Hasnaverse

Hasnaverse

Share

প্রকৃতি, বই আর শান্ত আত্মার ঠিকানা - Hasnaverse☘️

08/03/2026

আমার কানটা ছিঁড়ে ফেলে কী লাভ হলো বলুন তো?

আজ নারী দিবস।
সকালে ঘুম থেকে উঠে বেশ ফুরফুরে মন নিয়ে ক্যাম্পাসে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরে সবাইকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানালাম। এরপর শাড়ি পরে পরিপাটি করে বিনুনি বাঁধলাম। গন্তব্য বইমেলা। রিকশায় উঠে ফোনটা হাতে নিতেই একটা খবরে চোখ আটকে গেল। চট্টগ্রামে এক ছিনতাইকারী মেয়েদের চুল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। খবরটা পড়ে মনটা বিষণ্ণ হয়ে গেল।
আমি তখনো জানতাম না, আমার জন্য এর চেয়েও বড় কোনো চমক অপেক্ষা করছে।
সামান্য এক তোলা সোনার জন্য কেউ একজন রিকশা থেকে ছোঁ মেরে আমার কানের দুল ছিঁড়ে নিল। দুলের সাথে সাথে নিয়ে গেলো আমার মনোবল। আর দিয়ে গেলো ট্রমা আর কানের যন্ত্রণা। এমন করে লোকটার কী লাভ হলো কে জানে! হয়তো কয়েক হাজার টাকা। কিন্তু আমার ভেতরে সে আজীবনের জন্য একটা ভয়াবহ ভয় আর ট্রমা গেঁথে দিয়ে গেল। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, আমার তার ওপর রাগ হচ্ছে না। তবে যে আমার সাথে এমনটা করল, আল্লাহ করুক তার পরিবারের মেয়েরা অন্তত নিরাপদে থাকুক।
আমাদের দেশের মানুষের একটা দারুণ গুণ আছে। বিপদে কেউ এগিয়ে না আসলেও ট্রমাটিক মোমেন্টে আরও ট্রমাটাইজড করে দিতে পারা তাদের কাছে হয়তোবা গর্বের বিষয়। কান দিয়ে রক্ত পরছে, আমি হতভম্ব হয়ে বসে আছি। তখনই আশেপাশের কয়েকজনের কাছে শুনতে হলো - "মেয়ে মানুষ, বোরকা পরে বের হবেন না? মাথায় কাপড় দিয়ে বের হবেন। এভাবে বের হলে এমন তো হবেই!"
শারীরিক কষ্টের চেয়েও এই কথাগুলো আমাকে বেশি আহত করল। আপনাদের ধন্যবাদ।
রিকশা এগোতে থাকল। গলার কাছে দলা পাকিয়ে আছে। কিন্তু আমাকে বইমেলায় যেতেই হবে। মেলায় কয়েকজন অপেক্ষা করছে আমার হাত থেকে আমার বই 'শূন্য দশমিক পাঁচ' নেবে বলে। এই মানুষগুলোকে নিরাশ করা যাবে না। কোনোভাবেই না।
একটা সিগন্যালে এসে রিকশা কখন থেমেছে জানিনা। আমি তখনো ঘোরের মধ্যে আছি। হঠাৎ একজন হিজড়া এসে ডাক দিল - "আপু!"
আচমকা ডাকে হতভম্ব আর আতঙ্কিত আমি আরও আতঙ্কিত হয়ে লাফিয়ে উঠে ভয়ার্ত গলায় কেঁদে উঠলাম। আমার কান্না দেখে ঐ হিজরা ট্যাগকৃত মানুষটা আমাকে জড়িয়ে ধরে বারবার বলল তুই কাঁদিস কেনো রে? আমি কি বাঘ নাকি ভাল্লুক। আপনারা সমাজের যে মানুষগুলোকে সবচেয়ে বেশি ঘেন্না করেন, সেই মানুষটাই আজ আমার সাথে ঘটা ঘটনাটি শোনার পর আমাকে জাজ করেনি। জড়িয়ে ধরে শান্ত করেছে আমায়।

আমি এখন বইমেলায়। কেন্দ্রবিন্দু প্রকাশনীর ৫৩৯ নম্বর স্টলে বসে আছি। কানটা এখনো চিনচিন করছে। তবে তার চেয়েও বেশি চিনচিন করছে বুকের ভেতরটা। হাত - পা কাপছে, হার্টবিট এখনও কমেনি। চারপাশের কোলাহল দেখছি আর ভাবছি - পৃথিবীটা কত অদ্ভুত!

হয়রানি যে কত ভয়ংকর আর কত রকমের হতে পারে, তা কল্পনারও বাইরে। মেয়েদের আর কত সাবধানে থাকতে বলবো বলুনতো! তাই আমি সকল ভাইদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করে বলছি - হয়রানির কোনো নির্দিষ্ট রূপ নেই, আর মেয়েদের পক্ষে সব দিক সামলানোও সম্ভব নয়। তাই বাইরে বের হলে আশপাশের মেয়েদের দিকে একটু খেয়াল রাখবেন। আপনার ঘরের মা, বোন, স্ত্রী বা মেয়ের মতোই, রাস্তার অচেনা মেয়েটিও প্রতিনিয়ত হাজারটা বিপদের মাঝে থাকে। আপনাদের একটু নজরদারি আর সচেতনতা তাদের এই অদৃশ্য বিপদগুলো থেকে বাঁচাতে পারে, ট্রমাটাইজড হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে।
আর যদি তা না পারেন তাহলে দয়া করে চুপ করে থাকবেন। অযথা কটু কথা বলে তাকে আরও ট্রমাটিক করে দিবেন না।

সবাইকে আবারও নারী দিবসের শুভেচ্ছা💜

হাসনা আক্তার মীম
কেন্দ্রবিন্দু, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
০৮.০৩.২০২৬

বি.দ্র. ছবিতে যে দুলটা দেখতে পাচ্ছেন এটারই আরেকটা নিয়ে গেসে।

Photos from Hasnaverse's post 07/03/2026

বইমেলার দশম দিনের আংশিক.....
আমি সকলের নিকট কৃতজ্ঞ। দোয়ায় রাখবেন, ভালো থাকবেন🙏🌸

07/03/2026

শূন্য দশমিক পাঁচ - যাকে উৎসর্গ করা, ইনিই তিনি। আমার বাবা। বই হাতে নিয়েই বাবা বলেছে - এত্তো বড় বইটা তুমি লিখে ফেলেছো! বাহ্।
আজ বইমেলার দশম দিনে বাবা এসে বইয়ের পেমেন্ট করে বই নিয়ে গেছে💜

07/03/2026

আজ ৭ই মার্চ, বইমেলার দশম দিনে আমি এবং আমার প্রথম সন্তান "শূন্য দশমিক পাঁচ" আমরা দু'জনেই আছি বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্রবিন্দু প্রকাশনীর ৫৩৯-৫৪৩ নং স্টলে।
সকলে বইমেলায় আসুন এবং আমাদের সাথে দেখা করে যান।

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


Dhaka