Save CHT
পাহাড়ের ইতিহাস উন্মোচন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য
05/07/2026
কেএনএফ-এর উত্থান, নাশকতা ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে 'বম পার্টি' নামে পরিচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ২০২২ সালের দিকে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থী নাথান ল্যানচেও বম এর প্রতিষ্ঠাতা। জেএসএস-এর একক চাকমা আধিপত্যবাদের প্রতিক্রিয়া থেকে মূলত এই সংগঠনের জন্ম। বম, পাংখোয়া, লুসাইসহ ৬টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য রাঙামাটি ও বান্দরবানের ৯টি উপজেলা নিয়ে পৃথক ‘কুকি-চিন টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল’ (কেটিসি) গঠন এদের মূল দাবি। তবে বম সম্প্রদায় ছাড়া বাকি ৫টি নৃগোষ্ঠী কেএনএফ-এর এই সশস্ত্র তৎপরতা ও দাবিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। মাত্র ১৩,১৯৩ জনের একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এই সংগঠনের স্বশাসনের দাবি বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এক চরম হুমকি।
কেএনএফ শুরু থেকেই চরম উগ্রপন্থা বেছে নেয়। সমতলের জঙ্গি সংগঠন 'জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়া'র সদস্যদের অর্থের বিনিময়ে পাহাড়ি আস্তানায় সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা এবং পর্যটকদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করে এরা পার্বত্য অঞ্চলের উদীয়মান পর্যটন শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে রুমা ও থানচিতে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যাংক ডাকাতি, ম্যানেজার অপহরণ এবং সমরাস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটলে সরকারের নির্দেশে যৌথ বাহিনীর কঠোর অভিযান শুরু হয়। এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পূর্বনির্ধারিত ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি’র সাথে সকল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বাতিল হয়ে যায়।
কৌশলগতভাবে টিকে থাকতে কেএনএফ ভারত ও মিয়ানমারের দুর্গম ত্রিদেশীয় সীমান্ত অঞ্চল ব্যবহার করে। অভিযানে এরা নিরীহ বম জনগোষ্ঠীকে 'মানবঢাল' হিসেবে ব্যবহার করে মিজোরামে পুশ করার অপচেষ্টা চালায়। বর্তমানে সংগঠনের প্রধান নাথান বম আত্মগোপনে আছেন।
পার্বত্য অঞ্চলের বর্তমান ভূ-রাজনীতি অত্যন্ত জটিল। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে জেএসএস (সন্তু)-এর সাথে ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর তুমুল লড়াই চলছে। অস্তিত্ব সংকটে থাকা ইউপিডিএফ বান্দরবানে জেএসএস-এর একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পর্দার আড়াল থেকে কেএনএফ-কে অস্ত্র ও রসদ জোগাচ্ছে।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের ২৮ জুন থেকে বান্দরবানের রুমা ও রাঙামাটির বিলাইছড়ি সীমান্ত সংলগ্ন রেতলাং পাহাড়ে কেএনএফ ও ইউপিডিএফ-এর একটি যৌথ গোপন আস্তানায় সেনাবাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। আইএসপিআর-এর তথ্যমতে, তীব্র গোলাগুলির পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় এবং বর্তমানে ওই এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চলমান রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভৌগোলিক দুর্গমতা ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির সুবিধা নেওয়া এই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে সমূলে উপড়ে ফেলার কোনো বিকল্প নেই।
04/07/2026
সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে আটক হওয়া ইউপিডিএফ সদস্য কেএনএফ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে, ফলে বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে KNF সদস্যের আটকের খবর বেরিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে। প্রাণে বাচতে কেএনএফ এর সদস্যদের ধরিয়ে দিচ্ছে ইউপিডিএফ এর সদস্যরা, জনমনে প্রশান্তি
02/07/2026
জেএসএসের অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদন সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন করার চক্রান্ত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল পাহাড়ের দীর্ঘদিনের অশান্ত পরিবেশ দূর করে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা সুপ্রতিষ্ঠিত করা। চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর সমস্ত অবৈধ অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক জীবনে ফিরে আসার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু চুক্তির দীর্ঘ ২৮ বছর পরও জেএসএস শান্তি ও মানবাধিকারের বুলি আওড়ালেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। ১ জুলাই প্রকাশিত জেএসএস-এর ২০২৬ সালের অর্ধ-বার্ষিক (জানুয়ারি-জুন) তথাকথিত মানবাধিকার প্রতিবেদনটি মূলত তাদের নিজেদের সশস্ত্র অবস্থান, খুন, গুম, চাঁদাবাজি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডকে আড়াল করার একটি অপকৌশল মাত্র। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পার্বত্য অঞ্চলের রাষ্ট্রের শক্তি স্থায়ী বাঙালি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের একটি মিথ্যাচার।
