agrobengal.com

agrobengal.com

Share

We provide oraganic, pure and fresh foods. Promising to provide pure and fresh foods.

04/07/2025

বেশ বুঝে জাত নির্বাচন: আপনার খামারের পরিবেশ কেমন, সে অনুযায়ী জাত নির্বাচন করুন। যেমন, সিমেন্টের ফ্লোর বা অল্প পরিসরের জায়গায় বিদেশি বা ভারী জাতের গরু পালন কঠিন হতে পারে। দেশি জাতের গরু এসব পরিবেশে বেশি উপযোগী।
৭. চলাফেরা ও উজ্জ্বলতা দেখে স্বাস্থ্য অনুমান: গরুর চলাফেরা, খাবারের প্রতি আগ্রহ এবং লোমের উজ্জ্বলতা দেখে তার স্বাস্থ্যের প্রাথমিক ধারণা নিন। সুস্থ গরুর লোম মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়।
৮. মুখের দুর্গন্ধ পরীক্ষা: গরুর মুখ থেকে দুর্গন্ধ আসলে তার পেটে বা দাঁতে সমস্যা থাকতে পারে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অসুস্থতার লক্ষণ।
৯. অস্বাভাবিক আচরণ: গরু যদি বসতে না চায় বা দাঁড়িয়ে কাঁপতে থাকে, তবে তার মধ্যে কোনো লুকানো রোগ (হিডেন ডিজিজ) থাকতে পারে।
১০. শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে যাচাই: ফিজিক্যালি মোটা গরু মানেই যে সবল, তা নয়। অনেক সময় এটি পেট গ্যাস, কৃমি বা অন্য কোনো ইনফেকশনের কারণে হতে পারে।
গরু আনার পরে প্রথম ৭ দিনের করণীয়:
খামারে নতুন গরু আনার পর প্রথম ৭ দিন বিশেষ যত্ন ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন:
১১. কোয়ারেন্টাইন: নতুন গরুকে খামারের অন্যান্য গরু থেকে কমপক্ষে ৩ দিনের জন্য আলাদা (কোয়ারেন্টাইনে) রাখুন। এতে কোনো সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে যাবে।
১২. ভেটেরিনারি চেক-আপ: একজন ভেটেরিনারি ডাক্তারের মাধ্যমে গরুর পুরো শরীর ভালোভাবে চেক-আপ করিয়ে নিন।
১৩. প্যারাসাইট ও কৃমির ঔষধ: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসাইট ও কৃমির ঔষধ দিয়েই নতুন গরুর পরিচর্যা শুরু করুন।
১৪. হালকা খাবার দিয়ে শুরু: প্রথম দিকে গরুকে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দিন। এতে তার হজম শক্তি স্বাভাবিক থাকবে এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সুবিধা হবে।
১৫. পানি খাওয়ার দিকে খেয়াল রাখুন: গরু পানি খাওয়ার সময় খেয়াল করুন। যদি কম খায়, তবে কিছু সমস্যা থাকতে পারে। পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করুন।
১৬. ঘরে এনে গোসল নয়: গরু খামারে আনার পরপরই গোসল করাবেন না। এতে ঠাণ্ডা লেগে সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে নতুন পরিবেশে।
১৭. আস্তে আস্তে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: আগে যে খাবার খেত, তা থেকে আপনার খামারের খাবারে আস্তে আস্তে পরিবর্তন করুন। হঠাৎ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলে হজমে সমস্যা বা ডায়রিয়া হতে পারে।
১৮. গোবরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ: প্রথম ৭ দিনে গরুর গোবরের অবস্থা প্রতিদিন খেয়াল রাখুন। গোবরের রঙ, ঘনত্ব বা গন্ধ পরিবর্তন রোগের লক্ষণ হতে পারে।
খাদ্য ব্যবস্থাপনায় মাস্টার টিপস:
সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা আপনার খামারের সাফল্যের চাবিকাঠি:
১৯. হজম শক্তি বৃদ্ধি: গরু মোটাতাজা করার আগে তার হজম শক্তি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিন। হজম শক্তি ভালো থাকলে খাবার থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টি শোষণ হবে।
২০. সঠিক অনুপাত: খড়, ঘাস এবং দানাদার খাবারের সঠিক অনুপাত রক্ষা করুন। এটি গরুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে।
২১. দিনে অন্তত ২ বার হালকা করে খাওয়ান: দিনে অন্তত ২ বার অল্প অল্প করে খাবার দিন। একবারে বেশি খাওয়ালে হজমে সমস্যা বা গ্যাস হতে পারে।
২২. ঘরে বানানো কনসেন্ট্রেট ফিড: বাড়িতে বানানো কনসেন্ট্রেট ফিড বাজার থেকে কেনা ফিডের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।
২৩. খাবার যাচাই: খাওয়ার আগে খাবার কেমন লাগছে, তা গন্ধ দিয়ে যাচাই করুন। পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার গরুকে দেবেন না।
২৪. নিয়মিত স্যালাইন ও লবণ পানি: গরুকে নিয়মিত স্যালাইন ও লবণ পানি দিন। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং খনিজ চাহিদা পূরণ করে।
২৫. ধীরে ধীরে ঘাসের সাথে মানিয়ে নিন: গরুকে ধীরে ধীরে ঘাসের সাথে মানিয়ে খাওয়াও। হঠাৎ করে বেশি ঘাস দিলে ডায়রিয়া হতে পারে।
২৬. হজম বৃদ্ধিতে মসলা: খাদ্যের সাথে সামান্য রসুন বা জিরা গুঁড়ো মিশালে গরুর হজম ভালো হয়।
২৭. মোলাসেস ব্যবহার: খাবারে সামান্য মোলাসেস (গুড়ের রস) দিলে গরুর খেতে আগ্রহ বাড়ে এবং খাবারের স্বাদ উন্নত হয়।
২৮. খাওয়া বন্ধ করা: গরু যদি হঠাৎ খাওয়া বন্ধ করে দেয়, সেটা শুধু রোগের লক্ষণই নয়, মানসিক স্ট্রেসের কারণেও হতে পারে। কারণটি খুঁজে বের করে সমাধান করুন।
রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা টিপস:
রোগ প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসা খামারের ক্ষতি কমায়:
২৯. নাদিমক রুটিন: মাসে একবার কৃমির ঔষধ এবং ৬ মাসে একবার প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন (যেমন FMD, Anthrax, HS, PPR) দেওয়ার রুটিন তৈরি করুন।
