T SHIRT PRINT

T SHIRT PRINT

Share

✅custom t-shirt printing in Dhaka, Bangladesh.
✅Do not panic about small orders there is no mini We make sure that they are delivered on time.

12/05/2023

ব্র্যান্ডিং এর কিছু স্পেশাল টিপস
ব্র্যান্ডিং এ যেমন বড় কোম্পানি গুলো আরো বড় হয় তেমনি ছোট কোম্পানি গুলোর ও নিজের পরিচয় তুলে ধরার জন্য ব্র্যান্ডিং প্রয়োজন। আজ আমি কিভাবে আপনি আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ড ডেভেলপ করবেন তা তুলে ধরছি।

বিস্ময়কর ভাবে সত্য বাংলাদেশের প্রায় ৯৯% ছোট কোম্পানি ব্র্যান্ডিং নিয়ে তেমন চিন্তিত নয়। কিন্তু যারা লং রান বিজনেস করার চিন্তা করছেন তারা কিছুটা হলেও ব্র্যান্ডিং এর গুরুত্ব বুঝেন। সফল বিজনেস ম্যান রা বুঝতে পারেন ব্যবসা এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং এর একটা যোগসূত্র আছে। ব্র্যান্ডিং শুধু মাত্র একটি লোগো বা ব্যবসার ধরন মানুষের মাঝে পরিচিত করে না আপনার প্রডাক্ট বা সার্ভিস এর প্রতি আপনার কাস্টমার বা ক্লায়েন্ট দের আস্থা ও তৈরি করে।

এখানে কিভাবে সফলভাবে আপনার ব্যবসার জন্য ব্র্যান্ডিং বাস্তবায়ন উপর দশ টিপস আছে.

১। আপনার ব্র্যান্ড কে সংজ্ঞায়িত করুনঃ

মার্কেট রিসার্চ করুন আপনার কাস্টমার বা ক্লায়েন্ট এর চাহিদা সম্পর্কে খুব ভাল করে ধারনা নিন। তারপর আপনি আপনার প্রডাক্ট বা সার্ভিস দিয়ে কিভাবে বাজারে আপনি পার্থক্য তৈরি করবেন তা ঠিক করুন।

২। ব্র্যান্ড ডেভলপকে ব্যাক্তি হিসাবে চিন্তা করুনঃ

প্রত্যেকটা মানুষের ডিফারেন্ট চরিত্র, বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং উদেশ্য আছে যেটা দিয়ে তাকে চেনা যায়। আমাদের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায় কিভাবে আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে কিভাবে উপস্থাপন করি, কিভাবে আমরা কথা বলি, কিভাবে আমরা পোশাক পরি। ঠিক তেমনি যখন ব্র্যান্ড ডেভেলপ করবেন আপনার কোম্পানি এর জন্য এই বিষয় গুলা বোঝা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৩। কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা বুঝে কাজ করতে হবে ।

আপনাকে সবার আগে বুঝতে হবে আপনার কোন প্রডাক্ট বা সার্ভিস আপনার কোম্পানির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রডাক্ট বা সার্ভিস ই আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ড ডেভেলপ এ মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।

৪। আপনার গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তুলুনঃ

চাকচিক্য প্যাকেট কিংবা খুব বড় অফার দিয়ে কাস্টমারের এক্সপেক্টেশন হাই করলেন কিন্তা তা যদি দিতে না পারেন তবে আপনার সাথে কাস্টমারের সম্পর্ক খারাপ হবে। সত্য তথ্য দিয়ে আপনি আপনার কাস্টমারের বিশ্বাস অর্জন করুন। আপনি সব সময় লং টার্ম রিলেশন এ যাবেন আপনার কাস্টমারের সাথে। আপনি কি সেল করছেন র কাস্টমার কেনই বা আপনার থেকে তা নিচ্ছে তা ক্লিয়ার থাকতে হবে।

