Multidimension
News and Information, Article
২০০৫ সাল থেকে দেখতাম, প্রথম আলো তিনটি জিনিসের বিরোধীতা করতো-
১. নদী খনন বা ড্রেজিং
২. নদী থেকে বালু তোলা
৩. নদী থেকে পাথর তোলা
বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। ভারত, চীন, নেপাল, ভূটান থেকে নদী প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গপোসাগরে মিশেছে। এই পানি প্রবাহের সাথে বালু, পলি, পাথর বহন করে নিয়ে আসে এবং নদীতল দেশে জমা হয়।
সমস্যা হচ্ছে, আপনি যদি প্রতিনিয়ত নদীপথ থেকে বালু, পলি বা পাথর না সরান, তবে নদীপথ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে নদী কেন্দ্রীক জীবন ব্যবস্থা ও অর্থনীতি ব্যহত হবে।
প্রথম আলো যখন নদী খনন বা পাথর-বালু উত্তোলনের বিরোধীতা করতো, তখনই আমার সন্দেহ হতো,
আচ্ছা, নদী থেকে বালু, পাথর উত্তোলনের বিরোধীতা করে প্রথম আলো যে সুন্দর সুন্দর ন্যারেটিভ ছড়াচ্ছে, এর পেছনে কোন উদ্দেশ্য নেই তো ?
বাংলাদেশের মূল অর্থনীতি হচ্ছে কৃষি। আর কৃষির জন্য প্রয়োজন পানি। কিন্তু নদীগুলো পাথর, পলি ও বালি দিয়ে ভরে গেলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। আর তাতে কৃষিজ উৎপাদন ব্যহত হবে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এই দেশে কৃষিজ পণ্যের চাহিদা অনেক। কিন্তু বাংলাদেশে কৃষিকে ব্যহত করা গেলে এক সময় বাংলাদেশে কৃষি পণ্য আমদানি করতে হবে। এখন যেমনটা হচ্ছে, ভারত থেকে, আমেরিকা থেকে, ব্রাজিল থেকে কৃষিজ পণ্য আমদানি করতে হয়। এটা আসলে বাংলাদেশের জন্য ন্যাক্কারজনক কথা। বাংলাদেশে আবহাওয়া, মাটি ও নদী পরিবেশের কথা চিন্তা করলে, আসলে বাংলাদেশে কোন কৃষিজ পণ্য আমদানি করার কথা না। বরং রফতানি করার কথা।
এছাড়া নদী পথ যাতায়াতের একটি বড় মাধ্যম। এটি সস্তা মাধ্যমও বটে। কিন্তু নদীগুলোতে পানি প্রবাহে বাধা দেয়া গেলো, মানুষ নদী পথ রেখে সড়ক পথে যাতায়াত করবে। ফলে নতুন নতুন রাস্তাঘাট হবে, ফ্লাইওভার, ব্রীজ, কালভার্ট হবে। বিদেশ থেকে বড় বড় ঋণ আসবে। এই ঋণের মাধ্যমে দেশকে নিত্য নতুন শর্তে আটকানো যাবে। এছাড়া রাস্তা যত হবে, বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানি তত বাড়বে। আর যত গাড়ি আমদানি হবে তত তেলের প্রয়োজন বাড়বে। ফলে বিদেশ থেকে তেল আমদানিও বাড়বে।
আপনি যদি এখন অনেক নদীর দিকে তাকান, তবে দেখবেন নদীগুলো নৌকাশূণ্য।
অনেক নদীতে পানি থাকলেও মানুষ নদী ব্যবহার বাদ দিয়েছে। মানুষ সড়ক পথে যাতায়াত করছে।
শুধু তাই না, আগে নদীর আশেপাশে হাট বাজার ঘাট তৈরী হতো। সেটাকে কেন্দ্র করে জনবসতি ও অর্থনীতি গড়ে উঠতো। এখন নদীর তীরগুলো মানবশূণ্য হয়ে গেছে। হাটবাজারগুলো সড়ক-মহাসড়ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে।
আসলে ভারতে বাধ বসিয়ে পানি হ্রাস করেছে, এটা একটা কারণ। কিন্তু নদীগুলো খনন না করে ভরাট করে ফেলাও একটা বড় কারণ। কিন্তু এই বিষয়টি সব সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়। কারণ ভারতের বিষয়টি হয়ত আমাদের হাত থেকে দূরে, কিন্তু খননের বিষয়টি আমাদের হাতে রয়েছে। নদী খনন করে নদী প্রবাহ অনেকটাই চালু করা সম্ভব ছিলো। কিন্তু সেদিকে দৃষ্টি দেয়া হয় না। কারণ এর পেছনে আন্তর্জাতিক কর্পোরেটোক্রেসির বিরাট হাত রয়ে গেছে। সেই কর্পোরেটোক্রেসি নিয়ে আমি এক সময় দীর্ঘদিন আলোচনা করেছি।
