Emodels
We Sell Skills We Offer Digital Marketing A to Z Service
12/03/2022
✅ স্যুটকেসের জন্য যুদ্ধের মুখোমুখিঃ
২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর মুহূর্তটার যাঁরা প্রত্যক্ষদর্শী, তাঁদেরই একজন লুবোভ কোসতান্দা। তিনি একজন ইউক্রেনীয় মডেল। এক বাংলাদেশি বন্ধুর বিয়েতে অংশ নিতে ২০১৬ সালে এ দেশে এসেছিলেন। সেবার প্রথম আলোর মঙ্গলবারের ক্রোড়পত্র ‘নকশা’র মডেলও হয়েছিলেন তিনি। ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতাতেও আমরা তাঁর কথা লিখেছিলাম। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে লুবোভ কেমন আছেন, জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম ২৭ ফেব্রুয়ারি। মেসেঞ্জারের ও–প্রান্ত থেকে লুবোভ সেদিন লিখেছিলেন, ‘ইউক্রেনীয় কাগজপত্র নিয়ে আমি এই মুহূর্তে রাশিয়ায় আছি। মস্কো বিমানবন্দরে। এখানে কথা বলাটা নিরাপদ না। আমি কি তোমার সঙ্গে কাল কথা বলতে পারি?’ কথা ছিল সেদিনই রাশিয়া ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন লুবোভ। কিন্তু নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান ২ মার্চ। ধকল সামলে একটু থিতু হওয়ার পর ৬ মার্চ তাঁর সঙ্গে কথা হয়। আলাপের শুরুতেই লুবোভ বললেন, ‘তুমি সৌভাগ্যবান। এমন একজনের সঙ্গে কথা বলছ, যে চোখের সামনে যুদ্ধটা শুরু হতে দেখেছে।’ মো. সাইফুল্লাহকে সেই ঘটনারই বয়ান দিলেন লুবোভ কোসতান্দা।
তখন ভোর। বাসটা সবে ইউক্রেন আর ক্রিমিয়ার মধ্যবর্তী সীমান্তে পৌঁছেছে। ঠিক সেই সময় ক্রিমিয়ার অংশ থেকে গুলি ছুড়তে শুরু করলেন রুশ সেনারা। সীমান্তের দুই প্রান্তে যাত্রীদের নেওয়ার জন্য যে গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে ছিল, মুহূর্তের মধ্যে যে যার মতো পালিয়ে বাঁচল। হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম বাস থেকে নামা জনা বিশেক যাত্রী। আমরা তখনো বুঝতে পারিনি, চোখের সামনে মাত্রই একটা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে!
আমার কাজের জায়গা ইউক্রেন। সেদিন সীমান্ত পেরিয়ে ক্রিমিয়ার মা-বাবার কাছে যাচ্ছিলাম। এমন সময় এই গোলাগুলি। আমরা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। এ রকম কিছু যে হতে পারে, ধারণাতেই ছিল না। প্রথমেই লাগেজ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বের করে হাতে নিলাম। তখনো ভোরের আলো ফোটেনি। অন্ধকারে ভালোমতো দেখার জন্য মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়েছি। পাশ থেকে কে যেন ধমকে উঠলেন, ‘খবরদার, আলো জ্বালিয়ো না! এখনো তো ফাঁকা গুলি ছুড়ছে। আলো দেখলে আমাদের দিকে গুলি করবে।’ কোনোমতে কাগজপত্র হাতে নিয়ে আমরা ছুটলাম। পেছনে পড়ে রইল আমার লাগেজ। ভেতরে জামাকাপড়, পারফিউম, গয়না, সব! কখনো হেঁটে, কখনো দৌড়ে প্রায় চার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ক্রিমিয়ার একটা লোকালয়ে পৌঁছালাম।
বাড়িতে ফোন করতেই কাঁচা ঘুমভাঙা বাবা প্রথমে আমার কথা কিছু বুঝতেই পারেননি। আমিই–বা কী বলব? মাথার ওপর দিয়ে তখন একের পর এক রকেট ছুটে যাচ্ছে, আর আমি প্রাণপণে ছুটছি। কোনোমতে শুধু বাবাকে বলেছিলাম, ‘জানি না বাঁচব কি না। আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। কিন্তু যদি সফল না হই, তোমরা জেনো, আমি তোমাদের ভালোবাসি।’
আমাদের সামনে শত শত ট্যাংক সার বেঁধে তখন ইউক্রেনে ঢুকতে শুরু করেছে। চেষ্টা করলে হয়তো মা-বাবার কাছে চলে যাওয়া যেত; কিন্তু বন্ধুরা বলল, ‘তোমার জন্য এখানে থাকাটা নিরাপদ না।’ কারণ, ক্রিমিয়ায় ঢুকেই রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের মুখোমুখি হয়েছিলাম। নানা রকম জেরার পর এই বাহিনীর সদস্যরা বলেছিল, ‘তোমার সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। যেখানেই যাও না কেন, আমরা তোমাকে খুঁজে বের করব।’