৫। কাস্টমারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কথা বলুনঃ

টু দ্য পয়েন্ট এ কথা বলবেন। কাস্টমার যেই সার্ভিস কিংবা প্রডাক্ট সম্পর্কে জানতে আগ্রহি তার সাথে ঐ বিষয় নিয়ে কথা বলুন। এতে কাস্টমার খুব ভাল ভাবেই বুঝবে তার কি ধরনের সেবা আপনি করতে পারবেন।

৬। বহুবার একই ভাবে একই বার্তা পুনরাবৃত্তি করবেন নাঃ

চেস্টা করবেন আপনার বার্তা টিকে বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ করতে।

৭। বড় ব্র্যান্ড গুলোকে অনুকরন করবেন নাঃ

চেষ্টা করুন আপনার নিজের স্বাতন্ত্র্যসূচক পরিচয় খুঁজে দেখতে। বড় কোম্পানি গুলো অলরেডি একটা বাজার দখল করে আছে। কিন্তু তাদের কিছু কাস্টমার আছে যারা তাদের সার্ভিস কিংবা প্রডাক্ট থেকে আরো ইউনিক অথবা আরো ভাল সার্ভিস খুজছে তাই তাদের কে টার্গেট করে আপনি তাদের কে আকৃষ্ট করার জন্য উপায় খুজুন তাদের কে আসল/ খাঁটি ভাল সার্ভিস দিন। তারাই আপনার ব্র্যান্ড ডেভেলপ এ সাহায্য করবে।

৮। উদ্ভাবনী এবং সাহসী হোনঃ

আপনার বিশ্বাসের উপর আস্থা রাখুন। বড় ব্র্যান্ড গুলোয় আমলাতন্ত্রের বড় স্তর থাকে তাই তাদের কাস্টমারদের চাহিদার চেঞ্জ হলেও তারা নমনীয় হয় না। তাদের ডিসিসান মেকার রা খুব ই কঠোর থাকেন তাদের ব্র্যান্ড নিয়ে।

৯। সর্বদা যখন গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন আপনার ব্র্যান্ডিং বিবেচনা করবেনঃ

আপনার গর্ব হারানো কিংবা নির্বিচার হয়ে যাওয়ার ভয় আপনার ব্র্যান্ডিং পজিশনিং মিশিয়ে ফেলবেন না। দাম কমানোর চেয়ে যতটা পারুন অফার দিন। বিজ্ঞাপন দিয়ে ও আপনার হারানো ব্র্যান্ডিং ফিরিয়ে আনা যাবে।

১০। সব কিছুর উপর আপনার লোগো দিলেই ব্র্যান্ডীং হবে না:

ভবিষ্যতের কাস্টমার বা গ্রাহক রা অনেক বেশি সচেতন। তাই তাদের বুদ্ধিমত্তা কে সম্মান করুন। তাদেরকে আপনার কোম্পানির অ্যাম্বাসেডর করুন। এক একটা কাস্টমার আপনার হয়ে কথা বলবে।

23/03/2023

টি-শার্ট ডিজাইন কীভাবে করে? জেনে নিন ১০টি সেরা টি-শার্ট ডিজাইনিং টিপস

সুন্দর টি-শার্ট কালেকশনে রাখা মারিয়ার প্রিয় শখ। পছন্দের সব বাংলা ব্যান্ডের গানের লাইন কিম্বা লোগো দিয়ে টি-শার্ট ওর থকা চাই। মাঝেসাঝেই কিছু কিছু টিশার্ট দেখে মনে হয় এই ডিজাইনটা একটু অন্যরকম হলে ভালো হতো, ওই টি-শার্টের লেখার ফন্ট আর রংটা বদলে দিলে ফাটাফাটি একটা ব্যাপার হতো। একদিন বন্ধু জুবায়ের বলেই ফেললো, এত আইডিয়া মাথায় থাকলে নিজের টি-শার্ট নিজেই ডিজাইন করে ফেল না!

