Nature Version 3.0
দেহ ও মনের সুস্থতা'র জন্য উৎসর্গীকৃত 🍃
12/06/2026
পুরুষের বন্ধ্যত্ব কেন হয়?
বেশির ভাগ সময় সন্তান না হওয়ার জন্য আমাদের সমাজ নারীকেই দোষারোপ করে। অথচ বিশ্বজুড়ে প্রজনন সমস্যায় ভোগা দম্পতিদের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই পুরুষের কোনো না কোনো সমস্যা দায়ী থাকে। বাস্তবে বন্ধ্যত্ব বা ইনফার্টিলিটি নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সমান হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
পুরুষের বন্ধ্যত্ব কী
কোনো দম্পতি যদি নিয়মিত যৌন সম্পর্কের পরও এক বছরের মধ্যে সন্তান ধারণে ব্যর্থ হন, তখন তাকে বন্ধ্যত্ব বলা হয়। পুরুষের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন বা চলাচলের ত্রুটির কারণে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় যৌনসক্ষমতা স্বাভাবিক থাকলেও পুরুষ বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত হতে পারেন।
পুরুষের বন্ধ্যত্বের প্রধান কারণগুলো হলো—
শুক্রাণুর সংখ্যা কম হওয়া
পুরুষ বন্ধ্যত্বের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো, শুক্রাণুর সংখ্যা কম থাকা। একে বলে ওলিগোস্পারমিয়া। স্বাভাবিকের তুলনায় কম শুক্রাণু উৎপন্ন হলে ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার সম্ভাবনা কমে যায়।
শুক্রাণুর গুণগত মানের সমস্যা
শুধু সংখ্যা নয়, শুক্রাণুর গঠন ও গতিশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রাণু যদি দুর্বল হয় বা সঠিকভাবে চলাচল করতে না পারে, তবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়।
ভেরিকোসিল
অণ্ডকোষের শিরা ফুলে যাওয়াকে বলে ভেরিকোসিল। এটি অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে শুক্রাণু উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি পুরুষ বন্ধ্যত্বের সাধারণ ও চিকিৎসাযোগ্য কারণ।
হরমোনজনিত সমস্যা
টেস্টোস্টেরনসহ বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা শুক্রাণুর উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। পিটুইটারি গ্রন্থি বা থাইরয়েডের সমস্যাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
সংক্রমণ
মাম্পস, যৌনবাহিত রোগ, প্রোস্টেটের সংক্রমণ বা অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগ অণ্ডকোষের শুক্রাণু উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে পুরুষের বন্ধ্যত্ব দেখা দিতে পারে।
জিনগত সমস্যা
কিছু পুরুষ জন্মগতভাবে প্রজনন অঙ্গের ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। আবার কিছু জিনগত রোগ শুক্রাণু উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
জীবনযাত্রাজনিত সমস্যা
আধুনিক জীবনযাত্রার অনেক অভ্যাস পুরুষের প্রজননক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন: ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, মাদকাসক্তি, স্থূলতা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অনিদ্রা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব।
পরিবেশগত কারণ
কীটনাশক, ভারী ধাতু, শিল্পকারখানার রাসায়নিক পদার্থ বা অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে থাকলে শুক্রাণুর মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই যেসব পুরুষ এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাঁদের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি থাকতে পারে।
পুরুষের বন্ধ্যত্বের লক্ষণ কী
সমস্যা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বন্ধ্যত্বের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। সাধারণত সন্তানধারণে ব্যর্থ হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এটি ধরা পড়ে। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে—
যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, ইরেকশনের সমস্যা, বীর্যপাতের সমস্যা, অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব, শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন, মুখ বা শরীরের লোম কমে যাওয়া।
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়:
সঠিক চিকিৎসার জন্য কারণ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক সাধারণত নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করে থাকেন—
