Salsabil
কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে তোমার দায়িত্ব শুধ?
05/08/2022
︵🦋নবিজির কন্ঠে কোরআন শরিফ, তিলাওয়াত এতই সুন্দর ছিল 🌺যে আবু জাহেল ও লুকিয়ে লুকিয়ে শুনত!🌻😍
21/06/2022
যুবকদের দ্বীনে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় যে প্রতিবন্ধকতা, সেটা হলো হারাম রিলেশনশিপ। এমন অনেকেই আছে যারা হয়তো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়ে, রামাদানে সিয়াম রাখে, দ্বীনের ব্যাপারেও খুব আগ্রহী। কিন্তু, একটা জায়গায় এসে আটকে গেছে- হারাম রিলেশনশিপ। তাদের ধারণা, নন-মাহরাম একটি মেয়ের সাথে চলাফেরা করা, একসাথে ঘুরতে যাওয়া, ফুচকা খাওয়া, সেলফি তোলা, সেই সেলফিগুলো ফেইসবুকে আপলোড দেওয়া এবং হাত ধরাধরি করে পার্কে হেঁটে বেড়ানোতে আসলে কোনো সমস্যা নেই।
এ রকম 'জাস্ট ফ্রেন্ড' রিলেশনশিপে আক্রান্ত কোনো ভাই কিংবা বোনকে যখনই আপনি বলতে যাবেন যে, তারা যা করছে বা যেভাবে চলছে তা আদৌ ইসলাম সমথর্ন করে না, তখনই তারা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠবে। আর বলবে, 'আরে ভাই! আমরা প্রেম করছি নাকি? আমরা তো কেবল বন্ধু। আপনি আর আমি যেমন বন্ধু, এই মেয়েটা আর আমার মধ্যে সে রকম বন্ধুত্ব। এর বাইরে আর কিছু না'।
তাদের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা রেখেই বলতে হয়- তারা যে বন্ধুত্বের কথা বলছেন, সেই বন্ধুত্ব করতে ইসলাম কখনোই অনুমতি দেয় না। তারা যদি ইসলামকে অন্য পাঁচ-দশটা ধর্মের মতো কেবল আনুষ্ঠানিক ইবাদত-কেন্দ্রিক ধর্ম মনে করে থাকে, তাহলে তারা খুব বড় ভুলের মধ্যে আছে। ইসলাম ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমুতে যাওয়া পর্যন্ত আমাদের জীবনের সকল দিক নিয়েই কথা বলে। আদতে ইসলাম কোনো ধর্ম নয়। এটা হলো দ্বীন। একটা পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।
কেবল 'জাস্ট ফ্রেন্ড' বলে যার সাথে আমি মিশছি, ঘুরছি, একসাথে খাচ্ছি, তার সাথে মেশার, ঘোরার কিংবা খাওয়ার অনুমতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাকে দেননি। আমার জন্য তিনি কুরআনুল কারীমে স্পষ্ট করেই বলেছেন -
قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَغُضُّوۡا مِنۡ اَبۡصَارِہِمۡ وَ یَحۡفَظُوۡا فُرُوۡجَہُمۡ ؕ
"(হে রাসুল) আপনি মুমিন ব্যক্তিদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাযত করে"।
(সূরা ২৪.আন-নূর-আয়াত নং ৩০)
'দৃষ্টি সংযত' বলতে আসলে কী বোঝায়? তাহলে কি আমরা চোখ বন্ধ করে হাঁটব? না, ব্যাপারটা আসলে তা নয়। নবিজির হাদিস থেকে জানা যায়, তিনি বলেছেন, 'যখনই কোনো পরনারীর দিকে চোখ পড়ে যাবে, সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয়বার চোখ তুলে তার দিকে তাকানো যাবে না'। (সহিহ মুসলিম: ২১৫৯)