আসলেই তো! আইডিয়াটা মন্দ না। নিজের টি-শার্ট নিজে ডিজাইন করলে কী মজাটাই না হবে! ব্যাস, মারিয়া নেমে পড়লো টি-শার্ট ডিজাইনের খুঁটিনাটি জানতে। নিজের ল্যাপটপে বেসিক কাজ শিখতে শিখতেই আইডিয়া আর মনের মাধুরী মিশিয়ে টি-শার্ট ডিজাইন করলো কয়েকটা। এরপর বঙ্গবাজার থেকে প্রিন্ট করিয়েও আনলো দামদর করে।

ইউনিউক ডিজাইন আর রঙের কম্বিনেশন দেখে বন্ধুরা একবার পিকনিকে কয়েকজন মিলে অর্ডার করে নিলো মারিয়ার ডিজাইন করা টি-শার্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় সুন্দর ছবি দেখে এরপর আরো কিছু জায়গার অর্ডার আসলো। এভাবে অর্ডার আসা শুরু করলো, মারিয়াও উৎসাহ পেলো। সর্বোচ্চটা দিয়ে নেমে পড়লো এই খাতে। টি শার্ট ডিজাইন করে আয় করতে নেমে এখন মারিয়া ছোটখাটো একটি ব্র্যান্ডও দাঁড় করে ফেলেছে।
মারিয়ার মতো যাদের মাথায় নতুন নতুন ডিজাইনের আইডিয়া ঘুরঘুর করে, তারা পড়ে নিতে পারো এই লেখাটি। এই লেখায় আলোচনা করবো টি-শার্ট ডিজাইনের শুরু থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রো টিপস, আর টি শার্ট ডিজাইন করে আয় এর উপায়।

টি-শার্ট ডিজাইন অপেক্ষাকৃত সহজ হলেও এর মূল্য কিন্তু মোটেই কম না। এই এক টি-শার্ট ডিজাইন করা থেকেই অনেকে অনেক বড় ব্র্যান্ডের শুরু করেছে। টি-শার্ট ডিজাইন করা শিখে তুমি নিজের একটা অভিনব কালেকশান রাখার পাশাপাশি পরিবারের আর বন্ধুদের জন্যও নিজের ইচ্ছামতো ডিজাইন করে টি-শার্ট বানিয়ে নিতে পারবে। এমনকি শুরু করে ফেলতে পারবে একটা ছোটখাটো ব্যবসা। টি শার্ট ডিজাইন করে আয় এখন বেশ প্রচলিত। আর ডিজাইনার টি-শার্টের জনপ্রিয়তা কেমন, তা তোমাকে নতুন করে না বলি।

বর্তমানে ফ্রিল্যান্স টি শার্ট ডিজাইন করেও অনেকে স্বাবলম্বী হচ্ছে। সৃজনশীলতা আর দক্ষতাকে কাজে লাগালে টি-শার্ট ডিজাইন হতে পারে একটা চমৎকার আয়ের উৎস।

টি শার্ট ডিজাইন শিখে অনলাইনে নিজের ব্যবসা:
মারিয়ার মতো অনেকেই টি-শার্ট ডিজাইন করে অনলাইনে নিজের ব্যাবসা দাঁড় করেছে। অনলাইনকে বলতে পারো বর্তমানে মার্কেটিং এর ব্রহ্মাস্ত্র। ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রায় সব ধরণের প্রচার-প্রসারই অনলাইন কেন্দ্র করে। পৃথিবীর সবথেকে বড় কোম্পানী থেকে শুরু করে ছোটখাটো ঘরোয়া ব্যবসা, অনলাইন নির্ভর সবাই। আর চমৎকার এই মাধ্যম ব্যবহার করে তুমিও শুরু করতে পারো টি শার্ট ডিজাইন করে আয়। নিজে ডিজাইন করে এরপর সুবিধামতো দাম দিয়ে পাইকারী বিক্রেতার কাছে প্রিন্ট করে নিতে পারবে তোমার নিজস্ব টি-শার্ট।

