Onabil
যা মনে আসে...
একটা নামহীন গল্প
আমার জীবনের শুরুর দিকে, যখন স্কুলব্যাগে স্বপ্ন গুছিয়ে চলতাম, তখনই বোধহয় প্রথম অনুভব করেছিলাম “ভালোবাসা” জিনিসটা কী। ক্লাসে একটা ছেলে ছিল—না, তার নামটা বলা হবে না। কারণ এই গল্পটা তার চেয়েও বেশি আমার।
সাদা জামা, নীল প্যান্ট, গলায় টাই—এই নির্দিষ্ট ইউনিফর্মের মাঝে যেন তার আলাদা একটা চেহারা ছিল। সে যখন হেসে কিছু বলত, তখন ক্লাসরুমটা যেন অন্যরকম হয়ে যেত। আর আমি—চুপচাপ এক কোণে বসে তার দিকে তাকিয়ে থাকতাম, যেমন কেউ নিঃশব্দে গ্রীষ্মের বিকেলে হঠাৎ জোছনার অপেক্ষা করে।
আমি কখনো তাকে বলিনি, সে জানেও না। এটা ছিল আমার জীবনের এক অপ্রকাশিত অধ্যায়—প্রথম প্রেম। চিরকাল নিজের মনে লুকিয়ে রাখা ভালোবাসা।
সময় গড়িয়ে গেছে। আমরা দশম শ্রেণি পেরিয়ে দুইজন দুই পথে চলে গেছি। কেউ কোনো দিন জানালো না, কেমন ছিল মনের ভেতরের সেই চাপা অনুভবটা। আমি ভাবতাম, হয়তো একদিন কোথাও হঠাৎ দেখা হবে—পুরোনো কোনো বইয়ের পৃষ্ঠার মতো অদ্ভুত পরিচিত লাগবে মুখটা, আর সে হয়তো বলবে, “তুই কি তখন…?”
কিন্তু বাস্তব গল্পগুলো সিনেমার মতো হয় না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, সে কোথায় গেল—জানি না।
তবে মাঝে মাঝে ফেসবুকে তার কোনো পুরোনো ছবি ভেসে উঠলে কিছু মুহূর্ত থমকে যায়। এখনো আমার মনে পড়ে, একবার ও আমার খাতাটা ফেরত দিতে এসে বলেছিল, “তুই সুন্দর লিখিস।” তখন আমি কাঁপা হাতে খাতাটা নিয়েছিলাম, আর সেদিনের সন্ধ্যেটা আজও আমার মনে ঝাঁ-চকচকে রয়ে গেছে।
এত বছর পর আজ আমি যখন নিজের জীবনের গল্প লিখছি, তখন বুঝি—সব ভালোবাসার শেষ দরকার হয় না। কিছু প্রেম থাকে, যাদের একমাত্র সত্যতা তাদের অস্তিত্বেই।
ও জানেনি, তবু আমার গল্পে সে রয়ে গেছে—একটা নামহীন, অথচ চিরচেনা ভালোবাসা হয়ে।
এটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম ভালোবাসা। যদিও কোনো গল্প হয়নি, কোনো কবিতা লেখা হয়নি তাকে নিয়ে, তবু এটা আমার জীবনের সবচেয়ে নিখুঁত অনুভবগুলোর একটা।
#শেষ_দেখা
এক বিকেল । চেম্বারে ঢুকলেন একজন বৃদ্ধা, বয়স ৭৫ ছুয়েছে—শাড়ি পরা, কাঁপা কাঁপা পায়ে।
হাত ধরে ছিলেন তাঁর মেয়ে।
চোখে বড় ফ্রেমের চশমা, কিন্তু তাও তিনি ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছিলেন না।
আমি তাঁকে বসতে বললাম।
তিনি চুপচাপ বসে রইলেন। মুখে একরাশ শান্তি, চোখে বিস্ময় আর কিছুটা ভয়।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“কী সমস্যা হচ্ছে মা?”
তিনি বললেন,
“সব কিছু ঝাপসা লাগে ম্যাডাম । আগের মতো আর স্পষ্ট দেখি না। বিশেষ করে ছেলেটার মুখ—আমার নাতি—সেইটাও ভালো করে দেখি না এখন। সে এখন ক্লাস নাইনে পড়ে। খুব ব্যস্ত। মাঝে মাঝে আসে, তখন শুধু তার গলার আওয়াজ শুনে চিনে নিই।”
চোখ পরীক্ষা করলাম। পরিপক্ক ছানি। তবে
অপারেশন করলে ভালো দেখার সম্ভাবনা আছে।
আমি বললাম,
“একটা ছোট্ট অপারেশন করলে আপনি আবার আগের মতো দেখতে পারবেন।”
তিনি হাসলেন। সেই হাসিতে ভরসা ছিল, আবার ভয়ও।
“ম্যাডাম ,” তিনি বললেন, “জানি, বেশি দিন বাঁচব না। তবে শেষবারের মতো যদি ওর মুখটা স্পষ্ট দেখতে পারি… আমার জীবন সার্থক হবে।”
অপারেশনের দিন এল।
তাঁর চোখে ভয় ছিল, কিন্তু মনের মধ্যে একরাশ আশা।
পরদিন যখন ব্যান্ডেজ খুললাম,
তিনি চুপ করে বসে ছিলেন। চোখ ধীরে ধীরে খুললেন।
আমি সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু তাঁর চোখ যেন খুঁজছিল আরেকজনকে।
পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তাঁর নাতি।
তিনি ধীরে ধীরে তাকালেন…
এক মুহূর্ত… দুই মুহূর্ত… তারপর হঠাৎ মুখে এক আশ্চর্য আলো ফুটে উঠল।
চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
তিনি ফিসফিস করে বললেন,
“এত বড় হয়ে গেছে আমার ছোট্ট রাজু… এত সুন্দর হয়েছে…”
আমি কিছু বলিনি। শুধু অনুভব করলাম—এই মুহূর্তটাই আমার পেশার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
আমি শুধু চোখের ডাক্তার না,
আমি মানুষকে তাদের প্রিয়জনের মুখ ফিরিয়ে দিই।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
1307/2 A East Monipur , Kafrul
Dhaka
1216
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 22:00 |
| Tuesday | 09:00 - 22:00 |
| Wednesday | 09:00 - 22:00 |
| Thursday | 09:00 - 22:00 |
| Friday | 09:00 - 22:00 |
| Saturday | 09:00 - 22:00 |
| Sunday | 09:00 - 22:00 |