আমার এই ঘড়িটা তোমার থেকে না হারায়। এটা আমার ভালোবাসার চিহ্ন। এটা তোমার হাতে থাকলে মনে করবে,আমি তোমার সাথে আছি।
সেদিন আমি কিছু না বলে নুসরাতকে জড়িয়ে ধরে কাঁদি। নুসরাত আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে নিজেও কেঁদে ফেলে।
_এই পাগল? কাঁদিস কেন,? মনে রাখবি আমার হৃৎপিন্ড যতদিন চলবে, ততদিন আমি তোর।
দ্বিতীয় বর্ষে টেষ্ট এক্সামের প্রথম দিন আগে নুসরাত আমায় ডাকলো।
_ রাফি একটা কথা বলব তোমায় রাখবা?
_ আমি কি কখনো তোমার কথা ফেলেছি?
_ আগে আমার মাথায় হাত রেখে বল, আমার এই কথা রাখবাই?
_ হুম বলো শুনব ( মাথায় হাত রেখে)।
_ তুমি আমায় ভুলে যাও।
নুসরাতের কথা শুনে,আমি ওর মাথা থেকে হাত সরিয়ে নিলাম।
_প্লিজ নুসরাত, এমন কিছু বল না। তুমি চাইলে আমায় খুন করতে পারো, কিন্তু আমায় ছেড়ে যেও না ( কাঁদতে কাঁদতে ) ।
_ রাফি আমি আমার কথা বলে দিয়েছি। আমার বাবা মা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। আমি চাই না তুমি আর আমার সাথে যোগাযোগ করো।
এই বলে নুসরাত চলে যায়। আর আমি জ্ঞানহীন পাগলের মত ঘাসের মাঝে বোবার মত বসে পরি। আমার মুখ থেকে কিছুই বের হচ্ছে না। বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিল। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম। আর পড়ার দিকে মন বসছে না। তাই আম্মুর থেকে এক হাজার টাকা চেয়ে নিলাম। আর আমি পুরো টাকায় সিগারেট কিনে নিয়ে আসলাম। সারাটা রাত ছাদে বসে সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়েছি। আর পাগলের মত হেসেছি, আবার কেঁদেছি।হঠাৎ করে তখন অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক্সামে আমি ১০ মার্কের উপর আন্সার করতে পারি নাই। নুসরাত সম্পূর্ণভাবে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। আমি তিন দিন পর ওর বাসার সামনে যাই। ওর বাসার সামনে যেতে ও আরো রেগে যায়।
_ রাফি তুমি চলে যাও প্লিজ। তিন দিন পর আমার বিয়ে আমার জীবনটা নষ্ট করো না।
আমি হাসতে হাসতে বললাম, "আর আমার জীবনের যে গতিরোধ থামিয়ে দিয়েছো? কি অধিকার আছে তোমার আমার জীবনটা নষ্ট করার? প্লিজ নুসরাত আমায় ছেড়ে যেও না তুমি?"
_ রাফি আমি আমার ডিসিশন আগেই জানিয়ে দিয়েছি।।
নুসরাত এই বলে চলে গেল। আমি দাঁড়িয়েছিলাম নুসরাত যদি একবার ফিরে আসে সেই আশায়। একটু পর তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। আমি একপাও নড়ি নি নুসরাত ফিরে আসবে সেই আশায়। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে,আমি বাসায় চলে আসি সে দিন। রাতে খুব জ্বর হয়। আমার জ্ঞান ফিরার পর আম্মু বলছিল আমি নাকি দুই দিন অজ্ঞান ছিলাম। এর মাঝে পরিবারের সবাই জেনে যায় নুসরাতের কথা। নুসরাতের আব্বু নাকি বাসায় এসে ওয়ার্নিং দিয়ে গিয়েছিল, আমি যদি আর নুসরাতকে ডিস্টার্ব করি, তবে খুব খারাপ হবে। আম্মুও আমাকে অনেক বোঝালো নুসরাতকে ভুলে যেতে।
কিন্তু আমি কিছুতেই নুসরাতকে ভুলতে পারি না। আগামীকাল নুসরাতের বিয়ে আমি তাই আবার নুসরাতের বাড়িতে গেলাম। নুসরাত অপমান করল। যা ইচ্ছে তাই বললো আর বললোঃ- আমার হুবু বর ডাক্তার। তুই পাগল, তোর হাত ধরে আমি বেড়িয়ে যাব কোন দুঃখে?
খুব আঘাত লাগছিল ওর কথায়। তাই ওর গলা চেপে ধরলাম। বললামঃ- ফিরিয়ে দে আমার সব দিন গুলো। আমার ভালোবাসা, আমার আবেগ, আমার অনুভূতি গুলো। ঠিক তখনই পেছন থেকে কে যেন আমার মাথায় আঘাত করে।।জ্ঞান ফিরতে দেখি আমার পাশে পুলিশ দাঁড়ানো
আমি বললামঃ-আপনারা?
_ পুলিশ লোকটি হেসে বললো তোমার জ্ঞান ফিরার অপেক্ষা করছিলাম। তারপর আমায় জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি আমার অপরাধ জানতে চাইলে পুলিশ লোকটি বলে হত্যার চেষ্টা ধর্ষণ সাথে চুরির অভিযোগ আছে আমার নামে। আর এর প্রধান সাক্ষী নুসরাত সে নিজে এসে অভিযোগ করে গেছে।