ঢাকা সহ অন্যান্য শহরেও টি-শার্টের ছাপাখানা আছে। একটু খোঁজ করে কথাবার্তা বলে নিতে পারলেই পেয়ে যাবে ভালো একটি চুক্তি। এক্ষেত্রে পরিচিত কেউ থাকলে তাদের কাছেও বিস্তারিত পরামর্শ নিতে পারো। নিজের ডিজাইন করা টি-শার্ট আর ঠিকঠাক প্রচার-প্রচারণা দিয়ে তোমার নিজস্ব একটা ছোটখাটো ব্র্যান্ডও দাঁড় করে ফেলতে পারবে। বলা তো যায়না, তোমার আজকের এই ছোট ব্র্যান্ড হয়ে যেতে পারে দশ বছর পরের বিশ্বসেরা একটা প্রতিষ্ঠান!

তোমার কাজ যদি আকর্ষণীয় হয়, তাহলে তোমার ছোট একটা প্রচারও জনপ্রিয়তা পেতে বেশি সময় লাগবেনা। ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামে নিশ্চয়ই বড় বড় টি-শার্ট ব্র্যান্ডের এডভার্টাইজমেন্ট দেখেছো? এদের অধিকাংশের শুরু মারিয়ার মতো একজনের ছোট্ট একটা স্বপ্ন, আর তার পেছনের কঠোর পরিশ্রম দিয়ে।

টি শার্ট ডিজাইন কীভাবে করে?
টি-শার্ট ডিজাইন করা বেশ মজার একটা কাজ হলেও, প্রাথমিকভাবে তোমার কাছে এটি চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। এই কাজের সাফল্য নির্ভর করে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর। নিচে টি-শার্ট ডিজাইনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো আলোচনা করছি, যেগুলো তোমাকে সফল একজন টি-শার্ট ডিজাইনার হতে সাহায্য করবে।

১) সবার আগে ঠিক করে ফেলো কী ধরণের টি-শার্ট চাও:
সবার আগে নির্ধারণ করে নাও তোমার ডিজাইন করা টি-শার্টটি থেকে তুমি কী চাও। তুমি কি তোমার টি-শার্ট শুধুমাত্র তোমার মার্কেটিং এর জন্য করছো? কোনো নির্দিষ্ট উপলক্ষ্যে করছো? কোনো ঐতিহাসিক দিন কিংবা ঘটনা মাথায় রেখে করছো? নিজস্ব কোনো একটা আইডিয়া থেকে করছো?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের উপর ভিত্তি করে তোমার টি-শার্টের নীল নকশা মাথায় সাজিয়ে নাও। কোনো থিম থাকলে সেটা কেন্দ্র করে ডিজাইন চিন্তা করো। টি-শার্ট কেমন হবে এটা কল্পনা করে নিতে পারলে ধরে নাও তোমার কাজ অনেকখানি এগিয়ে গেছে।

২) খসড়া ডিজাইন সাজিয়ে নাও:
ঠিক করে নাও তোমার টি শার্ট এ তুমি কী লোগো বসাবে, কোন রঙ এর সাথে কোন রঙের কনট্রাস্ট করবে, কোন ফন্ট কীভাবে ব্যবহার করবে। এই ধাপটা টি শার্ট বানানোর ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, এজন্য দরকার হলে সময় নিয়ে কাজটি করবে। এই ধাপটা আরও বেশি জরুরী হয়ে দাঁড়ায়, যখন তুমি নির্দিষ্ট একটা উদ্দেশ্য বা ঘটনা উপলক্ষ্যে টি-শার্ট বানাচ্ছো।

মাথায় রাখতে হবে যেই উদ্দেশ্যে টি-শার্ট বানানো হচ্ছে, সেটা যেন ঠিক থাকে। ধরো একটা বুক রিডিং ক্লাবের বার্ষিক আলোচনা সভার জন্য টি-শার্ট অর্ডার এসেছে। তোমার টি-শার্ট থেকে যেন বনভোজনের আমেজ না আসে!

