Front Line
"Having a hand (support) on your shoulder during difficult times is much better/valuable than clappin
19/02/2026
অভিনন্দন বার্তা নাকি চুক্তি অনুযায়ী দেশের ভুখন্ড বুঝে নেওয়ার আদেশ?
ডোনাল্ড ট্রাম্প তারেক রহমানকে লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করতে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি। বাংলাদেশে নিযুক্ত আমার রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। একসঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে আমাদের উভয় জাতিকে আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করার সুযোগ রয়েছে।’
নির্বাচনের উত্তাপে ঢাকা পড়ে গেছে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের চুক্তি
নিচে এর কিছু আপত্তিকর অংশ তুলে ধরা হলো।
Section 3: Digital Trade (ডিজিটাল বাণিজ্য)
মূল কথা (Article 3.1 - 3.3):
ডিজিটাল সেবার ওপর কোনো শুল্ক বসানো যাবে না। বাংলাদেশে সংগৃহীত ডেটা (Data) বা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না (Free transfer of data)!
Section 4: অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা
এটিই এই চুক্তির সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং অংশ, যা "সার্বভৌমত্ব" নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
Article 4.1 & 4.2:
মূল কথা:
বাংলাদেশ যদি এমন কোনো দেশের (যেমন: চীন) কোম্পানির সাথে ব্যবসা করে যারা "বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে" পণ্য দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা (Sanction) দিলে, বাংলাদেশকেও তা মেনে চলতে হবে এবং সেই অনুযায়ী রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
প্রভাব কি হতে পারে?:
বাংলাদেশ চীন বা অন্য কোনো দেশ থেকে সস্তায় কাঁচামাল বা পণ্য কিনতে বাধার সম্মুখীন হতে পারে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সাথে গেঁথে যাবে। স্বাধীনভাবে বাণিজ্যের সঙ্গী নির্বাচনের সুযোগ কমবে।
Article 4.3: পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও প্রতিরক্ষা
মূল কথা হল:
বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি বা জ্বালানি কিনতে পারবে না যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে (পরোক্ষভাবে রাশিয়ার দিকে ইঙ্গিত)।
প্রভাব কি হতে পারে? :
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা ভবিষ্যতের প্রকল্পে রাশিয়ার সহায়তা নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
Section 5: বাধ্যতামূলক কেনাকাটা
এই অংশটি সরাসরি "জিম্মি" দশার মতো মনে হতে পারে। এখানে সরাসরি কী কী কিনতে হবে তার তালিকা দেওয়া হয়েছে।
Article 5.1 & 5.2: যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের খনিজ সম্পদ, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ খাতে অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
Article 5.3 (Textiles): বাংলাদেশের পোশাকের শুল্কমুক্ত সুবিধা তখনই দেওয়া হবে যদি বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ তুলা (Cotton) আমদানি করে।
Article 5.4 & Annex III (Purchases): বাংলাদেশ বাধ্যতামূলকভাবে নিচের জিনিসগুলো কেনার চেষ্টা করবে:
বিমান: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ১৪টি বোয়িং বিমান কিনতে হবে।
জ্বালানি: ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন এলএনজি (LNG) গ্যাস কিনতে হবে।
কৃষি পণ্য: বছরে ৭ লাখ টন গম, ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের তুলা কিনতে হবে।
প্রভাব কি হতে পারে? :
এটি বাণিজ্যের চেয়ে "চাপিয়ে দেওয়া কেনাকাটা" বেশি মনে হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রয়োজন বা সামর্থ্য থাকুক বা না থাকুক, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর লাভের গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে।
Section 6: Enforcement
Article 6.4: যদি যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশ কোনো শর্ত মানছে না, তবে তারা আবার আগের মতো উচ্চ শুল্ক (Tariff) আরোপ করতে পারবে।
প্রভাব: চুক্তির চাবিকাঠি পুরোটাই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তারা বিচারক ও জল্লাদ—উভয় ভূমিকাই পালন করবে।
সবশেষে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (Military Equipment) কিনতে সম্মত হয়েছে। এটি মূলত বাংলাদেশের মার্কিন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোর একটি অপ কৌশল।
সোর্স কমেন্টে
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
3708