HumanLab777
Human Audit
Consumer Behavior Insight
Strategic Critique
Cultural Alignment
Life Coaching
Personal Assessment
26/12/2021
হিউম্যানল্যাব এর ২০২২ পঞ্জিকাবর্ষের শিক্ষানবিস হিসেবে গতকাল নিবন্ধিত হলো ওয়ানিয়া (রাজকন্যা রূপকথা) এবং জোহায়রা (রিমঝিম রংধনু); ঘটনাক্রমে ওরা সহোদর, সবে ১২ এবং ৯ এ পদার্পণ করেছে।
এর চাইতেও ইন্টারেস্টিং তথ্য হচ্ছে, ওরা আমার দীর্ঘদিনের ক্রিকেটমিত্র Fuad Bin Omar এর আত্মজা।
আমি সবসময়ই বলি পরিণত বয়সের মানুষকে মননশীল, প্রশ্নপ্রবণ এবং এনালিটিকাল এবিলিটি সম্পন্ন বানানোটা অনেক বেশি ক্রিটিকাল, উদ্যোগটা শুরু করতে হবে শৈশব-কৈশোর থেকে। যে কারণে ১০ থেকে ১৫ বয়সীদের নিয়ে কাজ করি, এবং প্রতি মাসে স্কলারশিপ দিই।
কিন্তু আগ্রহী শিশু-কিশোর এবং অভিভাবকের সন্ধান পাওয়াটাই হয় দুরূহ। কোথাও বাচ্চা আগ্রহী, অভিভাবক নয়, কোথাও বা উল্টোটা। ফলত, আমার 'এনালিটিকাল হিউম্যান গ্রুমিং' প্রকল্প কল্পনাতেই রয়ে যায়।
ক্রিকেট দেখাসূত্রে ফুয়াদ ভাইয়ের সাথে আলাপ হয় নিয়মিত। দেখতে যতই ভার্সিটি তরুণ মনে হোক, মেঘে মেঘে বেলা বয়ে গিয়ে তিনি যে ৩টে মানবশিশুর অভিভাবক হয়েছেন সেই অমোঘ সত্যই বা কীভাবে এড়াই!
কথাপ্রসঙ্গেই ফুয়াদ ভাইয়ের বড়ো কন্যার সম্বন্ধে জানি, এবং তাকে প্রস্তাব দিই কন্যাটিকে আমার শিক্ষানবিশ প্রকল্পে অধিভুক্ত করানোর। বলামাত্রই নিশ্চিত হই, ফুয়াদ ভাই এধরনের এক্সপেরিমেন্টাল প্রকল্পে অত্যধিক উৎসাহী। এরকম একজন মানুষ মিঠুনের মতো ক্রিকেটারকে কেন প্রমোট করে ধাঁধাটা মিলে না।
গতকাল ২ কন্যা নিয়ে চলে আসেন। স্ক্রিনিং করি দুজনের। ৯ বয়সী জোহায়রা এর চপলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে, কোনোরকম জড়তা নেই। ১০ এর নিচে বাচ্চাদের সাধারণত শিক্ষানবিশ হিসেবে নিই না। কিন্তু জোহায়রার মুভমেন্ট এতটাই শার্প মনে হয়েছে, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাই।
১২ বয়সী ওয়ানিয়া দুর্দান্ত ছবি আঁকে, জাপানিজ ভাষা শিখে, রান্না করতে জানে অনেক আইটেম, পড়াশোনা নানা বিষয়ে, শিখেছে মার্শাল আর্টও। এই কন্যাশিশু ইতোমধ্যেই অনেকটা প্রাগ্রসর, কিছুটা ফাইন টিউন করে নিলেই হবে। শিক্ষানবিস হিসেবে প্রতিমাসে সে স্কলারশিপ পাবে ১১২৯ টাকা, এবং তার অনুজ জোহায়রার প্রতিমাসে স্কলারশিপ ১৭৯ টাকা।
স্কলারশিপের অধীনে ওরা পাবে নিজেদের আইডি কার্ড এবং ভিজিটিং কার্ড। এছাড়া কিছু টাস্কও করতে হবে। এমন সব টাস্ক যা ওদের ব্যক্তিত্বের গঠনে জ্বালানী হয়। যেমন ওয়ানিয়ার প্রথম টাস্ক ৭ জন চিত্রকরের জীবনি পড়ে প্রত্যেকের সম্বন্ধে ১০০ শব্দে উপলব্ধি লিখতে হবে। জোহায়রা ওর ছোট ভাইয়ের ১০টি কোয়ালিটি লিখবে, তার মধ্যে কোনগুলো ওর সাথে মিলে আর মিলে না জানাবে। এই টাস্ক জমা দেয়ার পরে পাবে নতুন এসাইনমেন্ট।
যদিও স্কলারশিপ হিউম্যানল্যাব থেকে দেয়া হচ্ছে, এর স্পন্সর আমি নই। স্পন্সরের টাকা যিনি দিচ্ছেন তিনি পরিচয় প্রকাশে অনাগ্রহী। অর্থাৎ আমাদের পরিমণ্ডলেই মহৎ ভাবনার অসংখ্য মানুষ রয়েছেন যারা ব্যতিক্রমীতাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে একেবারেই কার্পণ্য করেন না।
আমি চাই অন্তত ১০০ জন শিশু-কিশোরকে এধরনের স্কলারশিপ দিতে, কিন্তু শুরুতেই যা বললাম, ওরকম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর দেখাই মিলে কদাচিৎ!