চলবে,,,,

22/01/2020

★ গল্প:-৩ "অভিযোগ"

লেখা: রাফি

((পর্ব-৪))

আমি চোখে পানি আর মুখে হাসি নিয়ে ছাদ থেকে চলে আসলাম।
_ রাতে চোখে কিছুতেই ঘুম আসছে না কেন জানি নুসরাতের সাথে কাটানো স্মৃতিগুলো ফিরে আসছে, উফ আর নিতে পারছি না। চুল গুলো টেনে ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে এখন মাথা ঠান্ডা করার একটাই উপায় সিগারেট। যা গত দুই বছর ধরে করে আসছি। ঘুম আসছে না, তাই রুম থেকে বেড়িয়ে পুকুর পাড়ে চলে আসলাম। নুসরাতকে যতই ভুলতে চাই ততই মনে পড়ে যায়,আর আমার সাথে ঘটে যাওয়া অমানুষিক মেঘলা আর মা বাবার ব্যবহার গুলা তিলে তিলে পুড়ে খাচ্ছে আমায়। বড় হৃদয় বিদারক এই স্মৃতি গুলো। আমি হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলাম নুসরাতের দেওয়া সেই ঘড়িটা। ছুড়ে মারতে চেয়ে ও পারলাম না,মুখ ফঁসকে বেড়িয়ে এলো, "নুসরাত বেঈমান তোর জন্য সত্যি হারিয়ে গেল আমার ঠিকানা"।এই বলে কাঁদতে লাগলাম , এমন সময় পেছন থেকে কেউ বললো," আপনি এত রাতে কাঁদছেন কেন?"
_ কই কাঁদছি?
_ আমি অনেক ক্ষণ আপনার পেছনে দাঁড়িয়ে আছি আমি সব দেখেছি আপনার মধ্যে অনেক রহস্য আমি জানতে চাই। প্লিজ, আমায় বন্ধু ভেবে সব খোলে বলুন।
_ প্লিজ ম্যাম, আমায় এই বাড়ি থেকে ও চলে যেতে বাধ্য করবেন না,আমি আমার অতীত বলতে পারব না।
_ ওকে ঠিক আছে, কিন্ত নুসরাতকে কে?
_ নুসরাতের কথা আপনি শুনলেন কখন?
_ যখন আপনি বিড় বিড় করে বলছিলেন তখন শুনেছি এই নামটা।
_ আমি জানি না প্লিজ, জানি শুধু দু মোট খেয়ে বাঁচার জন্য আপনাদের বাড়িতে পড়ে আছি।"
,,
_ পরের দিন খাবার খাওয়ার সময় সোহানা বললো," আম্মু রাফি আগামীকাল থেকে আমার সাথে কলেজে যাবে।"
_ সেটা রাফি ভালো জানে।
_ না মানে আন্টি আমি বলছিলাম কি ,,,, ( রাফি)।
_ তোমার কিছু বলতে হবে না, চুপ থাকো ( সোহানা) ।
_ পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙ্গল সোহানার ডাকে।
_ এই যে মিষ্টার রাফি তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠুন।
_ আরেকটু ঘুমিয়ে নেই ।
_ তোমার বউ পেয়েছো নাকি একটু পর পর এসে ডেকে যাবো।
_ তারপর ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম সকালের নাস্তার পর সোহানা জিজ্ঞেস করলো," তুমি কি রেডী?"
_ না মানে আজ না গেলে হয়না।
_ ওই ছেলে বেশি কথা বললে গলা চেপে মারব( রাগে নাক লাল করে) ।
_ জী আমি রেডী।
_ ঐ আমি কি তোর আন্টি লাগি জী,জী শুরু করছিস কেন?
_ না মানে এমনি।
_ আজ থেকে ঠিকঠাক ভাবে কথা বলবে, নয়ত এক ঘুষিতে নাক ফাটিয়ে ফেলবো।
,
_ মনে মনে বললাম, এই মাইয়া কোনো দিক দিয়ে রিনা খানের থেকে কম যায় না।
,,
_ এই তুমি বিড় বিড় করে কি বলছো?
_ কই কিছু না, চলুন ।
_ এই পোষাকে যাবে , তোমার এর থেকে বেটার পোষাক নাই?
_ না মানে ম্যাম, আমার আর পোষাক নাই।
_ হাতের ঘরিটা তো বেশ সুন্দর তোমার।
_ জানি না সুন্দর কি না, তবে এটা যত দিন থাকবে আমার হাতে, তার স্মৃতি হয়ে থাকবে।