৩) প্রতিটি আইডিয়া এক একটি অনুপ্রেরণা:
টি-শার্ট ডিজাইন একটা সৃজনশীল ব্যাপার। লক্ষ্য করলেই দেখবে, মাত্র কয়েক বছর আগে থেকেও বর্তমানের ‘ট্রেন্ডি’ ডিজাইনগুলোয় পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস আর চলমান বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে হতে পারে। আবার ভৌগলিক অবস্থানভেদেও টি-শার্ট এর একেকরকম ডিজাইনের চাহিদা থাকতে পারে। তুমি কাদের জন্য ডিজাইন করছো, কেন ডিজাইন করছো এই ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে আইডিয়াগুলো কাজে লাগাতে হবে।

রাস্তায় চলতে-ফিরতে কিংবা অনলাইনে, কতোশত ডিজাইনই তো দেখি আমরা সবাই। এগুলো থেকে আমাদের মনে নতুন কোনো আইডিয়া আসে। এই আইডিয়াগুলোও মাথায় রাখা যেতে পারে।সেরা একটি টি-শার্ট ডিজাইন করার ক্ষেত্রে তোমার আগের ডিজাইনগুলোয় যেমন চোখ বুলিয়ে নিতে হবে, তেমনি তোমার নিজের আগের কোনো আইডিয়া থাকলে সেটাও মাথায় রাখতে হবে।

আগের ডিজাইন আর আইডিয়া তো রিভিশান দিয়ে নিলে, এবার তোমার কাজ হচ্ছে সেগুলোর থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন কী করা যায় তা চিন্তাভাবনা করা। তোমার সৃজনশীলতাকে নতুন ছাঁচ দিতে অনুপ্রেরণা হিসেবে পুরো একটা মহাবিশ্ব তো আছেই! এখানের একটা বন্য মাশরুম থেকে শুরু করে রকেট সাইন্স, সবকিছুর আইডিয়াই তুমি কাজে লাগাতে পারবে। অনলাইনে হাজার হাজার ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে রাস্তায় পড়ে থাকা একটা গাছের পাতাও তোমার টি-শার্টের ডিজাইনে সাহায্য করতে পারবে। শুধু চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, আর নতুন আইডিয়া পাওয়া মাত্র ভুলে যাবার আগেই টুকে রাখতে হবে।

৪) এবার কাজে নেমে পড়ো:
ডিজাইন নিয়ে মাথা ঘামানোর পর একটা সিদ্ধান্তে তো আসলে। এবার দেরি না করে কাজে নেমে পড়ো। আলসেমি যত করবে, মনে রাখবে ততো ক্ষতি হচ্ছে আর ভালো একটা টি শার্ট ডিজাইন পাওয়া থেকে তুমি দূরে সরে পড়ছো। এই কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আছে। যেমন;

ডিজাইন চুড়ান্ত করে ফেলা।
রঙ নির্ধারণ করা।
ছবি, গ্রাফিক ডিজাইনের মাপের দিকে খেয়াল রাখা।
সঠিক টাইপোগ্রাফি ব্যবহার।
রঙ ফুটিয়ে তোলা।
সব ঠিক হলে ফ্যাক্টরিতে দিয়ে ফেলা।
১০টি সেরা টি শার্ট ডিজাইন টিপস:
অভিজ্ঞরা টি শার্ট ডিজাইন এর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নজর রাখতে বলেন বেশ কিছু দিকে। এখানে তোমাদের এমন কয়েকটি প্রো-টিপস জানিয়ে দিচ্ছি।

১) ডিজাইনের সাইজ ঠিক করা:
ডিজাইনের সাইজের ওপর টি-শার্টের সৌন্দর্যের একটা বড় অংশ নির্ভর করে। ডিজাইনের সাইজের কারণে একটা টি-শার্ট যেমন সুন্দর দেখাতে পারে, তেমনি ডিজাইন সাইজের কারণেই টি-শার্ট বাজে দেখাতে পারে। সাইজ কেমন হবে এটা নির্ভর করবে ডিজাইনের নকশার ধরণ কেমন তার ওপর, শেপের উপর, আর ডিজাইনটি তোমাকে কী মেসেজ দিচ্ছে তার ওপর। বড় ডিজাইন থেকে ছোট ডিজাইন সাধারণত বেশি ভালো দেখায়। লোগোর ক্ষেত্রে আবার আলাদা ধরণের সাইজ থাকে।