বীর্য পরীক্ষা
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এর মাধ্যমে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি, আকার ও গুণগত মান মূল্যায়ন করা হয়।
রক্ত পরীক্ষা
বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। এতে হরমোনজনিত সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
আলট্রাসনোগ্রাফি
ভেরিকোসিল বা অন্যান্য শারীরিক ত্রুটি আছে কি না, তা দেখার জন্য আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়ে থাকে।
জিনগত পরীক্ষা
বিশেষ ক্ষেত্রে জিনগত কারণ সন্দেহ হলে এ পরীক্ষা করা হয়।
সুখবর হলো, বর্তমানে পুরুষ বন্ধ্যত্বের অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।
অনেক সময় শুধু জীবনযাপনে পরিবর্তনের মাধ্যমেই উল্লেখযোগ্য সুফল পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে—ধূমপান ত্যাগ, মাদক ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল পরিহার, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো।
হরমোনজনিত সমস্যা বা কিছু সংক্রমণের ক্ষেত্রে ওষুধ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করা যাবে না।
ভেরিকোসিল বা শুক্রাণু পরিবহনের পথে বাধা থাকলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়।
যেসব ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ সম্ভব হয় না, সেখানে আধুনিক প্রজননপ্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
আইইউআই: প্রস্তুতি শেষে শুক্রাণু সরাসরি জরায়ুতে প্রবেশ করানো হয়।
ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ): ল্যাবরেটরিতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়।
ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন: একটি শুক্রাণুকে সরাসরি ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। গুরুতর পুরুষ বন্ধ্যত্বের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
পুরুষের বন্ধ্যত্বে নিচের পরিস্থিতিতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
এক বছর নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরও সন্তান না হলে।
অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব থাকলে।
যৌনক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিলে।
পূর্বে অণ্ডকোষে আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে।
ক্যানসারের চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকলে।
সচেতনতা জরুরি
পুরুষ বন্ধ্যত্ব কোনো লজ্জার বিষয় নয়। এটি পুরুষত্বের ঘাটতিরও প্রমাণ নয়। এটি একটি স্বাস্থ্য সমস্যা, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যার চিকিৎসা সম্ভব। সন্তান না হলে শুধু নারীর পরীক্ষা নয়, স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই একসঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সামাজিক কুসংস্কার ও ভুল ধারণা দূর করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হওয়া উচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আজ অসংখ্য দম্পতি সফলভাবে সন্তান লাভ করছেন।
অনেকেই এ ধরনের সমস্যায় নানা ধরনের টোটকা ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেন, এতে অকারণ কালক্ষেপণ ছাড়াও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই হতাশ না হয়ে সচেতনতা, সঠিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও যথাযথ বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার মাধ্যমে পুরুষ বন্ধ্যত্বের সমাধান সম্ভব।
লেখক: ডা. শারমিন আবাসি
কনসালট্যান্ট, ইনফার্টিলিটি বিভাগ, ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
10/06/2026
মোবাইল দিয়ে ভোলান শিশুকে? ৩ বছরের নীচে ‘স্ক্রিন টাইম’ অটিজ়মের কারণ হতে পারে 😥