_ তার মানে কার?
_ কারোর না ম্যাম, চলুন।
_ আবার ম্যাম? , ঠিক আছে বিকালে শপিং এ যাব ।
_ তারপর দুজন রিক্সা উঠে বসলাম, নুসরাতের পর এই প্রথম আমি অন্য কোনো মেয়ের সাথে রিক্সাতে বসলাম বা এত কাছে আসলাম, তাই আমি একটু চেপে বসতে চেষ্টা করলাম, যাতে দুজনের মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা থাকে ।
_ আমার অবস্তা দেখে সোহানা বললো, "এই যে মিষ্টার আমার সাথে বসতে বুঝি খুব খারাপ লাগছে?
_ আসলে তা না ।
,
_ তা না হলে এদিকে আসো।
_ আমার জড়সড় হয়ে বসা দেখে সোহানা নিজেই আমার হাত ধরে তার দিকে টেনে নিয়ে গেল। আমি মনে মনে সোহানাকে কিছু বকা দিলাম, এই মাইয়াটা এত জেদি। আমি কেন যেন নুসরাত যাওয়ার পর মেয়েদের ট্রলারেট করতে পারি না, দেখলে রাগ হয়। কিন্ত যাদের জন্য আশ্রয় খুঁজে পেয়েছি, তাদের তো আর এড়িয়ে চলা যায় না। তাই চুপচাপ সোহানার সাথে বসে রইলাম।
_ সোহানা প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে কথা বলে সব মিটমাট করে নিলো , আমাকে আর সোহানাকে এক সাথে দেখে সোহানার ফ্রেন্ডরা জিজ্ঞেস করলো, "এটা কে সোহানা? "
_ আমার কাজীন রাফি, আমাদের সাথে এখন থেকে পড়বে যদি ওনি আমাদের সিনিয়র ।
_ রাফি, এই চার জন আমার ফ্রেন্ড, মোহনা, রিমি, সাথী আর এই হল নিলয় ।
_ হ্যালো সবাই কেমন আছেন?
_ হুম আমরা ভালো, তাহলে আমাদের সাথে আরেকজন ফ্রেন্ড বাড়ল, নিলয়।
_ রাফি তোমার চুল গুলো না অনেক সুন্দর ( সাথী)
,,
_হুম লুচু মাইয়া, তোমার কাছে এক ছেলের হাসি, আরেক ছেলের চুল, আরেক ছেলের স্টাইল ভালো লাগে ( সোহানা) ।
_ ওই তুই আমার ফ্রেন্ড হলে এরকম বলতে পারলি।
_ এহ আসছে ন্যাকা, এই শোন রাফিকে বড় ভাইয়ের চোখে দেখবি।
_ কেন তোর কি কিছু আছে নাকি রাফির সাথে?( সাথী)
_ হ্যা আছে এবার তুই রাফিরে ভাইয়ার নজরে দেখ, প্লিজ।( সোহানা) _রাফি তুমি নায়ক সিয়ামকে চেনো?( সাথী)
_ হুম কেন?
_ তোমাকে না ওর মত কিছুটা দেখতে।
_ ম্যাম, আমি ক্লাসে যাব আপনারা আড্ডা দেন। এই বলে আমি চলে আসলাম। আমার সাথে সাথে সোহানা ও চলে আসলো।
_ শুরু হল নতুন জীবন, যার নাম সংগ্রাম আর যুদ্ধ। যেখান থেকে আমি নুসরাতের শেষ কথার জবাব দেব, ও বলেছিল "আমার হবু বর ডাক্তার তোর মত পাগল না।"
_ ধীরেধীরে বন্ধুত্ত হয়ে যায় সোহানার সাথে আমি পড়া আর বাড়ির কাজ নিয়ে ব্যাস্ত থাকতাম আর প্রতি রাতে কাঁদতাম। কখনো সোহানা আমায় মাথায় হাত ভুলিয়ে বলতো," বোকা, মানুষের জীবনে যদি খারাপ সময় না যেত তাহলে মানুষ ভালোর মর্ম বুঝতো না।" দেখতে দেখতে কখন যে বছর চলে গেলো বুঝতে পারলাম না, এখন এই পরিবারের ছেলের মত আমি। হ্যা, এরা আমায় অবহেলা করে না, আমি আজ ও মাঝে মাঝে সিগারেট খাইনুসরাতের কথা মনে হলে আর আমায় এটা সোহানা নিজেই দেয়। কারন নয়ত আমি পচন্ড কান্না করি, একদিন সোহানা বললো, "রাফি, আমার মাথায় হাত রেখে কথা দে, আমি যা আজ বলব তার ঠিক উত্তর দিবি।