প্রো টিপ: ডিজাইনের কোন সাইজ কেমন দেখাবে এটা বাসায় বসে নির্ধারণ করার জন্য পছন্দমতো সাইজের ডিজাইন প্রিন্ট করে, সেটা টি-শার্টের ওপর বসিয়ে দেখো। এক পাতায় ডিজাইন না ধরলে, দুই পাতায় অর্ধেক করে প্রিন্ট করে জোড়া লাগিয়ে তারপর সেটা টি-শার্টের সাথে তুলনা করতে পারো।

২) সঠিক জায়গায় ডিজাইন বসানো:
ডিজাইনের প্রিন্ট কোন জায়গায় বসেছে, তার উপরেও অনেকাংশে নির্ভর করে টি-শার্টের সৌন্দর্য। সাধারণত একেক মাপের প্রিন্টের জন্য একেক সাইজের টি-শার্টে নির্দিষ্ট জায়গা থাকে। যেমন অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রিন্ট শুরুর আদর্শ জায়গা ধরা হয় কলার থেকে ৪ ইঞ্চি নিচে। ক্ষেত্রবিশেষে এই মাপ পরিবর্তন হয়।

তবে অনেকে অনেকসময় নতুন কিছু করতে গিয়ে প্রিন্টের জায়গা অদল-বদল করেন। খুব বেশি আত্মবিশ্বাস না থাকলে আসলে এটা করা উচিত না, হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনাই বেশি। আবার সাধারণত জ্যামিতিক উপায়ে সব টি-শার্টে কেন্দ্র লক্ষ্য করে যেমন প্রিন্ট করা হয়, তোমার টি-শার্টের ক্ষেত্রে সেটা ভালো নাও দেখাতে পারে।

৩) ফন্ট আর টাইপোগ্রাফির দিকে নজর রাখা:
ভেবে দেখো তো, একটা টি-শার্ট এর দিকে তাকালে সবার আগে আমাদের কোন জিনিসটা চোখে পড়ে?

ঠিক ধরেছো, এর লেখা। আর এই লেখার সাথেই জড়িত টাইপোগ্রাফি। টাইপোগ্রাফিকে আবার ফন্ট ভেবে ভুল বুঝোনা। টাইপোগ্রাফির একটা অংশ হচ্ছে ফন্ট। ফন্ট ছাড়াও টাইপোগ্রাফিতে শব্দের মধ্যকার ফাঁকা জায়গা, লেখার ডিজাইন লাইনের তারতম্য, একটা লেখাকে কোনো একটা নির্দিষ্ট শেইপ দেয়া ইত্যাদি নিয়ে কাজ করা হয়।

টাইপোগ্রাফি দিয়ে লেখাকে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। তুমি চাইলে গ্রাফিক ডিজাইনের মাধ্যমে নিজের ইচ্ছামতো টাইপোগ্রাফি করতে পারবে। টাইপোগ্রাফির ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন,

