Md Ruman Mahmud
MD Ruman Mahmud ㅤ
দেশ ও মানুষের সেবা করুন।
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকুন। 🇧🇩
28/04/2026
১২ বছর…
সময়ের হিসাবে খুব বেশি না মনে হলেও, একজন মানুষের জীবনের অর্ধেকটাই যেন কেটে যায় এই সময়ের ভেতর।
রাশেদও ঠিক তেমনই একজন মানুষ।
দারিদ্র্যের তাড়নায়, নতুন স্বপ্নের খোঁজে সে দেশ ছেড়েছিল—মধ্যপ্রাচ্যের এক মরুভূমির দেশে। যাওয়ার সময় তার বউ মিতু ছিল নতুন বউ, আর পেটে ছিল তার প্রথম সন্তান।
“দুই-তিন বছর পরেই ফিরবো”—এই কথা বলে গিয়েছিল সে।
কিন্তু বাস্তবতা গল্পের মতো সহজ না।
একটা কাজ থেকে আরেকটা কাজ, কষ্টের পর কষ্ট, টাকা জমাতে গিয়ে নিজের জীবনটাই যেন ভুলে গিয়েছিল রাশেদ।
মাস শেষে টাকা পাঠাতো—বউয়ের জন্য, সন্তানের জন্য, আর একটা স্বপ্নের জন্য—নিজের একটা পাকা বাড়ি।
১২ বছর পর, একদিন হঠাৎ করেই সে সিদ্ধান্ত নিল—
“আর না, এবার বাড়ি ফিরবো।”
হাতে কিছু টাকা, চোখে অনেক স্বপ্ন নিয়ে সে দেশে ফিরলো।
গ্রামের রাস্তায় পা রাখতেই বুকটা ধুকপুক করতে লাগলো।
সবকিছু আগের মতোই, কিন্তু কোথাও যেন একটা অচেনা ভাব।
নিজের বাড়ির সামনে এসে সে থমকে গেল।
তার জমির এক পাশে বিশাল একটা তিনতলা বিল্ডিং দাঁড়িয়ে।
সে মনে মনে হাসলো—
“মিতু তো সত্যিই আমার স্বপ্ন পূরণ করে ফেলেছে!”
কিন্তু পাশেই চোখ পড়তেই তার হাসি থেমে গেল।
একটা ছোট্ট টিনের ঘর…
ভাঙাচোরা, মাটির উঠান, পাশে একটা পুরোনো চৌকি।
সেখানেই বসে আছে একজন মহিলা—মাথায় ওড়না, মুখে ক্লান্তির ছাপ।
আর পাশে এক কিশোর ছেলে, পুরোনো জামা পরে।
রাশেদ এগিয়ে গিয়ে ধীরে বলল—
“মিতু…?”
মহিলাটা তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।
তারপর হঠাৎ করে কাঁপা গলায় বলল—
“রাশেদ… তুমি…?”
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ।
১২ বছরের দূরত্ব যেন এক মুহূর্তে চোখের জলে ভেসে গেল।
রাশেদ চারপাশে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল—
“এই টিনের ঘরে থাকো কেন? ওই বিল্ডিংটা তো আমাদের… না?”
মিতু মাথা নিচু করে বলল—
“ওটা আমাদের না…”
রাশেদ অবাক—
“মানে? আমি তো এত বছর টাকা পাঠালাম…!”
মিতু ধীরে ধীরে সব খুলে বলল—
“তুমি যে টাকা পাঠাতে, তার অর্ধেকই তোমার বড় ভাই নিয়ে নিতো। বলতো—বাড়ি বানাচ্ছে, জমি কিনছে।
আমরা বিশ্বাস করতাম…
শেষে দেখি, বিল্ডিংটা তার নিজের নামে।”
রাশেদের মাথা ঘুরে গেল।
“আর আমরা…?” সে কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল।
মিতু চোখ মুছে বলল—
“আমরা এই টিনের ঘরেই থাকি…
তোমার ছেলেকে পড়াতে পারিনি ঠিকমতো…
কিন্তু অপেক্ষা করেছি—তুমি একদিন ফিরবে।”
রাশেদ ছেলের দিকে তাকালো।
ছেলেটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে—তার বাবাকে প্রথমবারের মতো দেখছে।
সে ধীরে গিয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরল।
“আমি দেরি করে ফেলেছি…”
তার গলায় ভাঙা শব্দ।
ছেলেটা আস্তে বলল—
“না বাবা… তুমি এসেছো, এটাই অনেক।”
সেদিন রাতে টিনের ঘরের ভেতরে বসে রাশেদ অনেকক্ষণ চুপ ছিল।
বাইরে সেই বড় বিল্ডিং—যা তার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু তার না।
আর ভেতরে—তার সত্যিকারের ঘর, তার পরিবার।
সে মিতুর হাত ধরে বলল—
“আমি আবার শুরু করবো। এবার তোমাদের পাশে থেকে।”
মিতু মৃদু হাসলো—
“এইটাই তো চেয়েছিলাম…”
শেষ কথা:
কখনো কখনো মানুষ ঘর বানাতে গিয়ে, ঘরটাই হারিয়ে ফেলে।
আর ফিরে এসে বুঝে—
টাকা নয়, পাশে থাকা মানুষটাই আসল সম্পদ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Website
Address
রাজশাহী বাংলাদেশ
Bogura