চলবে,,,,

যারা ভাবছেন রাফি আর সোহানার মাঝে কিছু একটা হবে তাদের ধারণা অচিরেই ভুল প্রমাণিত হবে কারন গল্পটা ভিন্ন ভাবে সাজাতে চাই।

14/01/2020

(3rd part)
আহিয়াদের ঘড়ে ডুকতে যাব
তখনই দেখলাম অনেক গুলো
মেয়ে আমার রাস্তা আটকাল ৷
আহিয়া- কিরে তরা রাস্তা
আটকাচ্ছিস কেন?
একটা মেয়ে- আপু তুমি ঘড়ে
আস ৷
আহিয়াকে টেনে মেয়েটা
ঘড়ে ডুকাল,
আমি ডুকতে যাব তখনই রাস্তা আটকাল রুপা(আহিয়ার বোন)।
রুপা- আরে ভাইয়া আপনি দাড়ান, টাকা না দিয়ে ঘড়ে ডুকতে
পারবেন না ৷
আমি- কিসের টাকা রে সালি?
রুপা- ভাইয়া আপনি আমাকে
গালি দিলেন?(অবাক হয়ে)
আমি- আরে আমি তকে গালি
দিতে যাব কেন? বউয়ের বোনকে
তো সবাই
সালি বলেই ডাকে ৷
রুপা- অহ...আমি আরো ভাবছি
গালি দিছেন ৷
অন্য আরেকটা মেয়ে- আরে
অইসব এখন বাদ দে রুপা ৷
আগে আমাদের টাকাটা নিয়ে
নেই, তারপরে নাহয় কথা হবে
অইসব সালি আর গালি নিয়ে ৷
মেয়ে- দেন দুলাভাই তাড়াতাড়ি
টাকাটা দিয়ে গড়ে আসেন ৷
আমি- কিন্তু আমি তো টাকা
সাথে আনি নাই? ATM কার্ড আছে,
নাও এইটা নিয়ে টাকাটা
তুলে নিয়ে আস ৷
মেয়ে- লাগবে না ভাইয়া আপনি
পরে দিয়ে দিয়েন ৷
তারপর সবাই আমার হাত ধরে
টেনে ঘড়ে ডুকাল,,,
শাশুরিকে সালাম করার পর,,,
সবাই আমাকে আহিয়ার রুমে
নিয়ে গেল ৷
সালি গলো আমাকে এখনই যে
রকম ভাবে টানাটানি শুরু করছে,
না জানি বাকী দুইদিন কি করবে,
হয়তো টেনে টেনে ছিড়েই ফেলবে ৷
আমাকে রুমে ডুকিয়ে দিয়ে
ওরা চলে গেল ৷
আমি আহিয়াকে বললাম,,,
আমি- এই আহিয়া তোমার এত্তগুলা
বোন কেন গো? তোমার আব্বু আম্মু
মনে হয় অনেক রোমান্টিক ছিলেন তাই
এত্তগুলা !!
আহিয়া- তোমার মাথায় সব সময় শুধু
আজেবাজে চিন্তা,
ওরা সবাই আমার বোন না?
শুধু রুপাই আমার আপন বোন,
আর সবাই আমার কাজিন ৷
আমি- অহ,,,আমি আরও ভাবছিলাম
সবকটি তোমার আব্বুরই ফসল,,
যাই বল না কেন তোমার কাজিন
গুলা না এক একটা হেব্বি সুন্দর ৷
আহিয়া- কি বললি?(আমার কলার ধরে)
আমি ছাড়া অন্য মেয়ের দিকে
তাকাবি তো চোখ তুলে ফেলব ৷
ওরে বাবারে বাবা কি গুন্ডি মেয়ে
(মনে মনে)
মূখে বললাম,,,
আমি- কথায় কথায় শুধু রাগ কর কেন?
আমি তো এমনি মজা করলাম ৷
আহিয়া- কি বললি আমি কথায়
কথায় রাগ করি?
আমি- হুম..করই তো ! এই যে
এখন তো রাগ করেই কথাটা বললা ৷
আহিয়া- তুই আমাকে রাগাস
বলেই তো আমি রেগে যাই ৷
