Quranic Cure

Quranic Cure

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Quranic Cure, Health Food Shop, Barishal.

19/02/2026

⭕ মুসলিম কি অমুসলিমকে রুকইয়াহ করতে পারে?
এবং কুরআন অস্বীকার করেও কি সে রুকইয়াহ থেকে উপকার পায়?

মূলনীতি হিসেবে শরীয়তে কোনো বাধা নেই যে একজন মুসলিম কুরআন ও শরয়ি রুকইয়াহ দ্বারা একজন অমুসলিমকে চিকিৎসা করতে পারবে না। বরং কুরআনের মাধ্যমে রুকইয়াহ করা অনেক সময় অমুসলিমদের জন্য একটি মহান দাওয়াহি সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ বহু অমুসলিম প্রকৃত অর্থে ইসলামের সত্য রূপ সম্পর্কে জানেই না।

অনেক মানুষ জন্মসূত্রে কাফের। তাদের বাবা-মা ইহুদি, খ্রিস্টান বা অন্য ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে তারাও সেই ধর্মেই বেড়ে উঠেছে। তাদের কাছে ইসলাম পৌঁছেছে বিকৃতভাবে, শত্রুদের প্রচারিত ভুল ধারণার মাধ্যমে। অথচ তাদের হৃদয় নরম, বিবেক জীবিত এবং বুদ্ধি যথেষ্ট পরিপক্ব—যদি তারা ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য জানতে পারে, তবে তারা সত্য গ্রহণ করতে সক্ষম।

অনেক সময় আল্লাহ তা‘আলা এই ধরনের মানুষদেরকে শয়তানি রোগ, মানসিক অস্থিরতা বা অদৃশ্য সমস্যার মাধ্যমে কুরআনের দিকে নিয়ে আসেন। কুরআনের মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণই তাদের জন্য ইসলামের দরজায় পৌঁছানোর কারণ হয়ে যায়। এভাবে রুকইয়াহ শুধু চিকিৎসা নয়, বরং হিদায়াতের মাধ্যমও হতে পারে।

আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন—যদি কোনো মুশরিক আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দিতে হবে, যাতে সে আল্লাহর বাণী শুনতে পারে। এরপর তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে হবে। কারণ তারা সত্য জানে না।

এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, কাফেরকে কুরআনের কথা শোনানোর সুযোগ তৈরি করাও এক ধরনের ইবাদত।

একজন অভিজ্ঞ ও আল্লাহভীরু রাকির উচিত এমন রোগীর প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হওয়া। তার রোগের ধরন, মানসিক অবস্থা ও বিশ্বাস অনুযায়ী উপযুক্ত আয়াত নির্বাচন করে দীর্ঘ সময় ধরে রুকইয়াহ করা উচিত, যাতে তার উপর থাকা শয়তানি প্রভাব দুর্বল হয় এবং তার অন্তরে ঈমানের বীজ রোপিত হয়।

অনেক সময় এমন ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করে না। কিন্তু তার ভেতরে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। নিজের শয়তানের সঙ্গে লড়াই, নিজের মনকে প্রশ্ন করা, সত্যের অনুসন্ধান—এসব ধীরে ধীরে তাকে ইসলামের দিকে নিয়ে আসে। বুক প্রশস্ত হয়, অন্তর নরম হয়, এবং একসময় সে হিদায়াতের পথে অগ্রসর হয়।

এজন্য রাকির উচিত তাকে কুরআনের অনুবাদ, ইসলামের মৌলিক পরিচয়মূলক বই উপহার দেওয়া। তার সঙ্গে সদাচরণ করা, সম্মান দেখানো এবং সম্ভব হলে বিনামূল্যে রুকইয়াহ করা—সবই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তার হিদায়াতের আশায়।

ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি সুস্পষ্ট। ইসলামী ফিকহের বিশ্বকোষে উল্লেখ আছে—মুসলিম কর্তৃক কাফেরকে রুকইয়াহ করা জায়েয, এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়, যা রাসূল ﷺ অনুমোদন করেছেন।

বিশিষ্ট আলেমগণও বলেছেন—ইহুদি বা খ্রিস্টান যদি যুদ্ধরত না হয়, তবে তাকে শরয়ি রুকইয়াহ করা বৈধ এবং এতে কোনো গুনাহ নেই।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়—কুরআনকে অস্বীকার করা সত্ত্বেও কি কাফের ব্যক্তি কুরআনের রুকইয়াহ থেকে উপকার পায়?

অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা বলে—হ্যাঁ, উপকার পায়। বহু কাফের ব্যক্তি কুরআনের রুকইয়াহর মাধ্যমে শয়তানি ও মানসিক রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে এই চিকিৎসাই তাদের ইসলামের পথে নিয়ে এসেছে। মুসলিম ও অমুসলিম উভয় দেশেই বহু রাকি এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী।

যারা এই সুযোগকে দাওয়াহর কাজে ব্যবহার করেছেন, আল্লাহ তাদের মাধ্যমে কল্যাণ সৃষ্টি করেছেন। কুরআন অস্বীকার করলেও কুরআনের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না—কারণ এটি আল্লাহর কালাম, যার শিফা ও নূর সর্বজনীন।

🔁ইলম ছড়িয়ে দেওয়ার নিয়তে এবং সাদাকায়ে জারিয়ার উদ্দেশ্যে এই পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন

✍️ লেখা: ১৯/০২/২৬
ওস্তাদ: Raqi Abu Rayhan راقي أبو ريحان
🎙️প্রধান রাকি: Quranic Cure

19/02/2026

রমাদান মাসে সব শয়তান কি শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, নাকি কিছু শয়তান? রমাদানে রোগীদের উপসর্গ কেন বেড়ে যায়?

