MUIZ Foundation
A small help for people
কবে জানি এক বোন বলেছিলেন,
যোহরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে যদি কখনো বেলা ২টা পার হয়ে যায়, তাঁর নাকি ভীষণ মন খারাপ হয়, কান্না আসে, অস্থীর লাগে!
তাই তিনি সবসময় ১টা থেকে ১:৩০ এর মধ্যে নামাজ পড়ার চেষ্টা করেন। বাই এনি চান্স, কখনো ২টা ক্রস করলে তাঁর কান্না চলে আসে।
বোনটার এই কথাগুলো আমার প্রায় সময় মনে পড়ে। মনে মনে ভাবতে থাকি, ইয়া রব! একই তো বান্দা আমরা আপনার, তবে আপনার দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়ার অনুভূতিতে এত কেন পার্থক্য? তবে কি আমরা তাঁর মত করে আপনাকে ভালোবাসতে পারিনি? নাকি আপনার জন্য হৃদয়ে একই রকম টান অনুভব হয় না?
আর যদি সত্যিই ভালোবাসা আর টান একই রকম হয়ে থাকে, তবে কেন আমাদের হৃদয়ে তাঁর মত পেরেশানি লাগে না, কষ্ট হয় না, বুক ব্যথা করেনা, নামাজ আদায়ে দেরি হয়ে যাওয়ার কারণে?
আসমান জমিনের রব যেন আমাদেরকেও এমন একটা হৃদয় দান করেন, যে হৃদয় রবের হক ঠিকঠাক আদায় করতে না পারলেই ভেতরে ভেতরে আত্ম চিৎকার দিয়ে গুমরে ম*রে। সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত যে ব্যাথা অনবরত চলতেই থাকে।
রবের জন্য কলিজায় ব্যাথা অনুভব হওয়াও তো সৌভাগ্যের!
লেখা : শামছুন্নাহার রুমি
📌 আমি প্রতিরাতে তাহাজ্জুদ পড়তাম।
একই দোয়া। একই কান্না। একই চাওয়া।
কিন্তু কিছুই বদলাচ্ছিল না।
একদিন একজন আলেম আমাকে এমন একটা কথা বললেন, যা আমাকে নাড়িয়ে দিল:
"তুমি আল্লাহর সাথে কথা বলছো, কিন্তু থেমে তাঁকে তোমার সাথে কথা বলতে দিচ্ছো না।"
আমরা তাহাজ্জুদকে যেন একটা "চাওয়ার সময়" বানিয়ে ফেলেছি।
• আমরা আসি।
• নিজের চাওয়া-চাওয়ি বলি (দোয়া করি)।
• তারপর চলে যাই।
কিন্তু তাহাজ্জুদ শুধু কিছু চাওয়ার সময় না এটা একটা কথোপকথন। তুমি যদি শুধু বলতেই থাকো, তাহলে সম্পর্কের অর্ধেকটাই হারিয়ে ফেলছো।
সেই আলেম বুঝিয়ে বললেন, আল্লাহ তিনটি প্রধান পথে আমাদের সাথে কথা বলেন—
(১) কুরআনের মাধ্যমে→ এটা তাঁর সরাসরি বাণী।
(২) তাকদীর (Al-Qadr)-এর মাধ্যমে→ তোমার পরিস্থিতির পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে।
(৩) সাকীনাহ (As-Sakinah)-এর মাধ্যমে→হঠাৎ হৃদয়ে নেমে আসা অদ্ভুত, ব্যাখ্যাতীত শান্তির মাধ্যমে।
আমি বুঝতে পারলাম, আমি এতটাই ব্যস্ত ছিলাম আল্লাহকে আমার চাওয়া জানাতে, যে তিনি আমাকে কী দিচ্ছেন সেটা শোনারই সময় নিচ্ছিলাম না।
আল্লাহ বলেন—
"নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন তিলাওয়াত উপস্থিত থাকে (সাক্ষী থাকে)।" [১৭:৭৮]
আলেমরা বলেন, ফজর আর রাতের তিলাওয়াত ফেরেশতারা সাক্ষী থাকে। মানে? রাত ৩টার সেই নীরব মুহূর্ত এটা একটা কথোপকথনের জায়গা।
তুমি সিজদায় কাঁদতে কাঁদতে বলো—
"ইয়া আল্লাহ, আমাকে হেদায়েত দিন…"
তারপর উঠে কুরআন বন্ধ করে চলে যাও, অর্থাৎ, যে উত্তরের দরজা খোলা ছিল, সেখান থেকে সরে যাচ্ছো!
পরের রাত থেকে আমি আমার তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ম বদলে দিলাম। দোয়া শেষ করেই আর ঘুমাতে যাইনি। চুপচাপ জায়নামাজে বসে রইলাম। কুরআন খুললাম সওয়াবের জন্য না, উত্তরের জন্য।
আর তখনই পেলাম। যে আয়াতটা হাজারবার পড়েছি, সেটাই হঠাৎ নতুনভাবে আঘাত করলো:
"তিনি তো আপনাকে পথহারা অবস্থায় পেয়েছিলেন, অতঃপর পথ দেখিয়েছেন।" [৯৩:৭]
কয়েক মাসের মধ্যেই এমন দরজা খুলতে শুরু করলো, যেগুলোর জন্য আমি কখনো কড়া নাড়িনি। যদি তুমি দোয়া করে করে ক্লান্ত হয়ে যাও, আর মনে হয় "কিছুই হচ্ছে না"
আজ রাতেই এটা চেষ্টা করে দেখো:
১. তোমার সালাত আদায় করো।
২. সম্পূর্ণ ভাঙা মন নিয়ে দোয়া করো।
৩. তারপর অন্তত ১০ মিনিট বসে থাকো। ধীরে
ধীরে কুরআনের এক পৃষ্ঠা পড়ো।
ভাবো। গভীরভাবে চিন্তা করো।
তোমার ঝড় কত বড় এটা আল্লাহকে বলা বন্ধ করো।
বরং শোনো তিনি তোমাকে দেখাচ্ছেন, তিনি কত বড়।
কম বলো। বেশি শোনো। দেখবে, আল্লাহ কীভাবে তোমার জীবনকে বদলে দেন।
✍🏻Afroza's Islamic Shorts
মৃ'ত্যুকে আপনার মুক্তি বলে মনে হয় তাই না? জীবন থেকে পালানোর বড্ড শখ!
একবার ম'রে গিয়ে দেখুন না! কবরের জীবন কতটা বিভীষিকাময়। এক ফোঁটা শান্তির জন্য আপনি কাতরাবেন, ঠিক পানির পিপাসার মতোন। এই তৃষ্ণা মিঠাতে পারে কেবল স্বজনদের দোয়া এবং সদকায়ে জারিয়া।
বুক ফেটে আর্তনাদ করবেন, “কেউ আমার নামে কিছু দাও! শান্তির বাণী শোনাও।” কিন্তু, কয়েক ফোঁটা অশ্রু ফেলা ব্যতিত কেউই আপনার জন্য কিছুই করবে না।
আপনি মৃ'ত্যুর কথা বলছেন, কয়জন আছে যারা আপনার নামে সৎ কর্ম উৎসর্গ করবে? কয়জন আপনার কবরের পাশে গিয়ে তিলাওয়াত করবে? এবং ঠিক কয়জন আছে, যারা তাদের নামাজে আপনাকে স্মরণ করবে?
সুতরাং বেঁচে থাকাটাকে নেয়ামত মনে করুন এবং নিজের আখেরাত নিজেই গড়ে নিন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka