Learn With Roha
Think Positive ☺️
Be Positive ☺️☺️
04/06/2026
বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে অনেকের এলার্জি আছে, কেউ কেউ হাসাহাসি করেন। কেউ কেউ মনে করেন, সন্তানদের সুশিক্ষা দেয়নি বলে বাবা-মা'কে বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে হয়।
মোটাদাগে এটাকে এক ধরণের শাস্তি মনে করা হয়। কারো কাছে বৃদ্ধাশ্রমে থাকাটা / রাখাটা এক ধরণের পাপ।
তবে আমার ভাবনাটা ভিন্ন। একেবারেই ভিন্ন।
আমাদের দুই মেয়ে। ওদের যতটুকু পারি, ভালো পড়াশুনা করানোর চেষ্টা করবো। ভালো বিয়ে শাদী দেয়ার চেষ্টা করবো। অবশ্য এই যুগে এটি সহজ হবেনা, তাও জানি!
সেটি ভিন্ন গল্প।
এখন দুই মেয়ে ভালো পড়াশুনা করলে, ভালো ক্যারিয়ার হলে, ওরা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। নিজের পরিবার নিয়েই ব্যস্ত থাকবে।
ওরা ওসময় আমার সেবা করার জন্য বসে থাকবে, সে আশা করাটা বাতুলতা। আমি কিছুই আশা করিনা। ওরা ভালো থাকলেই আমি খুশী। ওরা আমার খবরা খবর রাখলে খুশী হবো, না রাখলে হয়তো কষ্ট পাবো। তবে মেনে নিবো, মেনে না নিয়ে কি লাভ?
আর সামনে যে যুগ আসছে, ভয়ংকর রকম কম্পিটিশন। ক্যারিয়ার ইত্যাদি নিয়ে এক রকম উন্মাদনা কাজ করবে। সবাই ভীষণ, ভীষণ বিজি থাকবে। আমাদের দেয়ার মতো সময় ওরা পাবে?
বৃদ্ধ হলে নাতি নাতনী নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাবো, সেই সৌভাগ্য কয়জনের হবে আমি ঠিক নিশ্চিত নই।
আর সবাই এখন বিদেশ মুখী। যেন এই দেশটা একটা নরক, বিদেশ মানেই স্বর্গ! মেয়েরা সপরিবার বিদেশে সেটল হতে চাইলে আমাদের করার বেশী কিছু থাকবেনা।
তখন বেঁচে থাকলে, ওরা হয়তো আমাদেরকে বিদেশে নিয়ে যেতে চাইবে।
তবে ঐ বয়সে বিদেশে গিয়ে ও কি করবো? মেয়েরা ওদের লাইফ নিয়ে বিজি থাকবে। দেশের চেয়ে বিদেশের লাইফ আরো স্ট্রেসফুল। বুয়া নেই, কাজের সহকারী নেই, ড্রাইভার নেই, বাবুর্চি নেই। নিজেকেই সব করতে হয়।
আর সারাদিন বাসায় বসে বসে কি করবো? কতক্ষণ আর পার্কে হাঁটবো? বিদেশে কাউকে হুটহাট আড্ডা দেয়ার জন্য পাওয়া ও যাবেনা।
আর কানাডা ইত্যাদি ঠাণ্ডা, বরফের দশে যেখানে বছরের বড় একটা অংশেই বরফ পড়ে, সেখানে এত ঠাণ্ডায় হাঁটবোই বা কিভাবে?
শপিং মলে, রেস্টুরেন্টে দিনের পর দিন একা একা কফি খেতে তেমন ভালো লাগার কথা নয়।
তার চেয়ে বরং দেশে ভালো একটা বৃদ্ধশ্রমে থাকলে কি সমস্যা? অন্য সব বৃদ্ধদের সাথে গল্প করে, স্মৃতি রোমন্থন করে সময়টা একেবারে খারাপ কাটার কথা নয়।
বৃদ্ধরা তো অতীত নিয়েই বাঁচে, ওটাই সম্বল।
মধুর মধুর স্মৃতির জাবর কেটে কেটে দিনযাপন!