রমাদান মুবারক এমন এক বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ মাস, যার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কুরআন ও সহীহ সুন্নাহতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই মাসে আল্লাহ তা`আলা বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন, গুনাহ মাফের সুযোগ বৃদ্ধি করেন এবং শয়তানদের প্রভাব সীমিত করে দেন। রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এই মাসে শয়তানদের শিকলাবদ্ধ বা বন্দী করা হয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ সহীহ হাদীসে ইরশাদ করেছেন—“যখন রমজান আসে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।”
এই হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে রমজান মাসে শয়তানের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা আগের মতো থাকে না।

অন্য একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—“তোমাদের কাছে রমজান মাস এসেছে, এটি এক বরকতময় মাস। আল্লাহ তোমাদের ওপর এ মাসের রোজা ফরজ করেছেন। এতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অবাধ্য ও শক্তিশালী শয়তানদের বন্দী করা হয়। এই মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।”

এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো—সব শয়তান নয়, বরং বিশেষভাবে অবাধ্য ও শক্তিশালী শয়তানদের বন্দী করা হয়। এ বিষয়ে আহলে ইলমগণ বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। অনেক আলেমের মতে, ‘মারিদ’ শ্রেণির শয়তানদের ক্ষমতা রমজানে সীমিত করে দেওয়া হয়, যাতে তারা মুমিনদের ওপর আগের মতো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।

ইমাম মুহাম্মদ ইবনু মুফলিহ (রহ.) বলেন—``হাদীসের বাহ্যিক অর্থ অনুযায়ী শয়তানদের শিকল পরানো হয়। অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিশেষ শ্রেণির অবাধ্য শয়তানরা। এর অর্থ এই নয় যে, রমজানে সব ধরনের গুনাহ ও অশুভ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়; বরং শয়তানের শক্তি দুর্বল হয়ে যায় এবং তার প্রভাব কমে আসে।

ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (রহ.) এই হাদীসকে তার বাহ্যিক অর্থেই গ্রহণ করতেন। তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ (রহ.) বলেন— তিনি তাঁর পিতাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “রমজান মাসেও তো মানুষ জ্বিনের আছর বা খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়।” উত্তরে ইমাম আহমদ বলেন— “হাদীস যেমন এসেছে, তেমনভাবেই তা গ্রহণ করতে হবে।”

হাফেয ইবনু হাজর আসকালানী (রহ.) বলেন``শয়তানদের বন্দী করা হওয়া রমজানের একটি বাস্তব আলামত। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এই মাসের সম্মান রক্ষা করেন এবং মুমিন বান্দাদের জন্য শয়তানের ক্ষতি সীমিত করে দেন, যাতে তারা সহজে ইবাদতের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়—রমজান মাসে যাদুকররা সাধারণত নতুন করে যাদু করতে পারে না এবং আগের যাদু নবায়ন করার শক্তিও তাদের অনেকাংশে লোপ পায়। কারণ, শয়তানদের সহায়তা ছাড়া যাদুর কার্যকারিতা টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব।

এই কারণেই যাদুকররা রমজান মাসকে অপছন্দ করে এবং এই মাস তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাদের শয়তানি কার্যক্রম দুর্বল হয়ে যায় এবং তারা নিজেদের স্বাভাবিক প্রভাব হারিয়ে ফেলে।

সমাজে রমজানের প্রভাব লক্ষ্য করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। যারা সারা বছর নামাজে অনীহা প্রকাশ করে, রমজানে তারাও মসজিদমুখী হয়ে যায়। ফজর থেকে এশা পর্যন্ত জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি বেড়ে যায়, মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি ও নরমভাব সৃষ্টি হয়।

এগুলোই প্রমাণ করে—রমজানে শয়তানের প্রভাব বাস্তবেই সীমিত হয়ে যায়। এমনকি মানুষের সঙ্গে থাকা ক্বারীন শয়তানও দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে মানুষ সহজে নেক আমলের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

তবে এটি মনে রাখতে হবে—রমজান মাসেও আল্লাহর ইচ্ছায় জ্বিনের আছর, বদনজর ও হিংসা হতে পারে। কারণ, সব জ্বিন বা সব শয়তান বন্দী করা হয় না। বিশেষত যারা আগেই যাদু বা শয়তানি প্রভাবের শিকার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে উপসর্গ রমজানে কখনো কখনো বেড়ে যেতে পারে।

এর কারণ হচ্ছে রমজানে ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শয়তানরা মারাত্মক চাপের মুখে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা রোগীর ওপর শেষ শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করে, ফলে অস্বস্তি, অস্থিরতা ও কষ্ট সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

এই জন্য রোগীদের প্রতি আন্তরিক নসীহত হলো—রমজান মাসে রুকইয়াহ, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকিরে অবহেলা করা যাবে না। বরং এই মাসকে আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া শিফার বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

আল্লাহ তা`আলা চাইলে এই বরকতময় মাসেই সম্পূর্ণ শিফা দান করতে সক্ষম। শিফা কোনো রাকির হাতে নয়, কোনো আমলের মধ্যেও নয়—বরং শিফা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

✍️ লেখা:১৯/০২/২৬
ওস্তাদ:Raqi Abu Rayhan راقي أبو ريحان
প্রধান রাকি: Quranic Cure

12/04/2025

আজকে 'মার্চ ফর গাজা' তে আমরা আসছি। আপনিও আসুন!

Want your business to be the top-listed Grocery Store in Barishal?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address


Barishal
RAYHAN30645