যা তর সাথে কথা নাই ৷
আমি- ওলে আমাল মিষ্টি, গুলুমুলু রাগী বউ,
রাগ করে না বাবু, তুমি না আমার
মিষ্টি বাবুনি,,
এই বলেই আমি ওকে কাতকুতু দিতে
লাগলাম,
আহিয়া- এই ছাড় বলছি ছাড়(হাসতে
হাসতে)
হঠাৎ সালি গুলা এসে বলল,,
দুলাভাই রোমান্স পরে কইরেন
এখন খেতে চলেন ৷
আমি- সালিরা,,,পরের বার রুমে ডুকার
আগে
একটু নক করে ডুকবেন ৷
কারণ বুঝই তো নতুন নতুন
বিয়ে রুমের ভিতরে কখন কি চলে ৷
একটা সালি- দুলাভাই আপনিও পরের
বার রোমান্স করার আগে দরজাটা
লক করে কইরেন ৷
বলেই সবাই হাসতে লাগল,,,
আহিয়া লজ্জায় লাল হয়ে বলল,,,
আহিয়া- এই তরা কি শুরু করছিস ৷
যা তরা আমরা আসছি !!
তারপর দুজন ফ্রেশ হয়ে দুপুরের
খাবার খেতে আসলাম !!
সবাই মিলে আমার পেল্টে সব
খাবার তুলে দিচ্ছে ৷
সালি গুলা আমার মূখে একেক
ধরনের খাবার গুজে দিচ্ছে ৷
কি খাবারই না খাইলাম আমার
জীবনেও মনে হয় এত্তগুলা খাবার
একসাথে খাই নাই ৷
যদি এটাকে জামাই আদর বলে,
তাহলে জীবনেও আসব না
শশুর বাড়ী এই রকম জামাই
আদর খেতে !!...
রাতে সালিদের সাথে আড্ডা
দিতে দিতে কখন যে 12টা বেজে
গেল খেয়ালই করি নাই ৷
রুমে গিয়ে দেখি আহিয়া বিছানা
ঠিক করছে ৷
আহিয়া আমার দিকে তাকিয়ে বলল,,
আহিয়া- সালিদের পেয়ে বউকে ভূলে গেলে?
আহিয়াকে পেছেন থেকে জরিয়ে ধরে
বললাম,,,
আমি- আমার মিষ্টি বউটাকে কি
কখনো ভূলতে পারি??
তোমার ফাজিল বোন গুলা
ছাড়ছিলই একেক জন একেক রকমের
প্রশ্ন করছিল ৷
আহিয়া- আচ্ছা যাও ফ্রেশ হয়ে
চেইন্জ করে আস ৷..
ফ্রেশ হয়ে ওয়াস রুম থেকে বের হয়ে
এসে দেখি আহিয়া বসে বসে কি যেন
ভাবছে ৷
আমি বললাম,,,
আমি- কি ভাবছ?
আহিয়া- কিচ্ছুনা ৷
আমি- আচ্ছা বউ,,,আজকে কি ম্যাচ
খেলব গো? ক্রিকেট না ফুটবল?
আহিয়া লজ্জায় লাল হয়ে বলল,
আহিয়া- যাহ...অসভ্য কোথাকার,
ম্যাচ মানে কি?
আমি- কালকে রাতে যেইটা
খেলছিলাম অইটা ৷ চল আজকে
আমরা ক্রিকেট খেলি, টেস্ট খেলব
কিন্তু, লম্বা ইনিংস ৷
আহিয়া লজ্জা পেয়ে আমার বুকে
মূখ লুকাল ৷.....
তারপর আরও একদিন আহিয়াদের
বাড়িতে থেকে চলে আসলাম
আমাদের বাড়িতে ,,,,
ঘড়ে ডুকেই বড় ধরনের একটা শকড
খেলাম !!
এই মেয়েটা এখানে কি করছে???
#চলবে

Want your school to be the top-listed School/college in Badda?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka
Badda
1212