Perfect Homeopathy
গেন্ডারিয়া এলাকার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট
#একটি_পরিবর্তনের_গল্প
ডিউটিরত অবস্থায় একদিন একটা বাইক আটকালাম চানখারপুল এলাকায়।
বাইকার ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি গেটের ওইদিক থেকে উল্টোপথে আসছিল....
স্বভাবতই আমি বাইক খুব কম ধরি বা গুরুতর কিছু নাকরলে মামলা নাদিয়ে ওয়ার্নিং দিয়ে ছেড়ে দেই।
কিন্তু উনি শুধু উল্টোপথেই আসেনি, মাথায় হেলমেটও ছিলনা।
আমি তাকে আটকিয়ে দেখলাম ভদ্রলোকের সব পেপার আপটুডেট আছে।
বাইকে আরহি দুইজন...
পিতা পুত্র
বাবার বয়স ৪০/৪২ হবে ছেলে ৪/৫ বছর।
আমি বললাম ভাই আপনার অপরাধ দুইটা আপনি উল্টো এসেছেন আর হেলমেট থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার করেননি, আপনার মামলা হবে।
ভদ্রলোক কোন কথা বল্লেননা কিন্তু পিচ্চিটা বলে উঠল আংকেল আমার বাবাকি অপরাধ করেছে?
তাকেকি মামলা দিবেন?
তাকেকি জেলে নিয়ে যাবেন? প্লিজ আংকেল আমার বাবাকে জেলে দিয়েননা....
প্লিজ প্লিজ প্লিজ.... ঠিক এভাবেই বলেছিল।
আমি থ খেয়ে গেলাম কি করব বুঝতে পারছিলামনা...
বললাম না আংকেল মামলা কেন দিব তোমার বাবা আমা পরিচিত বন্ধু হয় তাই তাকে থামিয়েছি কথা বলার জন্য আর পকেটে একটা মি. ম্যাংগো চকলেট ছিল সেটা পিচ্চিটাকে দিলাম। আমি যখন তাকে ছেড়ে দিলাম,
বিশ্বাস করুন ওই ভদ্রলোকটা কেদেছিল অঝোরে কেদেছিল... আর কথা দিয়ে গিয়েছিল জীবনে যতদিন বেচে থাকবে ততোদিনে কোনদিন ভুলেও উল্টো পথে বাইক চালাবেনা....
মজার ব্যাপার হলো আজকে আজিমপুরে ডিউটি করতেছি তখন দুপুর১১টার একটু বেশি বাজে।
একজন লোক এসে বল্ল রায়হান ভাই কেমন আছেন? আর ৬০০ মিলি একটা কোক হাতে দিতে চাচ্ছিলেন
আমি একটু ইতস্তত ভাবে বললাম আমি আসলে আপনাকে চিনিনাই।
বল্ল আমি মাসুদ মাস দুয়েক আগে চানখারপুলে আটকেছিলেন আর আমার বাচ্চার কথায় ছেড়েদিয়েছিলেন।
আমার ছেলের কসম রায়হান ভাই আমি ঐদিনের পর এক সেকেন্ডের জন্য উল্টোপথে বাইক চালাইনি।
ওনার কথা শুনে আমার সবকিছু মনে পড়লো আর কোকের বোতলটা হাতে না নিয়ে পারিনি...
আমি যদি সেদিন তাকে মামলা দিতাম তাইলে হয়তো আমার টার্গেটের একটা মামলা ফিলার্প হতো কিন্তু উনি উল্টো যাওয়া বন্ধ করতনা....
