DeshPriyo Collection
ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার
21/09/2016
জামদানির এক প্রস্থ
জামদানি শাড়ির ঐতিহ্য বহুদিনের। সময় অতিক্রম হলেও জামদানির কদর কমেনি আজও। বিভিন্ন উৎসবে এখনও বাঙালি নারীরা বেছে নেয় জামদানি শাড়ি।
জামদানি শাড়ির মূল আকর্ষণ হলো এর নকশা বা মোটিফ। জ্যামিতিক ডিজাইনের নকশা দেখলেই বোঝা যায় যে এটা জামদানি শাড়ির। এ নকশা সাধারণত কাগজে এঁকে নেওয়া হয় না। জামদানির শিল্পীরা নকশা আঁকেন সরাসরি তাঁতে বসানো সুতোয় শাড়ির বুননে বুননে। আবার কখনও কখনও তারা ফরমায়েশি কাজও করেন। তখন হয়তো তারা ডিজাইনারের নির্দেশনা মেনে শাড়ির রং নির্ধারণ করেন। কিন্তু নকশা তো সেই আদি প্যাটার্ন বজায় রেখেই হবে। তারা এমনি পারদর্শী যে মন থেকেই চিন্তা করে ভিন্ন ভিন্ন নকশা আঁকেন। fb.com/DeshPriyo.BD
প্রচলিত বেশ কিছু পাড়ের নকশার মধ্যে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত পাড় হচ্ছে করলা পাড়। এ ছাড়া ময়ূর প্যাঁচ, কলমিলতা, পুঁইলতা, কচুলতা, গোলাপচর, কাটিহার, কলকা পাড়, কাঠপাড়, আঙুরলতা ইত্যাদি। শাড়ির জমিনে গোলাপফুল, জুঁইফুল, পদ্মফুল, তেছরি, কলার ফানা, আদার ফানা, সাবুদানা, মালা ইত্যাদি নকশা বোনা হয়। এ নকশা তোলার পদ্ধতিটিও বেশ মজার। শিল্পীদের মুখস্থ করা কিছু বুলি রয়েছে। এসব বুলি ওস্তাদ শাগরেদকে বলতে থাকে আর শাগরেদ তা থেকেই বুঝতে পারে যে ওস্তাদ কোন নকশাটি তুলতে যাচ্ছেন। fb.com/DeshPriyo.BD
নিজস্ব বুলিতে এই ছড়া নকশা তৈরির ফর্মুলাবিশেষ। নকশার পুরো কাজটি হাতে করতে হয় বলে সময় বেশি লাগে। পুরো জমিনে নকশা করা একটি মোটামুটি মানের শাড়ি তৈরি করতে ন্যূনতম সময় লাগে চার সপ্তাহ বা এক মাস। তবে হাটে যেসব শাড়ি বিক্রি হয় তা এক সপ্তাহেই একটা করে ফেলা সম্ভব। সুতা বা রঙের জন্য দামে যে পার্থক্য হয়ে থাকে, তার চেয়ে অনেক বেশি তারতম্য হয় কাজের পার্থক্যের জন্য।
জামদানি fb.com/DeshPriyo.BD
জামদানি শাড়ির দাম নির্ভর করে শাড়ির গাঁথুনি এবং সুতার কাউন্টের ওপর। যত বেশি কাউন্টের সুতা, শাড়ির দামও তত বেশি। সেই সঙ্গে নকশা তোলার সুতার কাউন্টও হতে হবে কম এবং নকশাও হতে হবে ছোট ছোট।
প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার শীতলক্ষ্যার পাড়ে ভোররাত থেকে জামদানির যে হাট বসে তাও কিন্তু দেখার মতো। লাল, নীল, হলুদ সবুজ, গোলাপি, আসমানি কোন রংটা নেই সে হাটে! জামদানি এমন একটি শিল্প, যেখানে যান্ত্রিক কর্মকাণ্ড একেবারেই বিকল। জামদানির পুঁজি হচ্ছে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিল্পীর মেধা, মৌলিকতা, নিষ্ঠা, ধৈর্য, শ্রম। fb.com/DeshPriyo.BD
নারীর পছন্দের তালিকায় জামদানির স্থান প্রথম ধরা চলে। কেননা যেকোনও ধরনের আচার অনুষ্ঠানে নারীরা এই শাড়িটি পরতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। গরমের ঋতুতে জামদানি শাড়ি বেশ আরামদায়ক হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতি বছর বিভিন্ন রঙ এবং নকশার বাহারি কাজে ভরপুর এই জামদানির কালেকশন নারীদের এর প্রতি আরও বেশি দুর্বল করে তোলে।
কোথায় পাবেন: বিভিন্ন কালেকশনের এই জামদানি শাড়িগুলো রুপগঞ্জের জামদানি পল্লীসহ রাজধানীর যেকোনও শাড়ির দোকানে পেতে পারেন। মিরপুরের বেনারসি পল্লীর কয়েকটি জামদানির দোকানেও পাওয়া যাবে। ইদানিং অনলাইনেও জামদানির হাট জমে উঠেছে। দরদাম: বিভিন্ন ধরনের নকশা করা জামদানিগুলোর দাম মোটামুটিভাবে ২৫০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে কাজের উপরে দাম অনেকটা নির্ভর করে। যেমন বেশি কাজ হলে বেশি দাম, আর কম কাজ হলে কম দাম। fb.com/DeshPriyo.BD