কেউ বলতে পারে, 'আমি তো তাকে কেবল বন্ধুই ভাবছি। তার ব্যাপারে কোনো খারাপ ধারণা আমার ভেতরে নেই। কখনো আসবে না'। এমন ভাবনা-পোষণকারীদের একটা গল্প শোনাতে চাই। এই গল্প এমন এক সালিহ তথা নেককার ব্যাক্তির যার সারাটা দিন কেটে যেত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদতে। যিনি ছিলেন আগাগোড়া একজন ধার্মিক, পরহেযগার ব্যক্তি। আল্লাহর এমন এক খালিস বান্দা কীভাবে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন সেটাই ঘটনার মূল প্রতিপাদ্য।
ঘটনাটি বারসিসা নামের বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ের একজন নেককার ব্যাক্তির। বনি ইসরাইলের লোকেরা যখন পাপের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিল, তখন বিশাল একটি জনপদে বারসিসাই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল ছিলেন। তিনি তার প্রার্থনাগৃহে একটানা ৭০বছর আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন ছিলেন।
একবার বনি ইসরাইলের তিনজন যুবক একটি কাজে শহরের বাইরে যাওয়ার জন্য মনস্থির করল। তাদের ছিল যুবতী এক বোন। পাপ-পঙ্কিলতার এই সময়ে তাদের বোনকে কে দেখে রাখবে-সেই চিন্তায় তারা অস্থির হয়ে উঠল। তখন বনি ইসরাইলের অন্য লোকেরা তাদের পরামর্শ দিয়ে বলল- বারসিসার কাছে তোমরা তোমাদের বোনকে রেখে যেতে পারো। আমরা তাকে আমাদের মধ্যে সর্বোচ্চ তাকওয়াবান ও পরহেযগার হিশেবে জানি'।
তিনভাই বারসিসার কাছে এসে বোনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করল তারা। একজন বেগানা মহিলার দায়িত্ব নেওয়ার কথা শুনেই ভয়ে কেঁপে উঠল বারসিসার অন্তর। তিনি বললেন, 'চুপ করো! আমি কখনোই এই দায়িত্ব নিতে পারব না। আল্লাহর দোহাই লাগে, তোমরা এখান থেকে চলে যাও'।
বারসিসার এমন কথা শুনে তিন ভাই মনঃক্ষুন্ন হয়ে চলে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে শয়তান তার কুমন্ত্রণা নিয়ে হাজির হলো। সে বারসিসার মনে এমন আবেগ আর দরদি যুক্তি ঢেলে দিল যাতে করে তার মন গলে যায়। বারসিসার মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে শয়তান বলল, 'বারসিসা, তুমি কী করলে এটা! এই সরল, মহৎ ভাইগুলোর এমন নিষ্পাপ আবদারকে তুমি প্রত্যাখ্যান করলে? তুমি কি মনে করেছ, তারা কাজের জন্য শহরের বাইরে চলে গেলে তাদের ছোট বোনটা নিরাপদে থাকবে? কেউ তার সম্ভ্রমহানি করবে না? তুমি কি মনে করো না যে, সে তোমার কাছেই সর্বোচ্চ নিরাপদে থাকত'?
শয়তানের কথাগুলো বারসিসার কাছে খুব যুক্তিযুক্ত এবং বাস্তবিক মনে হলো। সে ভাবল, 'ঠিকই তো! সময় তো বেশি ভালো না। তাদের বোন একা থাকলে যে-কারও দ্বারা নির্যাতিত হতে পারে। তারচেয়ে ভালো হয়, যদি আমিই এই মেয়েটার দায়িত্ব নিয়ে রাখি। এতে করে সে হয়তো অন্যদের লালসার শিকার হওয়া থেকে বেঁচে যাবে'।
বারসিসা ফিরে যাওয়া তিন ভাইকে ডাক দিল। বলল 'ঠিক আছে'। আমি তোমাদের বোনের দায়িত্ব নিতে পারি। তবে শর্ত হলো, সে আমার সাথে আমার প্রার্থনাগৃহে থাকতে পারবে না। দূরে আমার একটি কুঁড়েঘর আছে। সেখানেই তাকে থাকতে হবে'।
তিন ভাই বারসিসার শর্ত মেনে নিয়ে বোনকে তার কাছে রেখে শহরের বাইরে চলে গেল।
বারসিসা রোজ তার প্রার্থনাগৃহে সামনে মেয়েটির জন্য খাবার রেখে দরজা বন্ধ করে দিত। খাবারের পাত্র বারসিসার ঘরের সামনে থেকে নিয়ে আসত মেয়েটি। এভাবেই পার হচ্ছিল দিন। কিন্তু শয়তানের চক্রান্ত আরও গভীরে। সে আবার বারসিসার মনে কুমন্ত্রণা দিল। শয়তানের কুমন্ত্রণা ছিল আপাতদৃষ্টিতে যৌক্তিক ও বাস্তবিক। সে বারসিসার মনে এই ভাবনা উদয় ঘটাল যে, 'বারসিসা! তুমি সবসময় মেয়েটির জন্য ঘরের বাইরে খাবার রাখো। সে নিজের ঘর থেকে বের হয়ে তোমার ঘর অবধি হেঁটে এসে সেই খাবারগুলো নিয়ে যায়। আচ্ছা বারসিসা, একটা ব্যাপার কি খেয়াল করেছ? তোমার ঘর অবধি যখন মেয়েটা হেঁটে আসে, সে সময় না-জানি কত পরপুরুষ তাকে দেখে ফেলে। এটা কি ঠিক, বলো? তুমি তো চাইলে তার ঘরের দোরগোড়া পর্যন্ত খাবারগুলো রেখে আসতে পারো'।
বারসিসার মনে এই ভাবনা দাগ কাটল। সে ভাবল, 'সত্যিই তো। আমার ঘর পর্যন্ত আসতে তাকে তো অনেক পরপুরুষ দেখে ফেলে'। বারসিসা পরের দিন থেকে খাবার মেয়েটার ঘরের দোরগোড়ায় রেখে আসতে লাগল। এভাবে চলল আরও কিছুদিন। শয়তান তার কূটবুদ্ধি নিয়ে আবার হাজির হলো। এবার বলল, 'বারসিসা! ভারি আজব লোক তো তুমি! তার ঘরের দোরগোড়া পর্যন্ত যেতে পারো, ভেতরে গিয়ে তার সাথে দু-চারটা কথা তো বলতে পারো, তাই না? বেচারি ভাইদের অনুপস্থিতিতে কতই-না একাকী জীবন পার করছে'!
এই ভাবনায় বারসিসার মনঃপুত হলো। সে ভাবল, 'সত্যিই তো! এতদূর পর্যন্ত যখন আসি,তার সাথে দু-চারটে কথা তো বলে যেতে পারি। ভাইদের অনুপস্থিতিতে সে নিশ্চয় খুব একাকীবোধ করে'।
পরের দিন থেকে বারসিসা খাবার নিয়ে সোজা মেয়েটার ঘরের ভেতরে ঢুকতে শুরু করে। দুজনের হালকা কিছু গল্প-আলাপও হয়। সেই আলাপগুলো আস্তে আস্তে দীর্ঘ আলাপে পরিণত হয় এবং একসময় বারসিসা মেয়েটার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। সেই আসক্তি একটা পর্যায়ে শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়'।
(তাফসিরে কুরতবি,সুরা হাশরের ১৬নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, 'দুজন নারী-পুরুষ যখন একান্তে আসে, সেখানে তৃতীয়জন হয় শয়তান'।
(জামি তিরমিযি: ২১৬৫)
আপনার মাহরাম নয় এমন কারও সাথে বসে আপনি আড্ডা দিতে পারেন না, চ্যাট করতে পারেন না। ফোনে কথা বলতে পারেন না। যার সামনে আপনার জন্য পর্দা ফরয, তার সাথে কীভাবে আপনি হাত ধরাধরি করে হাঁটতে পারেন? যাকে দেখামাত্র আপনার জন্য দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া ফরয, তার সাথে কীভাবে আপনি বন্ধুত্ব পাতাতে পারেন? ক্যাম্পাসে আড্ডা দিতে পারেন? রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা চ্যাট করতে পারেন? ফোনে কথা বলতে পারেন?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নারীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, 'তোমরা পরপুরুষদের সাথে কোমল কন্ঠে কথা বলো না'। এটাই হচ্ছে সীমারেখা।
