BDHeadline.com

BDHeadline.com

Share

জীবনযাপন, স্বাস্থ্য, প্রকৃতি বিষয়ক নানা প্রতিবেদন পড়তে ভিজিট করুন- www.bdheadline.com

13/01/2026

সঞ্চয় কীভাবে করবেন: জাপানি পদ্ধতি কাকেবো (Kakebo) অনুসরণ করে!

সঞ্চয় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস যা আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। অনেকে অসংগঠিত খরচের কারণে সঞ্চয় করতে ব্যর্থ হন। জাপানি পদ্ধতি কাকেবো (Kakebo, যা "হাউসহোল্ড অ্যাকাউন্ট বুক" হিসেবে পরিচিত) একটি সহজ এবং কার্যকরী উপায় যা ১৯০৪ সালে জাপানি সাংবাদিক হানি মোটোকো দ্বারা চালু করা হয়েছে। এটি একটি বাজেটিং জার্নাল যা আপনার আয় এবং খরচকে সচেতনভাবে ট্র্যাক করে, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সঞ্চয় বাড়াতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতি মনস্তাত্ত্বিক দিকও বিবেচনা করে, যেমন রিফ্লেকশন (স্ব-পর্যালোচনা)।
কাকেবো পদ্ধতি মূলত কাগজ-কলম ভিত্তিক, কিন্তু আজকাল অ্যাপ বা ডিজিটাল জার্নালেও ব্যবহার করা যায়। এটি ৫০/৩০/২০ নিয়মের মতো নয়; বরং এটি খরচকে চারটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে এবং সাপ্তাহিক-মাসিক রিভিউ করে। নীচে বিস্তারিত ধাপসমূহ বর্ণনা করা হলো, যাতে আপনি সহজেই শুরু করতে পারেন।

১. প্রস্তুতি: কাকেবো জার্নাল তৈরি করুন
একটি খাতা বা নোটবুক নিন (বা কাকেবো বই কিনুন, যা অনলাইনে পাওয়া যায়)।
জার্নালে বিভাগ তৈরি করুন:
মাসিক পরিকল্পনা পাতা।
সাপ্তাহিক খরচ ট্র্যাকার।
মাসিক রিভিউ পাতা।
ডিজিটাল বিকল্প: অ্যাপ যেমন "Kakeibo Budget" বা Excel শিট ব্যবহার করুন।

২. মাসের শুরুতে পরিকল্পনা করুন
আয় গণনা করুন: আপনার মাসিক আয় (বেতন, অন্যান্য উৎস) লিখুন। উদাহরণ: ৫০,০০০ টাকা।
সঞ্চয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: কত টাকা সঞ্চয় করতে চান? এটি বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত, যেমন মোট আয়ের ২০%। প্রশ্ন করুন নিজেকে: "এই মাসে সঞ্চয় করে কী অর্জন করব?" (যেমন, ভ্রমণের জন্য)।

নির্ধারিত খরচ বিয়োগ করুন: ভাড়া, ইউটিলিটি, লোন ইত্যাদি ফিক্সড খরচ লিখুন এবং বিয়োগ করুন। অবশিষ্ট অর্থ হলো আপনার "ডিসপোজেবল ইনকাম"।
খরচকে চারটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করুন:
Needs (আবশ্যকীয়): খাবার, পরিবহন, ওষুধ – ৫০%।
Wants (চাহিদা): বিনোদন, শপিং – ৩০%।
Culture (সংস্কৃতি/শিক্ষা): বই, কোর্স, যাদুঘর – ১০%।
Unexpected (অপ্রত্যাশিত): মেরামত, উপহার – ১০%।
প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য বাজেট নির্ধারণ করুন। উদাহরণ: ৩০,০০০ টাকা ডিসপোজেবল হলে – Needs: ১৫,০০০; Wants: ৯,০০০; Culture: ৩,০০০; Unexpected: ৩,০০০।