পার্বত্য চুক্তির চরম লঙ্ঘন এবং জেএসএস-এর সশস্ত্র উপদলীয় সন্ত্রাস
জেএসএস তাদের প্রতিবেদনে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের অভাব এবং পাহাড়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। কিন্তু মূল সত্য হলো, জেএসএস নিজেই পার্বত্য চুক্তির প্রধান শর্ত ভঙ্গ করে চলেছে।
অস্ত্র জমা না দেওয়ার ঐতিহাসিক প্রতারণা: চুক্তির শর্তানুযায়ী চুক্তি স্বাক্ষরের ৪৫ দিনের মধ্যে সমস্ত অবৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, জেএসএস তাদের অস্ত্রের একটি বড় অংশ গোপন করে রাখে। পরবর্তীতে তারা জেএসএস (মূল), ইউপিডিএফ (প্রসিত), জেএসএস (সংস্কারপন্থী) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর মতো বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ে অস্ত্রের রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছে।
পাহাড়ের সাধারণ মানুষ, অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ী এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে বার্ষিক কোটি কোটি টাকার অবৈধ চাঁদা আদায় করাই এখন এই সংগঠনগুলোর প্রধান লক্ষ্য। জেএসএস-এর প্রতিবেদনে ইউপিডিএফ বা মগ পার্টির যে সমস্ত অপরাধের (যেমন ৯ জানুয়ারি রাজভিলায় হামলা বা ২৭ মার্চ পানছড়িতে নীতিদত্ত চাকমা হত্যা) উল্লেখ রয়েছে, তা কোনো মানবাধিকারের বিষয় নয়; বরং তা হলো চাঁদাবাজির টাকা ভাগবাটোয়ারা এবং পাহাড়ে নিজেদের একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অভ্যন্তরীণ গ্যাং-ওয়ার বা উপদলীয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। জেএসএস নিজেদের সাধু সাজাতে এই অপরাধগুলোর দায় সেনা-সৃষ্ট বলে প্রচার করছে, যা চরম মিথ্যাচার।
নিরাপত্তা বাহিনী ও বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার; সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চক্রান্ত:
প্রতিবেদনে দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিজিবি কর্তৃক নতুন ৩৪টি বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) বা ক্যাম্প স্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। লোগাং, চেঙ্গী বা বড় হরিণা এলাকায় বিজিবির ক্যাম্প স্থাপনকে "জুম ভূমি দখল" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জেএসএস।
বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, অবৈধ অস্ত্র এবং মাদক প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। জেএসএস কেন বিজিবির ক্যাম্প স্থাপনের বিরোধিতা করছে? এর একমাত্র কারণ হলো, সীমান্ত অরক্ষিত থাকলে তাদের অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ, বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ এবং দেশের অখণ্ডতা বিরোধী তৎপরতা চালানো সহজ হয়। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নিয়মিত আটক ও তল্লাশি অভিযানকে "মানবাধিকার লঙ্ঘন" বলে চালিয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টা মূলত রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসবাদ কায়েমের শামিল।
জেএসএস তাদের প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রামে "রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী" এবং "মুসলিম বাঙালি সেটলারদের" দ্বারা জুম্মদের ওপর নিয়মতান্ত্রিক হামলার কাল্পনিক গল্প ফেঁদেছে। গত ২৪ জানুয়ারি ঘুমধুমে কিংবা ২২ এপ্রিল পালংখালীতে চাকমা যুবক হত্যার যে ঘটনাগুলো তারা উল্লেখ করেছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।
পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো রোহিঙ্গা বসতি বা ক্যাম্প নেই। রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত ক্যাম্পে অবস্থান করছে। বান্দরবান বা নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম সীমান্তে বিচ্ছিন্ন কিছু অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটলে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই তাদের আটক করে (যেমন ৫ মে ২১ জন রোহিঙ্গাকে আটকের ঘটনাটি বিজিবি ও পুলিশই সম্পন্ন করেছে)।