চলুন, আমরা নিজেদের কেবল তার জন্যই সংরক্ষণ করি যাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জন্য নির্ধারিত কঅরে রেখেছেন। যে আমার স্ত্রী হবে তার জন্যই যৌবনকে হিফাযত করি। তার সাথেই রাতে জোছনা দেখার জন্য, সমুদ্রের পারে তার হাত ধরে হাঁটার জন্য, গোলাপ হাত্র তাকে 'ভালোবাসি' বলার জন্য, বর্ষার রিমঝিম বৃষ্টিতে তাকে নিয়ে ভেজার জন্য অপেক্ষা করি। এই স্থান, এই অধিকার, এই মুহূর্তগুলো অন্য কাউকে যেন দিয়ে না বসি। আমার ওপর আমার স্ত্রীর একবারে প্রথম অধিকার হলো এই- আমি আমার জীবন, যৌবনকে তার জন্য হিফাযত করে চলব।
আপনার ভবিষ্যৎ স্বামীর জন্য আপনার রূপ-লাবণ্যকে হিফাযত করুন। কেবল তার জন্যই না হয় সাজলেন। তার হাত ধরাধরি করে বৃষ্টিবিলাস উপভোগ করলেন। বিশ্বাস করুন, আল্লাহর অবাধ্যতার মধ্যে কখনোই সুখ নেই, শান্তি নেই। আল্লাহর বিধান মেনে নিজেকে একটিবার পরিবর্তন করেই দেখুন না! যে নন-মাহরাম ছেলেটার হাত ধরে আছেন, সেই হাত আজকেই ছেড়ে দিন। এই মুহূর্ত থেকে তাকে সেফ জানিয়ে দিন তার আর আল্লাহর মাঝে আপনি সবসময় আল্লাহকেই বেছে নিবেন। তাকে আরও জানিয়ে দিন, কেবল আল্লাহর জন্যই আপনি আজ থেকে তার সাথে সমস্ত সম্পর্কের ইতি টেনে দিলেন। দেখবেন, আপনার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবকিছু কত সহজ করে দিবেন!
'আল্লাহর দিকে এক বিঘত আগান, তিনি আপনার দিকে এক বাহু অগ্রসর হবে'।
(সহিহ বুখারি: ৭৪০৫; সহিহ মুসলিম: ২৬৭৫)
হারাম রিলেশনশিপের পাপকে বৈধতা দিতে শয়তান সবসময় তার বাহারি যুক্তি নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়। ঠিক এজন্যই এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আমরা ভাবতে পারি না।
আসলে শয়তান চায় না আমরা এতদূর ভাবি। সে আমাদের চোখের সামনে ঝুলিয়ে রেখেছে একটা রঙিন পর্দা। সেই পর্দা হলো- 'আপনি ভালো তো জগৎ ভালো'!
একবার এক লোক একজন শাইখকে বললেন, ' শাইখ, আমার স্ত্রীকে আমার কাছে আর ভালো লাগে না। কী করা যায় বলুন তো'?
শাইখ জানতে চাইলেন, 'কেন? তোমার স্ত্রীর পূর্বের রূপ-লাবণ্য কি লোপ পেয়েছে'?
লোকটা বলল, 'জি না, শাইখ। সে আগের মতোই আছে'।
'তাহলে বলতে তার কি কোনো রকম অঙ্গহানি হয়েছে যার কারণে তুমি তাকে আর পছন্দ করতে পারছো না'?
'না, শাইখ। তার কোনো রকম অঙ্গহানি হয়নি'।
'সে কি তোমার প্রতি উদাসীন'?
'একেবারেই না শাইখ। সে আগের মতোই আমাকে ভালোবাসে। দেখাশোনা করে। যত্ন করে'।
এরপর শাইখ বললেন, 'ঠিক আছে। এবার তাহলে তোমার কথা বলো। তুমি কি আজকাল পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছ? তুমি কি বেগানা নারীদের কাছ থেকে নিজের দৃষ্টিকে হিফাযত করে চলতে পারো? তুমি কি অন্য কারও সাথে কোনো অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছ'?