৩. প্রতিদিন খরচ ট্র্যাক করুন
প্রত্যেক খরচ লিখুন, যত ছোট হোক না কেন (যেমন, চা ১০ টাকা)। কোন ক্যাটাগরিতে পড়ে তা উল্লেখ করুন।
রসিদ সংরক্ষণ করুন বা অ্যাপে ছবি তুলুন।
সাপ্তাহিক রিভিউ: প্রতি সপ্তাহের শেষে (যেমন, রবিবার) দেখুন কোন ক্যাটাগরিতে বেশি খরচ হচ্ছে। প্রশ্ন করুন: "এই খরচ কি প্রয়োজনীয় ছিল? কীভাবে কমাতে পারি?"

৪. মাস শেষে রিফ্লেকশন করুন
মোট খরচ এবং সঞ্চয় গণনা করুন।
চারটি প্রশ্নের উত্তর লিখুন:
এই মাসে কত টাকা সঞ্চয় করতে চেয়েছিলাম?
কত টাকা সঞ্চয় করেছি?
কী ভালো হয়েছে?

কী উন্নতি করতে হবে (যেমন, Wants-এ কম খরচ করা)?

এটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে সাহায্য করে, কারণ এতে অভ্যাস পরিবর্তন হয়।

কাকেবোর সুবিধা এবং টিপস
সুবিধা: অপ্রয়োজনীয় খরচ ৩৫% পর্যন্ত কমাতে পারে। এটি মাইন্ডফুল স্পেন্ডিং প্রমোট করে, যা দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় বাড়ায়।

টিপস:
শুরুতে সহজ রাখুন; প্রথম মাসে শুধু ট্র্যাক করুন, পরে অ্যাডজাস্ট করুন।
যদি ভুলে যান, সাপ্তাহিক রিমাইন্ডার সেট করুন।
পরিবারের সাথে শেয়ার করুন যাতে সবাই অংশগ্রহণ করে।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করে নিয়মিত সঞ্চয় করতে পারবেন। শুরু করুন একটি ছোট লক্ষ্য দিয়ে, এবং ধৈর্য ধরুন – ফলাফল দেখতে সময় লাগবে।

23/10/2025
19/10/2025

যদি বলি এই গাছের একটা বৈশিষ্ট হলো এর প্রতিটি গুচ্ছে ৭টি করে পাতা থাকে, অমনি কিছু ইঁচড়েপাকা ছোকড়া চোখ চকচকিয়ে তাকাবে। তখন তাদের ধমকে দিয়ে বলতে হবে ‘ওরে, গুচ্ছে ৭ পাতা শুধু গাঁজাতেই থাকে না, ছাতিমেরও এক গুচ্ছে ৭টি করে পাতা থাকে। আর এজন্যই এই গাছের আরেম নাম সপ্তপর্ণা!’ সপ্তপর্ণা কিন্তু সংস্কৃত নাম। যদিও কখনও কখনও এক গুচ্ছে ৫টি বা ৮টি পাতাও থাকে, তবে সেগুলো নিছক ব্যতিক্রম।

