Basic Knowledge Centre - BKC
BKC is a tuition centre for the students of class 6-12, BBS, BBA, Honours, Master, MBA, Law and ACCA.
29/09/2016
সাকিব আল হাসান কি জিপিএ ফাইভ পেয়েছিলেন?
- আসাদুজ্জামান নূর
আমরা যেভাবে আমাদের সন্তানদের বড় করছি, আমার নিজের মনে হয় এটা সঠিক না। ভালো রেজাল্ট করতে হবে, লেখাপড়া করতে হবে, নিশ্চয়ই করতে হবে। আমি অনেক বাবা-মাকে বলেছি যে আপনার ছেলেমেয়েকে আপনি গল্পের বই পড়তে দেন, কবিতার বই পড়তে দেন, অ্যাডভেঞ্চারের বই পড়ুক, গোয়েন্দা কাহিনি পড়ুক, ভ্রমণকাহিনি পড়ুক, ইতিহাসের কাহিনি পড়ুক, জীবনকাহিনি পড়ুক, পড়তে দেন। যত পড়বে ওর মস্তিষ্ক তত সতেজ ও সজীব হবে। এবং তারপর ও যখন বইয়ের পাঠ্যপুস্তকটা পড়তে যাবে, তখন যে জিনিসটা বুঝতে ওর তিন ঘণ্টা সময় লাগত, সেটা ৩০ মিনিটে শিখতে পারবে। অন্যথায় সে কী করছে? বইয়ের পাতা পড়ছে, বইয়ের পাতা পড়ছে...ওর মস্তিষ্ক তো শুকিয়ে যাচ্ছে। ও তো ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। এই ক্লান্ত মস্তিষ্ক নিয়ে তো ভালো ছাত্র হতে পারে না। এটা অনেক বাবা-মা বুঝতে চান না।
আমার একজন মায়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, আমরা এক ফ্লাইটে আসছিলাম সৈয়দপুর থেকে। উনি বলছেন, ‘এই যে, আপনাকে পেয়ে ভালোই হলো। আপনি শিক্ষামন্ত্রীকে গিয়ে একটা কথা বলবেন। এই যে আপনারা চারু ও কারুকলা শুরু করেছেন স্কুলে পড়ানো, এটা পড়ে কী হবে? আমার ছেলে কি জয়নুল আবেদীন হবে?’ তারপরে বললেন, আপনারা শরীরচর্চা বাধ্যতামূলক করেছেন, ‘এতে তো লেখাপড়ার খুব ক্ষতি হচ্ছে।’ একজন মা বাচ্চার কথা এভাবে বলছেন। তো আমি তাঁকে বললাম, ‘আচ্ছা, আপনার বাচ্চাকে আপনি কীভাবে মানুষ করতে চান?’ বললেন, ‘লেখাপড়া শিখবে, ভালো চাকরি করবে।’ বললাম, ‘নিশ্চয়ই, আমরা সবাই-ই চাই যে আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে ভালো ফল করবে, ভালো চাকরি করবে, ব্যবসা করবে, অনেক টাকা আয় করবে। আমি-আপনি নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করব। ছেলেমেয়েরা আয় করলে তো আমরা নিশ্চিন্ত।’
তো আমি বললাম যে আপনি ক্রিকেট খেলা দেখেন? বললেন, ‘হ্যাঁ দেখি। আমরা বাড়িশুদ্ধ সবাই-ই খুব ক্রিকেট খেলা পছন্দ করি।’ আমি বললাম আপনার প্রিয় খেলোয়াড় কে? বলছি কয়েক মাস আগের কথা। তো উনি বলছেন যে সাকিব আল হাসান। আমি বললাম, আপনি কি জানেন সাকিব আল হাসান কয়েক দিন পরে আইপিএলে খেলতে যাচ্ছেন ইন্ডিয়াতে? তিনি ওখানে মাস দেড়েক থাকবেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলবেন। সব খেলা যে খেলবেন এমনও না। কিছু খেলা খেলবেন কিছু খেলা খেলবেন না। তো উনি কত টাকা পাবেন আপনি জানেন? বললেন, না জানি না। আমি বললাম, প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা পাবেন। তো কেউ কি জিজ্ঞেস করে যে ‘সাকিব আল হাসান, আপনি কি জিপিএ ফাইভ পেয়েছিলেন কি না?’