লোকটি মাথা নিচু করে বলল, 'জি, শাইখ! আমি আজকাল পর্নোগ্রাফিতে খুব মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছি। আমি আমার দৃষ্টিকে হিফাযত করে চলতে পারি না। আর ইতোমধ্যে একটা অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছি'।
শাইখ তখন বললেন, 'তুমি যখন হারামে ডুব দেবে, হারাম জিনিসকে পছন্দ করা শুরু করবে, তখন হালাল জিনিসকে তোমার কাছে ভালো লাগবে না। বিরক্তিকর লাগবে। এটাই স্বাভাবিক'।
আমরা যখন মিউজিক, গান-বাদ্য-বাজনা পছন্দ করা শুরু করি, তাতে আসক্ত হয়ে পড়ি, তখন কুরআনের সুর আমাদের কানে পানসে ঠেকে।
শাইখ আলি তানতাবি রাহিমাহুল্লাহর একটা কথা আমার খুব পছন্দের। তিনি বলেছেন, ' কিছু যুবক বলে থাকে তারা মেয়েদের চরিত্র ও ভদ্রতা ছাড়া আর নাকি কিছুই দেখে না। মেয়েদের সাথে তারা নাকি বন্ধুর মতোই কথা বলে এবং মেয়েদের বন্ধুর মতোই ভালোবাসে। মিথ্যে কথা! যুবকের তাদের আড্ডায় তোমাকে নিয়ে যে ধরনের কথা বলে তা যদি শুনতে পেতে, তাহলে তুমি ভয়ে চমকে উঠতে'।
শাইখ তানতাবির কথাগুলো নিরেট বাস্তবতা আছে। দুজন বন্ধুর একাকী আলাপের মাঝে তাদের সুন্দরী বান্ধবীটা সম্পর্কে কী ধরনের কথাবার্তা উঠে আসে তা না শুনলে বিশ্বাস করাটাই দুরূহ! সেই রগরগে আলোচনাগুলো যদি সেই বান্ধবী শুনতে পেত, তাহলে সে কোনোদিনও আর তাদের মুখ দেখত না।
আপনি বলতে পারেন, কেবল কথা বললেই কিংবা তাকালেই কি পাপ হয়ে যায়? জি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'চোখের যিনা হলো চোখ দিয়ে দেখা। জিহ্বার যিনা হলো সেই জিহ্বা দিয়ে (অশ্লীল, রগরগে) কথা বলা। হাতের যিনা হলো পরনারীকে (খারাপ উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করা। পায়ের যিনা হলো ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়া এবং মনের যিনা হলো (ব্যভিচারের) ইচ্ছা বা আকাঙ্খা করা। আর এ সবকিছু কাজে রূপান্তর করে মানুষের গুপ্তাঙ্গ'।
(সহিহ বুখারি: ৬২৪৩, ৬৬১২; সহিহ মুসলিম: ২৬৫৭)
হালাল রিলেশানশিপের দিকে তাকান। কত সুন্দর আর মধুর এই সম্পর্ক! স্ত্রীর দিকে আপনি যখন মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকান, যখন আপনি স্ত্রীর মুখে ভালোবেসে খাবার তুলে দেন, আপনি যাখন স্ত্রীর জন্য উপহার নিয়ে আসেন, তাকে নিয়ে ঘুরতে যান, তার পাশে বসে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তার গল্প শোনেন- এ সবকিছুতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনার জন্য সাওয়াব বরাদ্দ রেখেছেন। ফেরেশতারা তখন আপনার জন্য সাদাকার সাওয়াব লিখে ফেলে। অন্যদিকে হারাম রিলেশানশিপে আপনি বেগানা নারীর দিকে তাকালে, তাকে স্পর্শ করলে, তার সাথে কথা বললে, তার কথা চিন্তা করলে আপনার আমলনামায় গুনাহ যুক্ত হয়ে যায়।
আল্লাহর দিকে যারা মন থেকে ফিরে আসতে চায়, আল্লাহ তাদের জন্য সকল প্রতিবন্ধকতাকে সহজ করে দেন। তাদের মনে ঢেলে দেন প্রশান্তির সুনির্মল সুবাস। সেই সুবাসে বান্দা রাঙিয়ে নেয় তার যাপিত জীবন। আল্লাহর দিকে ফিরে আসার জন্য খুব জমকালো আয়োজনের দরকার হয় না। কেবল আন্তরিক তাওবা আর চোখের পানিই তো!
(বই: বেলা ফুরাবার আগে)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Dhaka