৩০. হঠাৎ শরীর ঠাণ্ডা: গরুর শরীর হঠাৎ ঠাণ্ডা হলে গরম চট দিয়ে মুড়িয়ে রাখুন। এটি তাকে উষ্ণতা দেবে।
৩১. পায়ের নখ: গরুর পায়ের নখ বাড়লে নিয়মিত কেটে দিন। বড় নখ সংক্রমণের কারণ হতে পারে এবং গরুর চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি করে।
৩২. মশা-নিবারণী ব্যবস্থা: খামারে সবসময় মশা-নিবারণী ব্যবস্থা রাখুন। মশা অনেক রোগের বাহক।
৩৩. গরমে ছায়া: গরমে গরুকে সবসময় ছায়ায় রাখুন। হিটস্ট্রোক গরুর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
৩৪. নাকের শুষ্কতা: গরুর নাক শুকনো থাকলে বুঝবেন কিছু সমস্যা আছে। সুস্থ গরুর নাক সাধারণত ভেজা থাকে।
৩৫. কানে পোকা/মাকড়: কানে পোকা বা মাকড় থাকলে দ্রুত অভিজ্ঞের সাহায্য নিয়ে পরিষ্কার করুন।
৩৬. নিজেই চিকিৎসা নয়: নিজে চিকিৎসা না করে অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি ডাক্তারকে ডাকুন। ভুল চিকিৎসা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।
খামার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক বুদ্ধি:
আধুনিক ব্যবস্থাপনা আপনার খামারকে আরও দক্ষ করে তুলবে:
৩৭. সিসিটিভি স্থাপন: গরুর খামারে সিসিটিভি লাগান। এটি চুরি রোধ, কর্মচারীদের অনুপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং গরুর গতিবিধি নিরীক্ষণে সহায়ক।
৩৮. প্রতিটি গরুর আলাদা নাম: প্রতিটি গরুর আলাদা নাম দিন। এতে ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হয় এবং গরু আপনার সাথে বেশি পরিচিত হয়।
৩৯. আলাদা রেকর্ড: প্রতিটি গরুর জন্য আলাদা আলাদা রেকর্ড রাখুন – যেমন খাওয়ার অভ্যাস, রোগ, ওজন বৃদ্ধি, টিকা প্রদানের তারিখ ইত্যাদি।
৪০. ঝড়-বৃষ্টির সুরক্ষা: নিশ্চিত করুন যে খামারে ঝড়-বৃষ্টির সময়ে পানি ঢুকবে না। জলাবদ্ধতা গরুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
৪১. পিচ্ছিল মেঝে: মেঝে যেন পিচ্ছিল না হয়। অনেক দুর্ঘটনা সেখান থেকেই হয়। প্রয়োজনে রাবার ম্যাট বা খাঁজকাটা ফ্লোর ব্যবহার করুন।
৪২. দৈনিক তাপমাত্রা পরীক্ষা: দিনে অন্তত একবার গরুর মুখে হাত দিয়ে বা থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন।
৪৩. স্বাস্থ্যবিধি: ঘরে ঢোকার আগে হাত-পা ধুয়ে ঢোকুন। অনেক রোগ বাইরে থেকে আপনার খামারে আসতে পারে।
৪৪. নিরাপদ জীবাণুনাশক: খামারে ডিটারজেন্ট নয়, বরং ফেনল বা নিরাপদ জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।
৪৫. নিয়মিত পরিষ্কার: নিয়মিত খামার পরিষ্কার রাখলে রোগের ঝুঁকি প্রায় ৫০% কমে যায়।
বাজার ব্যবস্থাপনা ও লাভের পথে যাত্রা:
সঠিক বাজার ধারণা আপনার লাভ নিশ্চিত করবে:
৪৬. বাজার রিসার্চ: গরু মোটাতাজা করলেই হবে না। বিক্রির জন্য বাজারের চাহিদা, ক্রেতার ধরণ এবং দাম সম্পর্কে ভালোভাবে রিসার্চ করুন।
৪৭. ঈদ বা মৌসুম বুঝে প্রস্তুতি: ঈদ-উল-আযহা বা অন্যান্য উৎসবের মৌসুম বুঝে আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন, কারণ এ সময় ভালো দাম পাওয়া যায়।
৪৮. সোশ্যাল মিডিয়ায় বুকিং: সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার গরুর ছবি/ভিডিও দিয়ে অগ্রিম বুকিং নিতে পারেন। এটি সরাসরি ক্রেতা খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
৪৯. ধাপে ধাপে বিক্রি: একসাথে ১০টা গরু বিক্রি না করে ২–৩টা করে সময় বুঝে বিক্রি করুন। এতে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৫০. খামার ভিজিট চালু: আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য খামার ভিজিট চালু করুন। মানুষ আসবে, গরু দেখবে, এবং বিক্রির সম্ভাবনা বাড়বে।
মন ও মানসিকতা গড়ার টিপস (সফলতা এখানেই):
সফল খামারি হতে হলে শুধু কৌশল জানলেই হবে না, সঠিক মানসিকতাও প্রয়োজন:
৫১. ভালোবাসা: গরুর প্রতি ভালোবাসা ছাড়া এই পেশায় সফলতা সম্ভব নয়। এটি শুধু ব্যবসা নয়, জীবন্ত প্রাণীর সাথে একটি সম্পর্ক।
৫২. সকালে সময় দিন: সকালে উঠেই খামারে অন্তত ৩০ মিনিট মনোযোগ দিয়ে সময় দিন। গরুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করুন।
৫৩. চোখে চোখ রেখে কথা: প্রতিটি গরুর চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। তারা মানুষের আবেগ অনুভব করতে পারে।
৫৪. ধৈর্য হারাবেন না: গরু পালন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। লাভ আসতে সময় লাগবেই, তাই ধৈর্য হারাবেন না।
৫৫. অভিজ্ঞের কাছে শিখুন: একজন সফল খামারির কাছ থেকে মাসে অন্তত ১ দিন শিখতে যান। তাদের অভিজ্ঞতা আপনার জন্য মূল্যবান হবে।
৫৬. নিত্য নতুন জ্ঞান: প্রতিদিন নতুন কিছু শিখুন – ইউটিউব, বই, কৃষি বিষয়ক ম্যাগাজিন এবং অভিজ্ঞদের থেকে।
৫৭. গরুর চাহিদা বুঝুন: গরু কখন কী চায়, সেটা বোঝা শিখুন। তাদের আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করুন।
৫৮. ভুল থেকে শিক্ষা: নিজের ভুলগুলো লিখে রাখুন – যেন দ্বিতীয়বার একই ভুল না হয়।
৫৯. কর্মচারীকে সম্মান: খামারে ভালো কর্মচারীকে সম্মান দিন। তারাই আপনার সফলতা তৈরিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
৬০. ভালোবাসাই লাভ: আর সবশেষে মনে রাখবেন – "খামার করো লাভের জন্য না, ভালোবাসার জন্য – লাভ আপনা থেকে আসবে।"