পাহাড়ের নিরস্ত্র, সাধারণ বাঙালি জনগোষ্ঠী, যারা যুগের পর যুগ ধরে প্রতিকূল পরিবেশে জীবিকা নির্বাহ করছে, তাদেরকে "সন্ত্রাসী" ও "ভূমিদস্যু" বলে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে জেএসএস। পাহাড়ের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই কৃত্রিম জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে।
ইসলামে ধর্মান্তকরণের মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ এবং প্রকৃত খ্রিস্টান মিশনারি তৎপরতা:
জেএসএস-এর প্রতিবেদনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও বানোয়াট অংশটি হলো, দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে সহজ-সরল পাহাড়িবালকদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ। তারা মাওলানা আইয়ুব খান, মোঃ ইউসুফ আলী, কথিত জেএমবি শামীম কিংবা কিছু নও-মুসলিমদের নাম উল্লেখ করে একটি কাল্পনিক নেটওয়ার্কের দাবি করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি বা কোনো মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন জোরপূর্বক বা লোভ দেখিয়ে কাউকে ধর্মান্তরিত করছে না। কিছু ব্যক্তি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে, ইউসুফ আলীর মত কিছু অতি-উৎসাহী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও প্রতারক নিজেদের ব্যক্তিগত প্রচার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিউ এবং ক্রেডিট নেওয়ার জন্য ফেসবুকে তা ফলাও করে প্রচার করে। এই ভণ্ড ও ভিউ-ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের সাথে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ বাঙালি সমাজ বা রাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই।
মিশনারি প্রভাব আড়ালের কৌশল: জেএসএস এই মিথ্যা অভিযোগটি সামনে এনেছে মূলত পাহাড়ে চলমান ব্যাপক খ্রিস্টান মিশনারি তৎপরতাকে আড়াল করার জন্য। বিগত কয়েক দশকে এনজিও এবং বিভিন্ন বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত মিশনারিগুলোর প্রভাবে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির ত্রিপুরা, চাক, মারমা, চাকমা ও ম্রোসহ অন্যান্য উপজাতি সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ তাদের নিজ ধর্ম, আদি ও ঐতিহ্যবাহী প্রকৃতির ধর্ম এবং সংস্কৃতি হারিয়ে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হতে বাধ্য হয়েছে। জেএসএস এই আসল সত্যটি সম্পূর্ণ চেপে গিয়ে সুকৌশলে
ইসলামফোবিয়া ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে জুম্ম নারী ও শিশুদের ওপর ১১টি সহিংসতার ঘটনা উল্লেখ করে সেগুলোকে "বাঙালি সেটলারদের পরিকল্পিত হামলা" হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন: মানিকছড়িতে মারমা গৃহবধূ হত্যা বা বিলাইছড়িতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা। যেকোনো নারীর ওপর সহিংসতা একটি জঘন্যতম অপরাধ এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এর কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই সমস্ত ঘটনায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অপরাধীদের গ্রেফতার করছে। কিন্তু জেএসএস যেকোনো সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ, পারিবারিক কলহ কিংবা ব্যক্তিগত অপরাধকে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা করে। পাহাড়ে শান্তি বিনষ্টকারী ইউপিডিএফ বা জেএসএস-এর নিজস্ব সশস্ত্র ক্যাডারদের হাতেও অনেক পাহাড়ি নারী প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে, যার কোনো উল্লেখ এই প্রতিবেদনে নেই।
পাহাড়ে স্থায়ী শান্তির পূর্বশর্ত বাঙালি ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি
জেএসএস-এর এই অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদনটি মূলত একটি একপেশে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা। পার্বত্য চুক্তির কিছু অসাংবিধানিক ধারার সুযোগ নিয়ে এবং পাহাড়ে বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করে জেএসএস সেখানে একটি "অস্ত্রের শাসন" কায়েম করে রাখতে চায়।
বাস্তবতা হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামে যদি বাঙালি, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি না থাকে, তবে জেএসএস, ইউপিডিএফ এবং কেএনএফ-এর মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো পাহাড়কে পৃথক রাষ্ট্র বা একটি অভয়ারণ্যে পরিণত করবে। চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তারা সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর জীবনকে বিপন্ন করে তুলবে। সুতরাং, পাহাড়ের প্রকৃত মানবাধিকার রক্ষা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য জেএসএস-এর এই মিথ্যাচারের মুখোশ উন্মোচন করা এবং তাদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে রাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Fulbaria