মোবাইল-ইন্টারনেটের যুগে বাড়ছে অটিজ়ম আক্রান্তের সংখ্যা। অনেক ক্ষেত্রেই এর জন্য অত্যধিক স্ক্রিন টাইমকে দায়ী করছেন চিকিৎসকেরা। দিল্লির এমসের চিকিৎসকেরা সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানিয়েছেন, তিন বছরের নীচে শিশুরা বেশি মোবাইল দেখলে অটিজ়মের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অটিজ়ম হল মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। আর এই বিকাশ থমকে যেতে পারে অতিরিক্ত মাত্রায় মোবাইল দেখলে। অনেক অভিভাবকই ছোট থেকে শিশুকে মোবাইল দিয়ে ভুলিয়ে রাখেন। মোবাইলে ভিডিয়ো বা কার্টুন দেখিয়ে খাওয়ান। এতে শিশুর বুদ্ধির বিকাশ থমকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। সম্প্রতি দিল্লি এমসের চিকিৎসকেরা তাঁদের এক সমীক্ষায় ভয় ধরানো রিপোর্ট দিয়েছেন। জানিয়েছেন, তিন বছরের শিশু যদি বেশি ক্ষণ মোবাইল দেখে, তা হলে তার অটিজ়মে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে।
অটিজ়ম নিয়ে একসময় স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। কিন্তু এখন সচেতনতা অনেক বাড়ছে। তাই রোগটির কারণ ও চিকিৎসা নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে। ‘অটিজ়ম স্পেকট্রাম ডিজ়অর্ডার’ সে অর্থে কোনও অসুখ নয়, বিভিন্ন আচরণগত সমস্যাকে একসঙ্গে ওই নাম দেওয়া হয়েছে। অটিজ়ম এমন এক অবস্থা যেখানে শিশুর সামাজিক বিকাশ ঠিকমতো হয় না। এ ধরনের শিশুরা অন্যদের সঙ্গে ঠিকমতো মিশতে পারে না। এরা একা থাকতে ভালবাসে। অনেক ক্ষেত্রে এদের কথা বলা শুরু হতে বেশ দেরি হয়। সাধারণত হাসি-কান্নার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের যে ভঙ্গি শিশুদের মধ্যে দেখা যায় অটিজ়ম-এ আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তা ঠিকমতো দেখা যায় না। অটিজ়ম-এর নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে যেমন জিনঘটিত কারণ আছে, তেমনই অনেক অসুখ থেকেও অটিজ়ম হতে পারে। আরও একটি কারণ হল স্ক্রিন টাইম যা এখনকার শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে।
এমসের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, স্মার্টফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন মস্তিষ্ক, কান-সহ নানা অঙ্গের ক্ষতি করে। একটি শিশুর স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠার সময়ে তা আরও ক্ষতিকর। মস্তিষ্ক ও কানে ‘নন-ম্যালিগন্যান্ট টিউমার’ হওয়ার ভয়ও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাধারণত শিশুর মস্তিষ্কের ত্বক, কোষ এবং হাড় তুলনায় অনেক নরম ও পাতলা হওয়ার দরুন তা প্রাপ্তবয়স্কের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি রেডিয়েশন গ্রহণ করে। অর্থাৎ ফোনের ব্যবহার যেমন মস্তিষ্কের বিকাশ থমকে দিতে পারে, তেমনই ক্যানসারের আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে ইদানীং দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের ভিড়ই বেশি। শিশু কথা বলতে পারছে না। কারণ, বাড়িতে কেউ তার সঙ্গে সে ভাবে কথা বলে না। তার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় মোবাইল কিংবা ট্যাব। ব্যস্ত বাবা-মাকে সন্তানের হাজারো বায়না সামলাতে হচ্ছে না। এমনকি, তাকে খাওয়ানোর ঝক্কি উধাও। হাতে ট্যাব বা মোবাইল ধরালে নিমেষে শেষ হচ্ছে মুখের গ্রাস। দীর্ঘ সময়ে শান্তও থাকছে শিশু। এই অভ্যাস যে কতটা বিপদের কারণ হয়ে উঠছে, সে নিয়েই সতর্ক করছেন এমসের চিকিৎসকেরা।
স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ছবি শিশুর মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' নামক রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা এক ধরনের আসক্তি তৈরি করে। এর ফলে শিশু বাস্তব জগতের থেকে বিচ্যুত হতে থাকে। কোনও একটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে না। মোবাইলের নীল আলো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য নষ্ট করে। নিউরোট্রান্সমিটার স্নায়ুকোষ থেকে নির্গত এক বিশেষ রাসায়নিক বার্তাবাহক যা সঙ্কেত আদানপ্রদানে সাহায্য করে। ছোট থেকেই এর ভারসাম্য নষ্ট হলে তখন স্বাভাবিক ভাবেই মস্তিষ্কের বিকাশ থমকে যাবে। অটিজ়ম শুধু নয় আরও নানা স্নায়বিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে ইদানীং দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের ভিড়ই বেশি। শিশু কথা বলতে পারছে না। কারণ, বাড়িতে কেউ তার সঙ্গে সে ভাবে কথা বলে না। তার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় মোবাইল কিংবা ট্যাব। ব্যস্ত বাবা-মাকে সন্তানের হাজারো বায়না সামলাতে হচ্ছে না। এমনকি, তাকে খাওয়ানোর ঝক্কি উধাও। হাতে ট্যাব বা মোবাইল ধরালে নিমেষে শেষ হচ্ছে মুখের গ্রাস। দীর্ঘ সময়ে শান্তও থাকছে শিশু। এই অভ্যাস যে কতটা বিপদের কারণ হয়ে উঠছে, সে নিয়েই সতর্ক করছেন এমসের চিকিৎসকেরা।