#নতুনখামারি #গরুপালন #খামারব্যবস্থাপনা #লাভজনকখামার #কৃষিটিপস #সফলখামারি #পশুপালন #কৃষিউদ্যোক্তা

31/05/2025

মরিচের চারা

23/05/2025

🌿🔥বাড়ির মসলার জাদু বাড়িতে বানান ৫ মিনিটে প্রাকৃতিক কীটনাশক! ফসল-গাছ হবে বিষমুক্ত!

🚀 কেমন লাগবে যদি রাসায়নিক ছাড়াই পোকামাকড় গুঁড়িয়ে দিতে পারতেন? 💥

জানুন নিম-মরিচ-পেঁয়াজ দিয়ে ঘরোয়া জৈব কীটনাশক বানানোর স্টেপ বাই স্টেপ পদ্ধতি !

☎শাহী পেঁপে ও তাল বেগুন চারা ০১৩২৩০৬৬৯০৯

🌶️ উপকরণ সবই বাড়িতে আছে!
১ কাপ তাজা নিম পাতা প্রাকৃতিক বিষনাশক🍃
৮টি কাঁচা মরিচ পোকাদের রান ফর-লাইফ করবে!🌶️
১টি বড় পেঁয়াজ ব্লেন্ড করে নিন!🧅
২ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া ফাঙ্গাসের শত্রু!💛
১ মুঠো রসুন পেস্ট করুন!🧄
১.৫ লিটার পানি💦

📌 বানানোর পদ্ধতি!
ব্লেন্ডারে নিম পাতা, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ একসাথে পেস্ট বানান।
পেস্টটিকে পানির সাথে মিশিয়ে ২০ মিনিট ফোটান।
ঠান্ডা হলে কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিন।
স্প্রে বোতলে ভরে রাখুন তৈরি হয়ে গেলো পোকামাকড়ের আতঙ্ক! 💥

💥 এই স্প্রে কেন গেম-চেঞ্জার?
নিম পোকা ডিম লার্ভা সব ধ্বংস! বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণিত!
মরিচ রসুন এফিড, মিলিবাগ, পিঁপড়াকে বলুন বিদায়!
হলুদ-পেঁয়াজ ফাঙ্গাস জীবাণুর একঘুঁটে সমাধান!
০ টাকা কেমিক্যাল, ১০০% প্রাকৃতিক গাছ-মাটি-পরিবেশের বন্ধু! 🌍

🌿 ৩টি সিক্রেট টিপস!
নিম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে রাখুন জরুরি সময়ে কাজে লাগবে!
স্প্রে করার পর ১ চামচ সাবানগুঁড়ো মিশালে আঠালো হবে মিশ্রণ!
ফ্রিজে রাখলে ১০ দিন ফ্রেশ থাকবে!

