GJUS RMTP

GJUS RMTP

Share

PKSF has started implementing a new project titled "RMTP"financed by IFAD. Goal is to sustainably in

07/12/2025

কুলিং ট্রলারে দুধ মোঃ অলিউর রহমানের সংগ্রাম ও সাফল্য

ভোলা জেলার পশ্চিম ইলিশার মাটির ঘ্রাণে যাঁর জন্ম, সেই মো: অলিউর রহমান। জীবন-নদীর বাঁকে বাঁকে তাঁর অভিজ্ঞতা— প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণিতেই শেষ, কৈশোরে চট্টগ্রামে ট্যাক্সি চালকের স্টিয়ারিং হাতে গড়িয়েছে অনেক দিন। সংসারে স্ত্রী-সন্তান মিলিয়ে পাঁচজনের জীবন। কিন্তু নিয়তি তাঁকে এক ভিন্ন পথের দিশা দিল— চলে এলেন দুগ্ধ শিল্পে।

২০১৫ সাল। অলিউর রহমানের বড় ভাই, মোঃ ফারুক ঘোষ, ছিলেন ভোলার এক পরিচিত 'গোয়ালা'। তাঁর দুগ্ধ ব্যবসার শীতল ছায়া ছিল সংসারটির উপর। ভাইয়ের অকাল প্রয়াণ যেন এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল। কিন্তু সেই শূন্যতাই অলিউরকে এক নতুন দায়িত্বের হাল ধরতে শেখাল। নিরক্ষরতার বাধা পেরিয়ে, ট্যাক্সির চাকা ছেড়ে তিনি ধরলেন দুগ্ধ-শিল্পের ব্যবসা ।

অলিউর রহমানের কর্মক্ষেত্র ভোলা সদর হলেও, তাঁর হৃদয়ের টান ভোলার দুর্গম চরাঞ্চলের দিকে— মাঝেরচর, ভেদুরিয়া, ভেলুমিয়া, রামদাসপুর সহ প্রায় ২৫টি চর। এই চরগুলোই যেন তাঁর ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র। এ এক অভূতপূর্ব প্রচেষ্টা! দুর্গম চরাঞ্চলের প্রান্তিক খামারিদের থেকে দুধ সংগ্রহ করে দীর্ঘ নৌপথ পাড়ি দেওয়া, এ যেন দুগ্ধ-শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন।

আগে কী হতো? কাঁচা দুধ ট্রলারে তুলে আনা হতো। পথ দুর্গম, ট্রলার প্রায়শই বিগড়ে যেত, আর এই দীর্ঘ যাত্রায় দুধ নষ্ট হওয়ার লোকসান গুনতে হতো খামারিদের। দুধের গুণগত মান ধরে রাখা ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এই সংকটময় মুহূর্তে আলোর দিশা দেখাল গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (GJUS), যারা কাজ করছিল পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF) এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত আরএমটিপি প্রকল্পের অধীনে। তারাই অলিউর রহমানকে সেই অলৌকিক বাহন— একটি কুলিং ট্যাংকার নৌকার(Milk Cooling Tanker Boat)ব্যাবস্থা করে দিলেন।

এই নৌকা শুধু একটি জলযান ছিল না, এটি ছিল খামারিদের স্বপ্ন রক্ষার হাতিয়ার । এখন, দীর্ঘ নৌপথ পাড়ি দিলেও, দুধের গুণাগুণে একটুও আঁচড় লাগে না। দুর্গম চরের দুধ 'শীতল যাত্রা' শেষে আসে ভোলা সদরের মিল্ক চিলিং সেন্টারে (দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্রে)। এই কেন্দ্রে সেই দুধ শীতলীকৃত হয় এবং পরে দেশের বিভিন্ন প্রসেসিং সেন্টারে নিরাপদ দুধ হিসেবে পাঠানো হয়।