অতএব ক্রিমিয়া ছাড়তেই হবে। অথচ ইউক্রেনে ফেরার মতো অবস্থাও নেই। বিকল্প তাই বাইরে চলে যাওয়া। বাসে করে তাই প্রথমে (ক্রিমিয়ার রাজধানী) সিমফারোপোল চলে গেলাম। সেখান থেকে রাশিয়ার ক্রাসনাদার। প্রথমে শুনলাম, নিউইয়র্কের ফ্লাইট ছাড়বে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে। ফ্লাইট ধরে সেখানে গিয়ে শুনি, প্লেনটা মস্কো হয়ে নিউইয়র্ক যাবে। যা হোক, চড়লাম সেই প্লেনে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে তখন রুশ বিমান অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। মাঝ–আকাশ থেকে আমাদের ফেরত পাঠানো হলো। একই দিনে তৃতীয়বারের মতো নিজেকে মস্কো বিমানবন্দরে আবিষ্কার করলাম।
যুক্তরাষ্ট্র ততক্ষণে রুশ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন করে তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিমানের টিকিটও কাটতে পারছিলাম না। বহু কষ্টে মার্কিন বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে আবারও নিউইয়র্কের টিকিট কাটালাম। দ্বিতীয়বার আর সমস্যা হয়নি। কিরগিজস্তান হয়ে বিমান পৌঁছে যায় নিউইয়র্কে।
কঠিন পরিস্থিতির ইতিবাচক দিকও আছে। হয় নতুন কিছু শিখবেন, নয়তো নতুন কারও সঙ্গে আপনার পরিচয় হবে। আমার বেলায় দ্বিতীয়টা হয়েছিল। প্রথম ফ্লাইটে নিউইয়র্ক পৌঁছাতে না পারলেও মার্কিন বন্ধুদের মাধ্যমে ওই বিমানেরই কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয়ে যায়। সেই যাত্রীরাই পরে তাঁদের বাসায় আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। এখনো সেখানেই আছি।
এতসব কিছু হয়তো আমার জীবনে ঘটতই না। ঘটেছে স্রেফ একটি স্যুটকেসের জন্য। যেদিন যুদ্ধ শুরু হলো, তার আগের দিন আমার ক্রিমিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল। যেতে পারিনি কারণ, একটা স্যুটকেস। স্যুটকেসটা ডেলিভারি হতে দেরি হয়েছে বলে আমার যাত্রাটা একদিন পিছিয়েছিল। আর সে কারণেই এতকিছু!
# সূত্রঃ প্রথম আলো প্রত্রিকা
06/03/2022
✅ টিকটক থেকে ভারতের সরকারি বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশি লুবাবাঃ
নিয়মিত টিকটকে পারফর্ম করে প্রশংসিত হয়েছে শিশু শিল্পী সিমরিন লুবাবা। দেখা গেছে দেশের বেশ
কয়েকটি বিজ্ঞাপনেও। সম্প্রতি টিকটকের সুবাদে ভারতের রাজস্থান সরকারের একটি বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছে লুবাবা।
করোনা নিয়ে জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনটি এখন প্রচার হচ্ছে রাজস্থানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সামাজিক মাধ্যমে। এটি নির্মাণ করেছেন প্রদীপ বি খাইরা। লুবাবা ছাড়াও এতে অংশ নিয়েছেন ভারতের বেশ ক’জন শিশুশিল্পী।
লুবাবা বলেন, আমি টিকটকের পাশাপাশি বিভিন্ন হিন্দি গানে পারফর্ম করে ফেসবুকে আপলোড করি। মাঝে তেরি মিট্টি নামের একটি হিন্দি গানের পারফর্ম বেশ ভাইরাল হয়। সেটি প্রদীপ আংকেলের নজরে আসে। এরপর তিনি আমাকে ফেসবুকে নক করেন। আরো কিছু কাজ চেয়ে মেসেজ করেন। কাজগুলো পাঠালে তার খুব পছন্দ হয়।
লুবাবা আরো বলেন, কাজগুলো দেখে আংকেল আমাকে তামিল ছবিতে অভিনয় করার প্রস্তাব দেন। ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য থাকায়, মা রাজি হননি। পরে এই বিজ্ঞাপনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে কাজটি করি।
প্রসঙ্গত, সিমরিন লুবাবা জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনী। সে ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রী। এর আগে, লুবাবা বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, ভিম লিকুইড, লাইফবয়সহ একাধিক বাংলাদেশি পণ্যের মডেল হয়েছে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Road 09 House 1015 Avenue 10
Dhaka