01/05/2025

বস্তায় আদা চাষের জন্য আলাদা করে জমির দরকার নেই। অনেকের বাড়িতে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ হয় আবার অনেকেই এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করার কথা জানেন না , আবার অতিবৃষ্টি বা বন্যায় ফসল ডুবে নষ্ট হওয়ার ভয়ও নেই। আবার একটি ফসল তোলার পর সেখানে আলাদা করে কোনো সার ছাড়াই আরেকটি ফসল ফলানো যাবে। খরচ নেই বললেই চলে!
অবিশ্বাস মনে হচ্ছে তো! না, এটা খুবই সম্ভব। এবং আপনার হাতের নাগালেই আছে সবকিছু। সিমেন্ট বা আলুর বস্তায় ফলানো যেতে পারে শাক–সবজি থেকে আদা–হলুদ!
এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। বাড়ির উঠোন, প্রাচীরের কোল ঘেঁষে বা বাড়ির আশেপাশের ফাঁকা জায়গা অথবা ছাদে যেখানে খুশি রাখা যায়। এর জন্যে আলাদা কোনও জমি বা পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।
বিশেষ করে ছায়াযুক্ত জায়গাতে এই পদ্ধতিতে চাষ করতে পারেন। সাধারণত বাঁশবাগানের তলায় কোনও ফসল চাষ হয় না। ফলে জায়গাটা পড়েই থাকে। সেই বাঁশবাগানে বস্তায় আদা চাষ করতে পারেন।
চাষ পদ্ধতিঃ
#বস্তায়_আদা_লাগানোর_সময়ঃ
বস্তায় আদা চাষের জন্য এপ্রিল-মে মাসে আদা রোপন করতে হয়।তবে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে উপযুক্ত সময়।
#উপযুক্ত_মাটিঃ
আদা চাষের জন্য উচু জায়গা ও জৈব সার সমৃদ্ধ দোঁআশ ও বেলে দোঁআশ মাটি সবথেকে উত্তম। প্রথমে মাটির শুকনো ঢেলা ভেঙে চেলে নিতে হবে। যাতে ঝুরঝুরে হয়। বস্তায় মাটি যাতে ফেঁপে থাকে সেজন্যে ভার্মিকম্পোস্ট ও ছাই মেশাতে হবে। পরিমাণমতো যোগ করতে হবে হাড়ের গুঁড়ো, গোবর সার। মাটি তৈরি হয়ে গেলে বস্তায় ভরে চাষের জন্যে বসাতে হবে ৪০-৭৫ গ্রামের একটি করে কন্দ। সামান্য পানি দিতে হবে। এরপর বস্তার উপর ঢেকে দিতে পারলে ভালো হয়, তাতে মাটিতে আর্দ্রতা বেশিদিন থাকবে। অল্প দিনের মধ্যেই কন্দ থেকে গাছ বেরিয়ে আসবে।
#বস্তায়_আদা_লাগানোর_স্থানঃ
বসতবাড়িতে বা বাগানে ৩০%-৪০% ছায়াযুক্ত স্থানে আদা ভালো হয়। সম্পূর্ণ ছায়া বা আলোতে আদা ভালো হয় না৷ তাই দিনের ২/৩ ভাগ আলো আসে এরকম জায়গায় বস্তা রাখতে হবে।
#আদার_জাত_নির্বাচনঃ বস্তায় চাষের জন্য জনপ্রিয় জাত
বারি আদা_১
বারি আদা_২
বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্র, শিবগঞ্জ, বগুড়া থেকে আদার বীজ ক্রয় করতে পারেন।
বি.দ্র. প্রচলিত বাজার থেকে বীজ কিনে বস্তায় আদা চাষ করা উচিত না।
#আদার কন্দের সাইজ নির্বাচনঃ
মাটি তৈরি হয়ে গেলে বস্তায় রোপনের জন্যে ৪০-৫০ গ্রাম সাইজেট আদার কন্দ প্রয়োজন।
#বীজ_শোধনঃ
আদার কন্দ লাগানোর আগে ব্যাভিস্টিন দিয়ে বা কার্বোডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে নিয়ে এক কেজি আদার কন্দ শোধন করে নিতে হবে। শোধনের পর কন্দগুলো সাথে সাথে রোপন করা যাবে না কমপক্ষে একঘণ্টা ছায়ায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। রোদে শুকানো যাবে না
#মাটি_প্রস্তুতঃ
বস্তায় আদা চাষের জন্য আদার কন্দ রোপনের ১৫ দিন আগে মাটি ও সার প্রস্তুত করতে হবে।
#মাটি_তৈরিঃ
আদা কন্দ বা রাইজোম জাতীয় মসলা ফসল তাই মাটি যত নরম ও ঝড়ঝড়ে হবে তত ভালো। এতে রাইজম সহজেই মাটির নিচে বড় হতে পারে। শক্ত মাটিতে আদার ফলন কম হয় কারণ মাটি শক্ত হওয়ায় রাইজোম বড় হতে পারে না।
#বস্তা_নির্বাচনঃ
বস্তায় আদা চাষের জন্য বস্তা সিমেন্টের বস্তা আদা চাষের জন্য উত্তম। ১টি সিমেন্টের ব্যাগ কেটে দুইটি করে আদার বস্তা হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে বস্তার খরচ ৫০% কমে যাবে।
প্রতি বস্তার জন্য ঝুর ঝুরে পরিস্কার
#মাটি ১৫ কেজি
#পঁচা গোবর ৫-৬ কেজি
#টিএসপি ২০ গ্রাম
#এমওপি (পটাশ) ১০ গ্রাম
#জিপসাম ১০ গ্রাম
#জিংক ৫ গ্রাম
#বোরন ৫ গ্রাম
#দানাদার কীটনাশক ১০ গ্রাম
#কাঠের গুড়া ১ কেজি
ছাই ১ কেজি (সম্ভব হলে)
ভার্মিকম্পোষ্ট ১ কেজি (সম্ভব হলে)
বালু ১ কেজি (বেলে দোআঁশ মাটি হলে দরকার নেই)
#মাটি_মিশ্রণ_তৈরি_পদ্ধতিঃ
সমস্ত সার মাটি দানাদার কীটনাশক, কাঠের গুড়া বালু ভালোভাবে মিশিয়ে ১২-১৫ দিন কালো পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ১২-১৫ দিন পর পলিথিন উঠিয়ে মাটি উল্টাপাল্টা করে কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা রেখে দিতে হবে। তার পর বস্তায় ভরে ২-৩ দিন রেখে আদার বীজ বপন করতে হবে।
বস্তায় সার মিশ্রিত মাটি ভরাটঃ
বস্তায় সার মিশ্রিত মাটি এমন ভাবে ভর্তি করতে হবে যাতে বস্তার উপরের অংশ ২-৩ ইঞ্চি ফাঁকা থাকে।
#বস্তা_স্থাপন_পদ্ধতিঃ
