Md. Enamul Haque Rabbi
I'm created this web
08/11/2025
“মাত্র ৫ দিনের দেরি… আর সেই দেরিই তাকে ঠেলে দিয়েছে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।”
৩৮ বছরের রফিক।
সরল, পরিশ্রমী এক মানুষ।
পাঁচ দিন আগে হালকা পেট ব্যথা শুরু হয়েছিল।
প্রথমে ভেবেছিলেন—“গ্যাস্ট্রিক।”
দুধ খেলেন, ওষুধ খেলেন, গুগলে সার্চ দিলেন “পেট ব্যথার ঘরোয়া উপায়।”
দ্বিতীয় দিনেও ব্যথা রয়ে গেল।
স্ত্রী বলেছিল, “হাসপাতালে চলেন।”
রফিক বলেছিল—“কাল দেখি, এখন কাজ আছে।”
চতুর্থ দিনে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লো পুরো পেটে।
খাবার খেলেই বমি, জ্বর, ঘাম, মুখ শুকিয়ে আসছে।
পঞ্চম দিনের সকালে রফিক অচেতন হয়ে পড়লেন।
হাসপাতালে আনা হলো—
এক্সরে তে দেখা গেলো, “Intestinal Perforation হয়েছে।”
অর্থাৎ, অন্ত্র ফেটে গেছে!
ভেতরের মল, জীবাণু ও গ্যাস পুরো পেটে ছড়িয়ে গেছে—
যাকে বলে Peritonitis — জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ ইনফেকশনগুলোর একটি।
এখন সে বেঁচে আছে ঠিকই, কিন্তু জীবন-মৃত্যুর সীমারেখায় দাঁড়িয়ে লড়ছে।
দিন-রাত চেষ্টা চলছে যেন সে ফিরে আসতে পারে।
তবু এই দেরির মাশুল যে কত ভয়াবহ!
এই ৫ দিনের দেরি-ই তার এই অবস্থার কারণ!
প্রথম দুই দিনে রফিক যদি হাসপাতালে আসতেন,
তাহলে হয়তো এত খারাপ হতো না।
কিন্তু দেরিতে আসায় ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে রক্তে,
বডি শকে চলে গেছে।
এখন সে ICU তে, ডাক্তারদের লড়াই চলছে সময়ের সঙ্গে।
কী হয় Intestinal Perforation এ?
অন্ত্রে ছিদ্র হয়ে গেলে পেটের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে মল ও জীবাণু,
ফলে শরীরের ভেতরে ভয়াবহ সংক্রমণ হয়।
এটি দ্রুত সেপসিস এ রূপ নেয়—
রক্তচাপ পড়ে যায়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
প্রধান কারণ:
দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক আলসার
টাইফয়েড আলসার
অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যাওয়া
NSAID বা ব্যথার ওষুধ বেশি খাওয়া
কীভাবে চিনবেন:
পেট ফুলে যাওয়া
তীব্র ব্যথা (হঠাৎ বা ধীরে ধীরে বাড়ে)
জ্বর, বমি, ঘাম, দুর্বলতা
ব্যথা পুরো পেটে ছড়িয়ে পড়া
করণীয়:
এক মুহূর্ত দেরি করবেন না!
যেকোনো হঠাৎ পেট ব্যথা বা ব্যথা পুরো পেটে ছড়িয়ে পড়লে
সরাসরি হাসপাতালে যান।
কারণ প্রতিটা ঘণ্টা মানে একধাপ কমে যাওয়া বেঁচে থাকার সম্ভাবনা।
সময়মতো আসলে বেঁচে থাকার সুযোগ থাকে ৮০% পর্যন্ত,
কিন্তু দেরিতে এলে তা নেমে আসে ২০%-এর নিচে!
