SAAR
Health Information Asian Academy of Robotics
28/08/2023
ডালিমে ক্যালোরি এবং চর্বির পরিমাণ কম, কিন্তু ফাইবার, ভিটামিন, এবং খনিজ উপাদানে পরিপূর্ণ। একটি মাঝারি সাইজের ডালিমে মেলে ২৩৪ ক্যালোরি, ৪.৭ গ্রাম প্রোটিন, ৩.৩ গ্রাম চর্বি এবং ১১.৩ গ্রাম ফাইবার। এছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন সি, ফলেট, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম পাওয়া যায় ফলটি থেকে। নানা ধরনের রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব সুমিষ্ট ফল ডালিম খেলে। জেনে নিন ডালিম খাওয়ার ১০ উপকারিতা সম্পর্কে।
১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পলিফেনলিক যৌগের সমৃদ্ধ উৎস ডালিম। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ডালিম খেলে।
২. ডালিমের যৌগগুলোতে ক্যানসার প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি টিউমারের বৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
৩. হৃদরোগীদের জন্য দালিম বেশ উপকারী ফল। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিমের রস পান করলে বুকে ব্যথার তীব্রতা হ্রাস পায়। সেইসাথে হার্টের স্বাস্থ্যের উপর প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব ফেলতে সাহায্য করে ফলটি।
৪. প্রচুর পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায় ডালিম থেকে। রক্তশূন্যতা রোধ করতে ডালিম খেতে পারেন প্রতিদিন।
৫. ২০১৪ সালের এক গবেষণায বলছে, ডালিমের নির্যাস রক্তে অক্সালেট, ক্যালসিয়াম এবং ফসফেটের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। এতে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে।
৬. ডালিমে এমন যৌগ রয়েছে যা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে মুখের জীবাণু যা নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ এবং দাঁতের ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে।
৭. ডালিমের নির্যাস ক্লান্তি দূর করে ও কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
৮. ডালিমে রয়েছে এলাজিটানিন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
৯. মস্তিষ্ক ভালো রাখে ডালিম। আলঝেইমার এবং পারকিনসন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে ফলটি।
১০. ফাইবার সমৃদ্ধ ডালিম হজমের গণ্ডগোল দূর করতে পারে।
23/08/2023
ডায়াবেটিক ফুট ইনফেশন যে লক্ষণগুলো দেখে বুঝবেন
মাপমত জুতা না পরলে ডায়াবেটিসজনিত পায়ের সংক্রমণ হতে পারে
মাপমত জুতা না পরলে ডায়াবেটিসজনিত পায়ের সংক্রমণ হতে পারেছবি: পেক্সেলস
ডায়াবেটিসজনিত পায়ের সংক্রমণ (ডায়াবেটিক ফুট ইনফেকশন) একটি জটিল সমস্যা। ডায়াবেটিসের অনেক রোগীই এ সমস্যায় ভোগেন। এমনকি এই সমস্যা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ডায়াবেটিসের রোগীদের পায়ে সংবেদনশীলতা ও রক্ত চলাচলের সমস্যা থাকে। যে কারণে সৃষ্ট ক্ষত দ্রুত চিকিৎসা না করলে জটিল হয়ে পড়তে পারে। তাই এ সমন্ধে ডায়াবেটিসের রোগীর জানা থাকা জরুরি।
কখন সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি
বেশ কয়েকটি অবস্থায় ডায়াবেটিসের রোগীর পায়ে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এর মধ্যে আছে—
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে।
যথাযথভাবে পায়ের যত্ন না নিলে।
মাপমতো জুতা না পরলে।
পায়ের চামড়া বেশি শুষ্ক থাকলে।
এই সংক্রমণে পায়ের নখের কোনা মাংসের মধ্যে দেবে যেতে থাকে
এই সংক্রমণে পায়ের নখের কোনা মাংসের মধ্যে দেবে যেতে থাকেছবি: পেক্সেলস
কীভাবে হয় সংক্রমণ