আমি বললাম, আমাদের একজন এমপি আছেন। সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। খুব ভালো গান করেন। তো উনি গান করতে কত টাকা নেন, আপনি জানেন? বললেন, ‘না, আমার তো কোনো ধারণাই নেই।’ আমি বললাম, আমার আছে। কারণ ওনার সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। আপনার সঙ্গে যদি খুব ভালো বন্ধুত্ব থাকে, তাহলে মোটামুটি পাঁচ লাখ টাকায় রাজি হতে পারেন। আর যদি না থাকে তাহলে ১০ লাখ টাকা। আর যদি বিদেশে নিয়ে যান তাহলে ২৫ লাখ টাকা। আমি ধরে নিলাম যে সবার সঙ্গেই ওনার বন্ধুত্ব, উনি পাঁচ লাখ টাকা করেই নিচ্ছেন এবং মাসে ১০টা অনুষ্ঠান করেন। তাহলে কত টাকা পাবেন? ৫০ লাখ টাকা। কেউ কি জিজ্ঞেস করেন যে মমতাজ বেগম, আপনি কী পাস করেছেন?
তো আমি বললাম যে আসলে পয়সা তো নানাভাবে আয় করা যায়। তাঁর জন্য যে সব সময় আপনাকে মহাপণ্ডিত হতে হবে—এমন কোনো কথা নয়। আমি বলছি না যে আপনার ছেলেমেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করে তাকে ক্রিকেট খেলতে নামিয়ে দেন। সাকিব আল হাসান তো ভালো লেখাপড়া জানা ছেলে, আমি জানি। কিন্তু কথাটা হলো আপনারা যেভাবে দেখছেন, জীবনটা এ রকম নয়। আমি আরও বললাম, আমাদের একজন বিখ্যাত শিল্পী আছেন কাইয়ুম চৌধুরী। মারা গেছেন কিছুদিন আগে। তাঁর একটা তেলরঙের পেইন্টিংয়ের দাম ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। কেউ তো খোঁজ করেননি কাইয়ুম চৌধুরী কী পাস করেছেন? সুতরাং মানুষের মেধার বিকাশ নানাভাবে হতে পারে। আমাদের সন্তানদের মধ্যে কিন্তু আমরা সেই সম্ভাবনাগুলো দেখার কোনো চেষ্টা করি না। আমরা শুধু পাস, ভালো রেজাল্ট চাই।
ক্লাসে তো একটা ছেলে ফার্স্ট হবে, একটা ছেলে সেকেন্ড হবে। তাই বলে যারা ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড, ফোর্থ—এগুলো হবে না, তাদের আমরা বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেব? আমি তো বুঝতে পারি না! তাঁদের দিয়ে আর কিছু হবে না? আমি জানি না জামান ভাই (অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান) কত ভালো ছাত্র ছিলেন। তবে আমি ছিলাম না।
তো যা-ই হোক, আমি তারপর আবারও সেই ভদ্রমহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা, আপনি আইনস্টাইনের ছবি দেখেছেন? মহাবিজ্ঞানী, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয় তাঁকে।’ বলেন যে, ‘না, আমি দেখিনি।’ লক্ষ করে দেখবেন, উনি যেখানেই যেতেন ওনার হাতে একটা ছোট্ট বাক্স থাকত। এবং সেই বাক্সটার মধ্যে কী থাকত জানেন আপনারা? একটা ভায়োলিন থাকত, একটা বেহালা! অত বড় একজন বিজ্ঞানী, তার যদি বেহালা শেখার সময় হয়ে থাকে, বেহালা বাজানোর সময় হয়ে থাকে, তাহলে আমরা এমন কী পণ্ডিত হয়েছি যে আমাদের একটু গান করার সময় হবে না? একটা কবিতা পড়ার সময় হবে না, একটা ছবি আঁকার সময় হবে না?
