Vedic Mission
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Vedic Mission, Religious organisation, Gazipur.
22/05/2026
প্রশ্নঃ মন্দিরে 'মানত' করলে কী ঈশ্বর মনের বাসনা পূর্ণ করে?
উত্তর: মানুষের জীবনে দুঃখ, অভাব ও আকাঙ্ক্ষা চিরন্তন সঙ্গী। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের আশায় বহু মানুষ মন্দিরে গিয়ে ‘মানত’ করে কেউ অর্থ দান করে, কেউ পশু-পাখি উৎসর্গ করে। সাধারণ ধারণা হলো, এই মানত পূরণ করলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন এবং মানুষের মনের বাসনা পূর্ণ করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই ধারণা কি সত্যিই শাস্ত্রসম্মত? ‘মানত’ মূলত একটি লেনদেনমূলক মানসিকতা—“আমি এটা দেব, তুমি আমাকে সেটা দাও।” এই ধারণা ঈশ্বরকে একপ্রকার মানুষের মতো করে কল্পনা করে, যিনি বস্তুগত উপহার পেলে খুশি হন এবং বিনিময়ে ইচ্ছা পূরণ করেন। কিন্তু বৈদিক দর্শনে ঈশ্বর সর্বজ্ঞ, ন্যায়পরায়ণ এবং নির্লিপ্ত। তিনি কারো দান বা বস্তু দ্বারা প্রভাবিত হন না; বরং তিনি কর্মফল দাতা অর্থাৎ যেমন কর্ম, তেমন ফল।
১. ফলের আশায় কর্ম — হীন মানসিকতা
❝কৃপণাঃ ফলহেতবঃ❞ [গীতা ২/৪৯] অর্থাৎ যারা কেবল ফলের উদ্দেশ্যে কর্ম করে তারা নিতান্তই কৃপন।
২. আসক্তিহীন কর্মই শ্রেষ্ঠ পথ
🍂তস্মাদসক্তঃ সততং কার্যং কর্ম সমাচর ।
অসক্তো হ্যাচরন্ কর্ম পরমাপ্নোতি পুরুষঃ।।🍂 [গীতা ৩।১৯]
🌿অর্থাৎঃ তুমি আসক্তিশূন্য হইয়া কর্ম সম্পাদন করো,অনাসক্ত হয়ে কর্মানুষ্ঠান করিলে পুরুষ পরমপদ (মোক্ষ) প্রাপ্ত হন।
এখানে স্পষ্ট বলা হচ্ছে কর্ম করো, কিন্তু কোনো প্রত্যাশা বা শর্ত জুড়ে দিও না।
৩. নিষ্কাম কর্মে মুক্তি, সকাম কর্মে বন্ধন
🍂যুক্ত: কর্মফলং ত্যক্ত্বা শান্তিমাপ্নোতি নৈষ্ঠিকীম্ ।
অয়ুক্ত: কামকারেণ ফলেসক্তো নিবধ্যতে।।🍂
[গীতা ৫/১২]
🌿অর্থাৎ: নিষ্কাম কৰ্মযোগিগণ কৰ্মফল ত্যাগ করিয়া সর্বদুঃখ-নিবৃত্তিরূপ স্থিরা শান্তি লাভ করেন। সকাম বহির্মুখ ব্যক্তিগণ কামনাবশতঃ ফলে আসক্ত হইয়া বন্ধনদশা প্রাপ্ত হন।
৪. কর্মই অধিকার, ফল নয়
🍂কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন ।
মা কর্মফলহেতুর্ভূর্মা তে সঙ্গোহস্ত্বকর্মণি ॥ [গীতা ২/৪৭]
🌿অর্থাৎ: কৰ্মেই তোমার অধিকার, কৰ্মফলে কখনও তোমার অধিকার নাই । কৰ্মফল যেন তোমার কৰ্মপ্রবৃত্তির হেতু না হয় কৰ্মত্যাগেও যেন তোমার প্রবৃত্তি না হয় ।
বেদের দৃষ্টিতে কর্ম ও সাফল্য বেদে কোথাও বলা হয়নি যে, মানত বা বস্তুগত দান করলে ঈশ্বর বিশেষভাবে খুশি হয়ে ইচ্ছা পূরণ করেন। বরং বেদ সর্বত্র পরিশ্রম, সৎকর্ম ও আত্মনির্ভরতার উপর জোর দেয়। ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করে, যারা পরিশ্রম করে কর্ম করে ঈশ্বরের প্রতি ভরসা রাখে। অলস্যহীন ব্যক্তি কাজে সফল হয়। তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই ঘরে। তাই ত বেদে বলা হচ্ছে ❝যন্তি প্রমাদতন্দ্রাঃ❞ [অথর্ববেদ ২০।১৮।৩] অর্থাৎ আলস্যহীন কর্মঠ ব্যক্তিই প্রকৃত আনন্দ প্রাপ্ত করেন। দুস্কর্ম ব্যক্তিরা কাজ না করে বসে থাকে দোষ দেই কর্মের। ❝তব প্রণীতী তব শূর শর্মন্না বিবাসন্তি কবয়ঃ সুযজ্ঞাঃ❞ [ঋগ্বেদ ৩।৫১।৭] অর্থাৎ উত্তম কর্মকারীই পরমাত্মার আশ্রয় লাভ করে। ❝উৎক্রাম মহুতে সৌভগায়❞[যজুর্বেদ ১১।২১] অর্থাৎ মহান সৌভাগ্যের জন্য কঠোর পরিশ্রম করো।
যদি ধরে নেওয়া হয় যে মানত করলে ঈশ্বর বিশেষভাবে কারো ইচ্ছা পূরণ করেন, তাহলে প্রশ্ন ওঠে— তবে কি ধনী ব্যক্তি বেশি দান করে বেশি সুবিধা পাবে? তাহলে কি ঈশ্বর পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়বেন? বৈদিক দর্শন অনুযায়ী ঈশ্বর সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তিনি কারো দান বা বাহ্যিক আচরণ নয়, বরং অন্তরের বিশুদ্ধতা ও কর্মের ন্যায়নীতি অনুযায়ী ফল প্রদান করেন। মানতের ইতিবাচক দিক (সীমিত অর্থে) তবে একেবারে অস্বীকারও করা যায় না যে, কিছু ক্ষেত্রে মানত মানুষের মধ্যে মানসিক শক্তি আত্মবিশ্বাস শৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই প্রভাব মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক, ঈশ্বরকে “ঘুষ” দেওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়।
মন্দিরে ‘মানত’ করা কোনো শাস্ত্রসম্মত উপায় নয় যার মাধ্যমে ঈশ্বরকে খুশি করে ইচ্ছা পূরণ করানো যায়। বরং শাস্ত্রের মূল শিক্ষা হলো— নিষ্ঠার সাথে সৎকর্ম করা ফলের প্রতি আসক্ত না হওয়া
ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখা ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন, যারা নিজে চেষ্টা করে, পরিশ্রম করে এবং ন্যায়ের পথে চলে। অতএব বলা যায়— মানত নয়, সৎকর্মই মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the place of worship
Address
Gazipur