আজ, মো: অলিউর রহমান প্রতিদিন গড়ে ১৫০০ লিটার দুধ সংগ্রহ ও বিক্রি করেন। পাশাপাশি মাঝে মাঝে বিক্রি করেন খাঁটি ঘি ও দধি। তাঁর এই সফলতা কেবল ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি নয়, এটি চরাঞ্চলের অসংখ্য প্রান্তিক খামারির জীবনযাত্রাকে করেছে সুরক্ষিত। তিনি কেবল একজন ব্যবসায়ী নন, তিনি চরের দুধ শিল্পের 'নৌ-পথের কাণ্ডারি'— যিনি প্রমাণ করেছেন, সততা, সাহস আর সামান্য সহায়তার হাত ধরলে অশিক্ষা বা দুর্গম পথ কোনো কিছুই সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।

মো: রুহুল আমিন রুয়েল
ভিসিএফ(ডেইরি মার্কেট ডেভেলপমেন্ট) আরএমটিপি প্রকল্প
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)
ভোলা।
০৭/১২/২৫ ইং

Photos from GJUS RMTP's post 02/12/2025

পড়া থামলেও স্বপ্ন থামেনি: মোঃ ইউসুফের গল্প

আজকের গল্পটি পশ্চিম ইলিশার হাওলাদার মার্কেটের মাশাল্লাহ ডেইরি ফার্মের । এখানেই, ভোলার মাটির ঘ্রাণে আর মেঘনা নদীর আর্দ্র হাওয়ায় শ্বাস নেয় মাশাল্লাহ ডেইরি ফার্ম। কিন্তু এই ফার্ম একদিনে আসেনি। এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক ২৯ বছর বয়সী স্বপ্নবাজ যুবক, মোঃ ইউসুফের না-ফুরানো চেষ্টা আর পারিবারিক সংগ্রামের কঠিন ছাপ।
২০১৩ সাল। ইউসুফের কাঁধে তখন কেবল কৈশোর পেরোনো তারুণ্যের ভার। পারিবারিক ক্রাইসিসের কালো মেঘে এসএসসি’র গণ্ডিতেই থেমে যায় তার পড়াশোনা। বইয়ের পাতা থেকে দৃষ্টি সরে আসে জীবনের কঠিন বাস্তবতায়। কিন্তু ইউসুফ হার মানার পাত্র ছিলেন না। মৃত পিতা মোসলেউদ্দিনের আদর্শ আর বড় ভাই মো: মনির হোসেনের (যিনি নিজেও রেন্ট-এ-কার ও ডেইরি ফার্মের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত) প্রেরণা নিয়ে, মাত্র দশটি গাভি দিয়ে তিনি শুরু করেন তার দুধ-সাদা স্বপ্নের বুনন।

শুরুর দিনগুলো ছিল বন্ধুর। কিন্তু ইউসুফ থেমে থাকেননি। আজ, সেই দশটি গাভি থেকে তার ফার্মে ৭০টিরও বেশি গাভি। প্রতিদিন ৪০০ লিটার খাঁটি দুধের ধারা বইছে তার ফার্ম থেকে। তবে ইউসুফের দূরদৃষ্টি শুধু দুগ্ধ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বুঝেছিলেন, আধুনিকতার ছোঁয়া ছাড়া এই ব্যবসা কেবল গ্রামীণ উদ্যোগ হয়েই থাকবে।

মাশাল্লাহ ডেইরি ফার্মে এখন অত্যাধুনিক সব মেশিনারিজের সমাহার—দধি তৈরি মেশিন, মিল্ক চিলার, মিল্ক প্যাকেজিং মেশিন, অটোমেটিক ঘি তৈরি মেশিন, ক্রিম আলাদা করার মেশিন—সবই যেন ইউসুফের এক একটি নীরব প্রতিশ্রুতির প্রতিচ্ছবি। তার পণ্যের প্রতিটি প্যাকেটে শোভা পায় বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন, যা তার মান আর বিশ্বস্ততার প্রতীক। গরমের দিনে প্রতিদিন ১৫০ লিটারের বেশি মাঠা বিক্রির পরিসংখ্যানই বলে দেয়, গ্রামীণ ঐতিহ্য আর আধুনিক মান—এই দুইয়ের সমন্বয় কতখানি সফল।