স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ছবি শিশুর মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' নামক রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা এক ধরনের আসক্তি তৈরি করে। এর ফলে শিশু বাস্তব জগতের থেকে বিচ্যুত হতে থাকে। কোনও একটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে না। মোবাইলের নীল আলো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য নষ্ট করে। নিউরোট্রান্সমিটার স্নায়ুকোষ থেকে নির্গত এক বিশেষ রাসায়নিক বার্তাবাহক যা সঙ্কেত আদানপ্রদানে সাহায্য করে। ছোট থেকেই এর ভারসাম্য নষ্ট হলে তখন স্বাভাবিক ভাবেই মস্তিষ্কের বিকাশ থমকে যাবে। অটিজ়ম শুধু নয় আরও নানা স্নায়বিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
-এমস
26/04/2026
কিছু মানুষ কেন সব সময় রেগে থাকে
অনেকেরই ছোট বিষয় নিয়ে রেগে যাওয়ার অভ্যাস আছে। মাঠে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে হয়তো কেউ একটা সহজ ক্যাচ মিস করেছে। ব্যস, দলের একজন এমনভাবে রেগে গেল, যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে! কিংবা রাস্তায় একটু জ্যামে পড়লেই কেউ একজন হর্ন বাজিয়ে, চিৎকার করে রীতিমতো তুলকালাম বাধিয়ে দিচ্ছে। তোমার চারপাশেই এমন কিছু মানুষ নিশ্চয়ই আছে, যারা পান থেকে চুন খসলেই রেগে আগুন হয়ে যায়।
তাদের দেখলে মনে হয়, তারা যেন একটা প্রেশার কুকার, ভেতরে শুধু ফুটন্ত রাগ টগবগ করছে! কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছ, কিছু মানুষ কেন সব সময় এত রেগে থাকে? এই রাগের পেছনে কি শুধুই তাদের খারাপ মেজাজ দায়ী, নাকি আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের ভেতরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো হিসাব? চলো, আজ এই রাগী মানুষদের মনের মধ্যে একটু ঢুঁ মারা যাক।
মনোবিজ্ঞানীরা রাগকে একটা আইসবার্গের সঙ্গে তুলনা করেন। টাইটানিক জাহাজ যে আইসবার্গের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল, তার কথা মনে আছে? আইসবার্গের শুধু চূড়াটাই পানির ওপরে ভাসতে দেখা যায়, কিন্তু এর আসল ও বিশাল অংশটা লুকিয়ে থাকে পানির নিচে।
নিউজিল্যান্ডবাসী কেন অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হচ্ছেন
রাগের ব্যাপারটাও ঠিক একই রকম। একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ যখন অতিরিক্ত রাগ দেখায়, তখন আমরা শুধু তার রাগী চেহারাটাই দেখতে পাই। কিন্তু পানির নিচে, মানে, তার মনের গভীরে লুকিয়ে থাকে অন্য অনেক অনুভূতি। অনেক মানুষ অতিরিক্ত রাগ দেখায় কারণ তারা ভয়, হতাশা, ব্যর্থতা বা লজ্জার মতো অস্বস্তিকর অনুভূতিগুলোকে ঠিকমতো সামলাতে পারে না। তারা চায় চারপাশের পুরো দুনিয়াটা তাদের কথামতো চলুক। আর যখনই সেটা হয় না, তখন তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সবকিছুর জন্য অন্যকে দোষ দিতে শুরু করে এবং রেগে যায়। তবে সবাই যে শুধু এই কারণেই রেগে যায়, তা কিন্তু নয়। অনেকে আসলেই ভুল করে, এবং তার ভুলের কারণে অন্যরা রেগে যায়। সেই রাগের মধ্যে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর ব্যাপার নেই।
এবার একটুখানি বিজ্ঞানের সহায়তা নেওয়া যাক। আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরে অ্যামিগডালা নামে ছোট্ট আকৃতির একটা অংশ আছে। একে তুমি মস্তিষ্কের অ্যালার্ম বেল বলতে পারো। যখনই আমাদের কোনো বিপদ বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, অ্যামিগডালা সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বাজিয়ে দেয়। তখন শরীর থেকে অ্যাড্রেনালিন হরমোন বের হতে থাকে। আমাদের হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, পেশি শক্ত হয়ে ওঠে।
মস্তিষ্কের আরেকটি অংশ হলো প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। এটি আমাদের পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু যারা সব সময় রেগে থাকে, তাদের অ্যামিগডালা এত দ্রুত ও জোরালোভাবে কাজ করে যে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স কাজ করার সুযোগই পায় না!