বৃষ্টির পানি জমাট বাধে না এমন যায়গায় সারিতে ৮-১০ ইঞ্চি পর পর পাশাপাশি ২ টি বস্তা স্থাপন করতে হবে। মাঝ খান দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা রাখতে হবে যাতে সহজে চলাফেরা করা যায় এবং আন্তপরিচর্যা করতে সুবিধা হয়।
#আদা_কন্দ_রোপনের_গভীরতাঃ
আদার বীজ মাটির ভিতরে ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি গভীরে লাগাতে হবে। বীজ লাগানোর পর মাটি দ্বারা ঢেকে দিতে হবে।
#আগাছাঃ
বস্তায় আদা চাষে তমন কোন আগাছা হয় না। যদি আগাছা দেখা যায় তাহলে হাত দিয়ে নিড়ানি দিয়ে গোড়া পরিস্কার রাখতে হবে।
#সেচ_প্রয়োগঃ
বৃষ্টি না হলে হালকা ছিটানো পানি দিতে হবে।
#পানি_নিষ্কাশনঃ
মাটি ভরাটের আগে বস্তার নিচে, সাইডে ৪-৫ টি ফুটা করে দিতে হবে যাতে অতিবৃষ্টিতে বস্তায় পানি জমে না থাকে।
#সার_প্রয়োগ:
☞প্রথম কিস্তিঃ
আদার কন্দ রোপনের ৫০ দিন পরে বস্তা প্রতি ১০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫ গ্রাম এমওপি একত্রে প্রয়োগ করতে হবে।
☞দ্বিতীয় কিস্তিঃ
আদার কন্দ রোপনের ৮০ দিন পরে বস্তা প্রতি ইউরিয়া ৫ গ্রাম পটাশ ৫ গ্রাম হারে গাছের চারি পশে ছিটিয়ে দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
☞তৃতীয় কিস্তিঃ
আদার কন্দ রোপনের ১১০ দিন পরে ইউরিয়া ৫ গ্রাম পটাশ সার ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে
আদার রোগ ও পোকামাকড়
রাইজম রট রোগঃ Pythium aphanidermatum (পিথিয়াম এফানিডারমেটাম ) নামক ছত্রাকের আক্রমণের কারনে এ রোগ হয়। এ রোগ রাইজমে আক্রমণ করে বলে আদা বড় হতে পারে না ও গাছ দ্রুত মরে যায়।
লক্ষণঃ
প্রথমে পাতা হলুদ হয়ে যায় কিন্তু পাতায় কোন দাগ থাকে না। পরবর্তীতে গাছ ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে মরে যায়। রাইজম (আদা) পচে যায় ও ফলন মারাত্মক ভাবে কমে যায়। ভেজা ও স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়ায় এ রোগ বেশী দেখা যায়। বর্ষাকাল বা জলাবদ্ধতা থাকলে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। এ রোগ বীজ, পানি ও মাটির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে।
ব্যবস্থাপনাঃ
#আক্রান্ত গাছ রাইজোমসহ সম্পূর্ণরূপে তুলে ধ্বং স করতে হবে।
#রোপণের পূর্বে প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম রিডোমিল গোল্ড বা ১ গ্রাম অটোস্টিন মিশ্রিত দ্রবণে বীজকন্দ ৩০ মিনিট ডুবিয়ে ছায়ার নিচে শুকিয়ে রোপণ করতে হবে।
#সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। একই জমিতে বার বার আদা চাষ করা যাবে না।
#কন্দ পচা রোগ দ্বারা আক্রান্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কপার অক্সিক্লোরাইড ৫০% ডব্লিউপি প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম বা রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে মাটির সংযোগ স্থলে ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর প্রয়োগ করে রোগ প্রতিরোধ করা যাবে।
পাতা ঝলসানো রোগ
প্রাথমিক অবস্থায় পাতায় ফ্যাকাশে হলুদ বর্ণের ডিম্বাকৃতির দাগ পড়ে। এসব দাগগুলোর মধ্যে ধূসর বর্ণ হয় এবং চারপাশে গাঢ় বাদামি আবরণ থাকে। রোগের প্রকোপ বেশি হলে দাগগুলো বড় হতে থাকে এবং একত্রিত হয়ে যায়।
প্রতিকারঃ
#বীজ লাগানোর সময় রোগ ও পোকা মুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে।
#প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ মিশিয়ে ২-৩ বার ১৫ দিন পরপর স্প্রে করা যেতে পারে।
#ডগা বা কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকাঃ
কান্ড আক্রমণ করে বলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ফলে উৎপাদন কম হয়। এ পোকার মথ কমলা হলুদ রঙের এবং পাখার উপর কালো বর্ণের ফোটা থাকে। কীড়া হালকা বাদামি বর্ণের। গায়ে সুক্ষ্ণ শুং থাকে।
লক্ষণঃ
পোকা কান্ড ছিদ্র করে ভিতরের দিকে খায় বলে পাতা হলুদ হয়ে যায়। অনেক সময় ডেড হার্ট লক্ষণ দেখা যায়। আক্রান্ত কান্ডে ছিদ্র ও কীড়ার মল দেখা যায়। আর্দ্র আবহাওয়ায় এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়।
ব্যবস্থাপনাঃ
পোকার আক্রমণ বেশি হলে, সুমিথিয়ন ৫০ ইসি ২০ মিলি হারে প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। অথবা
ডারসবান বা ডাইমেক্রণ প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করা যাবে। অথবা নুভাক্রন ১০০ ইসি ১ মিলি/ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করতে হবে।
#আদা_উত্তোলনঃ
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারী মাসে তোলা যায়। আদার পাতা হলুদ হয়ে আসলে আদার পরিপক্ক হয়ে যায়।
#ফলনঃ
উপযুক্ত পরিচর্যায় প্রতি বস্তায় ১-৩ কেজি পর্যন্ত আদা পাওয়া যায়।