এই যাত্রায় তার পাশে এসে দাঁড়ায় স্থানীয় সহযোগী সংস্থা গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)। আরএমটিপি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং অর্থনৈতিক সহায়তা ইউসুফের স্বপ্নের পালে নতুন হাওয়া দেয়। এই সহায়তাতেই তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ভোলার বুকে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন— এটিএম মিল্ক (ATM Milk)! এটিএম বুথের মতো করেই এখন ক্রেতারা ২৪ ঘণ্টা যখন খুশি, তখন খাঁটি দুধ সংগ্রহ করতে পারেন।

পরিবারের চাপ আর অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা হয়তো তার শিক্ষাজীবন শেষ করতে দেয়নি। কিন্তু ২৯ বছর বয়সে তিনি যে প্রজ্ঞা ও সফলতা অর্জন করেছেন, তা অনেক ডিগ্রিধারীর জন্যই ঈর্ষণীয়। দুই সন্তান—পাঁচ বছরের ছেলে মো: ইয়াসিন আর নয় মাসের মেয়ে তোহা—তাদের বাবার এই অর্জন দেখেই বড় হচ্ছে।

ইউসুফের গল্পটি কেবল একটি ডেইরি ফার্মের সফলতার গল্প নয়; এটি প্রমাণ করে যে, সুযোগের অভাব বা আর্থিক সংকট মানুষের ভেতরের স্বপ্নকে হত্যা করতে পারে না। তার স্বপ্ন এখন শুধু ভোলা সদরে সীমাবদ্ধ নয়, তার চোখে এখন গোটা বাংলাদেশকে খাঁটি দুগ্ধজাত পণ্যের স্বাদ দেওয়ার স্বপ্ন। মাশাল্লাহ ডেইরি ফার্মের আলোয় আজ শুধু পশ্চিম ইলিশাই নয়, আলোকিত হচ্ছে ভোলার তরুণ উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ।

মো: রুহুল আমিন রুয়েল
ভিসিএফ(ডেইরি মার্কেট ডেভেলপমেন্ট) RMTP প্রকল্প
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)
ভোলা
০২/১২/২৫ ইং