পৃথিবীতে কত ধরনের ডাইনোসর ছিল
তবে শুধু যে মানসিক কারণেই মানুষ রেগে যায়, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় শরীরের কিছু জটিল রোগের কারণেও মানুষ খিটখিটে হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, থাইরয়েড গ্রন্থি যদি অতিরিক্ত কাজ করে, তবে মানুষের মেজাজ খুব খিটখিটে হয়ে যায় এবং দ্রুত রেগে যায়। এই রোগকে বলে হাইপারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড বা হাইপারথাইরয়ডিজম।
এ ছাড়া যাদের দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্রোগ আছে, তাদের ভেতরেও রাগের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা যখন হঠাৎ ওঠানামা করে, তখন তাদের মেজাজও খুব দ্রুত বিগড়ে যায়। বয়স্ক মানুষেরা যখন ডিমেনশিয়ায় ভোগেন, তখন তাঁরা অনেক কিছুই মনে রাখতে পারেন না। এই বিভ্রান্তি ও অসহায়ত্ব থেকেও তাঁরা অনেক সময় অতিরিক্ত রাগ দেখিয়ে ফেলেন।
আবার রেগে যাওয়ার কারণটা অনেক সময় শৈশবের কারণে হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এর একটি বড় কারণ হতে পারে মা–বাবার লালনপালনের ত্রুটি। অনেক পরিবারে শিশুদের শেখানো হয় না কীভাবে নিজের ও অন্যের আবেগের পরিবর্তনগুলো বুঝতে হয়। ফলে সেই শিশুরা যখন বড় হয়, তখন কোনো কঠিন পরিস্থিতি এলেই তারা কোনো উপায় না পেয়ে রেগে যায়।
তা ছাড়া অতীতের কোনো মানসিক আঘাত মানুষকে সারাক্ষণ একধরনের অজানা সতর্কতায় রাখে। তাদের মস্তিষ্ক চারপাশের সবকিছুকেই হুমকি বলে মনে করে। তাই একটু কিছু হলেই তারা আত্মরক্ষার জন্য রাগের আশ্রয় নেয়।
হাইওয়ের সাইনবোর্ডের রং সবুজ কেন
যে মানুষটা সব সময় রেগে থাকে, সে ভাবে রাগ দেখিয়ে সে চারপাশের সবাইকে শাসন করছে বা নিজের শক্তি দেখাচ্ছে। কিন্তু সত্যিটা হলো, এই রাগ আসলে তাকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। অতিরিক্ত রাগের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়, হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। বন্ধু বা প্রিয়জনেরা দূরে সরে যায় তো বটেই!
এখন ভাবতে পারো, রাগ কি তাহলে কমানো সম্ভব? রাগ কমানোর জন্য কোনো জাদুর কাঠি নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজের রাগকে চিনতে পারা। ঠিক কোন কথাটা শুনলে বা কী ধরনের ঘটনা ঘটলে তোমার রাগ উঠতে শুরু করে, সেই পয়েন্টগুলো খুঁজে বের করা।
যখনই বুঝবে রাগ উঠতে শুরু করেছে, তখন লম্বা করে শ্বাস নিয়ে মনে মনে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে পারো। এই সামান্য কয়েক সেকেন্ড সময় তোমার মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স অংশটাকে জেগে ওঠার সুযোগ করে দেবে। তখন তুমি বুঝতে পারবে, চিৎকার করা বা জিনিসপত্র ভাঙচুর করা কোনো সমাধান নয়।
তাই তোমার সামনে কেউ অকারণে রেগে গেলে তাকে ভয় না পেয়ে বোঝার চেষ্টা করো। মানুষটার মনের ভেতর হয়তো অনেক না বলা কষ্ট বা শারীরিক কোনো সমস্যা লুকিয়ে আছে!