#ছাদবাগান

15/04/2025

🌿☘️ ছাদকৃষির জন্য টিপস 🌿☘️

ছাদ বাগানীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। টবে, ড্রামে গাছ লাগানো হয়। কেউ ফল, কেউবা সবজির গাছ লাগান। কেউ সফল হন। কেউ সফল হন না। ছোট ছোট কিছু ভুল বাগানীরা করে থাকেন। সে কারণে যত্ন নিলেও ফল আসে না। এখানে ছাদ বাগানীদের জন্য কিছু টিপস দেয়া হলো, যা মানলে সফলতা পাওয়া সহজ হতে পারে।

প্রথমেই মনে রাখতে হবে, টবে বা ড্রামে গাছ লাগালে তাকে খাবার দিতে হবে। প্রকৃতিতে বিদ্যমান গাছের মতো সে খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। রোগ-বালাই হলো কিনা সেটাও বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে।

১. মাটির সাথে অবশ্যই কিছু কোকোপিট মেশাবেন। গাছের গোড়া স্যাতস্যাতে হতে দিবেন না। স্যাতস্যাতে হলে অসংখ্য রোগ হবে। মাটি ভেজা থাকবে তবে স্যাতস্যাতে না। কেকোপিট মেশালে পানি কম দিলেও হবে। কোকোপিট (নারকেলের ছোবলার গুড়া) পানি ধরে রাখে। অতি বৃষ্টি হলে গোড়ায় পানি জমতে দেয় না। হালকা হওয়ায় ছাদে ওজনের চাপ পড়ে না। এছাড়া কোকোপিটে কিছু পুষ্টি উপাদান আছে। যা গাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কোকোপিটে চারা দ্রুত গজায়, বড় হয়। মাটির চেয়ে কোকোপিটে চারা ভালো হয়।

২. গাছের জন্য বিরিয়ানি হলো সরিষার খৈল-পচা পানি। মাটির হাড়িতে খৈল পচাতে হবে। কমপক্ষে ৫ দিন। ৭ দিন কিংবা বা ১৫ দিন হলে উত্তম। অল্প পানিতে পচিয়ে তার সাথে আরো পানি মিশিয়ে দিতে হবে। এটি গাছের জন্য অত্যন্ত উপকারী। একটু গন্ধ হয়, তাই অল্প একটু গুড় দিতে পারেন। ছাদে হাড়িতে পচালে বাসায় গন্ধ আসবে না। বৃষ্টির সময় খৈল-পচা পানি দেবেন না। পুকুরের নিচে থাকা পাক কাদা গাছের জন্য খুব উপকারী।

৩. আমরা জানি, মাটিতে অসংখ্য ক্ষতিকর ছত্রাক থাকে। যা গাছকে মেরে ফেলার জন্য যথেস্ট। তাই মাটি রেডি করার সময় কিছুটা বায়োডামা সলিট দিবেন। এটি উপকারী ছত্রাক। মাটিতে ক্ষতিকারক উপাদানগুলো মেরে ফেলে। আবার জৈব সারের কাজও করে। গাছের জন্য মাটি হবে ঝুরঝুরে, হালকা।

৪. যাই লাগান না কেন, ভালো জাতের বীজ কিনা নিশ্চিত হয়ে নেবেন। ভালো বীজে ভালো ফসল হবে। নতুবা যতই যত্ন নেন না কেন, সব পরিশ্রম বেলাশেষে জলে যাবে। বীজ থেকে নিজে চারা করা উত্তম। কারণ বাজার থেকে যে চারা কিনবেন সেটার জাত ভালো হবে সে নিশ্চয়তা কোথায়? ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে নেয়া উত্তম। পদ্ধতি হলো- ছত্রাকনাশক দেয়া পানিতে কিছুটা সময় বীজ ভিজিয়ে রাখতে হবে। ম্যানসার, মেটারিল দুটি ছত্রাকনাশক।

৫. গাছ বেশি তো ফলন বেশি- এটি ভুল ধারণা। অল্প জায়গায় বেশি গাছ লাগানো যাবে না। গাছ পাতলা করে লাগাতে হবে। বেশি লাগালে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে না। একটি ফলের ক্রেটে মাত্র দুটি গাছ। একটি টবে একটি গাছ। ক্রেট বা টবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৬. ছাদে মাচা দেয়া সমস্যা। কারণ ঘুঁটি থাকে না। এ জন্য ফলের ক্রেটের চারপাশে লাঠি বেঁধে সহজে মাচা দেয়া যায়। লতাপাতা জাতীয় গাছ লাগানোর পাত্র একটু গভীর হলে উত্তম। গাছের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালো জৈব সার হলো পাতা-পচা সার, তারপর ভার্মি কম্পোস্ট, তারপর গোবর সার। পাতা-পচা সার সহজলভ্য নয়। দাম বেশি। কিন্তু ভার্মি কম্পোস্ট সহজলভ্য। মাটির সঙ্গে মিনিমাম ৪০% জৈব সার দেয়া উত্তম।

৭. নিম কীটনাশককে ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় খুব অপছন্দ করে। এটি দিলে তারা বিরক্ত বোধ করে। গাছে বাসা বাঁধতে পারে না। প্রতি সাত দিনে একবার সব গাছের পাতায় নিম কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। মাসে একবার ইপসম সল্ট স্প্রে করে দেয়া উত্তম। একইভাবে মাসে একবার পানির সঙ্গে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মিশিয়ে স্প্রে করা ভালো।