Photos from GJUS RMTP's post 23/11/2025

মামা সুপার আইসক্রিম :স্বপ্ন থেকে সফলতা।।।।

ভোলা জেলার লালমোহন ধলীগোর নগর গ্রামের ধূলিমাখা পথ। সেখানে, ১৯৮৫ সালের এক সোনালী ভোরে, জন্ম নিয়েছিলেন মো: সুমন মিয়া। আটত্রিশ বসন্তের এই মানুষটির শৈশব কেটেছে লাবণ্যময় মেঘনা নদীর তীরে। জীবনযুদ্ধের প্রথম পাঠ নেন ধলীগোর নগর সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে, এসএসসি পাশ করেন ২০০৩ সালে। তারপরই নিয়তি তাকে টেনে নিয়ে যায় ইট-পাথরের মহানগর ঢাকাতে।
২০০৯ সাল পর্যন্ত ‘জাস্ট স্টিল বিল্ডিং কন্সট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড’-এ ওয়েল্ডিং-এর কাজ করেছেন সুমন। তার হাতে ছিল লোহা গলানোর মন্ত্র, চোখে ছিল স্বপ্ন গড়ার ঝলক।
২০০৯ থেকে ২০১৪—পাঁচটি বছর কাটালেন সুদূর সিঙ্গাপুরের আকাশছোঁয়া দালানকোঠায়, নির্মাণশ্রমিক হিসেবে। তারপর গন্তব্য হলো মালয়েশিয়া, যেখানে ২০২০ সাল পর্যন্ত ওয়েল্ডিং ডিপার্টমেন্টে তার নিপুণ হাতের স্পর্শ লেগেছে। বিদেশে এই কঠোর জীবন তাকে শিখিয়েছিল ধৈর্য, পরিশ্রম আর মূলধন সঞ্চয়ের শিল্প।
কিন্তু মাটির ডাক তো আর উপেক্ষা করা যায় না! ২০২০ সালে, সুদূর প্রবাসের জীবন ছেড়ে সুমন মিয়া ফিরলেন তার প্রিয় জন্মভূমিতে। এবার আর অন্যের স্বপ্ন গড়ার কারিগর নন, নিজের স্বপ্ন বুনতে শুরু করলেন। হাতে নিলেন বরফের শীতলতা আর দুগ্ধের শুভ্রতা মাখা ব্যবসা—আইসক্রিম ও দুগ্ধজাত পণ্য।
এই নতুন পথের দিশারী হলেন তার আপন মামা, মো: আবদুর রাজ্জাক। মামা-ভাগ্নের এই বন্ধন, যা শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, এক নতুন ভরসার প্রতীক। তাদের ব্যবসার নাম হলো—মামা সুপার আইসক্রিম। এই নাম শুধু একটি বাণিজ্যিক পরিচিতি নয়, এটি যেন মাতৃস্নেহ ও পারিবারিক বন্ধনের একটি শীতল আহ্বান।
বরহানউদ্দিন, ভোলাতে শুরু হয় তাদের স্বপ্নের কারখানা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাথে ঐতিহ্যের এক সুন্দর মেলবন্ধন ঘটালেন তারা। চিলার মেশিন, পাস্তুরাইজেশন মেশিন, বয়লার এবং অটোমেটেড প্যাকেজিং মেশিনের নিপুণতা দিয়ে তৈরি হতে লাগল সেই আইসক্রিম—যা কেবল মিষ্টি নয়, ছিল নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর দুগ্ধপণ্য উৎপাদনের প্রতিশ্রুতির প্রতীক।
কাপ আইসক্রিম, কোণ আইসক্রিম, মালাই আইসক্রিম, চকবার, লোকাল আইসক্রিম—প্রতিটি পণ্যই যেন গ্রীষ্মের এক-একটি প্রশান্তি। আর তাদের দধি! তাদের দধির রয়েছে গর্বের বিএসটিআই সনদ, যা গুণগত মানের এক অলিখিত মানদণ্ড।
আজ তাদের সাফল্য এক শীতল স্রোতের মতো বহমান:
• প্রতি মাসে ২ লাখ পিসের বেশি আইসক্রিম বিক্রি হয়।
• ৫ হাজার কাপ দধি খুঁজে নেয় ভোজনরসিকের মন।
• ভোলা জুড়ে রয়েছে ৩০টি বিক্রয়কেন্দ্র (আউটলেট) এবং নোয়াখালীতেও তাদের পণ্যের কদর বাড়িয়ে তুলেছে আরও তিনটি আউটলেট।
এই যাত্রাপথে, ভোলার গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার আরএমটিপি প্রকল্প থেকে থেকে তারা পেয়েছেন কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তা। এই সমর্থন তাদের শুধু পুঁজি জোগায়নি, জুগিয়েছে আত্মবিশ্বাস।
সফলতার এই পর্যায়েও তারা থেমে নেই। তাদের দৃষ্টি এখন আরও বড় দিগন্তে—এগ্রো ফার্মিং-এর দিকে। কারণ তারা জানেন, পণ্যের মূল উৎস যদি বিশুদ্ধ হয়, তবে তার স্বাদ ও গুণগত মান অটুট থাকবে।
মো: সুমন মিয়া এবং মো: আবদুর রাজ্জাকের এই গল্প—কেবল ব্যবসার উত্থান নয়; এটি হলো প্রবাসের কাঠিন্য থেকে জন্মভূমিতে ফিরে আসার গল্প, মামা-ভাগ্নের সম্পর্কের দৃঢ়তার গল্প এবং কঠোর পরিশ্রম আর সততার মধ্য দিয়ে বরফের মতো শীতল স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার এক উজ্জ্বল উপাখ্যান। তাদের 'মামা সুপার আইসক্রিম' আজ ভোলার এক অনুপ্রেরণা।

মোঃ রুহুল আমিন রুয়েল
ভিসিএফ(ডেইরি মার্কেট ডেভেলপমেন্ট) আরএমটিপি প্রকল্প
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)
ভোলা।
২৩/১১/২৫ ইং

Want your organization to be the top-listed Non Profit Organization in Bhola?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address


Bhola
8300