-কাজী আকাশ
সূত্র: হেলথলাইন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ ও বিবিসি সায়েন্স ফোকাস
23/04/2026
হিট স্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সংকেত দেয় 😥
প্রচণ্ড গরমে ভয়াবহ এক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিট স্ট্রোক। যেকোনো বয়সের মানুষই এর শিকার হতে পারেন। তবে হুট করে কারও হিট স্ট্রোক হয় না। হিট স্ট্রোকের আগে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। এসব উপসর্গ সম্পর্কে সবারই জেনে রাখা প্রয়োজন। হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করাও খুব কঠিন ব্যাপার নয়।
প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপমাত্রা যাতে ঠিক থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন
গরমের সময় আমাদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘাম হওয়া জরুরি। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা হলে ঘামার প্রক্রিয়াটি বাধা পায়। ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কাজটাও ঠিকভাবে হয় না। এ অবস্থায় দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে যায়, যা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হতে পারে।
তখন মস্তিষ্কসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেখা দেয় নানা উপসর্গ। এ অবস্থার নামই হিট স্ট্রোক। হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তি এলোমেলো কথা বলতে পারেন। অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। তাঁর খিঁচুনি হতে পারে।
শরীর একেবারে ঘামহীন হয়ে যেতে পারে। হৃৎপিণ্ড অস্বাভাবিক ছন্দে স্পন্দিত হতে পারে। লিভার, কিডনি, মাংসপেশিসহ দেহের নানান অংশের ক্ষতি হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে এর কারণে মৃত্যুও হতে পারে।
হিট স্ট্রোক হওয়ার আগে
দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ যখন বাধা পাওয়া শুরু করে, তখনই বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক সময় এগুলোকে ছোটখাটো সমস্যা ভেবে অবহেলা করা হয়। এই যেমন, মাথাব্যথা কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তি।
গরমের কারণেই যে মাথাব্যথা হচ্ছে বা অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগছে, অনেকেই তা ভেবে দেখেন না। এ ধরনের উপসর্গকে তেমন গুরুত্ব দেন না কিংবা ধরে নেন এর পেছনে ঘুমের ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণ আছে। আর এসব উপসর্গ নিয়েই কাজকর্ম চালিয়ে যান।
গরমে পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে
প্রচণ্ড গরমে শরীর অবসন্ন ও দুর্বল হয়ে পড়ে। গরমে অনেক সময় বমিভাব হয়। বমিও হয়। মাথা ঘোরায় বা ঝিমঝিম করে।
অনেক সময় মনে হয় মাথাটা হালকা হয়ে আসছে। কাজ চালিয়ে গেলেও তখন মনোযোগ থাকে না। অল্পতেই মেজাজ বিগড়ে যেতে থাকে।
পেট কামড়াতে পারে। পায়ের পেশিতে টান লাগতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম হয়। শরীর গরম হয়ে ওঠে। ত্বক লালচে দেখায়। হৃৎপিণ্ডের গতি কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। শ্বাসপ্রশ্বাসের গতিও বাড়তে পারে।
মুখ ও গলা শুকিয়ে আসে। প্রচণ্ড তৃষ্ণা লাগে। পানিশূন্যতার কারণে এমনটা হয়। তখন প্রস্রাবের রং গাঢ় হতে থাকে। একসময় প্রস্রাবের পরিমাণও কমে যায়।
এসব উপসর্গ দেখা দিলে
হিট স্ট্রোক একটি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা। হিট স্ট্রোকের আগের এসব উপসর্গকে তাই গুরুত্ব দিতে হবে। এসব দেখা গেলে দ্রুততম সময়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে।
কাজে বিরতি দিতে হবে। পানি খেতে হবে। তুলনামূলক ঠান্ডা স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে। মুখে, মাথায়, গলায়, ঘাড়ে পানি ছিটিয়ে নিতে হবে।
ছোট রিচার্জেবল ফ্যান সঙ্গে রাখতে পারেন গরমে
ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে নেওয়া যেতে পারে। বগল, গলা এবং কুঁচকিতে বরফ রাখলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হয় সহজে। বরফ না পেলে ঠান্ডা পানিতে ভেজা কাপড় রাখতে চেষ্টা করুন।
শরীরে বাতাস দিতে হবে। হাতপাখা কিংবা রিচার্জেবল পাখা ব্যবহার করা যেতে পারে। সম্ভব হলে পোশাকের কিছু অংশ সরিয়ে নেওয়া উচিত। কিছু বোতাম খুলে দেওয়া যেতে পারে। আঁটসাঁট করে পিন আটকানো থাকলেও ভেতরে বাতাস প্রবাহের ব্যবস্থা করা উচিত।