Dr-Abdur Rahman
MBBS (শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ)
FCPS (Ortho) FP | PGT (Surgery) | CCD (BIRDEM)
“আমি প্রায়ই দেখি মানুষ গ্যাস্ট্রিক ভেবে দিন গোনে।
অথচ প্রতিদিন দেরি মানে, একধাপ করে মৃত্যু কাছে টেনে আনা।
পেট ব্যথা কোনো ‘সাধারণ’ বিষয় নয় —
সময়মতো আসাই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।”
একটা শেয়ার হয়তো কারও জীবন বাঁচাবে।
পেট ব্যথা কখনোই অবহেলা করবেন না।
22/09/2025
বিচ্ছেদের এক অন্য রূপ সাইলেন্ট ডিভোর্স বা নীরব বিচ্ছেদ
এটা এমন একটি সম্পর্ক যেখানে স্বামী-স্ত্রী মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, কিন্তু সামাজিকভাবে বা আইনত তারা বিবাহিত থাকেন। এটি এমন এক পরিস্থিতি যখন দুটি মানুষ একই ছাদের নিচে বসবাস করলেও তাদের মধ্যে কোনো মানসিক সংযোগ, আবেগিক আদান-প্রদান বা পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকে না। এটি প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের মতো কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি সম্পর্কের একটি অদৃশ্য ভাঙন।
সাইলেন্ট ডিভোর্সের লক্ষণসমূহ:
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অর্থপূর্ণ কথোপকথন একেবারেই কমে যায়। তারা দৈনন্দিন কাজকর্ম নিয়ে কথা বললেও আবেগিক বা ব্যক্তিগত বিষয়ে কোনো আলোচনা থাকে না।
একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি বা আগ্রহের অভাব দেখা যায়। কোনো পক্ষই অন্যজনের অনুভূতি বা প্রয়োজন নিয়ে মাথা ঘামায় না।
দম্পতিরা ইচ্ছাকৃতভাবে একে অপরের সাথে সময় কাটানো এড়িয়ে চলেন। তারা নিজেদের আলাদা রুটিন তৈরি করে নেন এবং যার যার নিজস্ব কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন
শারীরিক ঘনিষ্ঠতা সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এটি মানসিক দূরত্বের একটি বড় প্রতিফলন।
ছোটখাটো বিষয় নিয়েও ভুল বোঝাবুঝি হয় এবং কেউ ক্ষমা চাইতে বা বিষয়টি মিটমাট করতে আগ্রহী হয় না।
দম্পতিরা একসাথে কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেন না। প্রত্যেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
একে অপরের সফলতা বা ব্যর্থতায় কোনো রকম আগ্রহ বা অনুভূতি প্রকাশ পায় না।
অনেকগুলো কারণে সাইলেন্ট ডিভোর্স হতে পারে। এর মধ্যে কিছু প্রধান কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:
ছোটখাটো সমস্যাগুলো সমাধান না হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকলে তা বড় ধরনের মানসিক দূরত্ব তৈরি করে।
একবার বিশ্বাস ভঙ্গ হলে তা আবার ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ে, যা নীরব বিচ্ছেদের দিকে ঠেলে দেয়।
একজন বা উভয় সঙ্গী যদি মনে করেন তাদের আবেগিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, তবে তারা মানসিকভাবে দূরে সরে যেতে পারেন।
সন্তান লালন-পালন বা আর্থিক বিষয় নিয়ে তীব্র মতবিরোধ থাকলে তা সম্পর্কের অবনতি ঘটায়।
অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা বা সম্পর্কের জন্য সময় না দেওয়াও নীরব বিচ্ছেদের একটি কারণ হতে পারে।
অনুভূতি প্রকাশ করতে না পারা বা একে অপরের কথা শুনতে না চাওয়া সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সাইলেন্ট ডিভোর্সের প্রভাব শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি পুরো পরিবার, বিশেষ করে সন্তানদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দম্পতিরা নিজেদের মধ্যে একাকীত্ব এবং হতাশা অনুভব করেন।
বাবা-মায়ের এই নীরব বিচ্ছেদ দেখে সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং তাদের মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়। তারা ভুল ধারণা নিয়ে বড় হতে পারে যে, সম্পর্কে ভালোবাসা বা আবেগ প্রকাশ করা অপ্রয়োজনীয়।