বয়স হলে আমরা সবাই চাইবো আমাদেরকে সবাই সময় দিক, পাশে বসে গল্প করুক, নাতি নাতনী পরিবেষ্টিত হয়ে থাকি।
যারা খুবই ভাগ্যবান, তারা হয়তো এরকম থাকবে।
তবে ওটা নিশ্চিত, গ্যারান্টিড ধরে নেয়ার কোন কারণ নেই।
সবকিছুর জন্য রেডি থাকা ভালো, মানসিক প্রস্তুতি থাকা ভালো।
#পুনশ্চ
যদি সম্ভব হয় তাহলে নিজেই একটা ভালো মানের বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলবো।
সবুজে ঘেরা, একটা বড় জায়গা নিয়ে মনোরম পরিবেশে নান্দদিক একটা বৃদ্ধাশ্রম হবে। সার্বক্ষণিক ডাক্তার / নার্স থাকবে, প্রয়োজনীয় সব ফ্যাসিলিটিজ থাকবে।
হাঁটার জায়গা থাকবে। নামাজ / দোয়া, প্রার্থনার সুন্দর ব্যবস্থা থাকবে। লাইব্রেরি থাকবে। সুন্দর কমন স্পেস থাকবে। দোলনা থাকবে। জিম থাকবে। সুইমিংপুল থাকবে।
গেস্টদের জন্য সুন্দর বসার ব্যবস্থা থাকবে। বড় একটা পুকুর থাকবে। পার্কের মতো কিছু একটা থাকবে।
এরকম কোন বৃদ্ধাশ্রমে থাকলে, খুব একটা খারাপ থাকার কথা না।
আর মেয়েরা দেশে থাকলে তাদের সাথে তো দেখা হবেই। মাঝে মাঝে ওদের বাসায় ঘুরে আসবো। ইচ্ছে হলে ওরাও আমাদের দেখতে আসলো।
আর যেহেতু জীবনে অনেক দিন শিক্ষকতায় আছি, ছিলাম --- কোন কোন ছাত্র - ছাত্রী ও হয়তো তাদের অবসরে দেখা করতে আসতে পারে। এখন বদনাম করলেও তখন হয়তো সুনাম করবে, হয়তো মিছেমিছি!
এভাবেই কেটে যেতে পারে শেষ বয়সটা।
তবে জীবনের একেবারে শেষ, একেবারে অন্তিম মুহূর্তে পরিবারের সদস্যরা পাশে থাকুক, হাতটা ধরে রাখুক, পাশে বসে দোয়া দরুদ পড়ুক - সেটা কে না চায়?
সেই আশা পূরণ হবে সেই নিশ্চয়তা অবশ্য কেউই দিতে পারবেনা।
এটাই বাস্তবতা 😢
#পুনশ্চ_১
নুরজাহান বেগমের অসহায় মৃত্যু সবাইকে ভাবাচ্ছে। বিক্ষুব্ধ ও করছে। সন্তানদের দোষ তো আছেই। ওরা আসলে অপরাধী ও বটে।
নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে অনেকে হয়তো উদ্বিগ্ন।
তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আমাদের নিজেদের রিটায়ারমেন্টের পরের জীবন নিয়েও একটু ভাবা দরকার। একটা প্ল্যান থাকা দরকার।
সন্তানদের পড়াশুনা, ক্যারিয়ার ইত্যাদির পাশাপাশি ওদেরকে মানুষের মতো মানুষ করার চেষ্টা করা দরকার।
আর হ্যাঁ, নিজেদের সব টাকা পয়সা, সব সম্পদ, নিজেদের ডিপিএস, এফডিআর, পেনশন সহ সর্বস্ব সন্তানের পড়াশুনা, বিয়ে এমনকি সন্তানদের ব্যবসা ইত্যাদির জন্য একেবারে বিলিয়ে দেওয়ার দরকার নেই।
নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু নিজেদের জন্য রাখুন। নিজেদের কাছেই রাখুন। কারো মুখাপেক্ষী যেন হতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করুন।
একটু হলেও স্বার্থপর হোন।
ধন্যবাদ।
লেখাটি সংগৃহীত....
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Dhaka