পল্লীকবি জসিমউদ্দিন দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে একটা দারুণ কাজ করেছিলেন, মুর্শীদি গান সংগ্রহ করেছিলেন। তা নিয়ে একটা দারুণ বই আছে ‘মুর্শীদা গান’ নামে। অনেক বছর আগে সেই বইতে পড়েছিলাম যে ছাইতান গাছের কাঠ দিয়ে উৎকৃষ্ট সারিন্দা তৈরি হয়। কিন্তু ছাইতান গাছ জিনিসটা কী? জানতাম না। অনেক বছর পর আবিষ্কার করলাম ছাইতান গাছ আসলে ছাতিম গাছের লোকজ নাম। একে শয়তানের গাছ বলে অনেকে। শয়তান থেকে ছয়তাইন্যা, ছাতিয়ান, ছাইত্তান, ছাইত্তান্না, ছাইতান ইত্যাদি নাম হয়েছে। এভাবে বিকৃত হতে হতেও ছাতিম নামটি হতে পারে। শয়তানের গাছ কেন? ইংরেজিতে এই গাছের নাম ডেভিলস ট্রি, তাই বাংলায় শয়তানের গাছ। এই গাছের আরেক নাম আবার ব্ল্যাকবোর্ড ট্রি। একসময় শিশুদের লেখার তক্তা বানানো হতো এই গাছের কাঠ দিয়ে, তাই এই নাম। আর বৈজ্ঞানিক নাম আলস্টোনিয়া স্কলারিস। স্কলার শব্দটায় একটা জ্ঞান জ্ঞান ভাব আছে। এই গাছের কাঠ থেকে উৎকৃষ্ট পেন্সিলও হয়, তাই বোধহয় এই নাম। এই গাছকে কিন্তু পন্ডিত বৃক্ষও বলে। শান্তিনিকেতনের সমাবর্তনে কিন্তু এই গাছের পাতা দেওয়া হয় স্কলারদের। তবে এইসব ভালো ভালো জিনিসের সাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে শ্রীলঙ্কায় এই গাছের কাঠ দিয়ে কফিন বানানো হয়! সাতটি পাতার গুচ্ছ মিলে বেশ একটা ছাতার মতো ব্যাপার হয় বলে এটি ছাতিম গাছ নামেই বেশি পরিচিত।

দিনের বেলায় এই ফুলের গন্ধ প্রায় নেই। কিন্তু রাত যতো গভীর হতে থাকে, এই ফুলের সুবাস ততো তীব্র হয়ে ছড়িয়ে পরে। আশপাশের অন্তত আধকিলো জায়গা থেকেও এই সুবাস পাওয়া যায়। মাঝরাতে এই গাছের নিচে দাঁড়ালে তীব্র সুগন্ধে মাথা ঝিমঝিম করে, মাদকতা ছড়ায়। এই তীব্র গন্ধের কথা বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় লিখেছেন পথের পাঁচালী আর আরণ্যকে। আর প্রকৃতিবিদ দ্বীজেন শর্মা এই গাছকে বলেছেন ‘হেমন্তের অঙ্গনে দাঁড়িয়ে দুরন্ত শীতকে অভ্যর্থনা জানানো একমাত্র তরু’। কদম যেমন বসন্তের আগমনী গান শোনায়, হেমন্তে তেমন ছাতিমের ফুল।

রবিঠাকুরের যে শান্তিনিকেতন, তা প্রতিষ্ঠাতেও আছে এই ছাতিম গাছের ভূমিকা। ১৮৬৩ সালে মহর্ষী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর যাচ্ছিলেন রায়পুরের জমিদার ভুবনমোহন সিংহের নিমন্ত্রণে। পথে ক্লান্ত হয়ে দুটি ছাতিম গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে থেমেছিলেন। সেটা এতোই শান্তির ছিলো, ক্লান্তিমোচনীয় ছিলো যে তিনি রায়পুরের জমিদারের কাছ থেকে এই দুটি ছাতিম গাছসহ ২০ একর জবি ইজারায় নিয়ে সেখানে একটি অতিথিশালা তৈরি করে নাম রাখেন ’শান্তিনিকেতন’। রায়পুরের জমিদার ভুবনমোহনের নামে এই গ্রামের নাম ছিলো ভুবনডাঙ্গা। জায়গাটি ডাকাতদের স্বর্গ ছিলো। শান্তিনিকেতনের আশ্রয়ে ভুবনডাঙ্গার খুনে ডাকাতেরা সব ভালোমানুষটি হয়ে গিয়েছিলো। এইখানেই ১৯২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের, যার মূল হোতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একই বছর জুলাইতে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