অনেক সময় দম্পতিরা সামাজিকভাবে নিজেদের গুটিয়ে নেন এবং বাইরে স্বাভাবিক থাকার ভান করেন।
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ এমন নীরব বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
স্বামী-স্ত্রীকে নিজেদের মধ্যে খোলাখুলি কথা বলতে হবে। নিজেদের অনুভূতি, চাহিদা এবং সমস্যাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। একজন তৃতীয় পক্ষ নিরপেক্ষভাবে সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করতে পারেন।
পুরোনো স্মৃতিগুলো ফিরে দেখা এবং একসাথে নতুন কিছু করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি।
মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
সাইলেন্ট ডিভোর্স একটি জটিল সমস্যা যা অনেক সময় অজান্তেই সম্পর্কের গভীরে শিকড় গেড়ে বসে। সঠিক সময়ে এর লক্ষণগুলো চিহ্নিত করতে পারলে এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পর্ককে বাঁচানো সম্ভব। তবে যদি কোনোভাবেই সম্পর্ককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয়, তবে বিচ্ছেদকে একটি সুস্থ সমাধান হিসেবে মেনে নেওয়াও প্রয়োজন হতে পারে।
17/07/2025
একজন পুরুষ যখন সারাদিনের ধকল সামলে ঘরে ফেরে, তার মনে শুধু একটাই ইচ্ছা কাজ করে—একটুখানি শান্তি। রাস্তাঘাটের কোলাহল, অফিসের টেনশন, মানুষের নানা রকম ব্যবহার—সবকিছু মিলিয়ে তার মন তখন ক্লান্ত। আর তখন সে চায়, নিজের বাড়িটুকুই হোক তার আশ্রয়, একটু প্রশান্তির জায়গা।
একটা মেয়ে সারাদিন ঘরের কাজ করে, সন্তান সামলায়, রান্নাবান্না করে, নিজের শরীর-মন নিংড়ে দেয় পরিবারের জন্য। সেই শ্রমের কোনো তুলনা হয় না। কিন্তু একজন স্ত্রী যদি এই বাস্তবতা বোঝেন—যে তার স্বামীও একইভাবে সারাদিনের চাপ আর ক্লান্তি নিয়ে ফিরছে—তাহলে হয়তো সংসারটা হয়ে উঠতে পারে একটু বেশি নির্ভার।
যখন স্বামী দরজায় পা রাখে, প্রথম ১ ঘণ্টা তার জন্য রেখে দিন। কোনো অভিযোগ নয়, কোনো তাগাদা নয়, শুধু একটু আন্তরিকতা। তাকে একটা গ্লাস পানি বা শরবত দিন, জিজ্ঞেস করুন, “কেমন কাটল দিনটা?” তার ক্লান্ত মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন। এ সময় তাকে বলে ফেলবেন না—প্লেট ভেঙে গেছে, বাজার শেষ, কারেন্ট বিল দিতে হবে, কিংবা আপনি কেন ফোন দিলেন না আজ!
ধরা যাক, আপনার সন্তান কাঁদছে, আপনিও ক্লান্ত, কিন্তু স্বামী দরজায় পা রাখার সেই প্রথম ঘণ্টা যেন শুধু ওর হয়। ওর চোখে যেন আপনি হন শান্তির ঠিকানা। আপনার ভালোবাসা, যত্ন, সম্মান—এসবই তাকে মনে করিয়ে দিক, সে তার ঘরে ফিরে এসেছে।
পুরুষদের অনেকেই ভেতরে ভেতরে খুব আবেগী হয়, কিন্তু প্রকাশ করতে জানে না। আপনি যদি এমন করে তার মনের জায়গাটা বুঝে নিতে পারেন, তাহলে সে নিজেই বলবে—আজ অফিসে কী হলো, কেন সে ফোন দেয়নি, কেন তার মন খারাপ ছিল। আপনাকে বিশ্বাস করে নিজে থেকেই সব বলবে। তখন আপনি চাইলেও হয়তো তার উপর রাগ করতে পারবেন না।
বলা হয়, নারীর কাছে সংসারটা নির্ভর করে। পুরুষ টাকা এনে দিতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার বাতাসে ভরিয়ে দিতে পারে একজন নারীই। আপনি যদি চুপ থেকে, নিজের ইগো একটু সরিয়ে রেখে ওকে জায়গা দেন—তাহলে হয়তো রাতের খাবার শেষে সে নিজেই বলবে, “আজ চা আমি বানিয়ে দিই তোমায়।” এই একটা মুহূর্তের জন্যই তো বাঁচা, এই ভালোবাসার ছায়াটুকুর জন্যই তো এত আয়োজন।
এক ঘণ্টার এই নিরব, ভালোবাসাময় প্রস্তুতির জন্য আপনি কিছু হারাবেন না। বরং দিনের বাকি সময়টা আপনারই হয়ে উঠবে। আবদার, হাসি, এমনকি যদি ঝগড়াও হয়—তাও ভালোবাসার কাঠামোতেই হবে।
সব দাম্পত্যেই চাপ থাকে, ক্লান্তি থাকে। কিন্তু সেটা ঘুচে যেতে পারে একজন স্ত্রীর ছোট্ট একটু চেষ্টায়। ভালোবাসার বাড়ি বানানো কঠিন নয়, দরকার শুধু বোঝার মানসিকতা।
ভালো থাকুক সব দম্পতি। ভালোবাসা থাকুক সবার সংসারে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Address
Brahmanbaria
3450