জামদানি শাড়ির যত্ন: জামদানি শাড়ি ব্যবহারের পর ভাঁজ করে অনেক দিন রেখে দিলে তা ভাঁজে ভাঁজে ফেটে যেতে পারে। আবার হ্যাঙ্গারে করে ঝুলিয়ে রাখলেও শাড়ির মাঝখানে ফেটে যায়। তাই জামদানি শাঢ়ি হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে বা ভাঁজ করে না রাখাই ভালো। এ ক্ষেত্রে থান কাপড় পেঁচিয়ে রাখার রোলগুলোয় জামদানি শাড়ি পেঁচিয়ে রেখে দিলে তা অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। আর নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে জামদানি ধোয়া যাবে না। জামদানি কাটা করাতে হয়। মোটামুটি সব লন্ড্রিতেই জামদানি কাটা করানো হয়। fb.com/DeshPriyo.BD
by সুরাইয়া নাজনীন
সূত্র:বাংলাট্রিবিউন
31/08/2016
চলবে ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত fb.com/DeshPriyo.BD
জামদানির বুনন প্রদর্শনী
হাসান ইমাম
সরাসরি দেখানো হচ্ছে জামদানির বুননটানা-পোড়েনে চলছে জামদানির বুনন! তবে এই ‘টানা-পোড়েন’ অভাব-অনটন অর্থে না। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের নিচতলায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ির বুনন প্রদর্শনী চলছে। সেখানেই তাঁতশিল্পীরা দর্শকদের বোঝাচ্ছেন টানা আর পোড়েনের অর্থ। তাঁতে লম্বাভাবে সাজানো সুতাকে বলে টানা, আর পোড়েন হচ্ছে চওড়া দিকে সাজানো সুতা। তাঁতিদের ভাষায় যা টানা-পোড়েন। fb.com/DeshPriyo.BD
১৬ আগস্ট থেকে জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলবে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আয়োজন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগের উপপরিচালক নীরু শামসুন্নাহার বলেন, ‘আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য মসলিনেরই একটি শাখা হচ্ছে জামদানি। দেশ-বিদেশের লোকজনের কাছে সেটাকে আরও ভালোভাবে তুলে ধরতেই প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছি। অনেকের জামদানি তৈরির কৌশল জানার আগ্রহ থাকে। এখানে এসে সেই কৌতূহল মেটানোর একটা সুযোগ থাকছে।’ fb.com/DeshPriyo.BD
প্রদর্শনীতে বসানো তাঁতে বোনা হচ্ছে জামদানি। সবুজ মিয়া ও এনামুল হক নামের দুজন কারিগর মিলে সেখানে জামদানি তৈরি করছেন। নারায়ণগঞ্জের জামদানি কারিগর এনামুল হক বলেন, ‘১৯৮৮ সাল থেকে জামদানি বুনছি। জামদানি নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখে খুবই ভালো লাগে। একটি জামদানি শাড়ি তৈরি করতে যে পরিশ্রম, মেধা ও সময়ের দরকার হয় তাতেই এর দাম কিছুটা বেশি হয়ে যায়। আজকাল অনেক তাঁতি পেশা বদল করছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে পারলে জামদানি তৈরি আরও বাড়ানো যাবে।’ fb.com/DeshPriyo.BD
প্রদর্শনী থেকে জামদানি শাড়ি ও থ্রিপিস কেনা যাবে। নকশার মধ্যে আছে আঙুরলতা পাড়, সন্দেশ ফুল, তেরছা নকশা, করলা পাড়, আদার ফানা, কলকা, মদন, তেরছা করাত, শাপলাসহ নানা কিছু। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সবার জন্যই উন্মুক্ত এই প্রদর্শনী।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Website
Address
Segunbagicha
Dhaka
1216