যে ছাতিমবৃক্ষের নিচে পিতা দেবেন্দ্রনাথ বিশ্রাম করতে গিয়ে পুরো একটা শান্তিনিকেতন বানিয়ে ফেলেছিলেন, সেই গাছ দুটি রবিঠাকুরের খুব প্রিয় ছিলো। বিশ্বভারতীর কনভোকেশনে তাই শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় ছাতিমের পাতা। গল্পে কবিতায় চিঠিতে একে ঠাঁই দিয়েছেন তিনি। ইন্দিরা দেবীকে লিখেছিলেন ‘আমার শ্রাদ্ধ যেন ছাতিম গাছের তলায় বিনা আড়ম্বরে বিনা জনতায় হয়- শান্তিনিকেতনের শালবনের মধ্যে আমার স্মরণের সভা মর্মরিত হবে, মঞ্জরিত হবে, যেখানে যেখানে আমার ভালোবাসা আছে, সেই সেইখানেই আমার নাম থাকবে।’ কিন্তু তারপর কী হলো তা সবাই জানে। ২২শে শ্রাবণে যখন বিশ্বকবির দেহত্যাগের খবর প্রচার হলো, সমস্ত কলকাতার মানুষ ছুটে এসে এমন হুলুস্থুল শুরু করলো যে কবির পরমাত্মীয়রাই সেখানে ব্রাত্য হয়ে উঠলো। হাজারে হাজারে লোক বাড়ির গেট ভেঙ্গে লাশ নিয়ে হরিবোল ধ্বনিতে ছুটলো শ্মশানঘাটে আর স্মৃতিরক্ষার্থে টেনে টেনে ছিঁড়ে নিতে লাগলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চুল দাড়ি। সেই তীব্র বিষাদের বিবরণ লেখা আছে বুদ্ধদেব বসুর ‘তিথিডোর’ আর নির্মলকুমারী মহলানবীশের ‘বাইশে শ্রাবণ’এ।

এই ফুল থেকে ফল হয়, সেই ফল যখন পেকে ফেটে যায় তখন তার বীজগুলোর গায়ে লেগে থাকে পালক, সেই পালকে ভাসতে থাকে ফুলগুলো। সেসময় ছাতিম গাছের আশপাশে এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়, আকাশে বাতাসে ভাসছে ছাতিমের বীজ। খোলা জায়গা পেলে এই বীজন অনেকটা সময় ভাসতে পারে, ভাসতে ভাসতে অনেকটা দূরে চলে যায় একসময়।

মানুষ যেহেতু একে অপয়া বা শয়তান গাছ হিসেবে চেনে, তাই একসময় বাংলাদেশে ছাতিম অনেকটা দুর্লভ গাছ ছিলো। ঢাকায় কয়টা ছাতিম গাছ ছিলো তা হাতে গুনে বলে দেওয়া যেতো বছর দশেক আগেও। কিন্তু কে যে কিভাবে নগর পরিকল্পনার গাছের মধ্যে ছাতিমের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছিলো জানি না, কিন্তু একসময় অবাক হয়ে দেখি ঢাকায় রাস্তার আইল্যান্ডে সার বেঁধে আছে ছাতিমের ছানারা! এখন শহরভর্তি ছাতিমের গাছ। মজার কথা হলো ছাতিম গাছ কিন্তু শব্দও শোষণ করে। আমাদের নগরের গাড়িগুলো যে সারাক্ষণ তীব্র স্বরে হর্ণ বাজিয়ে ছুটতে ছুটতে আমাদেরকে বধির করে দিচ্ছে, ছাতিমগুলো কি সেখান থেকে কিছুটা উপশম আমাদের দিতে পারবে? হয়তো দেবে, আর ছায়া দেবে পথচারিকে।

আজ বিকেলে চ্যানেল আইয়ে গিয়েছিলাম এক কাজে, প্রাঙ্গণে দেখি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল ছাতিমের গাছে পাতা দেখা যাচ্ছে না, থোকায় থোকায় ফুটে রয়েছে ফুল...

নজরুল সৈয়দ

Want your business to be the top-listed Furniture Store in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address


Kawran Bazar
Dhaka
1207