আমরা তো ছেলেমেয়েদের সেই সুযোগগুলো দিচ্ছি না। সেই জন্যই বলছি, আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির জায়গাটা নতুন করে ভাবা দরকার। চিন্তাভাবনা করা দরকার। এটা ছিল একসময়। এটা কী করে যেন আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে গেল। আমরা এখন শুধু পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা মুখস্থ করাচ্ছি। আজকে যে ঘটনাগুলো ঘটছে, এটাও তার একটা বড় কারণ বলে আমার মনে হয়। আপনারা এখানে বিজ্ঞজনেরা আছেন, শিক্ষক আছেন, মেধাবী ছাত্রছাত্রী আছেন। আপনারা সবাই ভাববেন যে আমরা এটা নিয়ে কী কাজ করতে পারি। কীভাবে আমাদের সন্তানদের সুসন্তান হিসেবে, মানুষ হিসেবে, বাঙালি হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। (সংক্ষেপিত)
01/08/2015
বৈদ্যুতিক বাতি'র আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসন'র একটি উদ্দীপনামূলক সত্য কাহিনী যা অন্যের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। :)
টমাস আলভা এডিসন যখন টাংস্টেন তারের পৃথিবীর প্রথম বৈদ্যুতিক বাল্বটি আবিষ্কার করেন তখন তার ল্যাবে ভীষণ ভীড়-ভাট্টা, সাংবাদিক, বন্ধুবান্ধবে গিজগিজ করছে। বাল্বটি যখন প্রথমবারের মত জ্বলে উঠলো তখন সবাই আনন্দে হই হই করে উঠলো। এবার এডিসন সাবধানে বাল্বটি খুলে তার চাকরের হাতে দিয়ে বললেন, “সাবধানে পাশের ঘরে রেখে আসো।” সাবধানে বলার কারণেই কিনা এডিসনের বেকুব চাকর পৃথিবীর প্রথম বাল্বটি তৎক্ষণাৎ হাত থেকে ফেলে ভেঙে চুরমার করে দিলো। আশেপাশের সবাই হায় হায় করে উঠলো। সিটিয়ে গেল চাকরটি, শুধু এডিসন কিছু বললেন না।
এর কিছুদিন পর দ্বিতীয়বারের মতো এডিসন বাল্বটি তৈরী করলেন। বলা যায় পৃথিবীর দ্বিতীয় বৈদ্যুতিক বাল্ব। এবারও তার ল্যাবে ভীড় আগের মতোই। এবারও বাল্বটি জ্বলে উঠলো সবাই আনন্দে হই হই করে উঠলো এবং এবারও এডিসন বাল্বটি সাবধানে পাশের ঘরে রেখে আসার জন্য তার চাকরকে ডাকলেন। সবাই আঁতকে উঠলো, “কি করছেন, কি করছেন, ঐ গাধাটা আবার বাল্বটা ভাঙবে, আপনি নিজ হাতে রেখে আসুন, নইলে আমাদের কারো হাতে দিন। এডিসন স্মিত হেসে বললেন, “ও যদি এবারও বাল্বটা ভাঙে সেটা আমি আবার তৈরী করতে পারব। কারণ এর ম্যাকানিজমটা আমার মাথায় আছে; কিন্তু প্রথম বাল্বটি ভাঙ্গার পর আমার চাকরের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যে চুরমার হয়েছে সেটা জোড়া লাগাতে বাল্বটা এবারও তার হাতেই দিতে হবে।” চাকরটি অবশ্য বাল্বটি না ভেঙ্গে ঠিক জায়গায় রেখে আসতে পেরেছিলো। (y)
টমাস আলভা এডিসন (ফেব্রুয়ারি ১১, ১৮৪৭ - অক্টোবর ১৮, ১৯৩১) ছিলেন মার্কিন উদ্ভাবক এবং ব্যবসায়ী। তিনি গ্রামোফোন, ভিডিও ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব) সহ বহু যন্ত্র তৈরি করেছিলেন যা বিংশ শতাব্দীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