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো যেন সবার আগে নজরে আসে।
অক্ষর যেন বিশাল বিশাল না হয়ে যায়। (মনে রাখতে হবে তুমি পাব্লিক বাসের সাইড ডিজাইন করছো না)
শ্যাডো ব্যবহার করলে তোমার ডিজাইন আরো প্রাণবন্ত মনে হবে। কিন্তু এটা বেশি বেশি যেন মনে না হয়।
‘লাইন ব্রেক’ কোথায় করছো এটা লক্ষ্য রাখবে। তোমার লেখা মেসেজটা একজন কীভাবে পড়বে, এটা কিন্তু লাইন ব্রেকের ওপর নির্ভর করে।
কোনো ছবি থাকলে, ছবির সাথে লেখার ডিজাইনের সামঞ্জস্য আছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।
৪) কম্পোজিশনের দিকে আলাদা খেয়াল:
ছোটবেলার আর্ট ক্লাসে গ্রামের দৃশ্য আঁকার সময় এই ব্যাপারটা আমরা সবাই শিখে এসেছি- আকাশের নিচে থাকবে নদী, তার পাশে কুঁড়েঘর, উপরে সূর্য। তাইনা? বড় হয়ে অনেক ক্ষেত্রে কাজে না লাগলেও তোমার টি-শার্ট ডিজাইন এর ক্ষেত্রে এই সামঞ্জস্য বজায় রাখাটা বেশ জরুরী। টি শার্টে ছবি, লেখা, আঁকাআঁকি অনেক কিছুই থাকতে পারে। তোমার কাজ হচ্ছে এইটা নিশ্চিত করা যে সবগুলো উপাদান একটা আরেকটার সাথে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় আছে, এবং সুন্দরভাবে মিলে গেছে।

T-Shirt.
Photo: Rushordertees
এক্ষেত্রে তুমি টি-শার্ট ডিজাইন এর মৌলিক নিয়মগুলো মেনে চলতে পারো। ওইযে বলেনা, নিয়ম ভাঙতে হলে আগে নিয়ম শিখতে হয়! আস্তে আস্তে অভিজ্ঞ হয়ে গেলে তুমি তোমার সৃজনশীলতা আর অভিজ্ঞতা মিলিয়ে নতুন কিছু করতেই পারো! তবে অবশ্যই এবং অবশ্যই লক্ষ্য রাখবে যে, তুমি তোমার টি-শার্টের মাধ্যমে মানুষের কাছে যেই বার্তা পৌঁছাতে চাইছো, সেই বার্তা ছাড়া অন্য কোনো বার্তা যেন মানুষের কাছে পৌঁছে না যায়!

৫) ছবির মান ঠিক আছে তো?
ক্রেতাদের মাঝে সচরাচর যে অভিযোগ দেখা যায় সেটি হলো- টি শার্টে ছবির মান ঠিক নেই। লো-কোয়ালিটি ইমেইজ ব্যবহার করা হচ্ছে এই সমস্যার মূল কারণ। এত কষ্ট করে ডিজাইন করা একটা টি-শার্ট প্রিন্ট করাবার পরে যখন ছবির কোয়ালিটির কারণে ঠিকঠাক ফলাফল পাওয়া না যায়, তখন ডিজাইনের তেমন মূল্যও থাকেনা।

T-Shirtdesign
Photo: Rushordertees
সাধারণত ফুল সাইজের একটি ছবি ২০০-৩০০ ডিপিআই হলে আদর্শ ধরা হয়। কিন্তু অনলাইনে পাওয়া ছবিগুলো ৭০ ডিপিআই এর বেশি হয়না সচরাচর। এজন্য অনলাইন থেকে কোনো ছবি ডাউনলোড করে সেটা বসিয়ে দিলেই কাজ হয়ে যাবেনা। একটা প্রশ্ন আসতে পারে, যে তাহলে অনলাইন থেকে নেয়া ছবি প্রিন্ট করবো কিভাবে? উত্তর হচ্ছে স্ক্যানিং। স্ক্যান করলে ছবির মান অটুট থাকে, ফলে প্রিন্টের সময় ফেটে যাওয়া কিংবা নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকেনা।

প্রো টিপ: ভেক্টর ডিজাইন ব্যবহার করলে ছবির কোয়ালিটি নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয়না। এজন্য চেষ্টা করতে পারো ভেক্টর ডিজাইন ব্যবহার করার। শুধু তাই না, ভেক্টর ব্যবহার করে করা টি শার্ট ডিজাইন সবচেয়ে বেশি পরিষ্কার আর নিখুঁত দেখায়।