ডায়েবেটিসের রোগীদের পায়ের বোধ কম থাকায় সহজে তা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ ছাড়া আঘাতের পরে ব্যথা অনুভব না করায় ক্ষত জটিল আকার ধারণ করে। রক্তের উচ্চ শর্করা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তা বিভিন্ন জীবাণুর বংশবিস্তারে সাহায্য করে।
সাধারণত স্ট্যাফ অরিয়াস নামক জীবাণু দিয়ে বেশির ভাগ সংক্রমণ হয়ে থাকে। তবে অনেক সময় একসঙ্গে কয়েকটি জীবাণু দিয়ে সংক্রমণ হতে পারে।
যেভাবে বুঝবেন
সংক্রমণ হলে সাধারণত পা ও পায়ের পাতা ফুলে যায়। পায়ের চামড়ার রং বদলে যায়। পা ও পায়ের পাতায় জ্বালাপোড়া ও শিরশিরে অনুভূতি হলে সতর্ক থাকুন। পায়ের বোধ কমে যাওয়া, পায়ের আঙুলে যন্ত্রণা ও আঙুলের ফাঁকে ফাটল, পায়ের নখের কোনা ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া, পায়ের যেকোনো ক্ষত সারতে দেরি হওয়ার মতো ঘটনা ডায়াবেটিক রোগীর সঙ্গে ঘটলে বুঝতে হবে তিনি ডায়াবেটিক ফুট ইনফেশনে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই উপসর্গ ও লক্ষণগুলো খারাপ। এমনটা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডায়াবেটিক ফুট ইনফেকশনের কিছু পর্যায় বা গ্রেডিং আছে। সেটাও জেনে রাখুন
গ্রেড ০: পায়ে ব্যথা ও চামড়ার রং পরিবর্তন।
গ্রেড ১: পায়ের চামড়ায় ক্ষত তৈরি হওয়া।
গ্রেড ২: পায়ের মাংস, টেন্ডন ও লিগামেন্টে ক্ষত সৃষ্টি।
গ্রেড ৩: পায়ের হাড়ে ক্ষত তৈরি হওয়া।
গ্রেড ৪: পায়ের সামনের অংশে পচন ধরে যাওয়া।
গ্রেড ৫: পুরো পায়ের পাতায় পচন ধরে যাওয়া।
পায়ের সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত যত্ন নিতে হবে
পায়ের সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত যত্ন নিতে হবেছবি: পেক্সেলস
চিকিৎসা কী
ডায়াবেটিক ফুট ইনফেকশন বারবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যাঁদের বারবার ইনফেকশন হয়, তাঁদের ১০-৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে আঙুল, পায়ের কিছু অংশ অথবা পুরো পা কেটে ফেলতে হয়। তাই পায়ের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। সংক্রমণ সেরে উঠতে দুই সপ্তাহ থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। অনেক সময় পায়ের রক্তনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এনজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে রক্তনালির চিকিৎসা করা লাগতে পারে।
প্রতিরোধের উপায় হিসেবে কয়েকটি বিষয় মেনে চলুন।
১. রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
২. প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটাচলা করুন।
৩. পায়ের যত্ন নিন। এর মধ্যে আছে—পা পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখা, নিয়মিত নখ কাটা, বাইরে বেরুলে মোজা পরা, সঠিক মাপের জুতা পরা, পায়ে তেল বা ভ্যাসলিন দিয়ে ম্যাসাজ করা ও কুসুম গরম পানিতে পায়ে সেঁক নেওয়া।
08/02/2015
গলায় মাছের কাঁটা বিধলে করণীয়
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে আমরা সচরাচর কী করি? প্রথমেই পানি পান করি, তারপর এক মুঠো ভাত একবারে গিলে ফেলি। কিন্তু এতেও যদি কাঁটা না নামে তাহলে কী করণীয়? নিচে তেমনই ৭টি ভিন্নরকম কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হলো :
১. শুধু পানি পান করলেই হবে না। হালকা গরম পানির সঙ্গে অল্প লবণ গুলিয়ে পান করুন। দেখবেন কাঁটা নরম হয়ে নেমে যাবে।
২. কিছু ভাত নিয়ে এগুলো দিয়ে ছোট ছোট বল বানিয়ে নিন। তারপর পানি দিয়ে গিলে ফেলুন। তবে শুধু ভাতের গোলা চিবিয়ে খেলে কিন্তু কাঁটা নামবে না। পানি দিয়ে গিলে ফেলতে হবে।
৩. আরেকটি সহজ একটি উপায় আছে। তা হলো কলা খাওয়া। কলা খেতে খেতে দেখবেন কাঁটা নেমে গেছে।
৪. লেবু দিয়ে কাঁটা নিচে নামাতে পারেন। এজন্য এক টুকরো লেবু নিয়ে তাতে একটু লবণ মাখিয়ে চুষে লেবুর রস খেয়ে ফেলুন। দেখবেন, আপনার গলায় কাঁটা আছে বলে মনেই হবে না!