এডিশন ইতিহাসের অতিপ্রজ বিজ্ঞানীদের অন্যতম একজন বলে বিবেচিত, যার নিজের নামে ১,০৯৩টি মার্কিন পেটেন্টসহ যুক্তরাজ্যে, ফ্রান্স এবং জার্মানির পেটেন্ট রয়েছে। গণযোগাযোগ খাতে বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতে তার বহু উদ্ভাবনের মাধ্যমে তার অবদানের জন্য তিনি সর্বস্বীকৃত। যার মধ্যে একটি স্টক টিকার, ভোট ধারনকারী যন্ত্র, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারী, বৈদ্যুতিক শক্তি, ধারনযোগ্য সংগীত এবং ছবি। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি সাধনকারী তাঁর কাজগুলো তাঁকে জীবনের শুরুর দিকে একজন টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলে। বাসস্থান, ব্যবসায়-বানিজ্য বা কারখানায় বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন ও বন্টনের ধারনা এবং প্রয়োগ দুটিই এডিসনের হাত ধরে শুরু হয় যা আধুনিক শিল্পায়নের একটি যুগান্তকারী উন্নতি। নিউইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপে তাঁর প্রথম বিদ্যুত কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়।
- উইকিপিডিয়া।
18/07/2015
রথযাত্রা বা রথদ্বিতীয়া একটি আষাঢ় মাসে আয়োজিত অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর কৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের স্মরণে এই উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে।
রথযাত্রার দিন পুরীর জগন্নাথ মন্দির সহ দেশের সকল জগন্নাথ মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও সুদর্শন চক্র মূর্তি মন্দির বাহিরে সর্বসমক্ষে বাহির করা হয়। তারপর তিনটি সুসজ্জিত রথে (কোনো কোনো স্থলে একটি সুসজ্জিত সুবৃহৎ রথে) বসিয়ে দেবতাদের পূজা সম্পন্নপূর্বক রথ টানা হয়। পুরীতে রথ টানতে প্রতি বছর লক্ষাধিক পূণ্যার্থীর সমাগম হয়।
পুরীতে বছরে এই একদিনই অহিন্দু ও বিদেশীদের মন্দির চত্বরে এসে দেবদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়। পুরীতে যে রথগুলি নির্মিত হয় তাদের উচ্চতা ৪৫ ফুট। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলে এই রথযাত্রা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
১৯৬৮ সাল থেকে ইসকন হরে কৃষ্ণ আন্দোলনের ফলস্রুতিতে সারা বিশ্বের বিভিন্ন শহরে রথযাত্রা শুরু হয়। এই সংঘের নেতা এ সি ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ লন্ডন, মন্ট্রিল,
09/07/2015
জীবনের গল্প
বিচিত্রা সেন।
সহকারী অধ্যাপক।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম।
(৫)
শ্বশুর বাড়িতে পা রেখেই মিতু বুঝতে পারল ওদের পরিবারের সাথে এদের সবদিক দিয়েই বিস্তর ব্যবধান। সে এটাও বুঝতে পারলো যে, নয়নই ওদের পরিবারের প্রথম উচ্চশিক্ষিত। ওদের আত্মীয় স্বজনদের কথাবার্তা শুনে ওর মন খুব খারাপ হয়ে গেল। খুবই অশিক্ষিত ওরা। যাই হোক মিতু ভাবলো, তাকে এদের নিয়েই থাকতে হবে। সুতরাং, মন খারাপ করলে চলবে না। কিন্তু একটা ব্যাপারে তার মন খুব খুঁতখুঁত করছে। তাকে যখন বরণ করে নেওয়া হচ্ছিল তখন একজন বয়স্কা মহিলা তার শ্বাশুড়ীকে বলছিল, “যে কালো বউ ঘরে আনলে, একে দিয়ে তোমার ছেলেকে ফেরাতে পারবে?” তার শ্বাশুড়ী তাড়াতাড়ি কথাটাকে এড়িয়ে গেলেন।