একটা জিনিস সব সময় মনে রাখবেন, নদী পথ বাতিল হওয়া মানে খরচ বেড়ে যাওয়া। আর খরচ বেড়ে গেলে আপনাকে খরচ চালানোর জন্য কাজ করতে হবে বেশি। প্রয়োজনে আপনার বউ-বাচ্চাকেও খরচের জন্য রাস্তায় নামাতে হবে। এটা এক ধরনের দাসত্ব। সম্রাজ্যবাদীরা সব কিছু খরচ বাড়িয়ে আমাদের মূল্যবান সময়গুলো নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের পরিবারের সময়গুলো নিয়ে যাচ্ছে। আপনি নিজের জন্য, সন্তানের জন্য, বাবা-মায়ের জন্য কোন সময় দিতে পারেন না। রাত-দিন পরিশ্রম করেন। এটা পশ্চিমা নিউ-কলোনিয়ালিজমের রূপ। এই দাসত্বের বিরুদ্ধে অনেক আলোচনা ও গবেষণার দরকার আছে।
যাই হোক, সিলেটে সাদা পাথর নিয়ে হুজুগে বাঙালীর আচরণ দেখে বুঝি, দীর্ঘদিন প্রথম আলো যে ফলস বিলিভ ছড়িয়েছে, তার কারণেই পাথর নিয়ে এত মায়াকান্না। দেখুন, হুজুগ দিয়ে কোন কিছুই করা ঠিক না।
একটা সময়- বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ থেকে ব্যাঙ ধরে দিলে পুরস্কার ঘোষণা করেছিলো। জনগণ বিদেশী টাকার লোভে ব্যাঙ ধরে দেয়। আর সেই ব্যাঙ শেষ হলে ক্ষেতে পোকামাকড় বেড়ে যায়। তখণ বিদেশীরাই বাংলাদেশে কীটনাশকের বিজনেজ শুরু করে।
একটা সময় গাছ লাগালে অক্সিজেন বাড়ে- এমন ক্যাম্পেইন করে এনজিওদের দিয়ে সারাদেশে ইউক্যালিপটাস গাছ ছড়িয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে বের হয় ইউক্যালিপটাস গাছ অক্সিজেন ছাড়ে না, বরং অক্সিজেন গ্রহণ করে। এবং প্রচুর পরিমাণে পানি চুষে নেয়। এতে ভূমির পানি শুখিয়ে যায়।
একটা সময় দেশী ফলমুলে ফরমালিন আছে বলে প্রচারণা চলে। এবং লক্ষ লক্ষ টন ফল ধ্বংস করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বের হয় যে মেশিন দিয়ে ফরমালিন মাপা হচ্ছে সেটা ভুল এবং ফলে কিছু ফরমালিন প্রাকৃতিকভাবেই থাকে। দেশী ফল ধ্বংস করে বিদেশী ফল আমদানি বৃদ্ধির জন্য এমনটা করা হয় সে সময়।
হুজুগ, পরিবেশবাদ, প্রথম আলো প্রোপাগান্ডা এগুলো আমি বিশ্বাস করি না। এগুলো বাস্তবতাও না। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সিমেন্ট বানাতে পাথর, বালি সিমেন্ট লাগে। এগুলো কৃত্তিম উপায়ে বানানো যায় না। প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকেই গ্রহণ করতে হয়। আদিকাল থেকে এমনটা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এগুলো নিয়ে যারা প্রোপাগান্ডা করে, জনগণ উস্কে দিয়ে বিদেশী আমদানি নির্ভর অর্থনীতি বানাতে চায়, তারা বিদেশীদের দালাল, কমিশন খোর। এরা দেশের শত্রু, যারা আমার-আপনার খরচ বাড়িয়ে আমাদের দাস বানাতে চায়। এদের থেকে সাবধান।
Noyon Chatterjee 8
28/10/2023
আগামীকাল সকাল সন্ধা হরতাল
কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।
- জামায়াতের ঐতিহাসিক সমাবেশে ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Dhaka
1200