শুরুতে ব্র্যাকেটবন্দী রাজকন্যা রূপকথা এবং রিমঝিম রংধনু নাম দুটোর ব্যাখ্যা দিই। ওয়ানিয়া এবং জোহায়রাকে ওদের দাদি আদরবশত এই নিকনেমে ডাকেন। নাম দুটো অতিব মনোহর। দেখা যাক এই দুই পেন্সিল তীক্ষ্ম মানবশিশুকে আদৌ ভিন্নস্তরের জীবন দেখাতে কন্ট্রিবিউট করতে পারি কিনা।
"জনৈক ডাব বিক্রেতার মনোচিত্র ও তাত্ত্বিক কচকচানি"
১.
চলতি ধারণায়, অর্থনীতি মানেই যেখানে টাকা-পয়সার হিসেব, সেখানে এই বিরাট ক্ষেত্রটি কীভাবে কীভাবে সমাজবিজ্ঞানের অংশ হয়ে গেলো, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে শুরুতেই কোনো ঘোট পাকাতে চাই না। কিন্তু যেহেতু বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্স নিয়ে কথা বলতে চলেছি, আপাত গুরুত্বহীন কিছু শব্দগুচ্ছ দিয়ে এই লেখার সূচনা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় এই মূহুর্তে খুঁজে পাচ্ছি না।
সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্স বোঝানোর কাজে মনোযোগী হই চটজলদি। বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্স যতোটা না অর্থনীতির, তার থেকে বেশি মনোবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়; তবে একচেটিয়াভাবে এই আলোচনা থেকে লাভটা হয় অর্থনীতিরই। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, এবং এর পেছনকার মনঃস্তত্ত্ব ও গৃহীত সিদ্ধান্তের উপযোগীতা নির্ণয় করাই বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্সের কাজ। উদাহরণস্বরূপ আমরা মাইক্রোলেন্ডিং-এর আলাপ টানতে পারি। এই গালভরা শব্দটি আমরা প্রায়ই শুনি, এবং সহজ ভাষায় এটিকে আমরা চিহ্নিত করে থাকি বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হতে প্রদত্ত ক্ষুদ্র ঋণ হিসেবে। সেবাগ্রহীতার প্রয়োজনসাপেক্ষে এককালীন একটি অর্থ প্রদান এবং কিস্তিতে সেই অর্থ ফেরত নেয়া- এর উপরেই আবর্তিত হয় মাইক্রোলেন্ডিং। এখন, কোনো ব্যক্তিকে এরকম লোন দেয়া হলে সে এটির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে কি না, সেটি আগেভাগেই বুঝে নিতে আমরা শরণাপন্ন হই বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্সের। এবং এই ত্রিবেণীসঙ্কটে এসে সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান আর অর্থনীতি মিলেমিশে ঘোট পাকিয়ে যায়।
এই ঘোট পাকানোরও জবরদস্ত একটি নাম আছে, যেটিকে বলা হয় 'ক্রেডিট রিস্ক'। সেবাগ্রহীতার মুখ দেখে যেহেতু ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে দেয়া সমীচীন নয়, তাই ঋণ দেয়ার পূর্বে ক্রেডিট রিস্কের মানদন্ডে কিছু বিষয় বিবেচিত হয়। এর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে- "ইফেক্টিভ ইকোনমিক ডিসিশান মেকিং"। আপনি কতো বড় দৌড়বিদ, আর টাকা হাতে পেলে আপনি দৌড়ে কতোদূর যেতে পারবেন কিংবা ঠিক কতোটুকু যাওয়ার পরিকল্পনা আপনার আছে, এই বিষয়টি নির্ণয় করা হবে প্রথম মানদন্ডে।
দ্বিতীয় মানদন্ড হচ্ছে ঋণগ্রহীতার 'সেলফ কন্ট্রোল'। আপনি "উঠলো বাই তো কটক যাই" ধাচের মানুষ, কোনো কিছু অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে সিদ্ধান্ত নেন, একরত্তি টাকা উড়িয়ে দিতেও আপনার মিনিট তিনেকের বেশি সময় লাগার কথা নয়৷ তাহলে আপনাকে ঋণ দেয়ারও প্রশ্নই আসে না।
তৃতীয় মানদন্ড বা অর্থনৈতিক সচেতনতাও প্রায় সমধর্মী আলোচনা করে, এবং জোর দেয় ঋণগ্রহীতার 'ইকোনমিক ডিসিপ্লিন' এর উপর৷ ঋণগ্রহীতা কতো টাকা সঞ্চয় করতে পারবে, এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে নিজেকে কতোটা বিরত রাখতে পারবে, সেটিরই সূচক এই মানদন্ড।
চতুর্থ মানদন্ড দেখতে চায় একজন ঋণগ্রহীতার মধ্যে সামাজিক গুণাবলির বিকাশ কতোটুকু, এবং এই মানুষটির থেকে সমাজ কীরকম উপকৃত হবে। এর থেকে আমরা পৌছাই পঞ্চম মানদন্ডে, যেখানে ঋণদাতা দেখতে চায় ঋণগ্রহীতা একজন 'নিউরোটিক' পার্সন কি না, অর্থাৎ এই ব্যক্তির ভেতর ক্ষোভ, রাগ, ঈর্ষা বা বিষন্নতার মতো নেতিবাচক গুণাবলীর প্রাবল্য কতোটুকু রয়েছে।
পঞ্চম তথা সর্বশেষ মানদন্ড দেখতে চায় ঋণগ্রহীতার Attitude towards Money. আপনি টাকা জমিয়ে ঝুঁকিমুক্ত থাকার পক্ষে, নাকি আপনার ভেতর জুয়াড়িদের মতো অস্থিরতা বিদ্যমান, এই সংক্রান্ত বিশ্লেষণ আমরা পাই এই মানদন্ডে।
২.