এরপর থেকেই মিতুর মনটা ভার হয়ে আছে। কোথা থেকে নয়নকে ফেরাতে হবে তাকে? সারাদিন নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে গেল। এর মাঝে কিন্তু একটিবারের জন্যও নয়ন তার খবর নিল না। মিতুর চোখ বার বার তাকে খুঁজে বেড়াতে লাগলো। সন্ধ্যার পরে তার ঘরে এল নয়ন। বলল, “কেমন দেখলে তোমার শ্বশুর বাড়ি? এখানেই কিন্তু তোমাকে থাকতে হবে। আমি হয়তো মাসে কিংবা দুই মাসে একবার আসবো। আমার বাবা মা এর সেবা করাই তোমার প্রধান কাজ আমার এখন বিয়ে করার কোন ইচ্ছেই ছিল না। শুধু বাবা মার জন্য বিয়ে করেছি।” মিতু চুপ করে শুনে যাচ্ছিল , কিছুই বলল না সে। তার মনে বার বার ঘুরপাক খাচ্ছিল তিনটা শব্দ ‘ওকে ফেরাতে হবে।’
এরপর একটা একটা দিন যাচ্ছিল আর মিতু বুঝতে পারছিল তার কল্পনার সংসার জীবনের সাথে বাস্তবের সংসারের কোনো মিলই নেই। নয়ন বিয়ের পর ১৫ দিন ছিল বাড়িতে। এই সময়টা সে মিতুকে নিয়ে যত কথা বলেছে তার সবটুকুই ছিল মিতু যেন ঘরের কাজকর্ম তাড়াতাড়ি শিখে নেয়। লাকড়ীর চুলাতে রাঁধতে গিয়ে মিতু গলদঘর্ম হলেও নয়নের বিন্দুমাত্র সহানুভুতি পায়নি। বরং রান্নাঘর থেকে যখনি খেয়াল করেছে দেখা গেছে নয়ন চুটিয়ে কারো সাথে ফোনে কথা বলছে। মিতু রুমে আসলেই ব্যস্ততার ভান করে রুম থেকে বেরিয়ে গেছে।
মিতুর কিছু বলার ছিল না। নয়ন এমন দূরত্ব রাখে তা অতিক্রম করে নয়নের কাছাকাছি যাওয়া মিতুর সম্ভব হয় না। আরেকটা ব্যাপার মিতু খেয়াল করেছে নয়নকে বাড়ির সবাই খুব ভয় পায়। ও চাওয়ার আগেই সবকিছু ওর জন্য তৈরী করে রাখা হয়। আরো একটা বিষয় মিতুর চোখে পড়েছে, আর তা হলো মিতুর শ্বাশুড়ী কিছুতেই মিতুকে একা রেখে কোথাও সরে না এবং কাউকে মিতুর কাছে আসতে দেয় না।
১৪ দিন হয়ে গেলো মিতুর বিয়ে হয়েছে। মা বাবা প্রতিদিন ফোন করে জানতে চান মিতু কেমন আছে। মিতু জানায় সে খুব ভাল আছে। আসলেই তো সে খারাপ নেই। যেসব প্রশ্ন তাকে পীড়া দিচ্ছে এসব কি মা বাবাকে বলবে সে! তাই সে ভালোই আছে বলে। কালকে নয়ন চলে যাবে তার কর্মক্ষেত্রে। মিতুকে কয়েক দিনের জন্য তার বাবার বাসায় যাবার অনুমতি দিয়েছে। তবে ৭ দিনের বেশি থাকতে পারবে না। মিতু সব গুছিয়ে নিচ্ছে। নয়ন রুমে নেই। ওর ফোন বেজেই চলেছে। ও কখনো ফোন রেখে কোথাও যায় না। বার বার বাজছে দেখে খুব জরুরী ফোন মনে করে মিতু রিসিভ করতে গেলো। হাতে নিয়ে দেখলো কেয়া নামের কেউ ফোন করেছে। ‘হ্যালো’ বলতেই ও পাশ থেকে ফোন কেটে দিল।
সাথে সাথেই রুমে ঢুকলো নয়ন। মিতু ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বললো, “কেয়া নামের একজন ফোন করেছে।” সাথে সাথে নয়ন ছোঁ মেরে ফোনটা কেড়ে নিল। তার চোখে আগুন জ্বলে উঠল। বলল, “আমার ফোন ধরার সাহস তোমাকে কে দিল?” মিতু বিস্ময়ে হতবাক।
- চলবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the university
Telephone
Address
Chittagong
Opening Hours
| Monday | 07:00 - 21:15 |
| Tuesday | 07:00 - 09:15 |
| Wednesday | 07:00 - 09:15 |
| Thursday | 07:00 - 09:15 |
| Saturday | 07:00 - 09:15 |
| Sunday | 07:00 - 09:15 |