DCF News
তথ্য ও গবেষণা সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচার মাধ্যম
07/09/2026
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন বিলে শরিয়াহর বিধান অক্ষুণ্ন রাখার দাবি জমিয়তের
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এ মুসলমানদের পারিবারিক ও সামাজিক বিধিব্যবস্থার পাশাপাশি শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধানসমূহের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের খাস কমিটির বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়।
দলের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, দলের সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী প্রমুখ।
তারা বলেন, বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতার নিরাপত্তা, চিকিৎসা, ভরণ-পোষণ ও সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করা সন্তানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। ইসলাম পিতা-মাতার অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাই প্রবীণ পিতা-মাতার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
তবে তারা বলেন, মুসলমানদের সম্পত্তি বণ্টন, উত্তরাধিকার, হেবা ও মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়গুলো ইসলামী শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নতুন কোনো আইন বা আইনের কোনো ধারা যেন পবিত্র কোরআন-সুন্নাহ নির্ধারিত মিরাস ও হেবার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তারা বলেন, পিতা-মাতার জীবনকালীন অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হলে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে মুসলমানদের শরিয়াহসম্মত উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির মালিকানা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা সৃষ্টি করা যাবে না। বিশেষ করে হেবা ও মিরাসের বিধানকে পাশ কাটিয়ে এমন কোনো আইনি কাঠামো তৈরি করা উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে পারিবারিক বিরোধ কিংবা শরিয়াহবিরোধী সম্পত্তি বণ্টনের পথ তৈরি করে।
জমিয়ত নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিলটি চূড়ান্ত করার আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতি, ফকিহ, আলেম ও ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে একটি বিশেষজ্ঞ শরিয়াহ বোর্ডের মাধ্যমে বিলটির প্রতিটি ধারা পর্যালোচনা করে শরিয়াহসম্মত প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিতা-মাতার অধিকার ও প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য শরিয়াহর মিরাস, হেবা ও সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। একই সঙ্গে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আইনটি এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যাতে মানবিক ও সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনাও সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে।
বার্তা প্রেরক
মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী
প্রচার সম্পাদক
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
02/09/2026
যেভাবে বিএনপি গড়েন জিয়াউর রহমান🌾🇧🇩
।
১৯৭৫ সালের ১১ নভেম্বরে নিজেকে রাজনীতির বাইরে থাকা একজন সৈনিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি বলেছিলেন, রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং তার সরকার অরাজনৈতিক কিন্তু পরের তিন বছরে বদলে যায় তার রাজনৈতিক ভূমিকা। সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদ থেকে তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসেন। নানা প্রক্রিয়া পেরিয়ে শেষ করে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন তিনি। জিয়াউর রহমানের এ রাজনৈতিক যাত্রায় ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা, গণভোট, অসামরিক উপদেষ্টাদের যুক্ত করা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) ও জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠনের মতো একাধিক ধাপ ছিল। নতুন এই দলে বাম, ডান ও মধ্যপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে যুক্ত করার পাশাপাশি রাজনীতিতে ৪৫ শতাংশ নতুন ও তরুণদের সামনে আনা হয়েছিল।
১৯৭৬ সালের মে মাসে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভায় জিয়াউর রহমান নিজেকে ‘একজন শ্রমিক’ হিসেবে পরিচয় দেন। এর পরের বছর ৩০ এপ্রিল তিনি ‘আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়’ নিয়ে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচিতে উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিই পরে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।
এরপর ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের প্রতি জনগণের আস্থা যাচাইয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ জিয়ার পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। গণভোটের পর জিয়াউর রহমান তার উপদেষ্টা অসামরিক ব্যক্তি যুক্ত করেন।
একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ভাসানী-ন্যাপের সভাপতি মশিউর রহমান যাদু মিয়া। দল গঠন প্রক্রিয়া একাধিক ব্যক্তি ও মাধ্যমকে কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি। সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুরুল ইসলাম শিশুর দপ্তরে রাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের যাতায়াত ছিল এবং মাঝে মাঝে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতেন জিয়াউর রহমান। পাশাপাশি তার একান্ত সচিব কর্নেল অলি আহমদও মাঠপর্যায়ের অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
প্রথমে জাগদল, পরে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট জিয়াউর রহমান সরাসরি নিজের নামে রাজনৈতিক দল গঠনের আগে একটি অনুগত রাজনৈতিক শক্তি তৈরির উদ্যোগ নেন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয় ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল’ (জাগদল)। তবে দলটি রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের সাড়া ফেলতে পারেনি। এরপর ১ মে জিয়াউর রহমানকে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয় ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এতে যুক্ত হয়। এর কিছুদিন পর ১৯৭৮ সালের ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
গ্রামে গ্রামে জনসংযোগ রাজনীতিতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে তিনি দীর্ঘ পথ হেঁটে গ্রামে যেতেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনতেন। এর মাধ্যমে সামরিক শাসক হিসেবে দূরের কোনো ব্যক্তি না হয়ে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি একজন নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। ধীরে ধীরে তার রাজনৈতিক বক্তৃতা ও জনসংযোগও আরও সাবলীল হয়ে ওঠে জনগণের মাঝে।
১ সেপ্টেম্বর বিএনপির আত্মপ্রকাশ :
জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের অভিজ্ঞতার পর জিয়া একক রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। দলের গঠনের জন্য তিনি বিভিন্ন জনের সাথে আলোচনা করেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি প্রথমে দলের নাম ‘জাস্টিস পার্টি’ রাখার প্রস্তাব দেন। কিন্তু নাম পছন্দ না হওয়া তা গ্রহণ করেনি তিনি। জিয়াউর রহমান মনে করতেন দলের সঙ্গে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটা থাকা জরুরি। পরে নিজেই ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ নাম চূড়ান্ত করেন। এরপর ১৯৭৮ সালের ২৮ আগস্ট ‘জাগদল’ বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করে জিয়াউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির নাম, গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। প্রথমে ১৮ জন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন তিনি। জিয়াউর রহমানের রাজনীতিতে প্রধান তিনটি প্রস্তাব ছিল—বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং সার্বিক শক্তিশালী করা।
বিএনপির গঠনতন্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ৯ জন। তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছাড়া যুক্ত ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, নাজমুল হুদা, মওদুদ আহমদ এবং ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী অন্যতম। বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন দলের প্রথম মহাসচিব। বর্তমানে তারই সুযোগ্য পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।
BNP Media Cell
30/08/2026
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকির মুখে পড়বে না এবং এর ফলে অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততাও সীমিত হবে না।
তিনি আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ’র সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি অনন্য চুক্তি, যা নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।’
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ প্রস্তাবিত চুক্তিটিকে ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখছে। ‘আমরা বর্তমানে এ বিষয়ে আলোচনা করছি এবং সব দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে এসব আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে,’ বলেন তিনি।
‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা ‘মক্কা চুক্তি’ ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এ পর্যন্ত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক এ চুক্তির অংশীদার হয়েছে।
বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবিত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যোগ দিলে সম্ভাব্য কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে ঢাকা সমন্বিত ও নমনীয় পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি অনুসরণ করবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটি দেশকে বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার গতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অত্যন্ত সমন্বিত ও নমনীয় পদ্ধতিতে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হবে।’
হুমায়ুন কবির বলেন, এ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখব’ এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগদান কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অস্থিতিশীল ও সংকটপূর্ণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতায় যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিকল্পগুলো সীমিত করবে না কিংবা অন্য কোনো জোট বা অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতার পথও বন্ধ করবে না।
তিনি বলেন, ‘আজকের এই অস্থিতিশীল বা সংকটপূর্ণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি অন্য কোনো জোট বা ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবেন না। এটি আপনার পরিসর সীমিত করে না।’
হুমায়ুন কবির আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে পারে, সেখানেই ঢাকা কাজ করে যাবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে এবং যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতাই প্রধান লক্ষ্য, সেখানে বাংলাদেশ সবসময় উপস্থিত থাকবে।’
30/08/2026
প্রেস রিলিজ (শোক সংবাদ)
ঢাকা, ৩০ আগস্ট ২০২৬ খ্রি.
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী সাবেক আইজিপি ড. এম. এনামুল হক আর নেই। তিনি আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের জানাজা আজ বাদ জোহর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অতিরিক্ত আইজিগণ, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ, পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যগণ এবং মরহুমের সহকর্মী ও আত্মীয়-স্বজন অংশগ্রহণ করেন।
জানাজা শেষে আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকিরের পক্ষে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ফুল দিয়ে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মরহুমকে অফিসিয়াল ফিউনারেল প্রদান করা হয়।
ডক্টর এম এনামুল হক ১৬ অক্টোবর ১৯৯১ থেকে ৮ জুলাই ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহীর প্রিন্সিপালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ পুলিশের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন।
তিনি ১৯৩৮ সালে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
জ্ঞানপিপাসু ড. এম. এনামুল হক ১৯৫৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে। ১৯৬৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিয়েন্স থেকে লোক প্রশাসনে পিএইচ. ডি ডিগ্রিতে ভূষিত হন। এছাড়া, তিনি দেশ-বিদেশের বহু খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
তিনি আইন কমিশন বাংলাদেশের সদস্যসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেছেন। তিনি ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ইন্টারপোলের একমাত্র নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।
একজন সুলেখক হিসেবে ড. এম. এনামুল হকের খ্যাতি ছিল। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ১৪টি। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহু খ্যাতনামা পত্রিকা ও জার্নালে নিয়মিত কলাম লিখতেন।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ড. এম. এনামুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আইজিপি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
Bangladesh Police
20/08/2026
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জননেতা এড. রুহুল কবির রিজভী।
শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
Category
Address
Dhaka
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when DCF News posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.