৫. পানির সঙ্গে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে পান করলেও ঠিক লেবুর মতই কাঁটা দূর করতে সহায়তা করবে।
৬. সামান্য অলিভ অয়েল পান করেও কাঁটা সরাতে পারেন।
৭. মজার একটা উপায় আছে। তা হলো কোমল পানীয় পান। এক গ্লাস কোমল পানীয় পান করুন। দেখবেন, কাঁটা যেন হাওয়ায় মিশে গেছে!
29/01/2015
শীতে পালংশাক
পালংশাক শীতকালীন শাক। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এই ভিটামিন মানুষের দেহে জমা থাকে না বা তৈরিও হয় না। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে গেলে মূত্রের মাধ্যমে শরীরের বাইরে চলে যায়। ভিটামিন ‘সি’ প্রতিদিন খাওয়া উচিত। ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে এই শাকে, যা চোখের ভেতর ও বাইরের অংশগুলোতে পুষ্টি জোগায়। অকাল অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করে চোখকে। মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
গর্ভবতী মায়েদের জন্য পালংশাক ভীষণ উপকারী। এতে নেই কোনো চিনির পরিমাণ। তাই মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস বা ওজন খুব বেশি এমন ব্যক্তিদের জন্য এই শাক নিরাপদ। কচি পালংশাকের স্যুপ দেহে জোগায় অফুরন্ত শক্তি। শরীরের শিরা-উপশিরায় এই শাকের উপাদানগুলো মিশে ত্বকে পুষ্টি জোগায়। চুল পড়া রোধ করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। গর্ভস্থ শিশুর মেধা বিকাশে এই শাকের গুরুত্ব অপরিসীম।
পালংশাকের ডাঁটায় রয়েছে ডায়াটারি, ফাইবার বা আঁশ-জাতীয় উপাদান, যা খাবার হজমে সাহায্য করে, পেটে গ্যাসের পরিমাণ কমায়, রোধ করে পাকস্থলীসহ পেটের যাবতীয় অঙ্গের ক্যানসার। শীতকালের রোদে থাকে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি, যা ত্বকের জন্য খুব ক্ষতিকর। এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায় পালংশাক।
এতে আয়রনও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে, যা গর্ভবতী মা, বয়োবৃদ্ধসহ সবার জন্য যথেষ্ট উপকারী। খানিক লবণ আমাদের দাঁত, ঘাড়, চুলকে করে মজবুত। পালংশাকে খানিক লবণও রয়েছে কিন্তু কিছু পরিমাণে। তবে এই শাকের খনিজ লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায় না। তাই হাই ব্লাড প্রেসারের রোগীরা খেতে পারেন এই শাক। যেসব শিশু খিচুড়ি খায়, তাদের খিচুড়িতে সামান্য পালং পাতা দিতে পারেন। এতে শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘সি’ ও ‘এ’র ঘাটতি পূরণ হবে। টাটকা ও কম তেল, মসলা দিয়ে রান্না করে খাওয়াই উত্তম। শাক সবাই রাতে হজম করতে পারেন না। নিজের হজম ক্ষমতা বুঝে খাওয়াই ভালো। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে শাকের ভূমিকা অপরিসীম। তারুণ্য বজায় রাখতে এই শাক হোক আপনার শীতকালীন সঙ্গী। পালংশাকে রয়েছে অ্যান্টি এজিং ফ্যাক্টর, অর্থাৎ যে উপাদানটি বয়স বৃদ্ধিজনিত জটিলতাগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Dhaka
1230