তাত্ত্বিক কচকচানির হাত থেকে নিজেকে এবং এই লেখাটিকে নিস্তার দিতে 'মৌনতা ক্লাব' এর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গতি নেই। বইটির পাতা উল্টাই, পৃষ্ঠা নং ১০১, মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয় নিজের বয়ানে লিখছেন "জনৈক ডাব বিক্রেতার মনোচিত্র"- তত্ত্বকথা বিহীন বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্সের উপর করা বেশ ভালো একটি কাজ৷
প্রশ্ন করা এবং এর উত্তরগুলোর ক্রিটিক্যাল রিজনিং-এর মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌছানোর যেই স্বতঃস্ফূর্ত তরীকা " জনৈক ডাব..." লেখাটি বাতলে দেয়, সেটি ক্রেডিট রিস্কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বেশ গুরুত্ববহ। এই লেখায় উল্লেখিত কিছু প্রশ্নের ক্রোনোলজি যদি আমরা বিশ্লেষণ করতে চাই, তাহলে পাই যে জনৈক ডাবওয়ালাকে সতর্কতার সাথে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে কথার পাকচক্রে-
- "কী বলো মামা, ৪০-৫০ টাকার ডাব ১২০ টাকা হয়ে গেছে; তোমার ডাব কি দুবাই থেকে আনছ নাকি।"
- ".... তুমি মাত্র দুই কোপে সাইজ করে ফেললা। সব ডাবওয়ালাও কিন্তু তোমার মতো করে কাটতে পারে না।"
- "তোমার তো সব ডাব এক দিনে বিক্রি হয় না, সেগুলো কী করো?"
এই তিনটি বাক্যের একটিকেও কি নির্মোহ জিজ্ঞাসা ব্যাতীত আর কিছু মনে হয়? সম্ভবত না, যদি না আপনিও একজন ক্রিটিক্যাল থিঙ্কার হন। এবং এই সহজাত টেকনিক কোনো থিওরি পড়ে গড়ে ওঠা নয়, যেহেতু বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্স শুধু কিতাব পড়ে দখলে আনা সম্ভবও নয়।
তাই আপাত নিরীহ এইসব জিজ্ঞাসা থেকে প্রাপ্ত উত্তরগুলোর বিশ্লেষণের মাধ্যমে সহসাই যুক্তির মজবুত জাল নির্মাণ করে "সে শো-অফপ্রবণ মানুষ, নৈতিকতার ভিত্তি জোরালো নয় সম্ভবত", "... ভাগ্য পরিবর্তনের খুব বেশি চেষ্টা নেই; যেকোনোভাবে টিকে থাকতে পারলেই (সে) খুশি", "এ ধরণের মানুষ কমিটমেন্ট এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দুর্বল প্রকৃতির হয়ে থাকে সাধারণত" প্রভৃতি সিদ্ধান্তে যখন লেখক পৌছান, তখন এর বিরুদ্ধে যুক্তি দাড় করানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায় বৈকি।
কিন্তু শুধু কঠিন বলে, নাকি পাঠকের অসারতায় যুক্তি-তর্ক-গপ্পোর মঞ্চটা আর কখনো প্রস্তুত হয় না, তা বলা কঠিন। 'মৌনতা ক্লাব' তাই তার ডাব বিক্রেতাদের নিয়ে মৌন-ই হয়ে থাকে, কারণ মার্কেট ওসব জিনিস আবার খুব বেশি একটা খায় না।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
H 649 (6th Floor), R 31, New DOHS Mohakhali, DHaka
Dhaka
1206