৮. ডাটা, পুইশাক, লালশাক, ধনেপাতা এসব লাগাতে পারেন। মাত্র ২৫ দিনে খেতে পারবেন। লালশাক লাগালে নেট দিয়ে ঘিরে দেবেন। শাকপাতা লাগালে দ্রুত আউটপুট পাবেন। যা আপনাকে প্রেরণা দেবে। পুইশাক গাছের পাতায় দাগ হলে পাতা কেটে দিন। অথবা ছত্রাকনাশক স্প্রে করেন। অথবা গাছ উঠিয়ে আবার লাগান। ইউরিয়া সার দিলে পুইশাক দ্রুত বাড়বে। শশা গাছের বৃদ্বির জন্য ডিএপি সার দিলে ভালো হবে। শশা গাছে ছাড়া ছাড়া ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয়। খুব রোদ, গাছের গোড়ায় মালচিং করে দিয়ে উত্তম ফল মিলবে। মালচিং হলো গাছের গোড়ায় বিশেষ পলিথিন কিংবা শুকনো পাতা, খড় দিয়ে ঢেকে দেয়া।

৯. ফুল আসার পরে প্রানোফিক্স অথবা মিরাকুরান গাছের পাতায় শেষ বিকালে স্প্রে করবেন। বাসায় দুইটি গ্রুপের ছত্রাকনাশক রাখা ভালো। যেমন- ম্যানসার, মেটারিল। ১৫ দিনে একবার স্প্রে করবেন। এগরোমিন্ড গোল্ড অনুখাদ্য বা অন্য কোনো অনুখাদ্য বাসায় রাখতে হবে। মাসে কমপক্ষে একবার স্প্রে করবেন। অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টি, খাদ্যের অভাব, গাছ রোগাক্রান্ত, আবহাওয়া দ্রুত আপডাউন করা ইত্যাদি কারণে ফুল ঝরে পড়তে পারে। আবার পরাগায়ন না হলে ঝরে পড়তে পারে। এ জন্য হাতের মাধ্যমে পরাগায়ন করতে হবে। পুরুষ ফুলের পরাগদণ্ড নারী ফুলে গর্ভে ঘষে দিতে হবে।

১০. ছাদ বাগানে গাছ মারা যাওয়ার অন্যতম কারণ পানি বেশি বা কম দেয়া। যতটুকু লাগে ঠিক ততটুকু পানি দিতে হবে। কোন গাছের কি চাহিদা, রোগ একটু স্টাডি করলে সহজে সফল হতে পারবেন।

১১. গাছের পাতার নিচে খেয়াল করবেন। বেগুন গাছের পোকা মারার জন্য সেক্স ফোরেমান ফাঁদ লাগাবেন। ডগা ছিদ্র বা ফল ছিদ্র হলে সাইপারমেত্রিন গ্রুপের কীটনাশক দিতে হবে। একটি বেগুন গাছ অনেক দিন ফল দেয়। ঢেড়স গাছ বেশি রোদ পড়ে এমন জায়গায় লাগাবেন। বেগুন, ঢেড়স, লালশাক, পুইশাক, ধনেপাতা, ডাটা শাক- এসব গাছের খুব যত্ন করতে হয় না।

১২. রসুন আর লবঙ্গ বেটে সেই পানি গাছে স্প্রে করলে পোকা কম আসবে। মরিচ গাছে নেপথলিন বেঁধে দিন, পোকা কম আসবে। পাতা কোকড়ালে ভার্মিটেক কিংবা এবোম কীটনাশক দিন। কোকড়ানো পাতা ফেলে দিন। মরিচ গাছে দশ দিন পর পর ডায়মেথট গ্রুপের (যেমন টাফগর) কীটনাশক দিলে উপকার হবে। সবকিছু করছেন, তারপরও কাজ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে গাছের জায়গা বদল করেন, উঠিয়ে অন্যত্র লাগান।

♦️*ছাদ বাগান টিপস ও কৃষি পরামর্শ পেতে পেইজটি লাইক ফলো দিয়ে যুক্ত হন আমাদের সাথে।