ধন্যবাদ মাসুদ ভাই
আপনার ছেলেটা একদিন অনেক বড় হবে দোয়া রইল।
আর হ্যা আপনার দেয়া কোকটা আমি পান করে অন্যরকম তৃপ্তি পেয়েছি ❤💙💚💛💜
আজানের সময়, ম্যাক্সিমাম হিন্দুই গান শোনা বন্ধ করে দেয়। রমজানে লুকিয়ে লুকিয়ে খাবার খায় যাতে আমরা দেখলে আমাদের রোজা হালকা না হয়। সেহেরিতে উঠতে না পারলে ডেকে দেয়, ইফতারে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে।আজানের সময় অনেক পূজামণ্ডপে সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখে। এগুলা করার জন্য ওদের জোর করতে হয় না। মন থেকে করে। আমাদের ধর্মকে সম্মান করে বলেই করে।
হিন্দু স্যার ম্যামকে আদাব দিলেই যেমন আমরা হিন্দু হয়ে যাই না তেমনি হিন্দু বন্ধুর সাথে মিশলে, এক প্লেটে খাবার খেলেই আপনি হিন্দু হয়ে যাবেন না। আপনি যদি আপনার ধর্ম সম্পর্কে খুব সচেতন থাকেন তাহলে আপনার ধর্মে যতটুকু মিশতে,যা করতে মানা আছে তা করবেন না। ব্যাস।
কোনো ধর্মেই বলা নেই অন্য ধর্মকে ছোট করে দেখো। সংখ্যাগরিষ্ঠ হোক বা লঘিষ্ঠ সবার কাছে সবার ধর্ম সমান। স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার সবার আছে।
আমাদের কাছে গরু, খাসি,দুম্বা জবাই যেমন কোরবানি, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, রোজা রাখা যেমন ত্যাগ ওদের কাছেও মাটির তৈরী মূর্তি পানিতে ভাসিয়ে দেওয়াটাও অনেক বড় একটা ত্যাগ। আপনি অন্য ধর্ম নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে পারেন না। আমার জানামতে প্রায় প্রত্যেক হিন্দু বন্ধু বান্ধবীই জীবনে একবার হলেও এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়
"গরুর দুধ খাও ঠিক ই, মাংস খাও না কেন?" আমি জানি অনেকে অনেক বিকৃত করে এই প্রশ্নটা করে। আমি আমার ধর্ম নিয়ে সচেতন থাকলে অন্য ধর্ম নিয়ে কটু কথা বলব কেন?
মানুষ কিছু জায়গায় বিবেক নয়, আবেগ দিয়ে বিচার করে।
যেমন - ধর্ম, খেলাধুলা, চিকিৎসা। তাই এসব ব্যাপারে কথা বলতে গেলেই কিছু মানুষ একপ্রকার তেড়ে আসে। ধর্ম সবার কাছে সেন্সিটিভ বিষয়। আমাদের কারোরই উচিত না অন্য ধর্মকে ছোট করে দেখা, অন্য ধর্মের মানুষকে খুঁচিয়ে কথা বলা, তিরস্কার করা।
"মাটি দিয়ে মূর্তি বানায়া আবার পানিতে ফেলে দাও, এই মূর্তি কি কোনো কাজের?"
কোথাও কি বলা আছে অন্য ধর্মের মানুষকে কষ্ট দিয়ে কথা বলো?
মুসলমানরা হিন্দুদের মালো বলে ডাকে, হিন্দুরা ডাকে জঙ্গি। এই জাতিবিদ্বেষ কবে শেষ হবে?
দেশের ভাবমূর্তি বাহিরের নষ্ট হয়েছে। দিনেদুপুরে খুন, ঘুষ, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল, প্রতিদিন ধর্ষণ আর হত্যার এই মিছিলে দেশের ভাবমূর্তি যা নষ্ট হবার তা অনেক আগেই হয়েছে।
মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, চাকমা, মারমা সহ আরও যত উপজাতি আছে সবাইকেই আমি ভাই,বোনের মতো ভাবি। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি অন্ধকার রাস্তায়,নির্জন গলিতে আমার মুসলমান বোন যেমন আমার কাছে নিরাপদ তেমনি অন্য ধর্মের বোন ও আমার কাছে নিরাপদ।
আমরা যদি আমাদের ধর্ম ভালোভাবে মানতাম তাহলে দেশে এত ধর্ষণ,খুন হতো না।
ফেইসবুকে ধাওয়া পালটা ধাওয়া না করে আসুন নিজেরা ঠিক হই। আমাদের চিন্তা ভাবনা উন্নত করি। হাসপাতালে যেমন রক্ত লাগলে কে হিন্দু,কে মুসলিম না দেখেই রক্ত দেওয়া হয় রোগীর জীবন বাঁচাতে, অসুস্থ্য মায়ের বুকের দুধ না আসলে যেমন হিন্দু মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বাচ্চা বেঁচে যায় তেমনি দিনশেষে আমরা সবাই মানুষ। সবাই সবার ধর্মকে সম্মান করি।তাহলেই শান্তি ফিরে আসবে।
©
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Website
Address
West Jatrabari
Dhaka
1204