অতিরিক্ত ঘাম হলে সামান্য লবণ মেশানো পানীয়, ওরস্যালাইন বা ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক খাওয়া উচিত। ডাবের পানিও কাজে দেবে সেই সময়
ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালান্স যাতে না ঘটে, তার জন্য কী করবেন
কাদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি
বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি এবং কমবয়সী শিশুদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কম থাকে। তাই তাঁদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তবে কমবয়সী কর্মঠ মানুষ অনেক সময়ই নিজের প্রতি খুব একটা যত্নশীল হন না। গরমে বাইরে কাজ করতে গিয়ে তাঁদেরও হিট স্ট্রোক হতে পারে।
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে সতর্কতা
গরমে বাইরে গেলে সানগ্লাস ও ছাতা সঙ্গে রাখুন
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে সবাইকেই সতর্ক থাকতে হবে। প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা যাতে ঠিক থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। পানিশূন্যতা এড়াতে সচেষ্ট থাকুন। আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই জীবনধারা বেছে নিন।
পানি খাওয়ার জন্য তৃষ্ণা লাগা পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই। এমনিতেই মাঝেমধ্যে একটু করে পানি খেয়ে নিন। তবে গরমে চা-কফি কম খাবেন।
বাইরে গেলে সঙ্গে পানি ও ছাতা রাখুন। ছোট পাখাও রাখতে পারেন। মাঝেমধ্যে মুখে পানি ছিটিয়ে নেওয়া এবং ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ আর শরীর মোছা ভালো।
পানি বহনের জন্য প্লাস্টিকের বোতল নয়, থার্মোফ্লাস্ক বেছে নিন। এতে পানি ঠান্ডা এবং নিরাপদ থাকবে। পানির বোতলে পানি ভরার আগে কয়েক টুকরা বরফ রেখে নিলে ওই পানি লম্বা সময় পর্যন্ত ঠান্ডা থাকে।
গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলুন। এমন খাবার খাবেন, যাতে অনেকটা পানি আছে। রসালো ফল বেছে নিন। এমন সবজি খান, যেটির ভেতরটা সাদা। ঝোলজাতীয় পদ খান। পাতলা ডাল খাওয়া ভালো।
হালকা রঙের এমন পোশাক পরুন, যার ভেতর দিয়ে বাতাস যায়। রোদ ও উত্তপ্ত বাতাস থেকে বাঁচতে ফুলহাতা জামা ও ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরা ভালো।
প্রচণ্ড রোদের সময় ঘরে থাকতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজন ছাড়া ওই সময় বাইরে যাবেন না। ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে চলতে পারলে ভালো। শরীরচর্চার জন্য এমন সময় নির্ধারণ করুন, যখন তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে।
শেষকথা
তীব্র আবহাওয়ায় শুধু নিজের না, পরিবারের সবার প্রতি খেয়াল রাখুন। শিশুরা যেন স্কুলে গিয়ে রোদে দৌড়ঝাঁপ না করে। কারও পানি খাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলে চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন, গরমের সময় তিনি কতটা পানি খেতে পারবেন।
রিকশাচালক রোদে ঘাম ঝরান, গাড়িচালক গরম হয়ে ওঠা গাড়িতে বসে থাকেন। ফেরিওয়ালারা রোদে রোদে পণ্য নিয়ে ঘুরতে থাকেন। নিজ এলাকায় এমন মানুষদের জন্য খাওয়ার পানি এবং হাত-মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে পারেন।
পথের প্রাণীদের জন্যও পানির ব্যবস্থা করুন। বারান্দা ও ছাদে পাখিদের জন্য পানি রাখতে পারেন। আপনার বাড়ির ছায়ায় নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিক অসহায় কোনো প্রাণ।
পানির পাত্রগুলো পরিষ্কার করে তাতে নতুন করে পানি দেবেন রোজ। একটানা কয়েক দিন পানি জমে থাকতে দেবেন না। যেখানেই সুযোগ পান, গাছ লাগান। চারপাশে রাখা পানির উৎস এবং গাছের কারণে পরিবেশের তাপমাত্রা কিছুটা হলেও কমবে। হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে বাঁচবেন আপনি, আপনার প্রিয়জন।
ডা. মো. মতলেবুর রহমান
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক
বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল
ডা. সাইফ হোসেন খান
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,ঢাকা।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 17:00 |