Computer Bichitra
Computer Bichitra is the one of the leading `Information and Communication Technology (ICT) related monthly magazine in Bangladesh.
09/07/2026
বাংলাদেশে এআই মেধা বিকাশে জাইকার সহযোগিতা
বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। এ লক্ষ্যে জাইকা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসুও-ইওয়াসাওয়া ল্যাবরেটরির (মাৎসুও ল্যাব) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জিসিআই ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৪ সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক শিক্ষা কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং মেশিন লার্নিং বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আয়োজকদের তথ্যমতে, চলতি বছর বিশ্বের ১১৪টি দেশের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করে প্রায় ৮০০ জন শিক্ষার্থী।
প্রোগ্রামের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জিসিআই ওয়ার্ল্ড হ্যাকাথন, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার সমাধানে এআইভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরি করেন। এ ছাড়া টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসুও-ইওয়াসাওয়া ল্যাবরেটরির গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সর্বশেষ অগ্রগতি, ডেটা সায়েন্স এবং মেশিন লার্নিংয়ের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বক্তৃতা দেন।
বুধবার (৮ জুলাই) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনলাইন ও সরাসরি ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম এআই ট্যালেন্ট তৈরি করা।
এ প্রসঙ্গে জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ মোরিকাওয়া ইউকো বলেন, “এআই শিক্ষাকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, গবেষণা ও শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিজেদের সমস্যার সমাধান বাংলাদেশ নিজেই করতে পারবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বকে নতুন নতুন উদ্ভাবনও উপহার দিতে সক্ষম হবে।”
সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘আউটস্ট্যান্ডিং স্টুডেন্ট সার্টিফিকেট’ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত ১৭ জন সেরা শিক্ষার্থীর মধ্যে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থীও স্থান পেয়েছেন। তারা আগামী আগস্টে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসুও ল্যাব পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
আয়োজকদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে জাইকার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ আয়োজন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জিসিআই ওয়ার্ল্ডের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষা কর্মসূচিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দেশের এআই, ডেটা সায়েন্স ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতেও সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
08/07/2026
টেলিটক বিক্রি হচ্ছে না, নগদের ভবিষ্যৎ আদালতের সিদ্ধান্তে: মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম
রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবা নগদ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, টেলিটক বিক্রির কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে নগদের মালিকানা বা বিনিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে চলমান মামলার নিষ্পত্তির ওপর।
সরকারের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক টেলিকম ও ডিজিটাল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ভিওন বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রস্তাবে টেলিটকের সঙ্গে অংশীদারত্ব বা একীভূতকরণ এবং নগদে বিনিয়োগ কিংবা মালিকানা নেয়ার বিষয়ও ওঠে এসেছে।
সম্প্রতি দেশের আইসিটি খাতের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “সরকার টেলিটক বিক্রি করতে চায় না; বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক অপারেটরে রূপান্তর করতে চায়। রাষ্ট্রায়ত্ত একটি অপারেটর বাজারে থাকায় বেসরকারি কোম্পানিগুলো একচেটিয়া অবস্থান তৈরি করতে পারে না এবং গ্রাহকদের স্বার্থও কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।”
বিশ্লেষকদের মতে, টেলিটকের বাণিজ্যিক সাফল্য সীমিত হলেও এটি বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে বিক্রির পরিবর্তে প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ও সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে পুনর্গঠনের পথেই হাঁটতে চায়।
নগদ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, “নগদকে ঘিরে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারের পক্ষে বিক্রি, অংশীদারত্ব বা নতুন বিনিয়োগ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অতীতে নগদ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দেখছে।”
এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, নগদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সরকার আইনি প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন বাংলাদেশে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর অংশ হিসেবে টেলিটক, বিটিসিএল এবং নগদকে ঘিরে অংশীদারত্ব বা বিনিয়োগের বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই বিনিয়োগের লক্ষ্য হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল অবকাঠামো, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত সংযোগ প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সরকারের সর্বশেষ বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও রাষ্ট্রায়ত্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিটককে আধুনিকায়নের উদ্যোগ সফল হলে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে, গ্রাহকসেবা উন্নত হবে এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি জোরদার হবে। অন্যদিকে নগদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্রুত আইনি অনিশ্চয়তা কাটলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস খাতেও নতুন বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। যেকোনও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা আইন, গ্রাহকস্বার্থ এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল কৌশলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সরকারের সর্বশেষ অবস্থান থেকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট- টেলিটক বিক্রির পরিকল্পনা নেই; আধুনিকায়নই প্রধান লক্ষ্য। নগদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে আদালতের মামলার নিষ্পত্তির পর। বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হলেও জাতীয় কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে সরকার সতর্ক ও নীতিনির্ভর অবস্থান বজায় রাখতে চায়।
ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে টেলিকম, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং প্রযুক্তি অবকাঠামো এই তিন খাতের ভবিষ্যৎ এখন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।
08/07/2026
ডিএসই মোবাইল অ্যাপে শেয়ার লেনদেন, বিনিয়োগে নতুন গতি
দেশের পুঁজিবাজারে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ডিএসই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষ করে স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তার এবং অনলাইন ট্রেডিং সুবিধার কারণে এখন বিনিয়োগকারীরা ঘরে বসেই সহজে পুঁজিবাজারে লেনদেন করতে পারছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসই (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ) মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ট্রেডিং ব্যবস্থা পুঁজিবাজারকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর পূর্ণ সুফল পেতে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ডিএসই-এর অনুমোদিত ব্রোকারেজ হাউসগুলোর মোবাইল ট্রেডিং অ্যাপ ব্যবহার করে একজন বিনিয়োগকারী তার বিও অ্যাকাউন্ট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করে শেয়ার কেনা-বেচার আদেশ দিতে পারেন। এ ছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণত যে সুবিধাগুলো পাওয়া যায়- রিয়েল-টাইম শেয়ার মূল্য দেখা; পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ; অর্ডার প্রদান, সংশোধন ও বাতিল; লেনদেনের ইতিহাস দেখা; ওয়াচলিস্ট তৈরি এবং বাজারের বিভিন্ন সূচক ও তথ্য পর্যবেক্ষণ। ফলে বিনিয়োগকারীদের আর প্রতিবার ব্রোকারেজ হাউসে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হয় না।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েকটি কারণে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেডিং জনপ্রিয় হচ্ছে- দ্রুত ও সহজ লেনদেন; যেকোনও স্থান থেকে বাজারে অংশগ্রহণ; সময় ও খরচ সাশ্রয়; তাৎক্ষণিক বাজার তথ্য পাওয়ার সুযোগ এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবার সঙ্গে সহজ সমন্বয়। বিশেষ করে তরুণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখন মোবাইলনির্ভর ট্রেডিংকেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ মনে করছেন।
সুবিধার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম- সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি; ফিশিং ও ভুয়া অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা; দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগে অর্ডার কার্যকর হতে বিলম্ব এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে সীমিত জ্ঞানসম্পন্ন বিনিয়োগকারীদের সমস্যায় পড়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে।
বিশ্বের উন্নত পুঁজিবাজারে অধিকাংশ খুচরা বিনিয়োগকারী মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই লেনদেন করেন। বাংলাদেশেও একই ধারা তৈরি হচ্ছে। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ, ব্যক্তিগত বিনিয়োগ পরামর্শ, তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন, ডিজিটাল কেওয়াইসি এবং আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত হলে মোবাইল ট্রেডিং আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠতে পারে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনের বিস্তার বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারের তারল্য বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এর জন্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
ডিজিটাল রুপান্তর ধারাবাহিকতায় পুঁজিবাজারেও মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। নিরাপদ, দ্রুত ও সহজ লেনদেন নিশ্চিত করা গেলে ডিএসই মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ট্রেডিং ভবিষ্যতে দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
07/07/2026
ডিজিটাল গভর্নেন্সে সহযোগিতা বাড়াতে ঢাবি-ব্রিটিশ কাউন্সিলের বৈঠক
ডিজিটাল গভর্নেন্স, নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ-এর মধ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উচ্চশিক্ষা খাতে ডিজিটাল গভর্নেন্সের উন্নয়ন, নিরাপদ ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর আন্তঃসংযোগ গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ‘ই-ফেক্টিভ গভর্নেন্স’ কর্মসূচির টিম লিডার আরসেন স্টেপের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোসাদ্দেক হোসেন কামাল, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ই-গভর্নেন্স কো-অর্ডিনেটর মো. ইনামুল হক, সিটিজেন এনগেজমেন্ট অ্যান্ড আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর সাজিয়া শারমীন সহ উভয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম, পরীক্ষা, সনদ প্রদান এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হয়েছে।
পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরের শিক্ষার্থী ও একাডেমিক তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং সনদ যাচাইকরণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যভান্ডার ও ডিজিটাল সেবাগুলোকে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত করার সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সম্ভাব্য সহযোগিতাকে স্বাগত জানান। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
07/07/2026
প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ: শিক্ষামন্ত্রী
দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। শ্রেণিকক্ষে সঠিকভাবে পাঠদান করা হচ্ছে কিনা তা নজরে রাখার জন্য প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ‘২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
নায়েম-এর মহাপরিচালক প্রফেসর ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান মিয়া এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে নায়েম-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেয়া প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেন সঠিকভাবে মনিটরিং করা যায়, সেজন্য একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে যেকোনও সময় যেকোনও ক্লাসরুম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়ন করতে হলে শিক্ষকদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে। দেশের শিক্ষা কাঠামোকে এমনভাবে সংস্কার ও পরিবর্তন করতে হবে, যেন মেধাবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হন।’’
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Address
House # 9, Block # B, Avenue # 1, Section # 10, Mirpur/10
Dhaka
1216