৬) রঙ আর কন্ট্রাস্ট হওয়া চাই ঢঙের:
টি-শার্টের সাথে তোমার করা ডিজাইন এর রং আদৌ মানাচ্ছে কিনা, এটা সবসময় মাথায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে টিশার্টের রঙের শেডের সাথে ডিজাইনের রঙ শেড মিলিয়ে বসিয়ে দেখবে। অনেক অপশন হাতে থাকলে প্রতিটি অপশন এপ্লাই করে দেখতে পারো। এই প্রিন্টের সাথে টি-শার্টের রঙের মানিয়ে যাওয়া কে বলে কন্ট্রাস্ট।

টি শার্ট ডিজাইন করে আয়
Photo: Rushordertees
টি-শার্টের কন্ট্রাস্ট, রঙ দেখতে সুন্দর লাগাটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি স্ক্রিন প্রিন্টের ক্ষেত্রে একজন ব্যবসায়ী কিংবা ডিজাইনার হিসেবে তোমার লক্ষ্য থাকবে চেষ্টা করা, যত কম ধরণের রঙ ব্যবহার করা যায়। কারন যতো বেশি রঙ, প্রিন্ট করতে ততো বেশি টাকা। তবে থিম অনুযায়ী অনেক ধরণের রঙ ব্যবহার করতে হলে তো করতে হবেই।

বর্ডার, হাইলাইট এর দিকে নজর রাখা:
অনেকসময় দেখা যায় একটা টি-শার্টে কোনো একটা ছবি শুধুমাত্র কপি-পেস্ট করে প্রিন্ট করা। এটা দেখতে অতিরিক্ত সাদামাটা তো মনে হবেই, পাশাপাশি আনপ্রোফেশনালও মনে হতে পারে। অথচ সামান্য একটা বর্ডার জুড়ে নেয়া কিংবা শ্যডো যোগ করা, মাস্কিং করা অথবা হাইলাইট করার মাধ্যমে একটা সাধারণ ছবিকেও আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করা যায়। এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলো সামান্য মনে হলেও, টি-শার্ট প্রিন্টের পর দেখা যায় এগুলোর অবদান কতো বিশাল!

টি শার্ট ডিজাইন
Photo: Rushordertees
ভুল কোনো বার্তা দিচ্ছোনা তো?
বলা হয় একটা প্রচারিত শব্দ একটা তলোয়ারের মতোই ধারালো হবার ক্ষমতা রাখে। তুমি যেই টি-শার্ট পরছো, সেই টি-শার্ট কিন্তু পুরো পৃথিবীকে তোমার সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে। সুতরাং অবশ্যই এবং অবশ্যই লক্ষ্য রাখবে তোমার টি-শার্ট যেন কাউকে ভুল বার্তা না দেয়।

টি-শার্টে বানান, শব্দ আর অন্যান্য সবকিছুর পাশাপাশি লক্ষ্য রাখতে হবে কোনো মিথ্যা বা ভুল কথা লেখা হচ্ছে কিনা।

জটিলতা এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ!
সবসময় মনে রাখবে তোমার কাজ যতো বেশি সাদামাটা হবে, ততো বেশি জনপ্রিয়তা পাবে। কারণ মানুষের মস্তিষ্ক এক বারে অল্প তথ্য নিয়ে খুশি থাকতে পছন্দ করে। ডিজাইন আর লেখালেখির বাড়াবাড়িতে যদি এমন অবস্থা হয় বোঝার জন্য কাউকে টানা তিন মিনিট তোমার ডিজাইনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে, তাহলে সেটা বরং অবচেতনে কারো বিরক্তির কারণ হতে পারে। তোমার টি শার্ট ডিজাইন এর মাধ্যমে তুমি যা বলতে চাইছো, তা যতোটা সম্ভব সহজ আর সাদামাটা ভাবে উপস্থাপন করো।

এইতো, এই ব্যপারগুলো মাথায় রেখে শেখা শুরু করলে অল্পদিনেই তুমিও হয়ে উঠতে পারো একজন প্রো টি-শার্ট ডিজাইনার!

Want your business to be the top-listed Computer & Electronics Service in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address


Mipur
Dhaka
1216