#ছাদবাগান

14/04/2025

শাহী পেঁপে চাষের সহজ গাইড (১ বিঘা/২০ কাঠা) ! এই পেঁপে চাষ এখন কৃষকদের নিকট অনেক জনপ্রিয় !
১ বিঘা জমি (২০ কাঠা)থেকে কীভাবে শুরু করবেন, সার থেকে কীটনাশক সবকিছুর সঠিক নিয়ম ও হিসাব জেনে নিন:
চারা রোপন পদ্ধতি:
জমি প্ররত্ব: প্রতি চারা থেকে ১.৮ মিটার (৫.৯ ফুট) দূরে রোপণ করুন।
শাহী পেঁপে চারার প্রয়োজনে কল করুন-০১৩২৩০৬৬৯০৯
চারার সংখ্যা
১ বিঘায় প্রায় ৪০০টি চারা লাগবে (হিসাব: ১.৮ মিটার x ১.৮ মিটার স্পেসে)।
মাদা তৈরি:৫০x৫০x৫০ সেমি আকারের গর্ত করে প্রতি মাদায় ১০ কেজি গোবর সার + ১০০ গ্রাম টিএসপি মিশিয়ে ১৫ দিন রেখে চারা বসান।
সার প্রয়োগ
জৈব সার: ৪ টন (মাদা প্রস্তুতের সময়)।
টিএসপি: ৪০ কেজি (চারা রোপণের সময়)।
ইউরিয়া: ৬০ কেজি (৩ কিস্তিতে: ১ম মাস, ৩য় মাস, ৫ম মাস)।
এমওপি: ৪০ কেজি (ফল ধরার শুরুতে)।
সেচ ব্যবস্থা:
গ্রীষ্মকাল: ৫-৭ দিন পর পর সেচ দিন।
বর্ষাকাল: জমিতে যেন পানি জমে না থাকে, নালা কেটে নিকাশ করুন।
ফল ধরার পর:মাটি শুকালেই সেচ দিন (সপ্তাহে ১ বার)।
কীটপতঙ্গ ও রোগ দমন:
এফিড,ফল মাছি,মিলি বাগ,লাল মাকড়সা,পেঁপে হর্নওয়ার্ম
পাউডারি মিলডিউ পাতায় সাদা গুঁড়ো দাগ।গন্ধক সালফার বা কপার ভিত্তিক ফাংগিসাইড স্প্রে করুন।
অ্যানথ্রাকনোজ ফলে গোলাকার কালো দাগ।ম্যানকোজেব ক্লোরোথ্যালোনিল স্প্রে করুন
পেঁপে রিংস্পট ভাইরাস পাতায় হলুদ দাগ, ফল বিকৃত।
আক্রান্ত গাছ উপড়ে ফেলুন। এফিড নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ব্যবহার করুন।
গোড়া পচা গাছ হঠাৎ শুকিয়ে যায়।
মেটাল্যাক্সিল বা কার্বেনডাজিম প্রয়োগ করুন। মাটিতে জমা পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করুন।
ড্যাম্পিং-অফ চারা মারা যায়।বীজ বপনের আগে থিরাম দিয়ে শোধন করুন।
ফল সংগ্রহ ও উৎপাদন:
চারা রোপণের ৫-৬ মাস পর ফল তোলা শুরু।
পাকা ফলের গায়ে হালকা হলুদ রং দেখা দিলে সংগ্রহ করুন।
#পেঁপে_চাষ #পেঁপে_সেচ #পেঁপে_সার #পেঁপের_কীটনাশক

11/04/2025

টবের নাগা মরিচ/বোম্বাই মরিচ চাষ পদ্ধতি।

বোম্বাই মরিচ মূলত প্রচণ্ড ঝালের কারণে সর্বাধিক পরিচিত। সবার প্রিয়ও বলা চলে। একটু চেষ্টা করলেই ফলাতে পারবেন বোম্বাই মরিচ। বাসার ছাদে, বারান্দায়, ভবনের চারপাশে টবে বোম্বাই মরিচের ফলন ভালো হয়। তাই আজ থেকেই চেষ্টা করে দেখুন। চাষের নিয়ম-কানুন জেনে নিন এখনই-

বীজ বা চারা:

যেকোনো বাজারে বীজ কিনতে পাওয়া যায়। তবে নতুনদের জন্য চারা কেনাই ভালো। নার্সারি, হর্টিকালচার সেন্টার বা গ্রামের হাট-বাজার থেকেও বোম্বাই মরিচের চারা কেনা যায়। তবে জাত ও চারার মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। এছাড়া বীজ থেকেও চারা উৎপাদন করে রোপণ করা যায়।

চাষের নিয়ম:

প্রতিটি চারা টবে লাগানোর আগে মাটি প্রস্তুত করে নিতে হবে। প্রতিটি ১০ ইঞ্চি টবের জন্য ১/৩ গোবর (২ ভাগ মাটি, ১ ভাগ গোবর), ২ চিমটি টিএসপি, ১ চিমটি ইউরিয়া, ১ চিমটি পটাশ সার, অল্প পরিমাণ সরিষার খৈল দিয়ে ৪-৫ দিন মাটি রোদে শুকাতে হবে। তারপর এ মাটিতে চারা লাগাতে হবে। চারা যদি সবল না হয় তাহলে দিনে ২-৩ বার ইউরিয়া মিশ্রিত পানি স্প্রে করলে চারা সবল হয়ে যাবে।

সপ্তাহে ১ দিন মাটি খুঁচিয়ে আলগা করে দিতে হবে। আগাছা দেখা দিলে সরিয়ে দিতে হবে। চারা লাগানোর ২০-২৫ দিনের মধ্যেই গাছে ফুল আসবে। আর সেই ফুল থেকে আস্তে আস্তে ধরতে শুরু করবে আপনাদের প্রিয় বোম্বাই/নাগা মরিচ। মরিচ যত বেশি দিন গাছে থাকবে তত ঝাল হবে।

খুব নিচের শাখাগুলো কেটে/ভেঙে ফেলতে হবে। এমনটি না করলে গাছের জোর কমে যাবে, মরিচের আকার হবে ছোট। গাছ কড়া রোদে রাখতে হবে, ছায়ায় থাকলে মরিচ ধরবে না। ১টা মরিচ গাছ অনেক দিন ফল দেবে। আর ১টা গাছে যে পরিমাণ মরিচ ধরে তা খেয়েই শেষ করা কঠিন।

পোকা দমন:

মরিচ গাছে পোকা আক্রমণ করতে পারে। তবে ২-৪ টা গাছ হলে পোকা-মাকড় হাতেই মেরে দমন করা যায়। গাছ বেশি হলে কীটনাশক ব্যবহার করা যায়। তবে শাক-সবজিতে কীটনাশক ব্যবহার না করাই ভালো।

ফলন:

মরিচ যত বেশি দিন গাছে থাকবে; তত বেশি ঝাল হবে। নিচের শাখাগুলো কেটে ফেলতে হবে। না হলে মরিচের আকার হবে ছোট। গাছ কড়া রোদে রাখতে হবে, ছায়ায় থাকলে মরিচ ধরবে না। ১টি গাছ অনেক দিন ফল দেবে।

Want your business to be the top-listed Food & Beverage Service in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address


Dhaka
1229