Real Muslim

Real Muslim

Share

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, প্রচার করো আমার পক্ষ থেকে একটি মাত্র আয়াত হলেও। সহীহ বুখারি-৩৪৬১]

27/09/2025
19/03/2025

গাজা যখন জ্বলছে, মুসলিম বিশ্ব কোথায়?
রক্তমাখা শিশুর মুখ, বিধ্বস্ত নারীর কান্না, পাথরের নিচে চাপা পড়া মানুষের নিঃশ্বাস—এসব কি দেখতে পান না, হে মুসলিম শাসকগণ? আপনাদের প্রাসাদের ঝলমলে আয়নায় কি এই ধ্বংসস্তূপের প্রতিচ্ছবি পড়ে না? আপনারা কি অনুভব করতে পারেন না সেই আর্তনাদ, যেখানে এক মা তার নিথর সন্তানকে কোলে নিয়ে ফিসফিস করে বলে—"বাবা, উঠে বসো, ফজরের আজান হয়ে গেছে!"

কিন্তু সেই সন্তান কি আর জেগে উঠবে? সে তো শহীদ হয়ে গেছে। গাজায় প্রতিদিন শত শত মানুষ শহীদ হচ্ছে, কিন্তু মুসলিম বিশ্ব কি শুধুই নীরব দর্শক হয়ে থাকবে?

নেতৃত্বহীন উম্মাহ—একটি কলঙ্কিত অধ্যায়
আপনারা মুসলিম বিশ্বের শাসক—আপনাদের হাতে আছে ক্ষমতা, সম্পদ, কূটনীতি। কিন্তু গাজার শিশুরা যখন আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ছে, তখন আপনারা কোন উৎসবে মেতে আছেন? কোন বিলাসবহুল প্রাসাদে নীরবে উপভোগ করছেন পশ্চিমা দাসত্ব?

আপনারা কি জানেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—"তোমরা সবাই এক দেহের মতো। দেহের এক অঙ্গ আঘাত পেলে পুরো শরীর ব্যথা অনুভব করে।"
তাহলে আজ গাজায় আগুন জ্বলছে, ফিলিস্তিনে শিশুদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আপনারা কেন ব্যথা অনুভব করছেন না? আপনাদের হৃদয় কি মৃত হয়ে গেছে?

তাদের চোখে ধ্বংসস্তূপ পড়ে না, তাদের চোখ কি অন্ধ?
তারা কেনো শোনে না অসহায় নারী ও শিশুদের করুণ চিৎকার?
তারা কেনো শ্বাস নেয় নির্লজ্জভাবে,
লাশের গন্ধ কি তাদের পায় না?
তাদের আত্মা কি পাথর হয়ে গেছে,
নাকি তাদের বিবেক মরে গেছে?

মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব—আর কতকাল নীরব থাকবো?
আমরা কীভাবে মুখ ফিরিয়ে থাকি, যখন মুসলিম মায়েরা তাদের সন্তানদের জন্য এক ফোঁটা পানি চাইতে গিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায়? আমরা কীভাবে নিশ্চিন্তে রাতের ঘুম দেই, যখন হাজারো শিশু তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে?

আজ যদি আমরা নীরব থাকি, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ কী? আমাদের সন্তানদের জন্য আমরা কি এক ভয়ংকর দাসত্বের পৃথিবী রেখে যাচ্ছি?

জেগে উঠুন, একতাবদ্ধ হোন!
হে মুসলিম বিশ্ব! সময় এসেছে এক হওয়ার। আমাদের দ্বীন, আমাদের ঈমান, আমাদের মুসলিম পরিচয়—এসব যদি সত্য হয়, তবে কেন আমরা ন্যায়বিচারের জন্য সোচ্চার হচ্ছি না? আমরা কি কেবল অশ্রু ঝরিয়ে বসে থাকবো? নাকি আমরা কুরআনের সেই আহ্বানকে মনে রাখবো— "তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিভক্ত হয়ো না।" (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)

আমাদের শক্তি আছে, আমাদের অর্থনীতি আছে, আমাদের জনশক্তি আছে—তাহলে কেন আমরা আজ এত দুর্বল?

ফিলিস্তিন আজ আমাদের ঈমানের পরীক্ষা
ফিলিস্তিনের শিশুরা আজও আকাশের দিকে তাকিয়ে কোনো অলৌকিক সাহায্যের অপেক্ষায় আছে। আমরা কি তাদের সেই সাহায্য পৌঁছে দিতে পারবো? নাকি আমরা ইতিহাসের পাতায় কাপুরুষ হিসেবে চিহ্নিত হবো?

এই লেখা শুধু আবেগ প্রকাশের জন্য নয়। এটি একটি আহ্বান— বিশ্বের সমস্ত মুসলিমদের জন্য, বিশেষ করে মুসলিম নেতাদের জন্য।

গাজা জ্বলছে, আর আমরা কী করছি?
গাজার শিশুরা মরছে, আর আমরা কিসের অপেক্ষায়?
গাজার নারীরা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ছে, আর আমরা কিসের চিন্তায়? আপনারা যদি আজও না জাগেন, যদি আজও প্রতিবাদ না করেন, যদি আজও গাজার রক্তের দাম দিতে না পারেন—তাহলে মনে রাখবেন, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।

ইসরায়েলের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক!

হে জালিম ইসরায়েল, তোমরা কি ভেবেছো, এই রক্ত তোমাদের হাতে চিরকাল থাকবে না?
আল্লাহ বলেন—"আর জালিমদের প্রতি ঝুঁকো না, তা না হলে তোমরা আগুনের শাস্তি ভোগ করবে।" (সূরা হূদ: ১১৩)

হে আল্লাহ! তুমি ইসরায়েলের ওপর তোমার গজব নাজিল করো। তুমি তাদের পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দাও, তুমি তাদের শক্তিকে ধ্বংস করে দাও। তুমি তাদের ভূমিকে ধুলিসাৎ করে দাও, তাদের হৃদয়কে ভয়ে পরিপূর্ণ করে দাও।
হে আল্লাহ! তুমি ফিলিস্তিনের মজলুমদের সাহায্য করো, তুমি তাদের বিজয় দান করো। আমীন!

লেখক: মাহবুব আজাদ
লেখা #২: গাজা যখন জ্বলছে, মুসলিম বিশ্ব কোথায়?
© ২০২৫ মাহবুব আজাদ
#মাহবুবআজাদ

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address


Bashundara R/A
Dhaka
1212